গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য “যাঁতা” আর নেই
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
আলতাপোন নেছা(৯০)। আজ হতে ৭০ বছর পূর্বে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান মজিবর রহমানের(মৃত)সাথে তার বিয়ে হয়। তার স্বামি বিশাল সম্পদের মালিক ছিলেন। জমি-জমাও ছিল প্রচুর। নব বধু হিসেবে এই বাড়িতে আসার পর হতে তিনি দেখেছেন তাদের জমিতে নানা ধরনের ফসল উৎপাদন করা হতো। এর মধ্যে ডাল জাতীয় ফসল অন্যতম। মূলতঃ ওই সময় ডাল ভাঙ্গা হতো যাঁতা দিয়ে। যে দিন আমাদের বাড়িতে ডাল ভাঙ্গা হতো ওই দিন গ্রামের সকল মহিলারা একত্রিত হয়ে এক সঙ্গে বেশ কয়েকটি যাতা বের করে তা চলে চলতো ডাল ভাঙ্গার কাজ। এ যেন এক মিলন মেলা। সেই সব দিনগুলো যেন এখন সবই স্মৃতি,কথাগুলো জানালেন আলতাপোন নেছা। তিনি জানান; বর্তমান সময়ের বউয়েরা এত পরিশ্রম করে যাঁতা দিয়ে ডাল ভাঙ্গতে চায় না। মূলতঃ তারা আর শারিরীকভাবে পরিশ্রম করতে চায় না। শারিরীক পরিশ্রম না করার কারনে তারা এখন নানা ধরনের রোগ ব্যধিতেও ভুগছে। তিনি আরও জানান; যাঁতা দিয়ে ডাল ভাঙ্গতে পরিশ্রম হতো সত্যি কিন্তু একদিকে যেমন পাড়ার মহিলারা সবাই একত্রিত হয়ে গল্প করে আনন্দ পেতাম অন্যদিকে ডালটি পাওয়া যেত খাওয়ার উপযোগি। বর্তমানে মেশিনে ছাঁটা ডাল খেতে ভয় লাগে।
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন মরিয়ম বেগম(৭৫)নামে আরেক বৃদ্ধা। তিনি এই প্রতিবেদকে জানান; আগে মানুষে মানুষে খুব মিল ছিল। শুধু মাত্র যাঁতা দিয়ে ডাল ভাঙ্গার জন্য আমাদের বাড়িতে কয়েক কিলো মিটার পথ পাড়ি দিয়ে মহিলা আসতো। এরই সুবাদে তাদের সাথে অনেকদিন পর সাক্ষাত হতো। দিনগুলো তখনকার খুব আনন্দের ছিল। তিনি জানান;যাঁতা দিয়ে ডাল ভাঙ্গতে যাতার গুড়গুড় শব্দে মহিলারা আবেগ আপ্লুত হয়ে তখন সংগিত পরিবেশন করতো। সময়ের পথ পরিক্রমায় সেই সব দিন আজ সোনালি অতীত। তিনি আরও জানান;আধুনিক যুগে মেশিনের ব্যবহার এসে এই পাড়ার আর কারো বাড়িতে যাঁতা নেই। দীর্ঘদিন ধরেও আর পাশের পাড়ার মহিলাদের আর দেখা পাই না। এ জন্য খুব কষ্ট লাগে।
বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আফজাল হোসেন প্রামানিক জানান;বর্তমানে কোন কৃষকই আর আগের মত বিভিন্ন ধরনের ডাল যেমন;মুগ,মশুর,মটর, খেসারি ও বুট আবাদ করে না। এ কারনে অনেক ডাল শস্য আমাদের এলাকায় আর তেমন চোখে পড়ে না।
দিন দিন যাতার ব্যবহার কমে আসছে ডাল ভাঙ্গা মেশিনের কারনে। দেশিয় ঐতিহ্যকে টিকে রাখতে হলে বর্তমান প্রজন্মকে যাঁতা চেনাতে হবে এবং ব্যবহার সম্পর্কে জানাতে হবে। তা না হলে ডাল ভাঙ্গার যন্ত্র দেশিয় ঐতিহ্য “যাঁতা”একদিন কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ রংপুর
তারিখ-১৭জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
আলতাপোন নেছা(৯০)। আজ হতে ৭০ বছর পূর্বে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান মজিবর রহমানের(মৃত)সাথে তার বিয়ে হয়। তার স্বামি বিশাল সম্পদের মালিক ছিলেন। জমি-জমাও ছিল প্রচুর। নব বধু হিসেবে এই বাড়িতে আসার পর হতে তিনি দেখেছেন তাদের জমিতে নানা ধরনের ফসল উৎপাদন করা হতো। এর মধ্যে ডাল জাতীয় ফসল অন্যতম। মূলতঃ ওই সময় ডাল ভাঙ্গা হতো যাঁতা দিয়ে। যে দিন আমাদের বাড়িতে ডাল ভাঙ্গা হতো ওই দিন গ্রামের সকল মহিলারা একত্রিত হয়ে এক সঙ্গে বেশ কয়েকটি যাতা বের করে তা চলে চলতো ডাল ভাঙ্গার কাজ। এ যেন এক মিলন মেলা। সেই সব দিনগুলো যেন এখন সবই স্মৃতি,কথাগুলো জানালেন আলতাপোন নেছা। তিনি জানান; বর্তমান সময়ের বউয়েরা এত পরিশ্রম করে যাঁতা দিয়ে ডাল ভাঙ্গতে চায় না। মূলতঃ তারা আর শারিরীকভাবে পরিশ্রম করতে চায় না। শারিরীক পরিশ্রম না করার কারনে তারা এখন নানা ধরনের রোগ ব্যধিতেও ভুগছে। তিনি আরও জানান; যাঁতা দিয়ে ডাল ভাঙ্গতে পরিশ্রম হতো সত্যি কিন্তু একদিকে যেমন পাড়ার মহিলারা সবাই একত্রিত হয়ে গল্প করে আনন্দ পেতাম অন্যদিকে ডালটি পাওয়া যেত খাওয়ার উপযোগি। বর্তমানে মেশিনে ছাঁটা ডাল খেতে ভয় লাগে।
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন মরিয়ম বেগম(৭৫)নামে আরেক বৃদ্ধা। তিনি এই প্রতিবেদকে জানান; আগে মানুষে মানুষে খুব মিল ছিল। শুধু মাত্র যাঁতা দিয়ে ডাল ভাঙ্গার জন্য আমাদের বাড়িতে কয়েক কিলো মিটার পথ পাড়ি দিয়ে মহিলা আসতো। এরই সুবাদে তাদের সাথে অনেকদিন পর সাক্ষাত হতো। দিনগুলো তখনকার খুব আনন্দের ছিল। তিনি জানান;যাঁতা দিয়ে ডাল ভাঙ্গতে যাতার গুড়গুড় শব্দে মহিলারা আবেগ আপ্লুত হয়ে তখন সংগিত পরিবেশন করতো। সময়ের পথ পরিক্রমায় সেই সব দিন আজ সোনালি অতীত। তিনি আরও জানান;আধুনিক যুগে মেশিনের ব্যবহার এসে এই পাড়ার আর কারো বাড়িতে যাঁতা নেই। দীর্ঘদিন ধরেও আর পাশের পাড়ার মহিলাদের আর দেখা পাই না। এ জন্য খুব কষ্ট লাগে।
বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আফজাল হোসেন প্রামানিক জানান;বর্তমানে কোন কৃষকই আর আগের মত বিভিন্ন ধরনের ডাল যেমন;মুগ,মশুর,মটর, খেসারি ও বুট আবাদ করে না। এ কারনে অনেক ডাল শস্য আমাদের এলাকায় আর তেমন চোখে পড়ে না।
দিন দিন যাতার ব্যবহার কমে আসছে ডাল ভাঙ্গা মেশিনের কারনে। দেশিয় ঐতিহ্যকে টিকে রাখতে হলে বর্তমান প্রজন্মকে যাঁতা চেনাতে হবে এবং ব্যবহার সম্পর্কে জানাতে হবে। তা না হলে ডাল ভাঙ্গার যন্ত্র দেশিয় ঐতিহ্য “যাঁতা”একদিন কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ রংপুর
তারিখ-১৭জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন