কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়ে সাদা রংয়ের শত শত গাছ। শুকিয়ে যাওয়া আগা (মাথা) নিঃস্তেজ গাছগুলো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে নিঃপ্রভ সলতের মত। ডাই-ব্যাক জনিত রোগের প্রভাবে মহাসড়কের দু-ধারে অবস্থিত শত শত শিশু গাছের এ-চিত্র। এ সব গাছ না কাটার কারনে জীব-বৈচিত্রও ধ্বংসের পথে। এ রোগের জীবাণু ও পোকা দেশিয় ফলজ-বনজ গাছে সংক্রমিত হচ্ছে। বদরগঞ্জ-লালদিঘি,বদরগঞ্জ-বাংলার হাট মহাসড়কের দু-ধারে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ আছে যা দেখে পথচারিদের ভাল লাগতো, কিন্তু এক সময় দেখা গেল বিভিন্ন প্রজাতির গাছের মধ্যে শিশু গাছ গুলি অজ্ঞাত এক ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে মরে যাচ্ছে।
কীটপতঙ্গের আক্রমনে কালো (আলকাতরা) রংয়ের এক ধরনের আঠালো পদার্থ বের হয়। যার ফলশ্রুতিতে শিশু গাছটি উপর দিক হতে মরে (শুকিয়ে) নিচের দিকে যায়। এক পর্যায়ে গাছটি মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে এবং রাতের আধারে ওই গাছগুলো কেটে নিয়ে যেতে যেতে মনে হবে রাস্তার দু-ধারে কোনদিন কোন গাছ ছিল না, কথাগুলো জানালেন বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হারুন-অর-রশিদ।
পথচারি সুরবালা রায় জানান;রাস্তার দু-ধারে গাছগুলো এক সময় এতটা সুন্দর লাগতো যে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। অজ্ঞাত কারনে গাছগুলো মরে যাচ্ছে। কিন্তু দেখার কি কেউ নেই? মরে যাওয়া গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে এটা ভাবতেই কষ্ট হয়।
দীর্ঘদিন ধরে মরা এই শিশু গাছ গুলি কৃষক-পথচারিদের অসুবিধা সৃষ্টি করলেও উদ্যোগের অভাবে রোদে বৃষ্টিতে ভিজে পচন ধরে ওখানেই তার সমাপ্তি ঘটছে। কখনও কখনও স্থানিয় লোকজন রাতের আঁধারে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। রাস্তার দু-ধারে শোভা বর্ধনকারি গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি ও মরা গাছগুলি অপসারনের দাবি জানিয়েছেন ¯া’নিয় লোকজন।
উপজেলা সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান;ডাইব্যাক জনিত রোগের প্রভাবে গাছগুলি মরে যেতে পারে। এছাড়াও পরিচর্যার অভাবেও গাছগুলো মরে যেতে পারে। তিনি আরও জানান, গাছ গুলি কৃষি বিভাগের অন্তর্ভুক্ত নয়। এর দায় দায়িত্ব বন বিভাগের।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখঃ ৩ জানুয়ারি/১৬
মোবাইলঃ ০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন