মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৭

জীবন্ত শামুক-ঝিনুক খেয়ে বেঁচে আছে যারা

জীবন্ত শামুক-ঝিনুক খেয়ে বেঁচে আছে যারা

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

অভাবের তাড়নায় জীবন বাঁচার তাগিদে মানুষ কত কিছুই না খায়। ব্যতিক্রম ধর্মি এক সম্প্রদায়ের মানুষ পশ্চিমা(আদিবাসি) যারা জীবন্ত শামুক-ঝিনুক খেয়ে জীবন ধারন করছেন। কর্মহীন এ সম্প্রদায়ের লোকজন ক্ষুধার জ্বালায় নদী হতে শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে জীবন্ত অবস্থায় নতুবা রান্না করে খায়। হতদরিদ্র এ মানুষগুলো মুলতঃ কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। যখন কাজ থাকে না তখন তারা নদী হতে শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করে জীবন্ত নতুবা রান্না করে খেয়ে কোন রকমে জীবন বাঁচায়। এদের বাস বদরগঞ্জ পৌরশহরের মুন্সিপাড়া মহল্লার রেল বস্তি এলাকায়।
সরেজমিনে বদরগঞ্জের যমুনেশ্বরি নদী ভ্রমন করতে গিয়ে দেখা মেলে এ সম্প্রদায়ের হতদরিদ্র লোকজনের। দুর হতে দেখে মনে হচ্ছিল নদীতে এরা হয়তঃ মাছ ধরছে কিন্তু কাছে গিয়ে দেখা গেল তাদের হাতে মাছ ধরার কোন যন্ত্র নেই। কৌতুহল বশতঃ এই প্রতিবেদক তাদের জিজ্ঞাসা করলেন,কি করছে তারা ?
তাদের একজন গোজি রানি(৫০) জানান;শামুক-ঝিনুক ধরছি। শামুক ঝিনুক ধরে কি করবেন জানতে চাইলে,তিনি জানান; কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করি কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে কোন কাজ নেই,বাড়িতে কোন খাবারও নেই এ জন্য শামুক ঝিনুক ধরছি। বাড়িতে নিয়ে গিয়ে জীবন্ত অথবা রান্না করে পরিবারের সবাই মিলে খাবো। তিনি আরও জানান;আমাদের সামর্থ্য থাকলে কি আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেল লাইনের ধারে বাস করি। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন রিনা রানি(৪৩),তিনি জানান;আমরা গরীব মানুষ,প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিনই যোগাড় করতে হয়। কাজ পেলে খাবার পাই আর কাজ না পেলে আমাদের উপোষ থাকতে হয়। এমনিতেই দিন চলে না,মাছ মাংস পাবো কোথায় ! বাড়িতে এক ছটাক চালও নেই, তাই নদীতে এসেছি শামুক-ঝিনুক যা পাই পরিবারের সবাই মিলে এক সঙ্গে খাবো।
তিনি আরও জানান;জীবন বাঁচার তাগিদে আমরা শামুক ঝিনুক খাই সত্যি তবে শামুক-ঝিনুক খেলে চোখের জ্যোতি যেমন বাড়ে,তেমনি আমাদের শরীরের হাড়ও মজবুত হয়।
নদীতে শামুক-ঝিনুক ধরতে আসা মালতি রানি(৪২)জানান; আমরা খুবই গরীব। পেটের জ্বালায় আমরা শামুক-ঝিনুক খাই। যখন কাজ পাই তখন মাঠে কৃষি শ্রমিকের কাজ করি,আর যখন কাজ থাকে না তখন এই নদীতে শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করে তা খাই। বেঁচে থাকতে হবে তো ! সেই ছোট বেলা হতে আমরা কর্মহীন সময়ে নদী হতে শামুক ঝিনুক সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে খাই। তিনি আরও জানান; গরীব মানুষের লেখাপড়া। যেখানে পেট ভরে খাবার খেতে পারি না,সেখানে আবার পড়াশুনা। 

পৌরশহরের মুন্সিপাড়া সংলগ্ন যমুনেশ্বরি নদী এলাকায় বসবাসকারি বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সদস্য
শ্যামল লোহানী জানান; এরা গরীব মানুষ,রেল লাইনের বস্তিতে বাস করে। মুলতঃ এই মানুষগুলি কৃষি শ্রমিকের কাজ করে। যখন কাজ থাকে না তখন বাঁচার তাগিদে এই হতদরিদ্র লোকজন শামুক-ঝিনুক খেয়ে বেঁচে থাকে। 

বদরগঞ্জ উপজেলা সমবায় অফিসার নজরুল ইসলাম জানান; ইতোমধ্যে সরকার আদিবাসি সম্প্রদায়কে ভাতার আওতায় নিয়ে এসেছে। মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে। যদি ওই সম্প্রদায়ের লোকজন ভাতা পেয়ে না থাকেন তাহলে অনতিবিলম্বে তাদের ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৪জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...