বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১৭

বদরগঞ্জে আলু ক্ষেতে লেইট ব্লাইট রোগের প্রাদুর্ভাব। আলু চাষিরা দিশেহারা

বদরগঞ্জে আলু ক্ষেতে লেইট ব্লাইট রোগের প্রাদুর্ভাব। আলু চাষিরা দিশেহারা  


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

ফাইটোপথোরা ইনফেসটেন্স (Phytopthora infestans) নামক ছত্রাকের আক্রমনে রংপুরের বদরগঞ্জের কিছু কিছু জায়গার আলু ক্ষেতে লেইট ব্লাইট রোগ দেখা দিয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার কারনে কৃষকরা এ রোগ প্রতিরোধ করতে পারছেন না। ফলশ্রুতিতে আলুর উৎপাদন কমে যাওয়া ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়;এ বছর ২৬শত ৫০ হেক্টর জমিতে আলুচাষের লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেয়া হয়েছে। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৫০ হেক্টর বেশি জমিতে আলু চাষ হয়েছে। অর্থাৎ উপজেলায় মোট ২৭শত ৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এসব আলুর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় জাতের শীল বিলেতি, সাদা গুটি, লাল পাকড়ি,ঝাউ-বিলেতি,ইন্দুরকানি প্রভৃতি। এ ছাড়া উচ্চ ফলনশীল(উফশি) জাতের আলুর মধ্যে রয়েছে কার্ডিনাল, ডায়মন্ড, গ্র্যানুলা, ফেনসিলা, ষ্ট্যারিকস, কারেজ, রাজা, কুপরি,সুন্দরি।
কৃষি অফিসের দেয়া তথ্যমতে;স্থানিয় জাতের আলু ১০০-১২০ দিনের মধ্যে ঘরে উঠে। আর উফশি আলু ৭৫-৮৫দিনের মধ্যে চাষিরা ঘরে তুলতে পারেন। সাধারণতঃ অক্টোবর মাসের শেষ হতে মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত স্থানিয় জাতের আলু জমিতে রোপণ করে থাকেন চাষিরা। আর উফশি জাতের আলু রোপণের উৎকৃষ্ট সময় নভেম্বর  হতে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। যে সব কৃষক নির্ধারিত সময়ে আলু রোপণ করেছেন তারা বিপাকে পড়েছেন। কেননা এরই মধ্যে আলু ক্ষেতে দেখা দিয়েছে লেইট ব্লাইট রোগ। শত চেষ্টায়ও এ রোগ নিয়ন্ত্রণে আসছে না। সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে কথা হয় পৌর শহরের ৯নং ওয়ার্ডের মন্ডলপাড়া মহল্লার কৃষক সুলতান আলি(৬০),আঃ মালেক,শামসুল হক সাথে,তারা জানান; আমরা প্রত্যেকেই ১ একর করে জমিতে আলু চাষ করেছি,আলুতে হঠাৎ লেটব্লাইট রোগ আসাতে আমরা নিরুপায় হয়ে মাঠ কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে জমিতে ওষুধ স্প্রে করেও কিছুই হচ্ছে না বরং দিনের পর দিন আলু ক্ষেত নষ্ট হচ্ছে। অনেক টাকা খরচ করে আমরা আলু লাগিয়েছিলাম আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের সংসার কিভাবে চলবে এ নিয়ে আমরা খুব চিন্তায় আছি।
বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউপির মধ্যপাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল মিয়া(৫০) ও হক সাহেব(৫৫)জানান; আমরা কমপক্ষে ৪ একর জমিতে আলু চাষ করেছি লেট ব্লাইটের কারনে আমাদের জমির আলু ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। তারা আরও জানান;বাজারে ওষুধ কিনতে গেলে দোকানদাররা ওষুধের চড়া দাম ধরে ঠিকই কিন্তু কোন ওষুধটি ফানজিসাইড কোনটি হরমোন কোনটি ভিটামিন তা না ভেবে সবকিছুতেই ভিটামিন বলে চালিয়ে দেয়। আমরা অব্যশই কৃষি বিভাগের বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানাচ্ছি।কৃষকরা আরও জানিয়েছেন; এ অবস্থা চলতে থাকলে আলুর উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং আলুর উৎপাদন খরচও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; প্রথমে গাছের পাতা আক্রান্ত হয়ে পাতাগুলো বিবর্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে আলু গাছ মরে যায়। উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। এ কারনে কৃষকদের অবশ্যই আলু বীজ রোগাক্রান্ত কিনা তা দেখে জমিতে রোপন করতে হবে। আলু চাষিরাও যদি বীজ সংরক্ষন করেন তবে অবশ্যই কমপক্ষে এক মাস হালকা রোদে বীজের জন্য ব্যবহৃত আলুগুলিকে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। নতুবা আলু বীজ হিমাগারে সংরক্ষন করতে হবে। তা হলে আলুর রোগ হবার সম্ভাবনা কমে যাবে। তিনি আরও জানান; বর্তমানে যেহেতু আলু ক্ষেতের অল্প জমিতে  লেটব্লাইট রোগ দেখা দিয়েছে কৃষি বিভাগের উচিত দ্রুত কৃষকদের সহযোগিতা করা। যাতে মহামারি আকারে রোগটি না ছড়ায়।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা (উদ্ভিদ সংরক্ষন) কনক চন্দ্র রায় জানান;কিছু জমিতে লেইট ব্লাইট রোগ  দেখা দিয়েছিল তবে তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে জানান; ;লেইট ব্লাইট একটি ছত্রাক জনিত রোগ। আবহাওয়ার তারতম্য,কুয়াশা ও ঠান্ডার কারনে লেইট ব্লাইট রোগ দেখা দিচ্ছে। উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা ১০টি টিমে বিভক্ত হয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। কিছু জমিতে লেইট ব্লাইট রোগ দেখা দিলেও বর্তমানে তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১২জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...