বুধবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৭

রাস্তায় যাদের জীবন-জীবিকা

রাস্তায় যাদের জীবন-জীবিকা


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


বাবু দাস (৫৮)। পেশায় জুতা সেলাই করা। গরীব নিঃস্ব এ মানুষটি রাস্তায় ধারে জুতা সেলাই করছেন দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে। বাবার সাথে ছোট বেলায় জুতা সেলাইয়ের কাজ শুরু করেছেন,আজ অবধি এই কাজ করে চলছেন। সারা দিনে যা আয় হয় তা দিয়ে কষ্ট করে চলে তার সংসার। ঝড়-বৃষ্টির দিনে কাজ বন্ধ রেখে অলস সময় কাটাতে হয় তাকে। যে দিন কাজ থাকে না সে দিন তার পরিবারকে অভুক্ত থাকতে হয়। বাবু দাসের বাড়ি বদরগঞ্জ পৌর শহরের বালুয়াভাটা মহল্লায়।
সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় রাস্তার ধারে বসা বাবু দাসের সাথে,তিনি জানান;যে বয়সে বই খাতা হাতে নিয়ে আমার স্কুলে যাওয়ার কথা,সেই বয়স হতে এ কাজ করছি। অভাব অনটনের সংসারে বাবা আমাকে লেখাপড়া শেখাতে পারেনি। আমিও বাবাকে সাহায্য করার জন্য জুতা সেলাইয়ের কাজ শুরু করি।
তিনি জানান;আসলে আমরা গরীব মানুষ,প্রতিনিয়ত বাঁচার জন্য যুদ্ধ করছি। রাস্তার ধারে কোন এক কোনে বসে জুতা সেলাইয়ের কাজ করি। কষ্ট হয়,আমাদের নিজস্ব কোন ঠিকানা নেই। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাথার উপর একটি ভাঙ্গা ছাতা দিয়ে কষ্টে কাজ করতে হয়। কারন একদিন কাজ বন্ধ থাকলে বাড়ির সবাইকে না খেয়ে থাকতে হবে। তিনি আরও জানান;আমাদের সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ জুতা সেলাইয়ের কাজে জড়িত। ভাল লাগে না রাস্তার ধারে কিংবা ব্যক্তি মালিকানাধিন কোন মার্কেটের সামনে বসতে। অনেক সময় তারা আমাদের গালমন্দ করেন। কিন্তু কি আর করার,উপায় নেই তাই রাস্তার ধারে বসে জুতা সেলাইয়ের কাজ করি।
কথা হয় রাস্তার ধারে বসা জুতা সেলাইয়ের কাজে জড়িত দিলচান দাসের (৫০)সাথে, তিনি জানান;দীর্ঘ ৩০বছর ধরে এ কাজ করছি। সারাদিনে ১৫০-২৫০শত টাকা আয় হয়। এ দিয়ে কোন রকমে চলে আমার সংসার। এ বছর ছোট মেয়ের বিয়ে দিলাম,এনজিওতে লোন নিয়ে। প্রতি সপ্তাহে কিস্তি দিতে হয়। এ কাজ করে পরিবার চালানো, কিস্তি দেয়া, এতে আমার ভীষন কষ্ট হয়েছে। কিন্তু কি আর করার করার? আমরা মানুষের জুতা রং, পালিশ করে তাদের সুন্দর করি। অথচ আমাদের জীবন দুঃখে ভরা। দু-বেলা ভালভাবে খেতেও পারি না।সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন জুতা সেলাইয়ের কাজে নিয়োজিত উজ্জল দাস(৩৯)। তিনি জানান;অনেক কষ্টের জীবন আমাদের। কেউ আমাদের দিকে তাকায় না। মানুষের মার্কেটের ধারে,রাস্তার পাশে আমাদের জীবনটাই শেষ হল। ছোট বাচ্চাটার দু-দিন ধরে জ্বর। ডাক্তার দেখানো,ওষুধ কেনা,বাজার করা,সব মিলিয়ে অনেক টাকার দরকার। আমার হাতে একটি টাকাও নেই। কি করবো আমি ভেবে পাচ্ছি না। তিনি আরও জানান; রাস্তার ধারে বসা মানুষদের নিয়ে কে ভাবেন বলেন ? এ নিয়ে আর কোন কষ্ট পাই না। এই ভেবে যে,ভববানের দয়ায় দু-মুঠো খেতে পাচ্ছি। উজ্জল দাসের বাড়ি পৌরশহরের ফেসকিপাড়া মহল্লায়।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়াম্যান সাইদুল ইসলাম জানান; রাস্তার ধারে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে এরা জুতা সেলাইসহ রং পালিশের কাজ করে এদের নিয়ে সকলের ভাবা উচিত।

বদরগঞ্জ পৌরসভার সফল মেয়র উত্তম কুমার সাহা জানান; জুতা সেলাইয়ের কাজে যারা জড়িত তাদের যাতে অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য সহযোগিতা সহ পুর্নবাসন করা যায় এ জন্য পৌরশহরের ভিতরে বাজার এলাকায় জায়গা দেখেছি,নিজস্ব জায়গাতেই তাদের দোকান করে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৮জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...