বাঁচার জন্য বন আলুই তাদের একমাত্র ভরসা
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
অভাব দারিদ্রতা যাদের নিত্য সঙ্গি,তাদের জীবনে আর কি চাওয়ার আছে ? তাদের একটাই চাওয়া কোন রকমে বেঁচে থাকা। বেঁচে থাকার তাগিদে হতদরিদ্র এই মানুষগুলি বছরের একটা সময়ে কৃষি শ্রমিকের কাজ করে। বাকি সময়ে অর্থ্যাৎ কর্মহীন সময়ে এরা বনে জঙ্গলে ঘুঁরে বেড়ায় খাবারের খোঁজে। বন-জঙ্গলে খাবারের তালিকায় তাদের প্রথম পছন্দ বন-আলু। এই হতদরিদ্র মানুষগুলো বন-আলু সংগ্রহ করে বাড়িতে এনে তা সিদ্ধ করে পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে কোন রকমে জীবন বাঁচায়। এরা হল পশ্চিমা(উপজাতি)সম্প্রদায়ের মানুষ। এদের বসতি বদরগঞ্জ পৌরশহরের ৯ নম্বর রেল গেট বস্তি এলাকায়।
সরেজমিনে পৌরশহর ঘুরে বেড়ানোর সময়,এই হতদরিদ্র মানুষগুলির জটলা চোখে পড়ে। একটু এগিয়ে গিয়ে দেখা যায়,সবার হাতে প্লাষ্টিকের বস্তা,সাবল আর খুন্তি। আগ্রহ নিয়ে এই প্রতিবেদক তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, দলবদ্ধভাবে কোথায় যাচ্ছেন ? তাদের ঝটপট উত্তর এখন সময় নেই,কমপক্ষে ৫-১০মাইল দুরের এক জঙ্গলে যাচ্ছি বন-আলু সংগ্রহ করতে।
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন মিস টহুলু(৬৫)নামে এক বৃদ্ধা,তিনি জানান; বাড়িতে কোন খাবার নেই। বর্তমানে কোন কাজও নেই, কি খেয়ে বাঁচবো আমরা। তাই জঙ্গল হতে বন-আলু আনতে যাচ্ছি। জঙ্গল হতে আমরা বন-আলু নিয়ে আসবো তার পর বাড়িতে এসে তা সিদ্ধ করে বাড়ির সবাই মিলে খাবো। আমরা গরীব মানুষ দিন আনি দিন খাই। বর্তমানে কোন কাজ নাই,তাই বাড়িতে কোন খাবারও নাই। বাঁচতে তো হবে বাবা। বন-জঙ্গলে বন আলু না থাকলে আমাদের না খেয়ে মরতে হতো।
তিনি আরও জানান; আগের মত আর বন-জঙ্গলে বন-আলু পাওয়া যায় না। তাই অনেক দুর যেতে হয়। এই দলের একজন মালতি রানি(৪৪)জানান; আমরা খুবই গরীব। পেটের জ্বালায় আমরা বন-আলু খাই। যখন কাজ পাই তখন মাঠে কৃষি শ্রমিকের কাজ করি,আর যখন কাজ থাকে না তখন বনে জঙ্গলে বন আলু সংগ্রহ করে তা খাই। বেঁচে থাকতে হবে তো !
আদি বাসি রিনা রানি(৪২),তিনি জানান;আমরা গরীব মানুষ,প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিনই যোগাড় করতে হয়। কাজ পেলে খাবার পাই আর কাজ না পেলে আমাদের উপোষ থাকতে হয়। বাড়িতে কোন চাল নেই, তাই জঙ্গলে যাচ্ছি বন-আলুর খোঁজে। যদি পাই তা খেয়ে অন্ততঃ জীবনটা বাঁচবে।
পৌরশহরের মুন্সিপাড়া সংলগ্ন বসবাসকারি বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ইউনুস আলি জানান; এরা গরীব মানুষ,রেল লাইনের বস্তিতে বাস করে। মুলতঃ এই মানুষগুলি কৃষি শ্রমিকের কাজ করে। যখন কাজ থাকে না তখন বাঁচার তাগিদে এই হতদরিদ্র মানুষগুলি বন-আলু খেয়ে বেঁচে থাকে।
বদরগঞ্জ উপজেলা সমবায় অফিসার নজরুল ইসলাম জানান; ইতোমধ্যে সরকার আদিবাসি সম্প্রদায়কে ভাতার আওতায় নিয়ে এসেছে। মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে। যদি ওই সম্প্রদায়ের লোকজন ভাতা পেয়ে না থাকেন তাহলে দ্রুত তাদের ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫ জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
অভাব দারিদ্রতা যাদের নিত্য সঙ্গি,তাদের জীবনে আর কি চাওয়ার আছে ? তাদের একটাই চাওয়া কোন রকমে বেঁচে থাকা। বেঁচে থাকার তাগিদে হতদরিদ্র এই মানুষগুলি বছরের একটা সময়ে কৃষি শ্রমিকের কাজ করে। বাকি সময়ে অর্থ্যাৎ কর্মহীন সময়ে এরা বনে জঙ্গলে ঘুঁরে বেড়ায় খাবারের খোঁজে। বন-জঙ্গলে খাবারের তালিকায় তাদের প্রথম পছন্দ বন-আলু। এই হতদরিদ্র মানুষগুলো বন-আলু সংগ্রহ করে বাড়িতে এনে তা সিদ্ধ করে পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে কোন রকমে জীবন বাঁচায়। এরা হল পশ্চিমা(উপজাতি)সম্প্রদায়ের মানুষ। এদের বসতি বদরগঞ্জ পৌরশহরের ৯ নম্বর রেল গেট বস্তি এলাকায়।
সরেজমিনে পৌরশহর ঘুরে বেড়ানোর সময়,এই হতদরিদ্র মানুষগুলির জটলা চোখে পড়ে। একটু এগিয়ে গিয়ে দেখা যায়,সবার হাতে প্লাষ্টিকের বস্তা,সাবল আর খুন্তি। আগ্রহ নিয়ে এই প্রতিবেদক তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, দলবদ্ধভাবে কোথায় যাচ্ছেন ? তাদের ঝটপট উত্তর এখন সময় নেই,কমপক্ষে ৫-১০মাইল দুরের এক জঙ্গলে যাচ্ছি বন-আলু সংগ্রহ করতে।
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন মিস টহুলু(৬৫)নামে এক বৃদ্ধা,তিনি জানান; বাড়িতে কোন খাবার নেই। বর্তমানে কোন কাজও নেই, কি খেয়ে বাঁচবো আমরা। তাই জঙ্গল হতে বন-আলু আনতে যাচ্ছি। জঙ্গল হতে আমরা বন-আলু নিয়ে আসবো তার পর বাড়িতে এসে তা সিদ্ধ করে বাড়ির সবাই মিলে খাবো। আমরা গরীব মানুষ দিন আনি দিন খাই। বর্তমানে কোন কাজ নাই,তাই বাড়িতে কোন খাবারও নাই। বাঁচতে তো হবে বাবা। বন-জঙ্গলে বন আলু না থাকলে আমাদের না খেয়ে মরতে হতো।
তিনি আরও জানান; আগের মত আর বন-জঙ্গলে বন-আলু পাওয়া যায় না। তাই অনেক দুর যেতে হয়। এই দলের একজন মালতি রানি(৪৪)জানান; আমরা খুবই গরীব। পেটের জ্বালায় আমরা বন-আলু খাই। যখন কাজ পাই তখন মাঠে কৃষি শ্রমিকের কাজ করি,আর যখন কাজ থাকে না তখন বনে জঙ্গলে বন আলু সংগ্রহ করে তা খাই। বেঁচে থাকতে হবে তো !
আদি বাসি রিনা রানি(৪২),তিনি জানান;আমরা গরীব মানুষ,প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিনই যোগাড় করতে হয়। কাজ পেলে খাবার পাই আর কাজ না পেলে আমাদের উপোষ থাকতে হয়। বাড়িতে কোন চাল নেই, তাই জঙ্গলে যাচ্ছি বন-আলুর খোঁজে। যদি পাই তা খেয়ে অন্ততঃ জীবনটা বাঁচবে।
পৌরশহরের মুন্সিপাড়া সংলগ্ন বসবাসকারি বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ইউনুস আলি জানান; এরা গরীব মানুষ,রেল লাইনের বস্তিতে বাস করে। মুলতঃ এই মানুষগুলি কৃষি শ্রমিকের কাজ করে। যখন কাজ থাকে না তখন বাঁচার তাগিদে এই হতদরিদ্র মানুষগুলি বন-আলু খেয়ে বেঁচে থাকে।
বদরগঞ্জ উপজেলা সমবায় অফিসার নজরুল ইসলাম জানান; ইতোমধ্যে সরকার আদিবাসি সম্প্রদায়কে ভাতার আওতায় নিয়ে এসেছে। মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে। যদি ওই সম্প্রদায়ের লোকজন ভাতা পেয়ে না থাকেন তাহলে দ্রুত তাদের ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫ জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন