মঙ্গলবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৭

আর্থিক সংকটে বন্ধের দ্বারপ্রান্তে দেশের একমাত্র ফাইলেরিয়া হাসপাতালটি



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


দরিদ্র এক কৃষকের নাম আব্দুল জব্বার(৬৫)। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপির বাতাসন গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে ফালোরিয়া বা গোদ রোগে ভুগছেন। প্রথম দিকে তিনি ডাক্তারের পরামর্শ না নিলেও বর্তমানে ফুলে যাওয়া পায়ের জন্য ব্যথা অনুভব করছেন। মাঝে মাঝে তার তীব্র কাপুনি দিয়ে জ্বর আসে,আবার সেরেও যায়। পায়ের নীচের অংশ অস্বাভাবিক রকমের ফুলে গেছে। বাধ্য হয়ে ডাক্তারের পরামর্শে নীলফামারি জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় অবস্থিত ফাইলোরিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে বাংলাদেশের একমাত্র ফাইলেরিয়া হাসপাতাল এটি।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এ রোগের প্রকোপ বেশি। উত্তরাঞ্চলের এ জেলাগুলিতে দরিদ্র জনগোষ্টির সংখ্যা বেশি। এ অঞ্চলের লোকজনের জীবনযাপনের মানও নি¤œমুখি।
চিকিৎসক ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে;এ অঞ্চলের দরিদ্র মানূষরা ঘুমের সময় মশারির ব্যবহার কম করে এজন্য তারা কিউলেক্স নামক মশা দ্বারা আক্রান্ত হয় ও  খেসারি নামক ডাল সস্তা হবার কারনে কম তাপে তা সিদ্ধ করে খায়। ফলশ্রুতিতে একদিকে ঘুমের সময় মশারির ব্যবহার কম করার কারনে  কিউলেক্স দ্বারা আক্রান্ত হয় অন্যদিকে খেসারির ডালে ল্যাথাইরাস নামক এক ধরনের উপাদান থাকে যা কম তাপে নষ্ট হয় না এ ডাল জাতীয় শষ্যটি কম তাপে দীর্ঘদিন খেলে ফাইলোরিয়া হবার স¤া¢বনা থাকে। 
মোয়াজ্জেম হোসেন নামক এক চিকিৎসক চাকুরি করার সুবাদে সৈয়দপুরে আসেন এবং এখানেই চাকুরিতে অবসর গ্রহন করেন। দারিদ্রপীড়িত এ অঞ্চলে গোদ রোগের প্রকোপ বেশি দেখে নিজ উদ্যোগে ২০০২ সালে শহরের ধলাগাছ এলাকায় ফাইলোরিয়া হাসপাতালটি প্রতিষ্টা করেন। 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়;বর্তমানে ফাইলোরিয়া হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ ও আর্থিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ অঞ্চলের ফাইলেরিয়া রোগীর একমাত্র আবাসস্থল এই হাসপাতালটি চলছে  নিভু নিভু অবস্থায়। তারপরও দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে আসা রোগিরা প্রতিনিয়ত  চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়ে উঠছেন। 
হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়; ফাইলোরিয়ার(গোদ) জটিল রোগিদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য রয়েছে ৬টি বেড। ভিআইপি কেবিন রয়েছে ৪টি। জরুরি রোগিদের বহনের জন্য রয়েছে ২টি এ্যাম্বুলেন্স,আধুনিক অবকাঠামো। নেই শুধু পর্যাপ্ত অর্থ, চিকিৎসক,নার্স ও ওষুধ।  এ কারনে এ অঞ্চলের ফাইলোরিয়ায় আক্রান্ত জনগোষ্টি চিকিৎসা সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছে।
পূর্বে এই হাসপাতালের রোগিদের জন্য সরকারিভাবে ওষুধ  বরাদ্দ দেয়া হতো। তখন চিকিৎসা সেবা দিতেন সরকারি চিকিৎসক ও নার্সরা। ওই সময় এই হাসপাতালে কর্মরত সকলের  বেতন ভাতাও পরিশোধ করা হত। । গত ২০১১ সাল হতে বন্ধ হয়ে যায় সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা। বর্তমানে হাসপাতালের আয় বলতে রোগি ভর্তি ফি, বেড ভাড়া, এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া, প্রতিদিন রোগিদের টিকিট বিক্রির টাকা। এতে হাসপাতালটির প্রতি মাসে গড়ে আয় হয় ৮০ হাজার হতে ১ লাখ টাকা। এ দিকে হাসপাতালটিতে ১৮ জন কর্মকর্তা কর্মচারির বেতন ও ওষুধ ক্রয়  বাবদ প্রতিমাসে হাসপাতালটির ব্যয় হয় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। প্রতি মাসে ঘাটতি কমপক্ষে ৮০ হাজার টাকা। ফাইলোরিয়া হাসপাতালটি প্রকৃত অর্থে সেবা দিতে চাইলে এখনও প্রয়োজন দুই জন ডাক্তার ও চারজন নার্স।
কথা হয় নীলফামারি জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার ফাইলোরিয়ায় আক্রান্ত রোগি আব্দুল গফুরের(৬৫) সাথে তিনি জানান; এখানে চিকিৎসা করে আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি। পূর্বে পায়ের অসহ্য যন্ত্রনায় দূর্বিসহ জীবন-যাপন করছিলাম।
ফাইলোরিয়া হাসপাতালের কর্মরত আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ রায়হান তারেক জানান;বৃহত্তর রংপুর বিভাগ হলো ফাইলেরিয়া জোন। চিকিৎসা নিলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ফাইলেরিয়া হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ছুরুত আলি বাবু জানান;আর্থিক সংকটে যে কোন মুহুর্তে এ হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তিনি হাসপাতলটির ব্যাপারে সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১০জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...