সন্তোষের দারিদ্র জয়ের গল্প
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
সন্তোষ গোস্বামি। শিক্ষিত এক বেকার যুবকের নাম। বাড়ি রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির গুদামপাড়া গ্রামে। দরিদ্র কৃষক পিতার সন্তান সন্তোষ অদম্য ইচ্ছা শক্তির উপর ভর করে টিউশনি(প্রাইভেট)করে ব্যবস্থাপনা বিভাগে এম কম পাশ করেছেন। এম কম পাশের পর ভেবে পারছিলেন না কিভাবে দরিদ্র পিতাকে সাহায্য করা যায়। এরই মধ্যে চাকুরির জন্য অনেক জায়গায় দরখাস্ত করেও কোন ফল হয়নি। অনেক সময় কেউ চাকুরি দিতে চাইলেও তারা চান নগদ অর্থ। যা সন্তোষের দরিদ্র কৃষক পিতার সামর্থ্যের মধ্যে ছিল না। প্রতিবেশির পরামর্শে সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে বাধ্য হয়েই যমুনেশ্বরি নদীর তীরবর্তী অন্যের পরিত্যক্ত জমিতে চুক্তির মাধ্যমে কলা চাষের সিন্ধান্ত নেন। এই কলা চাষই তার জীবনে নিয়ে আসে সাফল্য। কলা চাষ করে বর্তমানে তিনি স্বাবলম্বি। এখন বাড়ি গাড়ি সবই হয়েছে তার।
সরেজমিনে তার কলা বাগানে গিয়ে কথা হয় সফল কলা চাষি সন্তোষের সাথে,তিনি জানান;এক সময় সংসারের খরচ ও আমার লেখাপড়ার খরচ যোগানো আমার দরিদ্র পিতার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই আমি স্কুল হতে শুরু করে এম কম পাশ করা পর্যন্ত টিউশনি করেই লেখাপড়া করেছি। লেখাপড়া শেষ করে চাকুরির পিছনে ছুটতে ছুটতে যখন আমি ক্লান্ত তখন আমার এক প্রতিবেশি আমাকে পরামর্শ দেন কলা চাষ করার জন্য। এ ভাবেই শুরু। আমি এখন বুঝে গেছি কি ভাবে দারিদ্রকে জয় করতে হয়। তিনি জানান;চাকুরি হয়নি এতে আমার কোন আক্ষেপ নেই। আমার এই ভেবে ভাল লাগে যে,আমি এখন স্বাবলম্বি। আমার কলা বাগানে ৫০জন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরেছি।
তিনি জানান;২০০০সালে শুরু। প্রথমে তিনি এলাকার এক কৃষকের ৩০ শতক অনাবাদি জমি চুক্তি করে কলা চাষ করি। ফসল তুলতে সময় লাগে ১৫ মাস। তার জমির ভাড়া, চাষাবাদ সহ মোট খরচ হয় ১২ হাজার টাকা। কলা বিক্রি করি ১৯ হাজার টাকায়। এতে লাভ হয় ৭ হাজার টাকা। এই লাভের আনন্দই আমাকে কলা চাষি হতে সাহায্য করে।তিনি এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলার ফাঁকেও কলা গাছের পরিচর্যা করছেন। লক্ষ্য করলাম গাছে গাছে পরিপুষ্ট কলার অসংখ্য পিঁড় ঝুলছে।
সন্তোষ গোস্বামি আরও জানান;মাষ্টার্স করে যে শুধু চাকুরি করতে হবে এটা মোটেও ঠিক নয়। গত ১৬ বছর থেকে কলা চাষ করছি। ইচ্ছা আগ্রহ ও ধৈর্য্য থাকলে যে কোন মানুষ দারিদ্রকে জয় করে সফলতার দ্বারপ্রান্তে যেতে পারে আমি তার বাস্তব প্রমান। চলতি বছর আমি ৪ একর জমিতে ৪ হাজার ২০০ মোহন ভোগ (মালভোগ) কলার চারা লাগিয়েছি। এখন ফল(কলা) কাটার কাজ চলছে। ওই কলা চাষে ১৫ মাসে জমির ভাড়া সহ আমার খরচ হয়েছে ৫২ হাজার টাকা।
কলা বাবদ কলার পাইকাড়ি বিক্রেতাদের কাছে অগ্রিম নিয়েছি ২লাখ ৫০ হাজার টাকা। অবশ্য হিসেব অনুযায়ি তাদের কাছে আরও টাকা পাবো। আশা করছি খরচ বাদে আমার লাভ হবে কমপক্ষে ২লাখ টাকা।
দামোদর ইউপির সম্ভ্রান্ত কৃষক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বাবু নলিনী সরকার জানান;দরিদ্র ঘরের শিক্ষিত সন্তান সন্তোষ গোস্বামি। সন্তোষের মত বাংলাদেশের শিক্ষিত বেকাররা যদি চাকুরির পিছনে না ঘুরে মনে প্রানে কোন কাজকে বেঁচে নেয় তাহলে নিজে যেমন স্বাবলম্বি হবে,অন্যদিকে দেশ এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধির দিকে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; কলা লাভ জনক ফসল। পতিত জমি চাষের উপযোগি করে অনেকে কলা চাষ করে সাবলম্বি হয়েছেন।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৬ জানুয়ারি/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
সন্তোষ গোস্বামি। শিক্ষিত এক বেকার যুবকের নাম। বাড়ি রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির গুদামপাড়া গ্রামে। দরিদ্র কৃষক পিতার সন্তান সন্তোষ অদম্য ইচ্ছা শক্তির উপর ভর করে টিউশনি(প্রাইভেট)করে ব্যবস্থাপনা বিভাগে এম কম পাশ করেছেন। এম কম পাশের পর ভেবে পারছিলেন না কিভাবে দরিদ্র পিতাকে সাহায্য করা যায়। এরই মধ্যে চাকুরির জন্য অনেক জায়গায় দরখাস্ত করেও কোন ফল হয়নি। অনেক সময় কেউ চাকুরি দিতে চাইলেও তারা চান নগদ অর্থ। যা সন্তোষের দরিদ্র কৃষক পিতার সামর্থ্যের মধ্যে ছিল না। প্রতিবেশির পরামর্শে সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে বাধ্য হয়েই যমুনেশ্বরি নদীর তীরবর্তী অন্যের পরিত্যক্ত জমিতে চুক্তির মাধ্যমে কলা চাষের সিন্ধান্ত নেন। এই কলা চাষই তার জীবনে নিয়ে আসে সাফল্য। কলা চাষ করে বর্তমানে তিনি স্বাবলম্বি। এখন বাড়ি গাড়ি সবই হয়েছে তার।
সরেজমিনে তার কলা বাগানে গিয়ে কথা হয় সফল কলা চাষি সন্তোষের সাথে,তিনি জানান;এক সময় সংসারের খরচ ও আমার লেখাপড়ার খরচ যোগানো আমার দরিদ্র পিতার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই আমি স্কুল হতে শুরু করে এম কম পাশ করা পর্যন্ত টিউশনি করেই লেখাপড়া করেছি। লেখাপড়া শেষ করে চাকুরির পিছনে ছুটতে ছুটতে যখন আমি ক্লান্ত তখন আমার এক প্রতিবেশি আমাকে পরামর্শ দেন কলা চাষ করার জন্য। এ ভাবেই শুরু। আমি এখন বুঝে গেছি কি ভাবে দারিদ্রকে জয় করতে হয়। তিনি জানান;চাকুরি হয়নি এতে আমার কোন আক্ষেপ নেই। আমার এই ভেবে ভাল লাগে যে,আমি এখন স্বাবলম্বি। আমার কলা বাগানে ৫০জন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরেছি।
তিনি জানান;২০০০সালে শুরু। প্রথমে তিনি এলাকার এক কৃষকের ৩০ শতক অনাবাদি জমি চুক্তি করে কলা চাষ করি। ফসল তুলতে সময় লাগে ১৫ মাস। তার জমির ভাড়া, চাষাবাদ সহ মোট খরচ হয় ১২ হাজার টাকা। কলা বিক্রি করি ১৯ হাজার টাকায়। এতে লাভ হয় ৭ হাজার টাকা। এই লাভের আনন্দই আমাকে কলা চাষি হতে সাহায্য করে।তিনি এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলার ফাঁকেও কলা গাছের পরিচর্যা করছেন। লক্ষ্য করলাম গাছে গাছে পরিপুষ্ট কলার অসংখ্য পিঁড় ঝুলছে।
সন্তোষ গোস্বামি আরও জানান;মাষ্টার্স করে যে শুধু চাকুরি করতে হবে এটা মোটেও ঠিক নয়। গত ১৬ বছর থেকে কলা চাষ করছি। ইচ্ছা আগ্রহ ও ধৈর্য্য থাকলে যে কোন মানুষ দারিদ্রকে জয় করে সফলতার দ্বারপ্রান্তে যেতে পারে আমি তার বাস্তব প্রমান। চলতি বছর আমি ৪ একর জমিতে ৪ হাজার ২০০ মোহন ভোগ (মালভোগ) কলার চারা লাগিয়েছি। এখন ফল(কলা) কাটার কাজ চলছে। ওই কলা চাষে ১৫ মাসে জমির ভাড়া সহ আমার খরচ হয়েছে ৫২ হাজার টাকা।
কলা বাবদ কলার পাইকাড়ি বিক্রেতাদের কাছে অগ্রিম নিয়েছি ২লাখ ৫০ হাজার টাকা। অবশ্য হিসেব অনুযায়ি তাদের কাছে আরও টাকা পাবো। আশা করছি খরচ বাদে আমার লাভ হবে কমপক্ষে ২লাখ টাকা।
দামোদর ইউপির সম্ভ্রান্ত কৃষক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বাবু নলিনী সরকার জানান;দরিদ্র ঘরের শিক্ষিত সন্তান সন্তোষ গোস্বামি। সন্তোষের মত বাংলাদেশের শিক্ষিত বেকাররা যদি চাকুরির পিছনে না ঘুরে মনে প্রানে কোন কাজকে বেঁচে নেয় তাহলে নিজে যেমন স্বাবলম্বি হবে,অন্যদিকে দেশ এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধির দিকে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; কলা লাভ জনক ফসল। পতিত জমি চাষের উপযোগি করে অনেকে কলা চাষ করে সাবলম্বি হয়েছেন।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৬ জানুয়ারি/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন