শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে শুদ্ধভাবে মাতৃভাষা চর্চা আর উন্নত দেশ গড়ার স্বপ্ন


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

আগামির স্বপ্নে বিভোর ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। এক একটি শিশুর চোখ যেন বাংলার মানচিত্র,লাল সবুজের পতাকা আর স্বাধিন ভূ-খন্ড। একদিন এই কোমলমতি মায়াবি শিশুরাই গড়বে সোনার বাংলা তথা উন্নত বাংলাদেশ। শিশুদের মনে আগামির স্বপ্নের বীজ বপন করা তথা স্বপ্ন পুরনের দায়িত্ব আমাদেরকেই নিতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষক ও অভিভাবকদের। শিশুদের প্রতি যেমন সদয় হয়ে শিক্ষা দান করতে হবে,তেমনি তাদের অন্তরে গেঁথে দিতে হবে মানবিক মুল্যবোধের বিষয়টি। এ ক্ষেত্রে মানবিক গুন সম্পন্ন শিক্ষাই হল প্রথম ও শেষ কথা । শিশুদের শুদ্ধভাবে মাতৃভাষা চর্চার বিষয়টিও খুবই গুরুত্বপুর্ন। একটি কথা শিশুদের অন্তরে গেঁথে দিতে হবে,জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে একদিন হয়তঃ শিশুদের অনেক ভাষাই শিখতে বা আয়ত্ব করতে হবে কিন্তু মাতৃভাষা তথা বাংলা ভাষাকে বাদ দিয়ে নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে,এই শিশুরাই একদিন বড় হয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে যাবে উন্নত বিশ্বের দরবারে। এই শিশুরাই একদিন উন্নত বাংলাদেশ গড়বে। এরাই হল বঙ্গঁবন্ধুর সোনার বাংলার কারিগর।
আজ আমার খুব ভাল লেগেছে এ জন্য যে,আজ(২১ফেব্রুয়ারি)সকালে বদরগঞ্জ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল কর্তৃপক্ষ এই সকল ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পরম মমতায় আগলে শহীদ মিনারে নিয়ে এসেছে ভাষা সৈনিকদের শ্রদ্ধা জানাতে। শিশুদের পতাকা,মানচিত্র,মায়ের ভাষা,দেশ সম্পর্কে জানাতে হবে। আরও জানাতে হবে বাংলাদেশের সত্যিকারের ইতিহাস।
ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ভাষা সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে নিয়ে আসার জন্য বদরগঞ্জ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের পরিচালক মাহাবুবার রহমানকে ধন্যবাদ জানাই। আর ধন্যবাদ জানাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আফসার আলি চাচাকে। সেই সাথে ধন্যবাদ জানাই স্কুলের সকল শিক্ষকগনকে। আমরা সবাই জানি,শিশুদের মধ্যে স্বপ্নের বীজ বপন করা,তাদের স্বপ্ন পুরনে কাজ করা একটি কঠিন কাজ। তার চাইতে কঠিন কাজ হল তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়া। কাজগুলি করা কঠিন হলেও কিন্তু অসম্ভব নয়। এই কাজটি যে প্রতিষ্ঠান করতে পারে সেই প্রতিষ্ঠানই তো শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। আমি আশা করি,স্কুলটি একদিন দেশের নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিনত হবে। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যয়নরত শিশুদের প্রতি শিক্ষক সহ কর্তৃপক্ষ আরও বেশি সদয় হবেন। আরও অনুরোধ করছি মানবিক মুল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষা দেবার জন্য।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২১ফেব্রুয়ারি/২০
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 
 
 

বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

কচুুরিপানাকে আর অবহেলা নয়




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

কয়েক দিন হতে কচুুরিপানাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ দেশে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে আমি দেখেছি, আমাদের মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রি এমএ মান্নান সাহেব বলেছেন,কচুরিপানা নিয়ে গবেষনা করতে বলেছি,কচুরিপানার ফুল আমি নিজে খেয়েছি,খুব মিস করি। কাউকে কচুরিপানা খেতে/পরামর্শ দেননি ইত্যাদি ইত্যাদি।
সেই সাথে আমাদের রংপুর অঞ্চলের কৃতি সন্তান ও বানিজ্যমন্ত্রি টিপু মুন্সি সাহেব বলেছেন,একদিন কচুরিপানা হতে খাদ্য বের হতে পারে।
আমাদের দু-জন মন্ত্রি আমার দৃষ্টিতে যথার্থই বলেছেন,আমি উদ্ভিদ বিজ্ঞানের এক সময়ের শিক্ষার্থী হিসেবে এ কথা বলতে পারি,অবহেলা আর অনাদরে আপনা আপনি বেড়ে ওঠা কচুরিপানা নিয়ে আমাদের আরও বেশি বেশি গবেষনা প্রয়োজন। দেশের জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে বিকল্প খাদ্যের সন্ধান করা যেমন জরুরি তার চাইতে বেশি জরুরি আমাদের খাদ্যাভাস পরিবর্তনের। আপনারা সকলেই জানেন,তার পরও আপনাদের কিছুটা স্মরন করিয়ে দেবার জন্য সংক্ষেপে কচুরিপানা সম্পর্কে অবহিত করছি।
আমাদের বাড়ির আশে পাশে পুকুর ডোবা নালা বা পরিত্যক্ত কোন জলাশয়ে আপনা আপনি ভাবে বেড়ে উঠে যে উদ্ভিদটি তার নাম কচুরিপানা। কচুরিপানা একাধারে পরিবেশ দুষন মুক্তকারি,জমির উর্ব্বরতা শক্তি বৃদ্ধিকারি,মাটির গুনগত মান আনায়ন কারি,জৈব গ্যাস উৎপাদন কারি,গবাদি পশুখাদ্য সরবরাহকারি হিসেবে অবহেলিত এই উদ্ভিদটিও যে আমাদের দেশের অর্থনীতিতে বিশাল ভুমিকা রাখতে পারে এ বিষয়টি আরও ভালো ভাবে আমাদের জানা দরকার। কচুরিপানার বৈজ্ঞানিক নাম আইকরনিয়া ক্রাসিপেস
গোত্রের নাম পনটিডিরেসি।
বিজ্ঞানীদের ধারনা;কচুরিপানার উৎপত্তিস্থল দক্ষিন আমেরিকার ভেনিজুয়েলায়।
ভারতের জহরলাল নেহেরু কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষনা রিপোর্ট অনুযায়ি শুকনা কচুরিপানায় আছে প্রায় ২২.৯ভাগ আমিষ,২.১২ভাগ চর্বি,১৮.৩ভাগ আঁশ,১৭.৮ভাগ ছাই,৩.৬৫ভাগ নাইট্রোজেন,৩.৮৭ফসফরাস এবং র্কাবন-নাইট্রোজেনের অনুপাত ১৭ঃ১। কচুরিপানার গাছ অপেক্ষা পাতায় বেশি পরিমানে আমিষ জাতীয় পদার্থ পাওয়া যায়। যার পরিমান ৩২.৯ভাগ। তাই একে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করলে গরুকে প্রাকৃতিক উপায়ে স্বাস্থ্যবান করা সম্ভব।
কচুরিপানা হতে জৈব গ্যাস ঃ
আমাদের দেশে জ্বালানি সংকট প্রকট। ছোট ছোট জৈব গ্যাসের প্লান্ট তৈরি করে ছোট পরিবারগুলো  অনায়েসে রান্নার কাজে সুবিধা নিতে পারে। এজন্য ৪ফুট হতে ৮ফুটের মোটা টিনের তৈরি বায়ুরোধি একটি প্লান্ট তৈরি করতে হবে।  প্লান্টটিতে পচা কচুরিপানা ও পানি দিয়ে ভর্তি করতে হবে। এটি মাটির নিচে থাকবে। এ প্লান্টের গ্যাস হতে রান্নার কাজ সহ বাতি জ্বালানো সম্ভব।
কাগজের মন্ড তৈরি ঃ
কচুরিপানার মন্ড, ব্লিচিং পাউডার, ক্যালসিয়াম কার্বনেট ও সোডিয়াম কার্বনেট এক সাথে করে উত্তপ্ত করলে কাগজের মন্ড প্রস্তুত হয়।
মশার কয়েল তৈরিঃ
শুকনা কচুরিপানাকে সিদ্ধ করে মন্ড তৈরি করতে হবে। এর সাথে চিটাগুড়, কাঠের গুঁড়া,ব্লিচিং পাউডার ও ধুপ এক সাথে মিশিয়ে রোদে শুকালে ভাল জ্বলে এবং মশা তাড়ানো যায়।
কীটনাশক ও সার হিসেবে কচুরিপানাঃ কাঁচা কচুরিপানার মন্ড,কপার সালফেট বা তুঁতে এক সাথে মিশিয়ে ফসলে স্প্রে করলে করলে কীটপতঙ্গ যেমন মরে যাবে অন্য দিকে জমিতে মান সম্পন্ন সার স্প্রে করা হবে।
মাছের খাদ্য হিসেবে কচুরিপানাঃ মাছের দৈহিক বৃদ্ধি,রোগমুক্ত ও সুস্থ্য রাখার জন্য প্রয়োজন খাদ্য ও সার। আর উৎকৃষ্ট মানের কম্পোষ্ট সার ও খাদ্য তৈরি হতে পারে এই কচুরিপানা দিয়েই। কারন এই কম্পোষ্ট সারটি তৈরি করতে ৮৮ভাগ কচুরিপানা প্রয়োজন। আমরা কম বেশি সবাই জানি গ্রাসকার্প নামক মাছটি কচুরিপানা সরাসরি খেয়ে থাকে। এ ছাড়াও কচুরিপানার তৈরি কম্পোষ্ট সারটি জমির উর্ব্বরতা শক্তি বৃদ্ধিতে কার্যকর ভুমিকা রাখে।
খাদ্য হিসেবে কচুরিপানার ব্যবহারঃ কচুরিপানার নীলাভ ফুল হতে তৈরি করা যায় স্বুস্বাদু বড়া। এই বড়া অধিক প্রোটিন সমৃদ্ধ।
এছাড়াও কচুরিপানা দিয়ে দড়ি তৈরি,পেট্রোলিয়াম জাতীয় দ্রব্য প্রস্তুত,পানি বিশুদ্ধকরন সহ নানা কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান, অবহেলিত কচুরিপানা গ্রামিন অর্থনীতেতে বিশাল ভুমিকা রাখতে পারে। সহজলভ্য অবহেলিত এই উদ্ভিদটিকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য না করে এর অবদানের কথা মাথায় রেখে এ ব্যাপারে আরও গবেষনা করা দরকার।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার গোলাম মোস্তফা মোঃ জোবাইদুর রহমান জানান, কচুরিপানা একাধারে পরিবেশ দুষন মুক্তকারি,জমির উর্ব্বরতা শক্তি বৃদ্ধিকারি,মাটির গুনগত মান আনায়ন কারি,জৈব গ্যাস উৎপাদন কারি,গবাদি পশুখাদ্য সরবরাহকারি হিসেবে অবহেলিত এই উদ্ভিদটি আমাদের দেশের অর্থনীতিতে বিশাল ভুমিকা রাখতে পারে।  

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৯ফেব্রুয়ারি/২০
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪




       

শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

প্রকৃতির সাথে ভালবাসা



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বসন্ত বরন আর বিশ্ব ভালবাসা দিবস। যেন মিলে মিশে একাকার। ফাগুনের এই অগ্নিঝরা দিনে আর ভালবাসা দিবসের প্রথম প্রহরে প্রকৃতিকে কাছ হতে দেখতে তথা প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য পেতে চলে যাই বদরগঞ্জ উপজেলা সদর হতে প্রায় ৩৫কি.মি দুরে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আশুরার বিল নামক স্থানে। অপরুপ সৌন্দর্যমন্ডিত বিলটিকে প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাঁজিয়েছে। প্রকৃতির অপরুপ সাজে সজ্জিত ১৩ বর্গ কি.মি বিলটি দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ ও বিরামপুর উপজেলাকে আচ্ছাদন করে রেখেছে। সমতল ভুমিতে ব-দ্বীপ সদৃশ আর শাল বাগান দিয়ে ঘেঁরা এত বড় বিশাল এলাকা বাংলাদেশের আর কোথাও দেখা যাবে কিনা সন্দেহ। নিঃসন্দেহে এটি একটি নৈসর্গিক স্থান। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে তৈরি শালবাগান,বিলের স্বচ্ছ জলরাশি,অতিথি পাখির পদচারনা,বিলে ফোটা জাতীয় ফুল শাপলা শালুকের প্রাচুর্যতা ভ্রমন পিপাষু মানুষ যে এখানে ভাললাগা আর ভালবাসায় মনের অজান্তে হারিয়ে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিলের সীমানা এত দুর পর্যন্ত বিস্তৃত যে,যতদুর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। আকাশ আর বিল যেন মিতালি করেছে অর্থ্যাৎ এক সুত্রে গাঁথা। বিষয়টি আপনি নৌকা কিংবা স্পিড বোডে চড়ে বিলের কিছুটা দুরে গেলেই অবলোকন করতে পারবেন। বিলের পানি এতটাই স্বচ্ছ যে,মাছ পর্যন্ত দেখা যায়। সব কিছু মিলে প্রকৃতিকে একেবারে হাতের কাছে পাওয়ার স্বাদ নিতে হলে চলে আসতে হবে আশুরার বিল নামক স্থানে।
এখানে একটি বিষয় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে,প্রকৃতিতে আপনা আপনি ভাবে জন্মানো শাল বাগানটি এতটাই বৃহৎ ও ঘন অরন্যে ঘেঁরা,যার মধ্যে রয়েছে অসংখ্য মেঠো পথ। সব মেঠো পথ একই রকমের দেখতে যে কোন মুহুর্তে পথ হারিয়ে ফেলতে পারেন। এক্ষেত্রে বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা আপনাকে সাহায্য করতে পারে।
বসন্ত বরন আর বিশ্ব ভালবাসা দিবসে প্রকৃতির প্রতি ভালবাসা তথা প্রকৃতিকে কাছে থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। সত্যিই অপরুপ রুপের সমাহার বিলটির। যেন চোখ জুড়িয়ে যায়।
বিলটির এত অপরুপ সৌন্দর্যের মাঝেও বিলটির আশে পাশের গ্রামের মানুষদের তথা কৃষকদের মাঝে চাপা কান্না আর বেদনার চিত্র সংবাদকর্মি হওয়ার সুবাদে চোখে পড়ে। আমরা সবাই জানি,যে কোন সৃষ্টির উল্লাসের পাশাপাশি বেদনাও নিহিত। তেমনি আশুরার বিল সংলগ্ন আশে পাশের গ্রামের মানুষ তথা কৃষকদের সাথে কথা বলে তাদের অসহায় মুখে নীরব কান্না অনুভুত হয়েছে। তাদের দেয়া ভাষ্য মতে,বিলটিতে বাঁধ দেয়া হয়েছে। বাঁধ দেবার কারনে কৃষকদের শত শত একর জমি পানির অভাবে পানিশুর্ণ হয়ে অনাবাদি হয়ে পড়েছে। নিরীহ শত শত কৃষক তাদের জমি বাঁচাতে এক সময় বিলের বাঁধ কেটে দেন। এ নিয়ে মামলাও হয়েছে। সরকারের কাছে তাদের দাবি,তাদের মত নিরীহ কৃষকদের নামে মামলা প্রত্যাহার সহ শত শত একর জমি বাঁচাতে বিকল্প ব্যবস্থা সহ ভ্রমন পিপাষুদের জন্য আশুরার বিল দেশের শ্রেষ্ঠ বিনোদন স্পট হবে এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৪ফেব্রুয়ারি/২০
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ জানান দিচ্ছে মধু মাসের আগমনি বার্তা




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

শীত মৌসুম শেষ হতে না হতেই রংপুরের বদরগঞ্জে আম গাছসহ আমের বাগানগুলিতে এরই মধ্যে মুকুল আসতে শুরু করেছে। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ জানান দিচ্ছে মধু মাসের আগমনি বার্তা। কয়েকদিন পরই প্রতিটি গাছের শীর্ষ মুকুলের পেট চিড়ে বেরিয়ে আসবে মৌ মৌ গন্ধে আচ্ছন্ন করা আমের মুকুল। ইতোমধ্যে আম বাগান চাষিরা তাদের গাছে মুকুল ধারনের জন্য ভিটামিন হরমোন সহ বাগান পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাগান চাষিদের কাছে এই সময়টি সব চাইতে গুরুত্বপুর্ন সময়, কারন এই স্বপ্ন পুরন হওয়া মানেই তাদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া তথা স্বাবলম্বি হওয়া।
সরেজমিনে গতকাল শুক্রবার(৭ফেব্রুয়ারি)উপজেলার বিভিন্ন আমবাগান ও বাড়িতে যাদের আমের গাছ রয়েছে তাদের মধ্যে এই ব্যস্ততার চিত্রই চোখে পড়ে। দেখা যায়,বাড়ির লোকজন গাছের পরিচর্যা করছেন,বাগান মালিকদের কেউ কেউ পানি সেচের ব্যবস্থা করছেন,কেউবা ভিটামিন/হরমোন স্প্রে করছেন।   
কথা হয় উপজেলার কালুপাড়া ইউপির আম চাষি মাহাফুজ ওয়াহিদ চয়নের সাথে, তিনি জানান,আমার ২০ বিঘা জমিতে হাড়ি ভাঙ্গা জাতের আম বাগান রয়েছে। কিছু গাছে এরই মধ্যে মুকুল এসেছে এখনও অনেক গাছে মুকুল আসেনি,তবে এই সময়টি আমাদের জন্য খুবই গুরুরত্বপুর্ন। কারন এই সময়ে গাছের পরিচর্যার উপরই নির্ভর করবে গাছে মুকুল আসার বিষয়টি। এই সময়টাতে বাগানের নিবিড় পরিচর্যা করা জরুরি।  
তিনি আরও জানান,এই সময়টাতে যদি আম বাগানে ঠিকমতো পরিচর্যা করা না যায় তবে কাঙ্খিত মুকুল তথা বাগানে আম পাওয়া যাবে না।
কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের আম বাগান মালিক হাসান আল মাহামুদের সাথে,তিনি জানান,৩০ বিঘা জমিতে রয়েছে আমার আমের বাগান। সবে মাত্র কিছু কিছু গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। মুকুল রক্ষায় এই সময়টাতে ব্যাপক পরিচর্যা দরকার। তা না হলে আমের মুকুল নষ্ট হয়ে যাবে। তাই বাগানে কৃষি শ্রমিক নিয়ে কাজ করছি।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক রায় জানান,বদরগঞ্জ  উপজেলায় ৩৮৫ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। আম চাষ লাভজনক হওয়ায় এ উপজেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে আমের বাগান।
তিনি আরও জানান,আম গাছে মুকুল আসার সময়টাতে গাছের পরিচর্যা খুবই জরুরি।  
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার গোলাম মোস্তফা মোঃ জোবায়দুর রহমান মামুন জানান,ইতোমধ্যে আম গাছে মুকুল আসা শুরু করেছে। কয়েকদিন পর কম বেশি সকল গাছেই মুকুল দেখা যাবে।
তিনি আরও জানান,আম চাষে কৃষকরা অধিক লাভবান হওয়ায় এ উপজেলায় আম বাগানের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০৮ফেব্রুয়ারি/২০
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪





রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

একজন অসহায় লাখরাজি,সরকারের সহযোগিতা আর ভাগ্যগুনে একটুখানি উষ্ণতা প্রদানের কাজ পাওয়া


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
 

মুজিব বর্ষে একজন অসহায় লাখরাজি রাউথকে খুঁজতে গিয়ে সরকারের সহযোগিতায় ভাগ্যগুনে উষ্ণতা প্রদানের কাজটি পাওয়া আমার জীবনের সব চাইতে বড় পাওয়া ও অর্জন বলে আমি মনে করি। কাজটি সঠিকভাবে করতে পেরে আমি ধন্য ও গর্বিত। আমি জানি,জীবনে আর কোন দিন এমন কাজ করতে পারবো কিনা সন্দেহ। আল্লাহ্ যদি আবারও সুযোগ দেয় তাহলে কাজের যাতে তিল পরিমান ভুলক্রুটি না হয় এ বিষয়ে আরও সজাগ থাকবো। আল্লাহ্ যেন আমাকে জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত এমন ভাল কাজ করার সুযোগ দান করেন।
আজ হতে প্রায় এক মাস আগে পর পর চার দিন প্রচন্ড কুয়াশা আর হাঁড় কাঁপানো শীতের মধ্যে বদরগঞ্জ হতে প্রায় ১০কি.মি দুরে লাখরাজি রাউথের বাড়ি মিশনপাড়ায় সকাল ৭.৩০মিনিটের মধ্যে যাই। প্রথম ৩দিন ঐ পাড়ার কেউই আমাকে পাত্তা দিচ্ছিল না। কারন অনেক সাংবাদিক(তাদের ভাষ্যমতে) প্রায় সময় তাদের ছবি তোলে ভিডিও করে। কিন্তু কোন কাজ না হওয়ায় তাদের আমার উপর এই অনিহা। শেষ পর্যন্ত তাদের আমি আপন করতে সমর্থ হই। এখানে বলা প্রয়োজন,আমি মিশনপাড়াতে গিয়েছিলাম এ কারনে যে,তারা কিভাবে ইদুরের গর্ত হতে ধান বের করে তা ভিডিও ধারন করার জন্য। এক সময় বুঝলাম যে,তারা আমাকে আপন মনে করছে না। তবুও যখন বদরগঞ্জ হতে এতদুর এলাম তখন সিন্ধান্ত নিলাম এদের সবার সাথে আমি চা খাব। প্রথমে রাজি না হলেও পরে তারা তাদের গ্রামের এক চায়ের দোকানে আমি সহ ১৫-১৬জন মিলে চা বিস্কুট খাই। চা খাওয়ার এক পর্যায়ে আমি তাদের বলি,আপনাদের কয়েক গ্রাম পরে আমাদের গ্রামের বাড়ি। এক সময় তারা আমাকে জানায় আমার পুর্বপুরুষদের নাম। পরবর্তিতে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে তারা আমার সাথে তাদের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে। চা খাওয়ার সময়টাতে দেখি এক বৃদ্ধ মহিলা(লাখরাজি) ঠান্ডায় যবুথবু হয়ে ঘরের পাশে সূর্যের উষ্ণতার আশায় বসে আছেন। তখনই আমি তার ছবি তুলি।
সকাল ১০টার দিকে আমি মিশনপাড়া(লাখরাজির বাড়ি)হতে সোজা বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবে চলে আসি। আর সিন্ধান্ত নেই লাখরাজির উপর আমি প্রতিবেদন তৈরি করবো। সকাল ১১.১৫মিনিট হতে লাখরাজির উপর প্রতিবেদনটি তৈরি করতে আমার দুপুর ১.৩০মিনিট বেজে যায়। কম্পিউটারে সেভ বাটন চাপ দিয়েও কি যে হল,কম্পিউটারে লাখরাজির লেখাটি খুঁজে না পেয়ে মনের দুঃখে রুম হতে বের হয়ে যাই। জোহরের নামাজ পড়ে আবারও লেখা শুরু করি। শেষ হয় বিকাল ৩.৩০মিনিটের দিকে। তখন ভাবলাম,এত কষ্টের একটি প্রতিবেদন, সময়ও কম। নির্ধারিত সময়ের অভাবে ইত্তেফাক প্রিন্ট এ যদি নিউজটি না কভারেজ দেয়,এটি ভেবে প্রিন্ট ও অনলাইনে দুই জায়গাতেই নিউজটা পাঠিয়ে দেই। সন্ধ্যার দিকে কম্পিউটার খুলে ইত্তেফাক অনলাইন সাইডে গিয়ে দেখি নিউজটি ভাইরাল হয়ে গেছে। পরে জানতে পারি,ঐ দিন গভীর রাতে পুলিশ প্রশাসন লাখরাজির বাড়িতে গিয়ে খবর নিয়েছে। যার সুত্র ধরে রংপুরের সু-দক্ষ পুলিশ সুপার মহোদয় কম্বল সহ লাখরাজির ভরন পোষনের দায়িত্ব গ্রহন করেন। এরই মধ্যে দেশ বিদেশ হতে আমার কাছে শতাধিক ফোন আসে লাখরাজিকে সহায়তার প্রস্তাব নিয়ে। পরে ত্রান ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ের সুযোগ্য প্রতিমন্ত্রি ডাঃ এনামুর রহমান মহোদয় বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের নামে ৫শত কম্বল পাঠিয়ে দেন। আমি আমার ক্লাবের সদস্যদের সহযোগিতা নিয়ে পৌর শহর সহ উপজেলার প্রকৃত গরীব অসহায় বৃদ্ধ মানুষের তালিকা তৈরি করি,ক্লাবের সকল সদস্যদের নির্দেশ দেই কম্বল নিতে আসা অসহায় মানুষগুলো যেন তিল পরিমান মনোকষ্ট না পায়। কম্বল নিতে এসে তাদের যেন সময়ের অপচয় না হয়। এরপর রংপুর-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক ভাইয়ের হাত দিয়ে কম্বল বিতরনের শুভ উদ্বোধন করি। অবশ্য আমার এই কাজে উপজেলা আওয়ামিলীগের সাধারন সম্পাদক ও বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান টুটুল চৌধুরি,উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি সুইট পৌরসভার মেয়র উত্তম সাহা,উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক পলিন চৌধুরি,বদরগঞ্জ ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি সরওয়ার জাহান মানিক সহ বদরগঞ্জের সকল দায়িত্বশীল মানুষ আমার এই কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।
তার পর আমাদের রেজিষ্ট্রারভুক্ত(অসহায় ও বৃদ্ধ) সকলেই  ক্লাবে এসে কম্বল নিয়ে যান। এর মধ্যে যারা বৃদ্ধ অসুস্থ্য এবং দুরে বাড়ি,আমি নিজ দায়িত্বে ক্লাবের সদস্যদের সহয়োগিতা নিয়ে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কম্বল দিয়ে আসি। এ কারনে আমার ক্লাবের সকল সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
সরেজমিনে বাড়িতে যাওয়া বৃদ্ধ ও অসুস্থ্য মানুষের মধ্যে একজন হল,বদরগঞ্জের শেষ প্রান্তে সৈয়দপুর উপজেলার প্রায় কাছাকাছি গোপিনাথপুর ইউপির বুড়িরপুকুর এলাকার ১০৮ বছরের অসহায় বৃদ্ধা সারা মাই কে কম্বল দিয়ে আসি। বর্তমানে সারা মাইয়ের আপন বলতে কেউ নেই। সম্পর্কে নাতনির বাড়িতে থাকেন। ধরা যায়,অন্যের আশ্রয়ে আশ্রিত।
আর একজনের কথা আমার মনে ভীষনভাবে নাড়া দেয়, উনি হলেন,তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউপির তিন বারের সাবেক চেয়ারম্যান ও হারিয়ারকুঠি ইউপি আওয়ামিলীগের সাবেক সভাপতি কবির উদ্দিন সাহেব।  যিনি এক সময় তার নিজের হাত দিয়ে শত শত মানুষকে শীতবস্ত্র দিয়েছেন। কিন্তু জীবনের পড়ন্ত বেলায় অনেকটা সু-চিকিৎসাহীন আর দৈনদশা নিয়ে বিছানায় পড়ে রয়েছেন। কতোটা সৎ ও নির্ভেজাল পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হলে জীবনের শেষ বেলায় এমন অবস্থা হয় !  বর্তমানে তার নিজস্ব সম্পদ বলে কিছু নেই। তার মত মানুষকে সমাজের প্রয়োজনেই আমাদের বেঁচে রাখা উচিত বলে আমি মনে করি। যিনি সব কিছু বিলিয়ে দিয়ে আজ নিঃস্ব। মনে মনে কষ্ট পেলেও এই মহৎপ্রান মানুষটির পায়ের ধুঁলো দোয়া আর কম্বল দিয়ে একটুখানি উষ্ণতা দিতে পেরে আমার মত একজন অতি নগন্য মানুষ গর্বিত ও ধন্য হয়েছে। আমি জানি, আমার মত একজন অতি নগন্য মানুষ তার পায়ের ধুঁলোরও যোগ্যতা রাখে না।
এটি সম্ভব হয়েছে,সকলের দোয়া ভালবাসা আর লাখরাজির মত অসহায় মানুষের প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য। এ জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রি জননেত্রি শেখ হাসিনা ও ত্রান দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রি ডাঃ এনামুর রহমান মহোদয়ের প্রতি আমি সহ বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাব কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছে। সত্যিকার অর্থে এই সরকার মানবতার সরকার।
আরও কৃতজ্ঞতা জানাই রংপুরের ডিসি মহোদয়,এসপি মহোদয়,বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার মহোদয়কে।
বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাব আজন্ম মানুষের পাশে থাকবে,বিবেকের কাছে দায়বদ্ধতা নিয়ে এই কামনা ও প্রত্যাশা করি। আমি হয়তঃ একদিন বেঁচে থাকবো না,কিন্তু বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাব বেঁচে থাকবে যুগ যুগ ধরে। ঐ সময় যিনি বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের হাল ধরবেন(দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তি) তিনিও যেন বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে সবসময় মানুষের পাশে থাকেন,এই কামনাই করি। পরিশেষে সকলের দোয়া আর ভালবাসা চাই। ভুল-ক্রুটি মার্জনীয়।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০২ফেব্রুয়ারি/২০
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...