শুক্রবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

বাঁশের সাঁকোতে পারাপার,২ ইউনিয়নের মানুষদের দুর্ভোগ চরমে



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)প্রতিনিধিঃ


যমুনেশ^রি নদীর কোল ঘেঁষা গ্রামের নাম বড়াইবাড়ি। কালুপাড়া ইউনিয়নে গ্রামটি হলেও বদরগঞ্জ পৌরসভা হতে এর দুরত্ব ১কি.মি মধ্যে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে নদীটি এতটাই ভয়াবহ রুপ ধারন করে যে,বড়াইবাড়ি,জেলেপাড়া গ্রাম সহ কুতুবপুর ইউনিয়নের সাথে বদরগঞ্জ সদরের যোগাযোগ সম্পূর্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
কয়েক বছর আগে তাদের একমাত্র রাস্তাটি ভাঙ্গঁতে ভাঙ্গঁতে বিলিন হয়ে গ্রামের মাঝখানে গিয়ে ঠেকে। শুধু তাই নয় বন্যার পানি প্লাবিত হয়ে গ্রামের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রাস্তার নিচ দিয়ে বড় ধরনের সুরঙ্গঁ পথের সৃষ্টি হয়। এ কারনে এ অঞ্চলের মানুষরা বাধ্য হয়ে নিজেদের প্রয়োজনেই তারা যাতায়াতের জন্য নির্মান করেন বাঁশের তৈরি সাঁকো। এই সাঁকো দিয়েই বড়াইবাড়ি জেলেপাড়া সহ কালুপাড়া ইউনিয়নের কিছু গ্রামের মানুষ এবং কুতুবপুর ইউনিয়নবাসি বদরগঞ্জ উপজেলা সদরে যাতায়াত করে। বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ঝুঁিক আরও বেড়ে বর্ষা মৌসুমে। এ নিয়ে এলাকাবাসির ক্ষোভের শেষ নেই। তাদের প্রানের দাবি নদীটিতে বাঁধ সহ ব্রীজ নির্মানের।
সরেজমিনে গত বৃহঃস্পতিবার গিয়ে দেখা যায়,বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে ভ্যান নিয়ে যাচ্ছেন কুতুবপুর দলপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইসমাইল হোসেন আর অপর প্রান্তে অপেক্ষা করছেন কালুপাড়া ইউপির বাসিন্দা ও কুতুবপুর ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক তাজকুর রহমান। কারন বাঁশের তৈরি সাঁকোটি দিয়ে দুইটি যানবাহন পারাপার সম্ভব নয়। এ কারনেই তার(প্রভাষক তাজকুরের) এই অপেক্ষা। 
এ সময় কথা হয় ভ্যানচালক ইসমাইল হোসেনের সাথে,তিনি জানান,হামার পাকে(কষ্ট) কেউ দেখে না। সাংবাদিক মাঝে মধ্যে আসি ছবি তোলে, আর চেয়ারম্যান,মেম্বার,অফিসের মানুষ আসি খালি হামাক ভোগা দেয় কিন্তু হামার কাম আর হয় না।
কথা হয় প্রতিনিয়ত বাঁশের সাঁকো পারাপারকারি ও কুতুবপুর ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক তাজকুর রহমানের সাথে,তিনি জানান,মটরসাইকেল নিয়ে এই বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে আমাকে প্রতিদিন কলেজে যেতে হয়। ভয় লাগে কখন স্লিপ কেটে নদীতে পড়ে যাই।
তিনি আরও জানান,দ্রুত বাঁধ সহ এই ব্রিজটি নির্মান জরুরি হয়ে পড়েছে।
একই কথা বলেন কুতুবপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান চাপুল শাহ্। 
তিনি আরও জানান,এই রাস্তা দিয়েই আমাদের বদরগঞ্জে যেতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এর ভুক্তভোগি। আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করবো সরকার যেন বিষয়টিতে দৃষ্টি দেন এবং মানুষের কষ্ট লাঘব করেন।
বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মানিক জানান,বাঁশের সাঁকোটির স্থলে ব্রীজ হওয়া জরুরি। ব্রীজটি নির্মান হলে ২ ইউনিয়নের মানুষদের কষ্ট লাঘব হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্বতীপুর আতিকুর রহমান জানান,আমি এখানে নতুন বদলি হয়ে এসেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান,বিষয়টি আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানোর পর তারা এসে দেখে গিয়ে প্রোপোজাল ঢাকায় প্রেরন করেছে। আশা করছি দ্রুত বিষয়টির সমাধান হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৮সেপ্টেম্বর/১৮
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...