ভাষা সৈনিক মজিবর রহমান মাস্টারের অন্তিম ইচ্ছা পূরন হবে কি ?
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
মজিবর রহমান মাষ্টার(৯৩)। একজন ভাষা সৈনিক,মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক। বাড়ি রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউপির খিয়ারপাড়া গ্রামে। ছাত্রাবস্থা হতে জুলুম নির্যাতন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে পিছ-পা হননি কখনও। ভাষা আন্দোলন হতে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও উপজেলার দরিদ্র মানুষের কথা ভেবে এবং এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষা গ্রহনে বঞ্চিত না হয় পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষিত হয়ে যাতে দেশের জন্য কিছু অবদান রাখতে পারে মুলতঃ এ কারনেই তিনি শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। জীবনের শেষ বেলায় এসে বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটাই তার চাওয়া জীবদ্দশায় যেন তিনি একুশে পদকে ভুষিত হন।
সরেজমিনে উপজেলার কুতুবপুর ইউপির খিয়ারপাড়া গ্রামে তার বাড়িতে গিয়ে কথা হয় ভাষা সৈনিক মুক্তিযোদ্ধা ও অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক মজিবর রহমান মাষ্টারের সাথে,তিনি এই প্রতিবেদককে জানান;
তার পিতা সিরাজ উদ্দিন ছিলেন এলাকার প্রভাবশালি কৃষক। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে মজিবর রহমান মাস্টার সবার বড়। ১৯৫২ সালে সংগঠিত ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি ছিলেন দশম শ্রেনির ছাত্র। ভাষা আন্দোলনে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার সতীর্থ ছিলেন এলাকার প্রভাবশালি ব্যক্তিত্ব মরহুম ইদ্রিস লোহানি, ইউনুছ লোহানি, মজনু লোহানি, আব্দুল জব্বার সরকার, আবু বক্কর প্রামানিক।
বর্তমানে তার সতীর্থরা আর কেউ বেঁচে নেই। তাদের জীবদ্দশায় কারোরই ভাগ্যে ভাষা সৈনিকের স্বীকৃতিটুকু মেলেনি। তবে তিনি ভাগ্যবান যে, স্থানিয় ভাবে তিনি সেই স্বীকৃতিটুকু পেয়েছেন। কিন্তু সরকার কর্তৃক তার ভাগ্যে এখনো একুশে পদক জোটেনি। এ বিষয় নিয়ে তিনি অবশ্য বিভিন্নভাবে অনেক আবেদন-নিবেদনও করেছেন। কিন্তু তার সেই আশা এখনো পূরণ হয়নি।
ভাষা সৈনিক মজিবর রহমান মাষ্টার ভাষা আন্দোলনের সেইসব ভয়াল দিনের কথা স্মরণ করে জানান; বাংলা ভাষার দাবিতে ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুরু হলে তিনি সহ তার সতীর্থরা মিলে রংপুরের বিভিন্ন হাট-মাঠ-ঘাট-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব স্থানেই যেতেন এবং এলাতার লোকজনকে বাংলা ভাষার পক্ষে নানা ভাবে বোঝাতেন। এ কারনেই ওই সময়ের পাকিস্তান সরকার ইদ্রিস লোহানি ও ইউনুছ লোহানিকে দেশদ্রোহি আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করে। তার পরও তাদের কার্যক্রম বন্ধ থাকেনি। নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে তিনি সহ তার সতীর্থরা যে যেভাবে পেরেছেন বাংলা ভাষার পক্ষে জনমত তৈরি করেছেন। ওই সময়ে বাংলা ভাষার দাবিতে ২১শে ফেব্রুয়ারি তারা স্থানিয় ডাক বাংলো চত্বরে ছাত্র-জনতার সমাবেশ আহবান করেন। শত পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে সেখানে হাজার হাজার লোকের সমাবেশ ঘটে। আর সেই সমাবেশে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে হুলিয়া মাথায় নিয়ে হাজির হন ইদ্রিস লোহানি, ইউনুছ লোহানি, রংপুরের কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের তৎকালিন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শাহ আব্দুল বারি।
এ সময় বদরগঞ্জ থানা পুলিশ কিছু করতে না পারলেও তারা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে জেলা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়ে দেন। পরে রংপুর থেকে দুই প্লাটুন পুলিশ এসে ছাত্র-জনতাকে ঘিরে ফেলে। তবে কৌশলে সবাই পালাতে সক্ষম হলেও ছাত্র ইউনিয়ন নেতা শাহ আব্দুল বারি পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। তাকে শারিরীক নির্যাতন করে জেল-হাজতে পাঠানো হয়। আর অন্যদের নামে জারি হয় হুলিয়া। ৬ মাস পর শাহ আব্দুল বারি জেল-হাজত থেকে মুক্তি পেলেও অন্যরা হুলিয়া মাথায় নিতে আত্মগোপনে চলে যান। পরে বাংলা ভাষার দাবি পাকিস্তান সরকার মেনে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং সে সময়ের দশম শ্রেনির ছাত্র মজিবর রহমান মেট্রিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হন। তিনি এই প্রতিবেদককে প্রশ্ন রেখে বলেন;মাতৃভাষার দাবিতে পৃথিবীর কোন দেশে কি এ রকম আন্দোলন করতে হয়েছে ? তিনি আরও জানান;১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। বর্তমানে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। ছেলে-মেয়েরা বিয়ে করে সংসার করছেন। বাংলাদেশ সরকারের কাছে তার একটাই দাবি- তিনি যেন তার জীবদ্দশায় একুশে পদকে ভুষিত হন। এ সন্মানে ভুষিত হয়ে আমি যেন মরতে পারি।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৪জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
মজিবর রহমান মাষ্টার(৯৩)। একজন ভাষা সৈনিক,মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক। বাড়ি রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউপির খিয়ারপাড়া গ্রামে। ছাত্রাবস্থা হতে জুলুম নির্যাতন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে পিছ-পা হননি কখনও। ভাষা আন্দোলন হতে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও উপজেলার দরিদ্র মানুষের কথা ভেবে এবং এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষা গ্রহনে বঞ্চিত না হয় পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষিত হয়ে যাতে দেশের জন্য কিছু অবদান রাখতে পারে মুলতঃ এ কারনেই তিনি শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। জীবনের শেষ বেলায় এসে বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটাই তার চাওয়া জীবদ্দশায় যেন তিনি একুশে পদকে ভুষিত হন।
সরেজমিনে উপজেলার কুতুবপুর ইউপির খিয়ারপাড়া গ্রামে তার বাড়িতে গিয়ে কথা হয় ভাষা সৈনিক মুক্তিযোদ্ধা ও অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক মজিবর রহমান মাষ্টারের সাথে,তিনি এই প্রতিবেদককে জানান;
তার পিতা সিরাজ উদ্দিন ছিলেন এলাকার প্রভাবশালি কৃষক। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে মজিবর রহমান মাস্টার সবার বড়। ১৯৫২ সালে সংগঠিত ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি ছিলেন দশম শ্রেনির ছাত্র। ভাষা আন্দোলনে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার সতীর্থ ছিলেন এলাকার প্রভাবশালি ব্যক্তিত্ব মরহুম ইদ্রিস লোহানি, ইউনুছ লোহানি, মজনু লোহানি, আব্দুল জব্বার সরকার, আবু বক্কর প্রামানিক।
বর্তমানে তার সতীর্থরা আর কেউ বেঁচে নেই। তাদের জীবদ্দশায় কারোরই ভাগ্যে ভাষা সৈনিকের স্বীকৃতিটুকু মেলেনি। তবে তিনি ভাগ্যবান যে, স্থানিয় ভাবে তিনি সেই স্বীকৃতিটুকু পেয়েছেন। কিন্তু সরকার কর্তৃক তার ভাগ্যে এখনো একুশে পদক জোটেনি। এ বিষয় নিয়ে তিনি অবশ্য বিভিন্নভাবে অনেক আবেদন-নিবেদনও করেছেন। কিন্তু তার সেই আশা এখনো পূরণ হয়নি।
ভাষা সৈনিক মজিবর রহমান মাষ্টার ভাষা আন্দোলনের সেইসব ভয়াল দিনের কথা স্মরণ করে জানান; বাংলা ভাষার দাবিতে ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুরু হলে তিনি সহ তার সতীর্থরা মিলে রংপুরের বিভিন্ন হাট-মাঠ-ঘাট-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব স্থানেই যেতেন এবং এলাতার লোকজনকে বাংলা ভাষার পক্ষে নানা ভাবে বোঝাতেন। এ কারনেই ওই সময়ের পাকিস্তান সরকার ইদ্রিস লোহানি ও ইউনুছ লোহানিকে দেশদ্রোহি আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করে। তার পরও তাদের কার্যক্রম বন্ধ থাকেনি। নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে তিনি সহ তার সতীর্থরা যে যেভাবে পেরেছেন বাংলা ভাষার পক্ষে জনমত তৈরি করেছেন। ওই সময়ে বাংলা ভাষার দাবিতে ২১শে ফেব্রুয়ারি তারা স্থানিয় ডাক বাংলো চত্বরে ছাত্র-জনতার সমাবেশ আহবান করেন। শত পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে সেখানে হাজার হাজার লোকের সমাবেশ ঘটে। আর সেই সমাবেশে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে হুলিয়া মাথায় নিয়ে হাজির হন ইদ্রিস লোহানি, ইউনুছ লোহানি, রংপুরের কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের তৎকালিন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শাহ আব্দুল বারি।
এ সময় বদরগঞ্জ থানা পুলিশ কিছু করতে না পারলেও তারা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে জেলা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়ে দেন। পরে রংপুর থেকে দুই প্লাটুন পুলিশ এসে ছাত্র-জনতাকে ঘিরে ফেলে। তবে কৌশলে সবাই পালাতে সক্ষম হলেও ছাত্র ইউনিয়ন নেতা শাহ আব্দুল বারি পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। তাকে শারিরীক নির্যাতন করে জেল-হাজতে পাঠানো হয়। আর অন্যদের নামে জারি হয় হুলিয়া। ৬ মাস পর শাহ আব্দুল বারি জেল-হাজত থেকে মুক্তি পেলেও অন্যরা হুলিয়া মাথায় নিতে আত্মগোপনে চলে যান। পরে বাংলা ভাষার দাবি পাকিস্তান সরকার মেনে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং সে সময়ের দশম শ্রেনির ছাত্র মজিবর রহমান মেট্রিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হন। তিনি এই প্রতিবেদককে প্রশ্ন রেখে বলেন;মাতৃভাষার দাবিতে পৃথিবীর কোন দেশে কি এ রকম আন্দোলন করতে হয়েছে ? তিনি আরও জানান;১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। বর্তমানে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। ছেলে-মেয়েরা বিয়ে করে সংসার করছেন। বাংলাদেশ সরকারের কাছে তার একটাই দাবি- তিনি যেন তার জীবদ্দশায় একুশে পদকে ভুষিত হন। এ সন্মানে ভুষিত হয়ে আমি যেন মরতে পারি।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৪জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন