মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৭

তালের শাঁস আর মৌসুমি ব্যবসা করেই স্বাবলম্বি বদরগঞ্জের বিপ্লব

তালের শাঁস আর মৌসুমি ব্যবসা করেই স্বাবলম্বি বদরগঞ্জের বিপ্লব

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বছর দশেক আগেও যাদের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরাতো,অভাব অভিযোগ ছিল  যাদের নিত্য সঙ্গী, শুধুমাত্র দারিদ্রতার কারনেই যাকে বিদ্যালয় ছেড়ে চলে আসতে হয়েছিল। কিশোর বয়সেই যাকে বাধ্য হয়ে ধরতে হয়েছিল সংসারের হাল। এগারো বছরের ব্যবধানে কঠোর পরিশ্রম আর মৌসুমি ব্যবসা করেই এখন লাখপতি বদরগঞ্জ উপজেলার  কালুপাড়া ইউনিয়নের  বিপ্লব (২৭)নামের এক যুবক।
পৌর শহরের ষ্টেশন সংলগ্ন জীতেন দত্ত মঞ্চ এলাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ি বিপ্লবের সাথে কথা হলে সে এই প্রতিবেদককে জানায়; ব্যবসার শুরুটা আমার তাল শাঁস বিক্রি দিয়ে।  ২০০৫ সালে বন্ধুদের সাথে নাটোরের রাজবাড়িতে পিকনিক করতে যাই, ঐখানে রাস্তার ধারে এক বৃদ্ধ তালের শাঁস বিক্রি করছিল। বিপ্লব দা দিয়ে নিজে তালের শাঁস বের করতে ধরলে ঐ বৃদ্ধ দোকানদার তাকে ধমক দেয় এবং বলে যদি হাত কেটে যেত। জেদের বশেই ঐ দিনেই সে মাল (কচি তাল) কিনে বদরগঞ্জে নিয়ে আসে,এভাবেই গল্পটা শুরু। প্রতি বছর গরমের সময়ে তালের শাঁস বিক্রি করে মাসে ৪০ হাজার টাকা উপার্জন হত তার। পরবতীর্তে প্রতি শীতে সে চটপটি ফুচকা আর গরম কাপড়ের ব্যবসা শুরু করে। রংপুরে এখন তার দুটি ফলের দোকান,বদরগঞ্জে একটি, গ্রামেও আছে বড় গালামালের দোকান।
বিল্পব জানায়;তারা ৩ ভাই। এক ভাইকে সে মৌসুমি ব্যবসার আয় দিয়েই কাতার পাঠিয়েছে,ছোট ভাই লেখাপড়া করছে। ছনের বাড়ির পরির্বতে বিপ্লবের এখন প্রাচীর ঘেরা বিশাল পাকা দালানের বাড়ি। জমি কিনেছেন ৫ বিঘা, বন্ধক নিয়েছেন আরো ৪ বিঘা।
মৌসুমি ব্যবসায়ি বিপ্লব আরও জানায়; অহেতুক সময় নষ্ট না করে পরিশ্রম সততার সাথে কাজ করলে নিজের পায়ে দাঁড়ানো সম্ভব।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম বলেন ; আমার গ্রামের বাড়ি কালুপাড়াতে বিপ্লবদের বাড়ি। ওকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি। সে খুবই পরিশ্রমি ছেলে। শুধুমাত্র পরিশ্রম করেই সে আজ স্বাবলম্বি।


বদরগঞ্জ,রংপুৃর
তারিখ-৩১জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪     


সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৭

আম-লিচুর সাথে মধু চাষ সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে

আম-লিচুর সাথে মধু চাষ
  সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


 


আম-লিচুর মুকুলে মুকুলে ছেঁয়ে গেছে রংপুর বদরগঞ্জের ফলের বাগান। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ আর মৌমাছির গুনগুন শব্দে শুভাসিত ও মুখরিত গোটা অঞ্চল। মুকুলের ভাঁজে ভাঁেজ আছে কৃষকের স্বপ্ন। বিস্তৃর্ন বাগান জুড়ে চোখ ধাঁধানো মুকুলের সমারোহ, নয়নাভিরাম চিরচেনা সেই অপূর্ব নৈসর্গিক দৃশ্য যে কারোরই মনকে দোলা দেয়। এমতাবস্থায় আম-লিচু বাগানে কৃষকরা যদি বাড়তি আয়ের জন্য মৌ-চাষ করে মধু আহরন করেন,তাতে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি দেশে পুষ্টির চাহিদাও মেটানো সম্ভব।
কথা হয় উপজেলার কালুপাড়া ইউনিয়নের কুমারপাড়া এলাকার আম-লিচু বাগান চাষি মাহফুজ ওয়াহিদের সাথে তিনি জানান; সরিষার সময়ই শুধু মৌ চাষ হয়,আম-লিচু বাগানেও যে মৌ চাষ করা যায় এটা আগে কখনও মাথায় আসেনি। সাতক্ষীরা হতে আসা এক দল মৌয়ালের সাথে গত ৫দিন আগে হঠাৎ দেখা হলে তারা আমার আম-লিচু বাগানে মৌচাষের কথা বললে আমি রাজি হয়ে যাই। শুরু হয় আম-লিচু বাগানে মৌ চাষ। বাগান মালিক মাহাফুজ ওয়াহিদ আরও জানান; মূলতঃ আম-লিচু বাগানে মৌ চাষের কারনে পরাগায়ন বেশি হবে ফলনও বৃদ্ধি পাবে এটাই আমার লাভ।
সাতক্ষিরা থেকে আসা মৌয়াল মোকারম হোসেন জানান;এই লিচু বাগানে মৌমাছির বাক্স রয়েছে আড়াইশটি। সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে বাক্সগুলো থেকে মধু সংগ্রহ করা হবে। চলতি মৌসুমে এই বাগান থেকে ৫০ মন মধু সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রতি মন মধু বিক্রি করা হয় ৬-৭ হাজার টাকায়। এই মধু দেশের বিভিন্ন কোম্পানির চাহিদা মিটিয়ে ভারতে রফতানি করা হয়। ভারতীয় মধু কোস্পানিগুলো সস্তা দামে মধু কিনে বিদেশে রফতানি করে। অথচ মধু কেনে আমাদের কাছ থেকে। তিনি আরও জানান;এই পেশার সঙ্গে যুব সমাজের একটি বড় অংশ জড়িত রয়েছে। সরকারি পৃষ্টপোষকতা না থাকায় সম্ভাবনাময় এই মধু চাষ শিল্পের তেমন কোন অগ্রসর হচ্ছে না।  মধু চাষে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে এক দিকে যেমন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসত অন্যদিকে দুর হতো বেকারত্ব সমস্যা।
কথা হয় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের সাথে তিনি জানান ; আম-লিচু ক্ষেতে মৌমাছি পরাগায়নে সহায়তা করে। সারাদেশে চাষিদের যদি আম-লিচু বাগানে ফলের পাশাপাশি মধু চাষের জন্য হাতে কলমে প্রশিক্ষন দেয়া যায় তাহলে সকল কৃষকই অনেক লাভবান হবেন। তিনি আরও বলেন ; একটি জমিতে ১০৮টি কাঠের ফ্রেমে প্রতি সপ্তাহে চাষিরা ৩ মনের অধিক মধু সংগ্রহ করতে পারে ।
কথা হয় উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায়ের সাথে তিনি জানান ; গত ১০ বছর আগেও বদরগঞ্জ উপজেলায় ফলের বাগান ছিল ১৫০হেঃ জমিতে। বর্তমানে তা বেড়ে ৭০০হেঃ ছাঁড়িয়ে গেছে । আম লিচুর পাশাপাশি মৌ চাষ করে কৃষকরা একদিকে যেমন নিজের ভাগ্যের উন্নয়ন করতে পারে অন্যদিকে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করতে সহযোগিতা করতে পারে ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবর রহমান জানান; উপজেলার বহু আম ও লিচু বাগানে এখন মধু চাষ হচ্ছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩০জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

 


শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১৭

শিক্ষা সফরে একদিন বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


সকাল ৮ টা। বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেনির ৪ শতাধিক ছাত্রিদের নিয়ে দিনাজপুরের গ্র্যানাইট পাথর খনি ও পিকনিক স্পট স্বপ্নপুরির উদ্দেশ্যে বের হয়। আনন্দে আত্মহারা সকল শিক্ষার্থী। কি যে রোমাঞ্চকর মুহুর্ত তাদের মধ্যে কাজ করছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না বলে জানালেন,বিজ্ঞান বিভাগের একাদশ শ্রেনির ছাত্রি মিতা চক্রবর্তী ও চেতনা রায়।
বাসের ভিতরে নেচে গেয়ে আনন্দের এক পর্যায়ে সকাল ১১টায় বাসটি পৌছে গেল দিনাজপুরের গ্রানাইট পাথর খনিতে। তাড়াতাড়ি করে সকালের নাস্তা সেরে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সাথে নিয়ে শিক্ষার্থীরা গ্রানাইট পাথর খনি পরিদর্শন করলেন। পাথর খনি পরিদর্শন শেষে দুপুরে পিকনিক স্পট স্বপ্নপুরির উদেশ্যে বাস রওনা দিল। পাথর খনি ও পিকনিক স্পট স্বপ্নপুরি কাছাকাছি হওয়াতে শিক্ষার্থীদের পিকনিক স্পটে যেতে বেশি সময় লাগলো না।
পিকনিক স্পট স্বপ্নপুরির গেটের সামনে বিশাল পরির মুর্তি দেখে শিক্ষার্থীরা আনন্দে নাচতে লাগলো।
নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশ সমন্বিত একটি পিকনিক স্পট। প্রকৃতি আর মানুষের এই সহবস্থান আগুন্তুক যে কারোরই ভালো লাগবে। ছাত্রিরা পিকনিক স্পটের পছন্দ মত নানা জায়গায় ছবি তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছে। সময় তার নিজস্ব গতিতে চলতে লাগলো। এক সময় শিক্ষার্থীরা গোটা পিকনিক স্পট পরিদর্শন শেষ করে দুপুরের খাবার খেয়ে নিল। এর পর পিকনিক স্পটের প্যান্ডেলে শুরু হল ছাত্রিদের মনোমুগ্ধকর নাচ ও গান। তার পর শুরু হল র‌্যাফেল ড্র। পুরো দিন আনন্দ শেষে স্বপ্নপুরি হতে রওনা দেয় একে একে শিক্ষার্থীদের বাস। এভাবেই শেষ হয় আনন্দমুখর পরিবেশে বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষাসফর।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৮জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৭

বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে পারে তাল গাছ

বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে পারে তাল গাছ


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

গ্রামাঞ্চলে একটি প্রবাদ আছে“তাল গাছটি আমার” অর্থ্যাৎ বড় বা ভাগের বেশি অংশ মানুষ নিতে চায়। প্রকৃতিতে যত বৃক্ষ শিরদাঁড় উচু করে বেঁচে থাকে তার মধ্যে তাল গাছ অন্যতম। গাছটি ভুমি হতে প্রায় শত ফুট উচ্চতা হতে পারে এবং এর শিকড় মাটির নিচে গভীরভাবে প্রোথিত থাকে। গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম-বোরাসাস ফ্ল্যালাবিলিফার,পামি গোত্রের উদ্ভিদ এটি। গাছটিতে দেশিয় প্রজাতির অনেক পাখি বাসা বাঁধলেও শৈল্পিক সৌন্দের্যের কারিগর বাবুই পাখি তার  বাসা এই গাছটিতেই বাঁধে। জলবায়ু পরিবতনের কারনে অনাবৃষ্টি,অতিবৃষ্টি,ভুমিধ্বস,খরা,বন্যা সহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশের জন্য নিত্যনৈমিক্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সাথে আবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে বজ্রপাত। যা বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য আতংকের ব্যাপার। গত কয়েক বছরে বজ্রপাতে বাংলাদেশের শত শত মানুষের প্রানহানি ঘটেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার তাল গাছ রোপনের সিন্ধান্ত নিয়েছে। দেরিতে হলেও সরকার তাল গাছ রোপন করার সিন্ধান্তে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হবে অন্যদিকে বজ্রপাত হতে রক্ষা পাবে দেশের কোটি মানুষ।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান;তাল গাছ আমাদের দেশিয় প্রজাতির গাছ। গাছটি পরিবেশ বান্ধব ও উপকারি। ভুমি ধ্বস্ ,ভুগর্ভস্থ পানির মজুদ বৃদ্ধি,মাটির উর্ব্বরতা শক্তি বৃদ্ধি সহ নানা উপকারে আসে।
বদরগঞ্জ উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান;প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দুর্যোগ ও প্রশমন দিবসে তাল গাছ রোপনের উপর জোর তাগিদ দিয়েছেন। কারন তাল গাছই ভুমিক্ষয় ভুমিধ্বস্ ভুগর্ভস্থ পানির মজুদ বৃদ্ধি ও মাটির উর্ব্বরতা শক্তি বাড়ায়। তাল গাছ মেঘ আকর্ষন করে এবং বৃষ্টিপাত হয়। এ গাছটি পরিবেশের সবচেয়ে বড় বন্ধু। বর্তমানে তাল গাছ না থাকার কারনে অধিকহারে বজ্রপাতের মত ঘটনা ঘটছে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৭জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

 

বুধবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৭

কবিতা- এই সমাজ

কবিতা-     এই সমাজ


“এই সমাজ,
           তুমি কি দেখেছো ক্ষুধা,
দেখেছো কি দারিদ্রতা ?
          আমি দেখেছি ক্ষুধার জ্বালা,
আর দেখেছি,সন্তান বিক্রির মত আদিম বর্বরতা।
এই সমাজ,
           তুমি কি দেখো,রাস্তার ধারে জীর্ন কুঠিরে,
রোগাক্রান্ত পরিবার !
           তুমি যে দেখবে না,
তা আমি জানি।
কেন তুমি এমন হলে !
          বলবে কি একবার ?
জানি,প্রকৃতির নিয়মে যে দিন তুমি এর উত্তর দিবে,
          সে দিন এই ঘুঁনে ধরা সমাজ,
হয়ে যাবে ছারখার।”



কামরুজ্জামান মুক্তা
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৬জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



বাঁচার জন্য বন আলুই তাদের একমাত্র ভরসা

বাঁচার জন্য বন আলুই তাদের একমাত্র ভরসা

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

অভাব দারিদ্রতা যাদের নিত্য সঙ্গি,তাদের জীবনে আর কি চাওয়ার আছে ? তাদের একটাই চাওয়া কোন রকমে বেঁচে থাকা। বেঁচে থাকার তাগিদে হতদরিদ্র এই মানুষগুলি বছরের একটা সময়ে কৃষি শ্রমিকের কাজ করে। বাকি সময়ে অর্থ্যাৎ কর্মহীন সময়ে এরা বনে জঙ্গলে ঘুঁরে বেড়ায় খাবারের খোঁজে। বন-জঙ্গলে খাবারের তালিকায় তাদের প্রথম পছন্দ বন-আলু। এই হতদরিদ্র মানুষগুলো বন-আলু সংগ্রহ করে বাড়িতে এনে তা সিদ্ধ করে পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে কোন রকমে জীবন বাঁচায়। এরা হল পশ্চিমা(উপজাতি)সম্প্রদায়ের মানুষ। এদের বসতি বদরগঞ্জ পৌরশহরের ৯ নম্বর রেল গেট বস্তি এলাকায়।
সরেজমিনে পৌরশহর ঘুরে বেড়ানোর সময়,এই হতদরিদ্র মানুষগুলির জটলা চোখে পড়ে। একটু এগিয়ে গিয়ে দেখা যায়,সবার হাতে প্লাষ্টিকের বস্তা,সাবল আর খুন্তি। আগ্রহ নিয়ে এই প্রতিবেদক তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, দলবদ্ধভাবে কোথায় যাচ্ছেন ? তাদের ঝটপট উত্তর এখন সময় নেই,কমপক্ষে ৫-১০মাইল দুরের এক জঙ্গলে যাচ্ছি বন-আলু সংগ্রহ করতে।
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন মিস টহুলু(৬৫)নামে এক বৃদ্ধা,তিনি জানান; বাড়িতে কোন খাবার নেই। বর্তমানে কোন কাজও নেই, কি খেয়ে বাঁচবো আমরা। তাই জঙ্গল হতে বন-আলু আনতে যাচ্ছি। জঙ্গল হতে আমরা বন-আলু নিয়ে আসবো তার পর বাড়িতে এসে তা সিদ্ধ করে বাড়ির সবাই মিলে খাবো। আমরা গরীব মানুষ দিন আনি দিন খাই। বর্তমানে কোন কাজ নাই,তাই বাড়িতে কোন খাবারও নাই। বাঁচতে তো হবে বাবা। বন-জঙ্গলে বন আলু না থাকলে আমাদের না খেয়ে মরতে হতো।
তিনি আরও জানান; আগের মত আর বন-জঙ্গলে বন-আলু পাওয়া যায় না। তাই অনেক দুর যেতে হয়।   এই দলের একজন মালতি রানি(৪৪)জানান; আমরা খুবই গরীব। পেটের জ্বালায় আমরা বন-আলু খাই। যখন কাজ পাই তখন মাঠে কৃষি শ্রমিকের কাজ করি,আর যখন কাজ থাকে না তখন বনে জঙ্গলে বন আলু সংগ্রহ করে তা খাই। বেঁচে থাকতে হবে তো !
আদি বাসি রিনা রানি(৪২),তিনি জানান;আমরা গরীব মানুষ,প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিনই যোগাড় করতে হয়। কাজ পেলে খাবার পাই আর কাজ না পেলে আমাদের উপোষ থাকতে হয়। বাড়িতে কোন চাল নেই, তাই জঙ্গলে যাচ্ছি বন-আলুর খোঁজে। যদি পাই তা খেয়ে অন্ততঃ জীবনটা বাঁচবে।
পৌরশহরের মুন্সিপাড়া সংলগ্ন বসবাসকারি বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ইউনুস আলি জানান; এরা গরীব মানুষ,রেল লাইনের বস্তিতে বাস করে। মুলতঃ এই মানুষগুলি কৃষি শ্রমিকের কাজ করে। যখন কাজ থাকে না তখন বাঁচার তাগিদে এই হতদরিদ্র মানুষগুলি বন-আলু খেয়ে বেঁচে থাকে।
বদরগঞ্জ উপজেলা সমবায় অফিসার নজরুল ইসলাম জানান; ইতোমধ্যে সরকার আদিবাসি সম্প্রদায়কে ভাতার আওতায় নিয়ে এসেছে। মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে। যদি ওই সম্প্রদায়ের লোকজন ভাতা পেয়ে না থাকেন তাহলে দ্রুত তাদের ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫ জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 

মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৭

জীবন্ত শামুক-ঝিনুক খেয়ে বেঁচে আছে যারা

জীবন্ত শামুক-ঝিনুক খেয়ে বেঁচে আছে যারা

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

অভাবের তাড়নায় জীবন বাঁচার তাগিদে মানুষ কত কিছুই না খায়। ব্যতিক্রম ধর্মি এক সম্প্রদায়ের মানুষ পশ্চিমা(আদিবাসি) যারা জীবন্ত শামুক-ঝিনুক খেয়ে জীবন ধারন করছেন। কর্মহীন এ সম্প্রদায়ের লোকজন ক্ষুধার জ্বালায় নদী হতে শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে জীবন্ত অবস্থায় নতুবা রান্না করে খায়। হতদরিদ্র এ মানুষগুলো মুলতঃ কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। যখন কাজ থাকে না তখন তারা নদী হতে শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করে জীবন্ত নতুবা রান্না করে খেয়ে কোন রকমে জীবন বাঁচায়। এদের বাস বদরগঞ্জ পৌরশহরের মুন্সিপাড়া মহল্লার রেল বস্তি এলাকায়।
সরেজমিনে বদরগঞ্জের যমুনেশ্বরি নদী ভ্রমন করতে গিয়ে দেখা মেলে এ সম্প্রদায়ের হতদরিদ্র লোকজনের। দুর হতে দেখে মনে হচ্ছিল নদীতে এরা হয়তঃ মাছ ধরছে কিন্তু কাছে গিয়ে দেখা গেল তাদের হাতে মাছ ধরার কোন যন্ত্র নেই। কৌতুহল বশতঃ এই প্রতিবেদক তাদের জিজ্ঞাসা করলেন,কি করছে তারা ?
তাদের একজন গোজি রানি(৫০) জানান;শামুক-ঝিনুক ধরছি। শামুক ঝিনুক ধরে কি করবেন জানতে চাইলে,তিনি জানান; কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করি কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে কোন কাজ নেই,বাড়িতে কোন খাবারও নেই এ জন্য শামুক ঝিনুক ধরছি। বাড়িতে নিয়ে গিয়ে জীবন্ত অথবা রান্না করে পরিবারের সবাই মিলে খাবো। তিনি আরও জানান;আমাদের সামর্থ্য থাকলে কি আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেল লাইনের ধারে বাস করি। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন রিনা রানি(৪৩),তিনি জানান;আমরা গরীব মানুষ,প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিনই যোগাড় করতে হয়। কাজ পেলে খাবার পাই আর কাজ না পেলে আমাদের উপোষ থাকতে হয়। এমনিতেই দিন চলে না,মাছ মাংস পাবো কোথায় ! বাড়িতে এক ছটাক চালও নেই, তাই নদীতে এসেছি শামুক-ঝিনুক যা পাই পরিবারের সবাই মিলে এক সঙ্গে খাবো।
তিনি আরও জানান;জীবন বাঁচার তাগিদে আমরা শামুক ঝিনুক খাই সত্যি তবে শামুক-ঝিনুক খেলে চোখের জ্যোতি যেমন বাড়ে,তেমনি আমাদের শরীরের হাড়ও মজবুত হয়।
নদীতে শামুক-ঝিনুক ধরতে আসা মালতি রানি(৪২)জানান; আমরা খুবই গরীব। পেটের জ্বালায় আমরা শামুক-ঝিনুক খাই। যখন কাজ পাই তখন মাঠে কৃষি শ্রমিকের কাজ করি,আর যখন কাজ থাকে না তখন এই নদীতে শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করে তা খাই। বেঁচে থাকতে হবে তো ! সেই ছোট বেলা হতে আমরা কর্মহীন সময়ে নদী হতে শামুক ঝিনুক সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে খাই। তিনি আরও জানান; গরীব মানুষের লেখাপড়া। যেখানে পেট ভরে খাবার খেতে পারি না,সেখানে আবার পড়াশুনা। 

পৌরশহরের মুন্সিপাড়া সংলগ্ন যমুনেশ্বরি নদী এলাকায় বসবাসকারি বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সদস্য
শ্যামল লোহানী জানান; এরা গরীব মানুষ,রেল লাইনের বস্তিতে বাস করে। মুলতঃ এই মানুষগুলি কৃষি শ্রমিকের কাজ করে। যখন কাজ থাকে না তখন বাঁচার তাগিদে এই হতদরিদ্র লোকজন শামুক-ঝিনুক খেয়ে বেঁচে থাকে। 

বদরগঞ্জ উপজেলা সমবায় অফিসার নজরুল ইসলাম জানান; ইতোমধ্যে সরকার আদিবাসি সম্প্রদায়কে ভাতার আওতায় নিয়ে এসেছে। মাঠ পর্যায়ে কাজ চলছে। যদি ওই সম্প্রদায়ের লোকজন ভাতা পেয়ে না থাকেন তাহলে অনতিবিলম্বে তাদের ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৪জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

সোমবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৭

নানা প্রতিকুলতায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ঠাটারি ব্যবসা

নানা প্রতিকুলতায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ঠাটারি ব্যবসা

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

নানা প্রতিকুলতা আর প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এক সময়ের গৃহস্থলীর নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য মেরামতের দেশিয় এ শিল্পটি(ব্যবসা)। সময়ের সাথে সাথে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে দেশিয় এই শিল্পটি। আধুনিক যুগে মানুষের রুচি পরিবর্তনের সাথে পাল্লা দিতে না পেরে অলস সময় ও বেকার হয়ে পড়েছেন এই শিল্পের সাথে জড়িত লোকজনরা। এক সময়ের জনপ্রিয় কামার শিল্পের(ব্যবসা) আদলে গড়া ঠাটারি শিল্পটিও আজ কালের গর্ভে বিলিন হতে চলেছে।
সরেজমিনে গোটা রংপুর অঞ্চল ঘুরে ঠাটারি ব্যবসার সাথে জড়িত লোকজনদের সাথে কথা বলে এই চিত্রই ফুটে উঠে।
বদরগঞ্জ পৌরশহর এলাকার ঠাটারি ব্যবসায়ি হ্যানিম্যান ঠাকুর(৪৬)জানান; দরিদ্র ঘরের সন্তান তিনি।  পিতা মৃত জীতেন ঠাকুরের হাত ধরে তার এ ব্যবসায় আগমন। সংসারের একটুখানি সচ্ছলতা ফেরাতে আর পিতাকে সাহায্য করতেই তিনি এই পেশায় জড়িয়ে পড়েন। ওই সময় ঠাটরি ব্যবসায় এতটাই কাজের চাপ ছিল যে,এসএসসি পরীক্ষায় পর্যন্ত অংশগ্রহন করতে পারেননি তিনি। দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। সেই সব দিন আজ স্মৃতি। এখন আর তেমন কাজ নেই অলস সময় কাটাতে হয়। অন্য কাজও জানি না বাধ্য হয়ে কোন রকমে এ পেশাটি ধরে রেখেছি। তিনি জানান; একটা সময় মানুষের গৃহস্থলীর নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য জিনিষপত্র
যেমন,হারিকেন,ল্যাম্প(কুপি),বালতি,ড্রাম সহ নানা ধরনের মেরামতের কাজ ছিল প্রচুর। তখন ব্যবসাও ভাল চলতো। সময়ের পথ পরিক্রমায় মানুষের রুচি বোধের পরিবর্তনের সাথে সাথে মুলতঃ প্লাষ্টিকের ব্যবহার এসেই এ ব্যবসায় ধস্ নেমেছে। আমাদের যদি পুঁজি থাকতো তাহলে আমরা হাতে তৈরি গৃহস্থলীর কাজে ব্যবহার্য অনেক প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র তৈরি করে বাজারজাত করতে পারতাম। এ শিল্পটিকে (ক্ষুদ্র ব্যবসা) এবং এর সাথে জড়িত মানুষদের বাঁচাতে সরকারের সদয় দৃষ্টি তিনি কামনা করেন।
তিনি আরও জানান;প্রতিদিন ২ শত টাকা পর্যন্ত আয় হয়। যা দিয়ে চালাতে হয় আমার সংসার। তিনি এই প্রতিবেদককে প্রশ্ন রেখে বলেন, ২ শত টাকা দিয়ে কি সংসার চলে বলেন ?
বালতি মেরামত করতে আসা বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সিনিয়র প্রভাষক ইউনুস আলি জানান; আর আগের মত এদের ব্যবসা নেই। সবাই এখন প্লাষ্টিক সামগ্রি ব্যবহারে অভ্যস্থ। এদের এই ব্যবসাটিকে বাঁচাতে হলে আধুনিকায়ন জরুরি। এতে পুঁজির দরকার। ব্যাংকগুলো যদি এদের সহজ শর্তে
সামান্য সুদে লোনের ব্যবস্থা করে দিত তাহলে এই ব্যবসার সাথে জড়িত লোকজনরা উপকৃত হতো। 


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৩ জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 



শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৭

ফুল চাষ ও বিক্রি করে মানিক আজ স্বাবলম্বি

ফুল চাষ ও বিক্রি করে মানিক আজ স্বাবলম্বি


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

মানিক(৩৮)। পেশা ফুলের চাষ করা ও তা বিক্রি করা। ফুল চাষ ও বিক্রি করে আজ সে লাখপতি। মানিকের বাড়ি পৌরশহরের বালুয়াভাটা মহল্লায়। শ্রম আর অদম্য ইচ্ছা শক্তিই তাকে সাহস যুগিয়েছে স্বাবলম্বি হতে। শ্রম আর ইচ্ছা শক্তি যে মানুষকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে বদরগঞ্জের মানিকই তার প্রমান। দরিদ্র অর্ধশিক্ষিত এ যুবকটি যখন কোন ধরনের কাজ না পেয়ে পথে পথে ঘুরছেন তখন তারই এক বন্ধু তাকে পরামর্শ দেয় ফুল চাষ করার জন্য। মানিকও সিন্ধান্ত নিয়ে ফেলে ফুল চাষ করবে সে,কিন্তু জায়গা কোথায় পাবে? পরীক্ষামুলকভাবে ষ্টেশনের পরিত্যক্ত জায়গাতে নানা ধরনের দেশি জাতের ফুল চাষ শুরু করেন এবং বাজারজাত করেন। তাতে সে ভাল আয়ও করেন। এভাবেই শুরু। বর্তমানে বদরগঞ্জে ফুল চাষি বলতে যুবক মানিককেই বুঝায়। ফুল চাষ করে ষ্টেশন এলাকায় গড়ে তুলেছেন সুন্দুর পরিপাটি নিজস্ব ফুলের দোকান। শুধুমাত্র ফুলের এই ব্যবসা দিয়ে যুবক মানিক গ্রামে ক্রয় করেছেন কয়েক বিঘা জমি,পৌরশহরে তৈরি করেছেন বাড়ি। গাড়ি,ব্যাংক ব্যালেন্স সবই হয়েছে তার। দরিদ্র বেকার মানিক বর্তমানে সফল ফুল চাষি ও স্বাবলম্বি। সে তার জমিতে গোলাপ,গাধা গ্লাডিওলাস,রজনীগন্ধা সহ নানা ধরনের ফুল চাষ করেন।
সরেজমিনে পৌরশহরের ষ্টেশন সংলগ্ন মানিক ফুল ঘরে গিয়ে কথা হয় সফল ফুল ব্যবসায়ি মানিকের সাথে,তিনি এ প্রতিবেদককে জানান; একটা সময় কাজের জন্য সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন কাজ পাইনি। অভাবের কারনে বেশি দুর লেখাপড়াও শিখতে পারি নাই। কিভাবে সংসার চলবে এ ভাবনায় রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতাম ? ফুল চাষই আমাকে সমৃদ্ধি এনে দিয়েছে। আল্লাহ্র রহমতে এ ব্যবসা করেই আজ আমি স্বাবলম্বি। তিনি আরও জানান;শিক্ষিত বেকাররা অহেতুক চাকুরির পিছনে না ঘুরে যদি পছন্দমত যে কোন কাজকে বেছে নেয়,আমার বিশ্বাস তারাও সফল হবে। এখন ভাল লাগছে এই ভেবে যে,আমার দোকান ও ফুলের জমিতে অনেক বেকার লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরেছি। পরিশ্রম ও ইচ্ছাশক্তি মানুষকে সফলতার দ্বার প্রান্তে নিয়ে যেতে পারে।
মানিকের প্রতিবেশি ও বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সিনিয়র প্রভাষক সাইফুর রহমান রানু জানান; মানিককে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। অনেকদিন তাকে দু-বেলা না খেয়ে থাকতে দেখেছি। সে খুব পরিশ্রমি ছেলে। পরিশ্রম করেই আজ সে এতদুর এগিয়ে গেছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; ফুল চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা। মানিক আমার উপজেলায় একজন সফল ফুল চাষি। মানিককে অনুকরন করে কেউ যদি ফুল চাষে আগ্রহি হয়,আমরা তাকে সব ধরনের সহযোগিতা দিবো। 



বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২২জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


ছোট-গল্প - আজ সে অন্ধকারের বাসিন্দা

ছোট-গল্প
আজ সে অন্ধকারের বাসিন্দা



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
প্রকৃতির খুব কাছাকাছি সবুজ শ্যামল ছায়াঘেঁরা সুন্দর একটি গ্রামের নাম শ্যামনগর। সবুজের সমারোহ নদীর কলতান আর পাখির কিচির মিচির শব্দে যে গ্রামের মানুষদের ঘুম ভাঙ্গে,কিশোরি মেয়ে ডানা সেই গ্রামেরই বাসিন্দা।ডানার চোখে মুখে সোনালি স্বপ্ন। রঙ্গিন স্বপ্নে বিভোর সে। উঠতি বয়সের কল্পনার রঙ্গিন ফ্রেমে বেঁধে রাখা স্বপ্নগুলি এক সময় কালো মেঘের বিদঘুঁটে অন্ধকারে বিবর্ন হয়ে যায়। এক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মার আকস্মিক মৃত্যুই তার জীবনের গতি পাল্টে দেয়। এখন তার চোখে সোনালি স্বপ্নের পরিবর্তে অন্ধকারের বর্নছটা। সময় তার নিজস্ব গতিতে চলতে লাগলো। দেখতে দেখতে এক সময় ৩ টি বছর পেরিয়ে গেল।ডানা এখন কলেজে পড়ে। চঞ্চল প্রানবন্ত উচ্ছল মেয়েটি যেন নিষ্প্রান হয়ে গেছে। এরই মাঝে মনের অগোচরে জন্ম নিল ভালবাসা। এক সহপাঠির সাথে চলে তার প্রেমের সম্পর্ক। তার এই নিষ্প্রান জীবনে যেন প্রানের সঞ্চার হলো। মানুষ সময়ের কাছে তার অতীতের সকল দুঃখ কষ্টকে এক সময় সমর্পন করে দেয়। বাস্তবতাকে মেনে নেয়। শক্ত কোন এক অবলম্বনকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করে। ডানাও মানুষ, সেও বাস্তবতাকে মেনে নিয়েছে।
বিশ্বাস আস্থা আর ভালবাসার টানে,প্রেমিকের হাত ধরে চলে আসে কোন এক অজানা শহরে। কয়েকদিন
তারা দু-জনে এক হোটেলে রাত কাটায়। এক সময় প্রেমিক তার অজান্তেই তাকে বিক্রি করে দেয় পতিতালয়ে। সে এখন অন্ধকার জগতের বাসিন্দা। সে কি পারবে অন্ধকার জগৎ হতে আলোর পথে আসতে ? সমাজের বিবেকবান কোন একজন মানুষ কি তার দায়িত্ব নেবে ? ডানার প্রত্যাশা; সমাজের বিবেকবান যে কেউ একজন একদিন এসে বলবে,“আঁধার হয়ে নয়,প্রদীপ হয়ে এসো আমার জীবনে,আলোক বিচ্ছুরন করো হৃদয়ে আমার,তিমিরে ভরা এ গহীন চত্ত্বরে”। সত্যিই কি তার জীবনে প্রদীপ হয়ে কেউ আসবে,নাকি পতিতালয়ের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আজীবন ভোগের পন্য হয়ে পঁচে মরতে হবে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২১জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪     

শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৭

শীতের দাপটে কাতর বদরগঞ্জের ছিন্নমুল মানুষরা

শীতের দাপটে কাতর বদরগঞ্জের ছিন্নমুল মানুষরা


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

হাঁড় কাঁপানো কনকনে শীতের দাপটে কাতর বদরগঞ্জের ছিন্নমূল মানূষরা। শীতের দাপট এতটাই যে,ঘর হতে বের হওয়া যেন দায়। এ সময়টাতে সবচাইতে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর ছিন্নমূল লোকজনরা। তাদের মুখগুলো বিষাদ আর মলিনতায় ভরা। কারন একদিন কাজ না পেলে তাদের উপোষ থাকতে হবে নিশ্চিত। মলিনতায় ভরা মুখ নিয়ে আর কাজের আশায় রাস্তায় ধারে দলবেঁধে গোল করে বসে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারনের পাশাপাশি মেইন সড়কে দিকে বার বার উকি দিচ্ছে কেউ তাদের ডাকছে কিনা?
সরেজমিন গোটা উপজেলা ঘুরে দেখা যায়;সূর্যের মুখ দেখা না যাওয়ায় কনকনে শীতে কাতর শ্রমজীবি মানুষরা দলবেঁধে একত্রে যবুথবু হয়ে বসে আছে।
এ সময় কথা হয় নারী শ্রমিক বাসন্তি রানি(৫৮)সাথে,তিনি জানান; বাবা আমি একদিন কাজ না করলে বাড়ির সবাইকে না খেয়ে থাকতে হবে। গরীবের আবার শীত। কোন রকমে যদি একটা কাজ পেতাম তাহলে অন্ততঃ আজ না খেয়ে থাকতে হবে না।
কথা হয় ইমারত শ্রমিক সইমুল হকের সাথে,তিনি জানান;শীতের মধ্যে রাস্তার ধারে বসে আছি কাজের আশায়। যদি কোন কাজ পাই। আজ কাজ না পেলে কি করবেন জানতে চাইলে তার ঝটপট উত্তর জানি না। ছোট বাচ্চাটা অসুস্থ্য,ঔষধ কেনা দরকার। কাজ না পেলে বাড়ির খরচ ও ঔষধ কিছুই কিনতে পারবো না।
প্রচন্ড শীতে বৃদ্ধ ও শিশুরা নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে বদরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হচ্ছেন। রোগিদের চাপে হিমশিম খাচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা যায়; প্রচন্ড শীতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা।
শীতজনিত নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে তারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মনোয়ারা বেগম মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে জানান;প্রচন্ড শীতে আমার হাসপাতালে রোগিদের ভীষন চাপ। রোগিদের সুস্থ্য করতে আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
এ দিকে,প্রচন্ড শীতে কাতর ছিন্নমুল মানুষদের শীত নিবারনের জন্য শীতবস্ত্র নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারি,বে-সরকারি,এনজিও ও দাতা সংস্থাগুলি তেমনভাবে এগিয়ে আসেনি। বদরগঞ্জের সুশীল সমাজ শীতে কাতর ছিন্নমুল মানুষদের পাশে পর্যাপ্ত শীত বস্ত্র নিয়ে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন।

বিঃদ্রঃ দেশি-বিদেশি সকল বন্ধুরা যদি আমাদের সাধ্যমত এই গবীর অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াই তাহলে প্রচন্ড এই শীতে দুস্থ্য অসহায় মানুষগুলোর জীবন বেঁচে যায়। আমরা কি কেউ এগিয়ে আসবো !

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২০জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৭

অপুষ্টির শিকার হাজারো মানুষ
গাভীর দুধের ঘাটতি পূরন হচ্ছে না বদরগঞ্জে

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

মায়ের দুধের বিকল্প নেই। এই কথাটি আমরা সবাই জানি। মায়ের দুধের পর যদি কোন পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্য থাকে তা হল গাভীর দুধ। এটি মানুষের অতি প্রয়োজনীয় সূষম খাবার অথচ এই খাবারটির ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে রংপুরের বদরগঞ্জে। ফলে উপজেলার নিম্ন আয়ের মানুষ সহ তাদের পরিবার পরিজন অপুষ্টির শিকার হয়ে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বুদ্ধি ও দৈহিক বৃদ্ধিতে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে উপজেলার কোমলমতি শিশুসহ জনসাধারন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে দিনকে দিন।
সরকারি হিসেবে প্রায় ৩ লাখ জনসংখ্যা এ উপজেলায়। পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে ; প্রতিদিন পূর্ণ বয়স্ক একজন মানুষের জন্য ২৪০মিঃলিঃ দুধের প্রয়োজন। বছরে এ উপজেলায় প্রয়োজন ৭৫মেঃ টন দুধ। অথচ এ উপজেলায় উৎপাদন হয় ৪০ মেঃ টন দুধ।
প্রানি-সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায় ; বদরগঞ্জ উপজেলায় দেশি জাতের গাভী রয়েছে ২৫ হাজার,সংকর জাতের রয়েছে ৮হাজার। প্রয়োজনের তুলনায় গাভীর সংখ্যা অনেক কম, উপরন্তু উপজেলায় উৎপাদিত দুধের বড় অংশ চলে যায় মিল্কভিটা সহ অনেক কোম্পানিতে। উপজেলায় কিছু গরুর খামার রযেছে এরপরও যারা বাড়িতে গাভী পালন করেন তারা নানা সমস্যা ও প্রতিকূলতায় গাভীর পরিচর্যা করেন।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার বলেন ; ছোট বেলা হতে আমাদের বাড়িতে দেখেছি অসংখ্য গরু। সে সময় বিস্তৃর্ন অঞ্চল ফাঁকা পড়ে থাকতো, গাভীসহ গবাদি পশু মাঠে ময়দানে ঘাস খেয়ে বেড়াতো, বর্তমানে তা সম্ভব নয়। এ কারনে আমরাও গাভী সহ গবাদি পশুর সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছি। তিনি আরও জানান ; কিছু গরুর খামার গড়ে উঠলেও পশুখাদ্যের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় এবং চোরের উপদ্রব হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য খামার মালিকরাও নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। ফলে জনসংখ্যার তুলনায় বদরগঞ্জে দুধের ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।
উপজেলা প্রানি-সম্পদ ভেটেনারি সার্জন ডাঃ সাখাওয়াৎ হোসেন বলেন ; দুধের ঘাটতি পূরনে আমি কৃষক ও খামারিদের উৎসাহ প্রদান করছি। তিনি আরও বলেন ; গাভীর চিকিৎসার জন্য সরকারি ওষুধ পত্রের প্রাপতা এখানে একেবারেই অপ্রতুল। তবে আমরা আপ্রান চেষ্টা করছি যাতে খামারি সহ কৃষকরা উপকৃত হয়।

বদরগঞ্জ, রংপুর
তারিখ-১৯জুন/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



বুধবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৭

রাস্তায় যাদের জীবন-জীবিকা

রাস্তায় যাদের জীবন-জীবিকা


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


বাবু দাস (৫৮)। পেশায় জুতা সেলাই করা। গরীব নিঃস্ব এ মানুষটি রাস্তায় ধারে জুতা সেলাই করছেন দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে। বাবার সাথে ছোট বেলায় জুতা সেলাইয়ের কাজ শুরু করেছেন,আজ অবধি এই কাজ করে চলছেন। সারা দিনে যা আয় হয় তা দিয়ে কষ্ট করে চলে তার সংসার। ঝড়-বৃষ্টির দিনে কাজ বন্ধ রেখে অলস সময় কাটাতে হয় তাকে। যে দিন কাজ থাকে না সে দিন তার পরিবারকে অভুক্ত থাকতে হয়। বাবু দাসের বাড়ি বদরগঞ্জ পৌর শহরের বালুয়াভাটা মহল্লায়।
সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় রাস্তার ধারে বসা বাবু দাসের সাথে,তিনি জানান;যে বয়সে বই খাতা হাতে নিয়ে আমার স্কুলে যাওয়ার কথা,সেই বয়স হতে এ কাজ করছি। অভাব অনটনের সংসারে বাবা আমাকে লেখাপড়া শেখাতে পারেনি। আমিও বাবাকে সাহায্য করার জন্য জুতা সেলাইয়ের কাজ শুরু করি।
তিনি জানান;আসলে আমরা গরীব মানুষ,প্রতিনিয়ত বাঁচার জন্য যুদ্ধ করছি। রাস্তার ধারে কোন এক কোনে বসে জুতা সেলাইয়ের কাজ করি। কষ্ট হয়,আমাদের নিজস্ব কোন ঠিকানা নেই। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাথার উপর একটি ভাঙ্গা ছাতা দিয়ে কষ্টে কাজ করতে হয়। কারন একদিন কাজ বন্ধ থাকলে বাড়ির সবাইকে না খেয়ে থাকতে হবে। তিনি আরও জানান;আমাদের সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ জুতা সেলাইয়ের কাজে জড়িত। ভাল লাগে না রাস্তার ধারে কিংবা ব্যক্তি মালিকানাধিন কোন মার্কেটের সামনে বসতে। অনেক সময় তারা আমাদের গালমন্দ করেন। কিন্তু কি আর করার,উপায় নেই তাই রাস্তার ধারে বসে জুতা সেলাইয়ের কাজ করি।
কথা হয় রাস্তার ধারে বসা জুতা সেলাইয়ের কাজে জড়িত দিলচান দাসের (৫০)সাথে, তিনি জানান;দীর্ঘ ৩০বছর ধরে এ কাজ করছি। সারাদিনে ১৫০-২৫০শত টাকা আয় হয়। এ দিয়ে কোন রকমে চলে আমার সংসার। এ বছর ছোট মেয়ের বিয়ে দিলাম,এনজিওতে লোন নিয়ে। প্রতি সপ্তাহে কিস্তি দিতে হয়। এ কাজ করে পরিবার চালানো, কিস্তি দেয়া, এতে আমার ভীষন কষ্ট হয়েছে। কিন্তু কি আর করার করার? আমরা মানুষের জুতা রং, পালিশ করে তাদের সুন্দর করি। অথচ আমাদের জীবন দুঃখে ভরা। দু-বেলা ভালভাবে খেতেও পারি না।সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন জুতা সেলাইয়ের কাজে নিয়োজিত উজ্জল দাস(৩৯)। তিনি জানান;অনেক কষ্টের জীবন আমাদের। কেউ আমাদের দিকে তাকায় না। মানুষের মার্কেটের ধারে,রাস্তার পাশে আমাদের জীবনটাই শেষ হল। ছোট বাচ্চাটার দু-দিন ধরে জ্বর। ডাক্তার দেখানো,ওষুধ কেনা,বাজার করা,সব মিলিয়ে অনেক টাকার দরকার। আমার হাতে একটি টাকাও নেই। কি করবো আমি ভেবে পাচ্ছি না। তিনি আরও জানান; রাস্তার ধারে বসা মানুষদের নিয়ে কে ভাবেন বলেন ? এ নিয়ে আর কোন কষ্ট পাই না। এই ভেবে যে,ভববানের দয়ায় দু-মুঠো খেতে পাচ্ছি। উজ্জল দাসের বাড়ি পৌরশহরের ফেসকিপাড়া মহল্লায়।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়াম্যান সাইদুল ইসলাম জানান; রাস্তার ধারে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে এরা জুতা সেলাইসহ রং পালিশের কাজ করে এদের নিয়ে সকলের ভাবা উচিত।

বদরগঞ্জ পৌরসভার সফল মেয়র উত্তম কুমার সাহা জানান; জুতা সেলাইয়ের কাজে যারা জড়িত তাদের যাতে অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য সহযোগিতা সহ পুর্নবাসন করা যায় এ জন্য পৌরশহরের ভিতরে বাজার এলাকায় জায়গা দেখেছি,নিজস্ব জায়গাতেই তাদের দোকান করে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৮জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৭

নিরাপদ সড়ক চাই

নিরাপদ সড়ক চাই



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
সুন্দর স্বপ্লীল এ পৃথিবীতে কে না বেঁচে থাকতে চায় ? পৃথিবীর এই সৌল্পিক সৌন্দর্য আর প্রেম ভালবাসার মোহে আটকা পড়ে গেছে মানব সন্তানরা। সুন্দর এ পৃথিবীটাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে দেখার সাধ মানুষের প্রবল। প্রকৃতির এই উদারতাকে এবং জীবিকার তাগিদে মানুষ এক স্থান হতে অন্য স্থানে পাগলের মত ছুঁটছে। গোটা ভু-খন্ডকে হাতের মুঠোয় পুরে রাখতে কতইনা তারা কৌশল অবলম্বন করছে।মানব সন্তানরা জানে, গোটা ভুখন্ডকে হাতের মুঠোয় রাখতে হলে চাই উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। আর এই যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম একটি অংশ হল সড়ক পথ।
মানুষের নিবিঘের্œ, নিশ্চিন্তে চলাফেরা, এক স্থান হতে অন্য স্থানে যাতায়াতের সুবিধা দানই ছিল সড়ক ব্যবস্থার মুল লক্ষ্য। কিন্তু বাস্তবে কতটা নিরাপদ এই দু-পা বিশিষ্ট প্রানিরা ! 
দেশিয় পৃক্ষাপটে সড়ক ব্যবস্থার মুল্যায়ন করা যাক।
জীবিকার তাগিদে মানুষ নিরন্তর ছুঁটতে তো ছুঁটছে। ছুঁটতে ছুঁটতে হোঁচট খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে,শরীরের কোন স্থান হতে লবন মিশ্রিত লাল পানি মুছে,ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে আবারো ছুঁটা। এ যেন দৌঁড় দৌঁড় খেলা।এমনি এক মুহুর্তে পিছন হতে ঘাতক ট্রাক এসে চাপা দিয়ে লেপটে দিল তার সারা শরীর। নিথর নিঃস্তেজ হল তার দেহটা। কি মুল্য আছে এ জীবনের ? এমন অনেক পরিবার আছে যাদের একজনের আয়ের উপর নির্ভর করে চলতে হয় গোটা পরিবারকে।
ভেবে দেখুন পাঠক, কি হবে এই পরিবারগুলোর ? আমরা কি কেউ খোঁজ নেই এই পরিবারগুলোর দূর্দশার কথা ? হয়তো কাঁদছে তার অবুঝ শিশুটি দুধের জন্য, কাঁদছে মা তার ছেলের জন্য, স্ত্রী কাঁদছে তার স্বামির জন্য, কাঁদছে অন্য সন্তানরা তার বাবার জন্য। তাদের এই কান্না ও কষ্টগুলো কি তাদের হারিয়ে যাওয়া ছেলে,স্বামি,বাবার কানে পৌঁছে ? ততদিনে সে (মৃত ব্যক্তি) হয়ে গেছে ব্যাকটেরিয়া আর ছোট বড় কীটপতঙ্গের খাবার। পরিবারগুলোর এই গগনবিদারি হাহাকার বাতাসে স্ফুলিঙ্গের মত ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। কেউ কি এই অসহায় নিঃস্ব পরিবারগুলোর দিকে হাত প্রসারিত করি ? কেউই না কেউই না। দেই শুধু সস্তাবাসি কতকগুলো সান্তনা বানি। এই সান্তনা বানি দিয়ে আর যাই হোক পেট তো ভরে না।
আপনারা ভেবে দেখুন পাঠক, আপনার আমার ভাইবোন,মা,বাবা অর্থ্যাৎ আমরা যারা বাহিরে থাকি, বা বাহিরে বেড়াতে আসেন, আপনারা কি নিশ্চয়তা দিতে পারবেন সুস্থ্য শরীরে ফিরে যেতে পারবেন বাড়িতে।
ছেলে বাবার জন্য,বাবা মায়ের জন্য,মা তার সন্তানদের জন্য সারাদিন দূঃচিন্তায় ভোগেন। কখন তাদের আপনজনরা ঘরে ফেরেন। কখনো বাড়িতে ফেরেন সুস্থ্য শরীরে কখনোবা লাশ হয়ে, কেন এমন হয় !!
নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা প্রত্যেক মানুষের এক অন্তিম বাসনা। নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব সরকারের পাশাপাশি দেশের প্রত্যেক নাগরিকেরও উপর বর্তায় বটে।
সর্বোপরি চাই, এর জন্য আত্মসচেতনতা।  আমাদেরকে মনে প্রানে অনুধাবন করতেই হবে যে, সময়ের চেয়ে জীবনের মুল্য অনেক অনেক অনেক বেশি।


বিঃদ্রঃ পৃথিবীর সকল প্রানপ্রিয় বন্ধুরা নিরাপদে থাকুক,সুস্থ্য থাকুক এই কামনাই করি। 


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৭জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

সোমবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৭

গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য “যাঁতা” আর নেই

গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য “যাঁতা” আর নেই

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

আলতাপোন নেছা(৯০)। আজ হতে ৭০ বছর পূর্বে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান মজিবর রহমানের(মৃত)সাথে তার বিয়ে হয়। তার স্বামি বিশাল সম্পদের মালিক ছিলেন। জমি-জমাও ছিল প্রচুর। নব বধু হিসেবে এই বাড়িতে আসার পর হতে তিনি দেখেছেন তাদের জমিতে নানা ধরনের ফসল উৎপাদন করা হতো। এর মধ্যে ডাল জাতীয় ফসল অন্যতম। মূলতঃ ওই সময় ডাল ভাঙ্গা হতো যাঁতা দিয়ে। যে দিন আমাদের বাড়িতে ডাল ভাঙ্গা হতো ওই দিন গ্রামের সকল মহিলারা একত্রিত হয়ে এক সঙ্গে বেশ কয়েকটি যাতা বের করে তা চলে চলতো ডাল ভাঙ্গার কাজ। এ যেন এক মিলন মেলা। সেই সব দিনগুলো যেন এখন সবই স্মৃতি,কথাগুলো জানালেন আলতাপোন নেছা। তিনি জানান; বর্তমান সময়ের বউয়েরা এত পরিশ্রম করে যাঁতা দিয়ে ডাল ভাঙ্গতে চায় না। মূলতঃ তারা আর শারিরীকভাবে পরিশ্রম করতে চায় না। শারিরীক পরিশ্রম না করার কারনে তারা এখন নানা ধরনের রোগ ব্যধিতেও ভুগছে। তিনি আরও জানান; যাঁতা দিয়ে ডাল ভাঙ্গতে পরিশ্রম হতো সত্যি কিন্তু  একদিকে যেমন পাড়ার মহিলারা সবাই একত্রিত হয়ে গল্প  করে আনন্দ পেতাম অন্যদিকে ডালটি পাওয়া যেত খাওয়ার উপযোগি। বর্তমানে মেশিনে ছাঁটা ডাল খেতে ভয় লাগে।
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন মরিয়ম বেগম(৭৫)নামে আরেক বৃদ্ধা। তিনি এই প্রতিবেদকে জানান; আগে মানুষে মানুষে খুব মিল ছিল। শুধু মাত্র যাঁতা দিয়ে ডাল ভাঙ্গার জন্য আমাদের বাড়িতে কয়েক কিলো মিটার পথ পাড়ি দিয়ে মহিলা আসতো। এরই সুবাদে তাদের সাথে অনেকদিন পর সাক্ষাত হতো। দিনগুলো তখনকার খুব আনন্দের ছিল। তিনি জানান;যাঁতা দিয়ে ডাল ভাঙ্গতে যাতার গুড়গুড় শব্দে মহিলারা আবেগ আপ্লুত হয়ে তখন সংগিত পরিবেশন করতো। সময়ের পথ পরিক্রমায় সেই সব দিন আজ সোনালি অতীত। তিনি আরও জানান;আধুনিক যুগে মেশিনের ব্যবহার এসে এই পাড়ার আর কারো বাড়িতে যাঁতা নেই। দীর্ঘদিন ধরেও আর পাশের পাড়ার মহিলাদের আর দেখা পাই না। এ জন্য খুব কষ্ট লাগে।
বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আফজাল হোসেন প্রামানিক জানান;বর্তমানে কোন কৃষকই আর আগের মত বিভিন্ন ধরনের ডাল যেমন;মুগ,মশুর,মটর, খেসারি ও বুট আবাদ করে না। এ কারনে অনেক ডাল শস্য আমাদের এলাকায় আর তেমন চোখে পড়ে না।
দিন দিন যাতার ব্যবহার কমে আসছে ডাল ভাঙ্গা মেশিনের কারনে। দেশিয় ঐতিহ্যকে টিকে রাখতে হলে বর্তমান প্রজন্মকে যাঁতা চেনাতে হবে এবং ব্যবহার সম্পর্কে জানাতে হবে। তা না হলে ডাল ভাঙ্গার যন্ত্র দেশিয় ঐতিহ্য “যাঁতা”একদিন কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।


বদরগঞ্জ রংপুর
তারিখ-১৭জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪   





দুস্থ্য মুক্তিযোদ্ধাকে জমি দান করলেন শিক্ষাবিদ মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডঃ এম শাহ্ নওয়াজ আলি

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

গরীর অসহায় দুস্থ্য মুক্তিযোদ্ধাকে বাড়ি নির্মানের জন্য জমি দান করলেন রংপুরের কৃতি সন্তান রাজশাহি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক,রাজশাহি কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডঃ এম শাহ্ নওয়াজ আলি। গত রোববার দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার অসহায় দুস্থ্য মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারেককে বাড়ি নির্মানের জন্য তিনি জমির দলিল হস্তান্তর করেন।
জানা যায়; পার্বতীপুর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারেক অতি কষ্টে পরিবার নিয়ে দিনানিপাত করছিলেন,থাকার মত তার কোন আবাসস্থল ছিল না। এমনকি দরিদ্র অসহায় মুক্তিযোদ্ধার জমি ক্রয় সহ বাড়ি নির্মানের কোন সামর্থ্যও নেই। অপর এক মুক্তিযোদ্ধার মাধ্যমে কথাটি জানতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য রংপুরের কৃতি সন্তান মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডঃ এম শাহ্ নওয়াজ আলি মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখার জন্য মুক্তিযোদ্ধা আঃ বারেককে বাড়ি নির্মানের জন্য তার পৈত্রিক জমি হতে হরিরামপুর ইউনিয়নের (কঠিন শিলা) মধ্যপাড়া বাজারের ৫৬৮ দলিল নন্বরের জমিটির দলিল হস্তান্তর করেন।
মুক্তিযোদ্ধা আঃ বারেক আবেগ আপ্লুত হয়ে এ প্রতিবেদককে জানান; উনি (এম শাহ্ নওয়াজ আলি) বড় মাপের মানুষ। আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ। আল্লাহ্ উনার মঙ্গল করুন।
জমির দলিল হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন পার্বতীপুর ডিগ্রি কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল নুরুল আমিন সরকার,আমবাড়ি কলেজের অধ্যাপক ডঃ গোলাম রসুল,পল্লীবিদুৎ সমিতি রংপুর-২ এর সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আতিকার রহমান প্রামানিক, পার্বতীপুর রেজিষ্ট্রি অফিসের সাব-রেজিষ্টার শংকর চন্দ্র বর্মন।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৬জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

রবিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৭

বদরগঞ্জে গ্রামিন ঐতিহ্যের প্রতীক ঘোড়-দৌঁড় খেলা এখন স্মৃতি

বদরগঞ্জে গ্রামিন ঐতিহ্যের প্রতীক ঘোড়-দৌঁড় খেলা এখন স্মৃতি



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


ছাবেদ আলি(৭৫)। বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউপির দক্ষিন বিষ্ণুপুর জোলাপাড়া গ্রামে। বৃদ্ধ এই মানুষটি এসেছেন অনেক কষ্ট করে পায়ে হেঁটে শুধু মাত্র ঘোড়-দৌড় খেলা দেখার জন্য। ছোট বেলা হতে দেখতাম আমাদের এখানে প্রতি বছর শীতের সময় ঘোড়-দৌড় প্রতিযোগিতা হতো। দেশের নানা প্রান্ত হতে প্রতিযোগিরা এখানে এসে খেলায় অংশগ্রহন করতো। এখন আর হয় না। কয়েক দশক পর ঘোড়-দৌড় খেলাটি দেখতে পেয়ে কি যে আনন্দ লাগছে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। কথাগুলো জানালেন বৃদ্ধ ছাবেদ আলি।
দীর্ঘ সময় পর এ ঘোড়-দৌড় খেলার আয়োজন দেখে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়; মাঠে সকাল হতে  দেশের ননা প্রান্তের প্রতিযোগিরা ঘোড়া নিয়ে অনুশীলনে ব্যস্ত। আজ রবিবার (১৫জানুয়ারি) দুপুর হতে বিকেল পর্যন্ত এ ঘোড়-দৌড়ের আয়োজন করেছেন বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ও পার্বতীপুরের হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদ। শাহ্ মোহাম্মদ এফতেখারুজ্জামান ফাকের সভাপতিত্বে এ খেলা উদ্বোধন করেন পার্বতীপুর উপজেলা আওয়ামিলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হাফিজুল ইসলাম প্রামানিক।
ঘোড়-দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য বদরগঞ্জের জনপ্রিয় নেতা আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক।
প্রধান অতিথি ডিউক চৌধুরি এমপি জানান; গ্রামিন ঐতিহ্যের এই ঘোড়-দৌড় খেলাটি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। আগে মনে হতো ঘোড়-দৌড় খেলাটি যেন কেবল স্মৃতি। গ্রামিন ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে হবে। আয়োজকদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই এ জন্য যে,তারা কয়েক দশক পরে হলেও গ্রামিন ঐতিহ্যকে বুকে ধারন করে ঘোড়-দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।
এ সময় ঘোড়-দৌড় খেলায় রংপুর দিনাজপুর জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে; ঘোড়-দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রায় ৫০ হাজার লোকের সমাগম হয়েছিলো। দেশের নানা প্রান্তের প্রতিযোগির মধ্যে নওগা জেলার ৭ম শ্রেনির ছাত্রি তাসলিমা খাতুন সকলের দৃষ্টি কাড়েন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৫জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
    

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে “হাড়জোড়” নামক ওধুধিগুন সম্পন্ন উদ্ভিদটি

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে “হাড়জোড়” নামক ওধুধিগুন সম্পন্ন উদ্ভিদটি
 
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

অবহেলা অনাদর আর আপনা-আপনি বেড়ে উঠা ওধুধি গুন সম্পন্ন উদ্ভিদের মধ্যে “হাড়জোড়” অন্যতম। ইচ্ছাকৃতভাবে কিংবা আগাছা হিসেবে এদের আমরা কেটে ফেলি। অথচ অযন্তে পড়ে থাকা উদ্ভিদটি এতটাই উপকারি যে আমরা অনেক মানুষই তা জানি না।
স্থানভেদে “হাড়জোড়”উদ্ভিদটি অস্তিসংহার,হাড়ভাঙ্গা,অস্তিশৃঙ্খলা,গ্রন্থিমান নামে পরিচিত। এক সময় বাংলাদেশের বন-জঙ্গল সহ সর্বত্রই কমবেশি দেখা গেলেও বর্তমানে তা আর সচারাচর দেখা যায় না। গাছটির একটি পর্ব মাটিতে রাখলেই তা হতে দ্রুত জন্মাতে পারে।
হাড়জোড়ের বৈজ্ঞানিক নাম ভিটিস কুয়াডাংগুলারিস। গোত্র-ভিটাসি। গাছটি শৃঙ্খলাকৃতি মাংসল লতা। গাছটির পর্বগুলো দেখতে অনেকটা কামরাঙ্গা ফলের মতো। দুই পর্বের মধ্যস্থ গ্রন্থির স্থানে আকর্ষ ও ছোট পাতা বের হয় এবং এর লতাগুলি অনেক দুর পর্যন্ত বির্¯Íৃত হয়। গাছটির পর্ব সমুহ একটির সাথে আরেকটি এমনভাবে যুক্ত থাকে,দেখতে মনে হয় একটি হাড় সন্ধির সাথে অপর হাড়টি যুক্ত রয়েছে। এর পাতা সরল ও একান্তর। ছোট বোটায় সুক্ষ্ম রোমশ ফলগুলি গুচ্ছাকারে থাকে। ফল গোলাকার লাল বর্ন ও রসালো।
সরেজমিনে গোটা উপজেলা ঘুরে “হাড়জোড়” নামক গাছটির দেখা মেলে পৌরশহরের শাহাপুর মেডিকেল পাড়া মহল্লার হাড়-ভাঙ্গার কবিরাজ আবুল কালাম আজাদের বাড়িতে।
কবিরাজ আবুল কালাম আজাদ এই প্রতিবেদককে জানান;এখন আর হাড়জোড় নামক মহামুল্যবান গাছটি পাওয়া যায় না। আমি আমার প্রয়োজনে রাজশাহি জেলা হতে সংগ্রহ করেছি। এই গাছটির কচি কান্ড ও পাতা বেটে যদি আঘাত প্রাপ্ত অংশে লাগিয়ে দেয়া যায় তাতেই আঘাত প্রাপ্ত ব্যক্তি সুস্থ্য হয়ে যায়। ২০ বছর ধরে হাড়ভাঙ্গার কবিরাজি করছি। এই গাছ ভীষন উপকারি। ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগাতে এই গাছটির বিকল্প নেই।
তিনি আরও জানান;দেশের নানা প্রান্ত হতে হাড় ভাঙ্গার রোগিরা আমার কাছে আসে। এই মুল্যবান গাছটি দিয়েই ওষুধ তৈরি করি এবং তাতে রোগিরা ভাল হয়। এ ছাড়াও মেয়েদের অনিয়মিত মাসিকের ক্ষেত্রে কচি হাড়জোড় গাছের চুর্ন,কুচিকুচি করে কেটে,তা রোদে শুকিয়ে অল্প পরিমান চুর্ন পানি দিয়ে দু-বেলা কয়েক দিন খেলে মেয়েদের অনিয়মিত মাসিক সমস্যার সমাধান হয়।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীবজ্ঞিান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; আপনা-আপনি বেড়ে ওঠা মহামুল্যবান গাছটি আর সচরাচর দেখা যায় না। হাড়জোড় নামক মুলবান গাছটিকে সংরক্ষন জরুরি হয়ে পড়েছে। তা না হলে গাছটি একদিন প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা (উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক চন্দ্র রায় জানান; হাড়জোড় গাছটি আর চোখে পড়ে না। মুল্যবান এ গাছটির সংরক্ষন জরুরি। 


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৫ জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

শনিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৭

ভাষা সৈনিক মজিবর রহমান মাস্টারের অন্তিম ইচ্ছা পূরন হবে কি ?

ভাষা সৈনিক মজিবর রহমান মাস্টারের অন্তিম ইচ্ছা পূরন হবে কি ?



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

মজিবর রহমান মাষ্টার(৯৩)। একজন ভাষা সৈনিক,মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক। বাড়ি রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউপির খিয়ারপাড়া গ্রামে। ছাত্রাবস্থা হতে জুলুম নির্যাতন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে পিছ-পা হননি কখনও। ভাষা আন্দোলন হতে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও উপজেলার দরিদ্র মানুষের কথা ভেবে এবং এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষা গ্রহনে বঞ্চিত না হয় পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষিত হয়ে যাতে দেশের জন্য কিছু অবদান রাখতে পারে মুলতঃ এ কারনেই তিনি শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। জীবনের শেষ বেলায় এসে বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটাই তার চাওয়া জীবদ্দশায় যেন তিনি একুশে পদকে ভুষিত হন।
সরেজমিনে উপজেলার কুতুবপুর ইউপির খিয়ারপাড়া গ্রামে তার বাড়িতে গিয়ে কথা হয় ভাষা সৈনিক মুক্তিযোদ্ধা ও অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক মজিবর রহমান মাষ্টারের সাথে,তিনি এই প্রতিবেদককে জানান;     
তার পিতা সিরাজ উদ্দিন ছিলেন এলাকার প্রভাবশালি কৃষক। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে মজিবর রহমান মাস্টার সবার বড়। ১৯৫২ সালে সংগঠিত ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি ছিলেন দশম শ্রেনির ছাত্র। ভাষা আন্দোলনে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার সতীর্থ ছিলেন এলাকার প্রভাবশালি ব্যক্তিত্ব মরহুম ইদ্রিস লোহানি, ইউনুছ লোহানি, মজনু লোহানি, আব্দুল জব্বার সরকার, আবু বক্কর প্রামানিক।
বর্তমানে তার সতীর্থরা আর কেউ বেঁচে নেই। তাদের জীবদ্দশায় কারোরই ভাগ্যে ভাষা সৈনিকের স্বীকৃতিটুকু মেলেনি। তবে তিনি ভাগ্যবান যে, স্থানিয় ভাবে তিনি সেই স্বীকৃতিটুকু পেয়েছেন। কিন্তু সরকার কর্তৃক তার ভাগ্যে এখনো একুশে পদক জোটেনি। এ বিষয় নিয়ে তিনি অবশ্য বিভিন্নভাবে অনেক আবেদন-নিবেদনও করেছেন। কিন্তু তার সেই আশা এখনো পূরণ হয়নি।
ভাষা সৈনিক মজিবর রহমান মাষ্টার ভাষা আন্দোলনের সেইসব ভয়াল দিনের কথা স্মরণ করে জানান; বাংলা ভাষার দাবিতে ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুরু হলে তিনি সহ তার সতীর্থরা মিলে রংপুরের বিভিন্ন হাট-মাঠ-ঘাট-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব স্থানেই যেতেন এবং এলাতার লোকজনকে বাংলা ভাষার পক্ষে নানা ভাবে বোঝাতেন। এ কারনেই ওই সময়ের পাকিস্তান সরকার ইদ্রিস লোহানি ও ইউনুছ লোহানিকে দেশদ্রোহি আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করে। তার পরও তাদের কার্যক্রম বন্ধ থাকেনি। নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে তিনি সহ তার সতীর্থরা যে যেভাবে পেরেছেন বাংলা ভাষার পক্ষে জনমত তৈরি করেছেন। ওই সময়ে বাংলা ভাষার দাবিতে ২১শে ফেব্রুয়ারি তারা স্থানিয় ডাক বাংলো চত্বরে ছাত্র-জনতার সমাবেশ আহবান করেন। শত পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে সেখানে হাজার হাজার লোকের সমাবেশ ঘটে। আর সেই সমাবেশে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে হুলিয়া মাথায় নিয়ে হাজির হন ইদ্রিস লোহানি, ইউনুছ লোহানি, রংপুরের কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের তৎকালিন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শাহ আব্দুল বারি।
এ সময় বদরগঞ্জ থানা পুলিশ কিছু করতে না পারলেও তারা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে জেলা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়ে দেন। পরে রংপুর থেকে দুই প্লাটুন পুলিশ এসে ছাত্র-জনতাকে ঘিরে ফেলে। তবে কৌশলে সবাই পালাতে সক্ষম হলেও ছাত্র ইউনিয়ন নেতা শাহ আব্দুল বারি পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। তাকে শারিরীক নির্যাতন করে জেল-হাজতে পাঠানো হয়। আর অন্যদের নামে জারি হয় হুলিয়া। ৬ মাস পর শাহ আব্দুল বারি জেল-হাজত থেকে মুক্তি পেলেও অন্যরা হুলিয়া মাথায় নিতে আত্মগোপনে চলে যান। পরে বাংলা ভাষার দাবি পাকিস্তান সরকার মেনে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং সে সময়ের দশম শ্রেনির ছাত্র মজিবর রহমান মেট্রিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হন। তিনি এই প্রতিবেদককে প্রশ্ন রেখে বলেন;মাতৃভাষার দাবিতে পৃথিবীর কোন দেশে কি এ রকম আন্দোলন করতে হয়েছে ? তিনি আরও জানান;১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। বর্তমানে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। ছেলে-মেয়েরা বিয়ে করে সংসার করছেন। বাংলাদেশ সরকারের কাছে তার একটাই দাবি- তিনি যেন তার জীবদ্দশায় একুশে পদকে ভুষিত হন। এ সন্মানে ভুষিত হয়ে আমি যেন মরতে পারি।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৪জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 


বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১৭

আমার প্রানপ্রিয় বন্ধুদের যে কথা না জানালেই নয়


আমার প্রানপ্রিয় বন্ধুদের যে কথা না জানালেই নয়



আমার প্রানপ্রিয় সকল বন্ধুদের জানাই শীতের উষ্ণ শুভেচ্ছা। আশা করি তোমরা সবাই ভালো আছো। আমি মনে প্রানে কামনা করি তোমরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকো সূস্থ্য থেকো ভাল থেকো সবসময়।
আমি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মূলতঃ গ্রামের মানুষ। ব্লগে ও ফেসবুকে লেখা পাঠানো আমার এক মাস হলো। আমি কখনই ভাবি নাই যে,আমার মত গ্রামের কলেজ শিক্ষকের লেখা তোমাদের মত উচ্চ শিক্ষিত ও উন্নত রাষ্ট্রের মানুষ তথা আমার বন্ধুরা পড়বে। এ জন্য আমি তোমাদের কাছে কৃতজ্ঞ। বর্তমানে ব্লগ আমার জীবন ফেসবুক আমার প্রান আর দেশ-বিদেশের বন্ধুরা হল আমার নিঃশ্বাস।
নিঃশ্বাস ছাড়া প্রান যেমন অচল তেমনি প্রান ছাড়া জীবনও অচল।
যাক এবার মুল প্রসঙ্গে আসি, ছোট বেলা হতে আমি লেখালেখির সাথে জড়িত। শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হবার পর সাবজেক্টটিভ বিষয়ে পড়াশুনার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয় জানতে ও লিখতে আরও অনুপ্রেরনা যোগায়। মূলতঃ যে কোন বিষয়ে লেখালেখি আমাকে আনন্দ দেয়। সেই হতে আমি প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিকে লেখা পাঠাই মূলতঃ পত্রিকায় কাজ করি। এটা সত্যি যে,কম্পিউটারের অন্যান্য কাজ জানলেও  ব্লগ ও ফেসবুকে আমি একেবারে নবীন। খুব বেশি কিছু জানি না। প্রতিনিয়ত শিখছি। আমার ছোট বেলার প্রানপ্রিয় বন্ধু এবং আমার লেখার নিয়মিত পাঠক ও ভক্ত মাহাফুজ ওয়াহিদ আমাকে এক প্রকার জোর করেই ব্লগ ও ফেসবুকের ব্যবহার শেখায়। এ জন্য আমার বন্ধু আইটি স্যারকে জানাই প্রানঢালা শুভেচ্ছা।
এখন ভাবি, আমার বন্ধু মাহাফুজ ওয়াহিদ যদি আমাকে কম্পিউটারে ব্লগ ও ফেসবুকের ব্যবহার এক সঙ্গে না শেখাতো তা হলে আমি পৃথিবীর অন্যান্য ভাল বন্ধুদের সাথে পরিচিত হতে পারতাম না। এ জন্য মাহাফুজ ওয়াহিদকে জানাই আবারও আমার হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা। সে আমাকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভাল ও প্রকৃত বন্ধুদের সাথে পরিচিত হবার সূযোগ করে দিয়েছে। তা না হলে তোমাদের মত বিখ্যাত আর আমার মত গ্রামের এক অখ্যাত কলেজ শিক্ষকের কোন দিনই পরিচয় হতো না।
আগেও বলেছি ব্লগ ও ফেসবুকে আমার বয়স ১ মাস। ধীরে ধীরে আমি শিখছি। ভুল-ক্রুটি আমার হতে পারে। ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে তোমরা দেখবে,এটাই প্রত্যাশা করি।
বর্তমানে তোমাদের আমি বন্ধু হিসেবে পেয়ে ধন্য ও গর্বিত। আমার মতো অখ্যাত মানুষের লেখা তোমরা পড়ো এবং সময় দাও এ জন্য তোমাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। সত্যিই বলছি,আমি তোমাদের ভীষন ভালবাসি। মৃত্যুর পূর্ব-মূহুর্ত পর্যন্ত যেন আমি তোমাদের ভালবাসতে পারি। এটাই আমার চাওয়া। 
এত কিছু অর্জনের মাঝেও আমার এক বন্ধুর জন্য মন খারাপ হয়,কারন আমার একটুখানি সময় না দেয়ার জন্য আমার ওই ভাল বন্ধুটি আমার সাথে আর যোগাযোগ করে না। আমার ওই বন্ধুর নাম মারিয়েনা ফারাজিকা। ভাকারেনি সিটিতে বাস করে। ওই বন্ধুর উদেশ্যে বলছি,আমি ব্লগ ও ফেসবুকে নতুন। হঠাৎ করে কি লিখতে হবে কি করতে হবে মাঝে মাঝে বুঝতে পারি না ? তাই তোমাদের মুল্যবান সময় যাতে নষ্ট না হয় এ জন্য কেটে দেই নতুবা ধন্যবাদ লিখে শেষ করি। কেউ যদি আমার সাথে এরকম করতো আমারও খারাপ লাগতো,তোমারও খারাপ লাগাটা স্বাভাবিক। এ জন্য তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি। পারলে ক্ষমা কর। আমার কথাগুলো জানার পর হয়তঃ তুমি আমাকে ক্ষমা করবে। আমি তোমাদের সকলেরই ভাল বন্ধু,শুভাকাঙ্খি,আত্মার মানুষ হয়ে মরতে চাই। পৃথিবীর সকল প্রানপ্রিয় বন্ধুদের আমার বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রন জানাচ্ছি। তোমরা আমার দেশ এলে আমি খুব খুশি হব। যে কেউ আমার বাংলাদেশে বেড়াতে আসার আগ্রহ করলে আমাকে যদি আগে জানিয়ে দাও,তাহলে আমি অবশ্যই ঢাকা আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর হতে আমার বাড়িতে নিয়ে আসবো।
তোমাদের সাথে আমার এমন ভাল বন্ধুত্ব দেখে আমার কলেজের প্রিন্সিপাল স্যার বিমলেন্দু সরকার এবং আমার কলেজের শিক্ষার্থীরা ভালবাসা স্বরুপ তোমাদের জন্য দুইটি ছবি তোমাদের দিয়েছে, আমি ছবি দুটি তোমাদের জন্য পাঠালাম।
পৃথিবীর সকল বন্ধুদের আমি আবারও জানাই আমার হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা। তোমরা সবাই ভাল থেকো,সূস্থ্য থেকো সবসময়।


কামরুজ্জামান মুক্তা
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৩ জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪







 

বদরগঞ্জে আলু ক্ষেতে লেইট ব্লাইট রোগের প্রাদুর্ভাব। আলু চাষিরা দিশেহারা

বদরগঞ্জে আলু ক্ষেতে লেইট ব্লাইট রোগের প্রাদুর্ভাব। আলু চাষিরা দিশেহারা  


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

ফাইটোপথোরা ইনফেসটেন্স (Phytopthora infestans) নামক ছত্রাকের আক্রমনে রংপুরের বদরগঞ্জের কিছু কিছু জায়গার আলু ক্ষেতে লেইট ব্লাইট রোগ দেখা দিয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার কারনে কৃষকরা এ রোগ প্রতিরোধ করতে পারছেন না। ফলশ্রুতিতে আলুর উৎপাদন কমে যাওয়া ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়;এ বছর ২৬শত ৫০ হেক্টর জমিতে আলুচাষের লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেয়া হয়েছে। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৫০ হেক্টর বেশি জমিতে আলু চাষ হয়েছে। অর্থাৎ উপজেলায় মোট ২৭শত ৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এসব আলুর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় জাতের শীল বিলেতি, সাদা গুটি, লাল পাকড়ি,ঝাউ-বিলেতি,ইন্দুরকানি প্রভৃতি। এ ছাড়া উচ্চ ফলনশীল(উফশি) জাতের আলুর মধ্যে রয়েছে কার্ডিনাল, ডায়মন্ড, গ্র্যানুলা, ফেনসিলা, ষ্ট্যারিকস, কারেজ, রাজা, কুপরি,সুন্দরি।
কৃষি অফিসের দেয়া তথ্যমতে;স্থানিয় জাতের আলু ১০০-১২০ দিনের মধ্যে ঘরে উঠে। আর উফশি আলু ৭৫-৮৫দিনের মধ্যে চাষিরা ঘরে তুলতে পারেন। সাধারণতঃ অক্টোবর মাসের শেষ হতে মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত স্থানিয় জাতের আলু জমিতে রোপণ করে থাকেন চাষিরা। আর উফশি জাতের আলু রোপণের উৎকৃষ্ট সময় নভেম্বর  হতে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। যে সব কৃষক নির্ধারিত সময়ে আলু রোপণ করেছেন তারা বিপাকে পড়েছেন। কেননা এরই মধ্যে আলু ক্ষেতে দেখা দিয়েছে লেইট ব্লাইট রোগ। শত চেষ্টায়ও এ রোগ নিয়ন্ত্রণে আসছে না। সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে কথা হয় পৌর শহরের ৯নং ওয়ার্ডের মন্ডলপাড়া মহল্লার কৃষক সুলতান আলি(৬০),আঃ মালেক,শামসুল হক সাথে,তারা জানান; আমরা প্রত্যেকেই ১ একর করে জমিতে আলু চাষ করেছি,আলুতে হঠাৎ লেটব্লাইট রোগ আসাতে আমরা নিরুপায় হয়ে মাঠ কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে জমিতে ওষুধ স্প্রে করেও কিছুই হচ্ছে না বরং দিনের পর দিন আলু ক্ষেত নষ্ট হচ্ছে। অনেক টাকা খরচ করে আমরা আলু লাগিয়েছিলাম আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের সংসার কিভাবে চলবে এ নিয়ে আমরা খুব চিন্তায় আছি।
বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউপির মধ্যপাড়া গ্রামের কৃষক দুলাল মিয়া(৫০) ও হক সাহেব(৫৫)জানান; আমরা কমপক্ষে ৪ একর জমিতে আলু চাষ করেছি লেট ব্লাইটের কারনে আমাদের জমির আলু ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এখন কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। তারা আরও জানান;বাজারে ওষুধ কিনতে গেলে দোকানদাররা ওষুধের চড়া দাম ধরে ঠিকই কিন্তু কোন ওষুধটি ফানজিসাইড কোনটি হরমোন কোনটি ভিটামিন তা না ভেবে সবকিছুতেই ভিটামিন বলে চালিয়ে দেয়। আমরা অব্যশই কৃষি বিভাগের বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানাচ্ছি।কৃষকরা আরও জানিয়েছেন; এ অবস্থা চলতে থাকলে আলুর উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং আলুর উৎপাদন খরচও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; প্রথমে গাছের পাতা আক্রান্ত হয়ে পাতাগুলো বিবর্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে আলু গাছ মরে যায়। উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। এ কারনে কৃষকদের অবশ্যই আলু বীজ রোগাক্রান্ত কিনা তা দেখে জমিতে রোপন করতে হবে। আলু চাষিরাও যদি বীজ সংরক্ষন করেন তবে অবশ্যই কমপক্ষে এক মাস হালকা রোদে বীজের জন্য ব্যবহৃত আলুগুলিকে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। নতুবা আলু বীজ হিমাগারে সংরক্ষন করতে হবে। তা হলে আলুর রোগ হবার সম্ভাবনা কমে যাবে। তিনি আরও জানান; বর্তমানে যেহেতু আলু ক্ষেতের অল্প জমিতে  লেটব্লাইট রোগ দেখা দিয়েছে কৃষি বিভাগের উচিত দ্রুত কৃষকদের সহযোগিতা করা। যাতে মহামারি আকারে রোগটি না ছড়ায়।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা (উদ্ভিদ সংরক্ষন) কনক চন্দ্র রায় জানান;কিছু জমিতে লেইট ব্লাইট রোগ  দেখা দিয়েছিল তবে তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবর রহমান মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে জানান; ;লেইট ব্লাইট একটি ছত্রাক জনিত রোগ। আবহাওয়ার তারতম্য,কুয়াশা ও ঠান্ডার কারনে লেইট ব্লাইট রোগ দেখা দিচ্ছে। উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা ১০টি টিমে বিভক্ত হয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। কিছু জমিতে লেইট ব্লাইট রোগ দেখা দিলেও বর্তমানে তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১২জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

মঙ্গলবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৭

বদরগঞ্জের জগাই কুন্ডু জিরো থেকে হিরো

বদরগঞ্জের জগাই কুন্ডু
জিরো থেকে হিরো


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

জগাই কুুন্ডু(৬৫)। পেশায় দই বিক্রেতা। শুধু মাত্র দুধ দিয়ে তৈরি ছানা আর দই বিক্রি করেই তিনি কোটিপতি। জগাই কুন্ডুর পিতা দরিদ্রু হারান কুন্ডু পাবনা জেলা হতে ৫ ছেলে ২ মেয়ে নিয়ে স্ব-পরিবারে রংপুর বদরগঞ্জের সি.ও রোডে আসেন। ছোট একটি কুড়েঁ ঘর তৈরি করে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন। ওই সময় পরিবারের ভরন-পোষন নিয়ে দরিদ্র নিঃস্ব হারান কুন্ডু পড়ে যান বিপাকে। কি ভাবে তার এত বড় সংসার চলবে,এ নিয়ে তার চিন্তার অন্ত ছিল না। সংসারের এ অবস্থা দেখে পিতাকে সহয়োগিতা করতে জগাই কুন্ডুর ৪ ভাই অন্যের মিষ্টির দোকানে কাজে লেগে যান। এ ভাবেই শুরু। ধীরে ধীরে জগাই কুন্ডুর অন্যান্য ভাইয়েরা বদরগঞ্জে ছোট ছোট মিষ্টির দোকান দেয়। হারান কুন্ডুর ছোট ছেলে জগাই কুন্ডু একটু ডানপিটে ও কাজে অমনোযোগি হওয়ার কারনে তাকে নিয়ে তার পিতা-মাতার টেনশনের অন্ত ছিল না। এ দিকে জুরান কুন্ডুর অন্যান্য ভাইরা মিষ্টির ব্যবসায় এগিয়ে যেতে থাকে। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে অনেকটা জোর করেই পিতা হারান কুন্ডু ছেলেকে দুধ দিয়ে তৈরি ছানা আর দই তৈরির কাজে লাগিয়ে দেন। জুরান কুন্ডু প্রথমে তার ভাইদের দোকানে তার তৈরি ছানা ও দই সরবরাহ করতো। ব্যবসায় লাভ হতে থাকলে পরে সে গোটা উপজেলায় সরবরাহ করতে থাকে। কুন্ডু বর্তমানে তার দই ও ছানা গোটা রংপুর জেলায় সরবরাহ করছে। এছাড়াও বিভিন্ন জেলা হতে পাইকাররা এসে তার দই ও ছানা নিয়ে যায়। শুধু মাত্র দই ও ছানা বিক্রি করেই তিনি হয়েছেন কোটিপতি।
সরেজমিনে বদরগঞ্জ পৌর শহরের সিও রোড মহল্লার তার বাড়ি সংলগ্ন দই ও ছানা তৈরির কারখানায় গিয়ে কথা হয় জগাই কুন্ডুর সাথে,তার সফলতার কথা প্রথমে জানাতে না চাইলেও পরে তিনি জানান; জীবনে খুব কষ্ট করেছি। তাই আজ এ পর্যায়ে আসতে পেরেছি। আমার এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলে ডিগ্রি পাশ করে আমার ব্যবসায় সহযোগিতা করে। মেয়ে রংপুরের কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অর্নাসে পড়ে। তিনি আরও জানান; দক্ষ কারিগর ছাড়া ভাল দই কেউ তৈরি করতে পারবে না। তবে এখন ভালো লাগে পরিশ্রম করে ব্যবসায় সফল হয়েছি। আরও ভালো লাগে আমার কারখানায় অনেক লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরেছি। বর্তমান সময়ের ছেলেদের বলবো অহেতুক সময় নষ্ট না করে নিজ নিজ কাজে মনোযোগি হলে সফলতা একদিন আসবেই।
কারখানায় গিয়ে কথা হয় দিনাজপুর জেলা হতে দই নিতে আসা পাইকাড় অমল রায়ের সাথে,তিনি জানান;জুরান কাকার দই অত্যন্ত ভালো ও মানসন্মত। আমি একটু কম দামে দই কিনে দিনাজপুরে বিক্রি করি। তাতে আমারও ভালো রোজগার হয়। 
পৌর শহরের সি.ও রোড মহল্লার বাসিন্দা ও বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; তার দই এতটাই মজাদার যে একবার খেলে বার বার খেতে ইচ্ছে করে। তার মত পরিশ্রমি মানুষ আমি কম দেখেছি। পরিশ্রম করেই তিনি এত দুর এগিয়েছেন। 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১১জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



আর্থিক সংকটে বন্ধের দ্বারপ্রান্তে দেশের একমাত্র ফাইলেরিয়া হাসপাতালটি



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


দরিদ্র এক কৃষকের নাম আব্দুল জব্বার(৬৫)। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপির বাতাসন গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে ফালোরিয়া বা গোদ রোগে ভুগছেন। প্রথম দিকে তিনি ডাক্তারের পরামর্শ না নিলেও বর্তমানে ফুলে যাওয়া পায়ের জন্য ব্যথা অনুভব করছেন। মাঝে মাঝে তার তীব্র কাপুনি দিয়ে জ্বর আসে,আবার সেরেও যায়। পায়ের নীচের অংশ অস্বাভাবিক রকমের ফুলে গেছে। বাধ্য হয়ে ডাক্তারের পরামর্শে নীলফামারি জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় অবস্থিত ফাইলোরিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে বাংলাদেশের একমাত্র ফাইলেরিয়া হাসপাতাল এটি।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এ রোগের প্রকোপ বেশি। উত্তরাঞ্চলের এ জেলাগুলিতে দরিদ্র জনগোষ্টির সংখ্যা বেশি। এ অঞ্চলের লোকজনের জীবনযাপনের মানও নি¤œমুখি।
চিকিৎসক ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে;এ অঞ্চলের দরিদ্র মানূষরা ঘুমের সময় মশারির ব্যবহার কম করে এজন্য তারা কিউলেক্স নামক মশা দ্বারা আক্রান্ত হয় ও  খেসারি নামক ডাল সস্তা হবার কারনে কম তাপে তা সিদ্ধ করে খায়। ফলশ্রুতিতে একদিকে ঘুমের সময় মশারির ব্যবহার কম করার কারনে  কিউলেক্স দ্বারা আক্রান্ত হয় অন্যদিকে খেসারির ডালে ল্যাথাইরাস নামক এক ধরনের উপাদান থাকে যা কম তাপে নষ্ট হয় না এ ডাল জাতীয় শষ্যটি কম তাপে দীর্ঘদিন খেলে ফাইলোরিয়া হবার স¤া¢বনা থাকে। 
মোয়াজ্জেম হোসেন নামক এক চিকিৎসক চাকুরি করার সুবাদে সৈয়দপুরে আসেন এবং এখানেই চাকুরিতে অবসর গ্রহন করেন। দারিদ্রপীড়িত এ অঞ্চলে গোদ রোগের প্রকোপ বেশি দেখে নিজ উদ্যোগে ২০০২ সালে শহরের ধলাগাছ এলাকায় ফাইলোরিয়া হাসপাতালটি প্রতিষ্টা করেন। 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়;বর্তমানে ফাইলোরিয়া হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ ও আর্থিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ অঞ্চলের ফাইলেরিয়া রোগীর একমাত্র আবাসস্থল এই হাসপাতালটি চলছে  নিভু নিভু অবস্থায়। তারপরও দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে আসা রোগিরা প্রতিনিয়ত  চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়ে উঠছেন। 
হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়; ফাইলোরিয়ার(গোদ) জটিল রোগিদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য রয়েছে ৬টি বেড। ভিআইপি কেবিন রয়েছে ৪টি। জরুরি রোগিদের বহনের জন্য রয়েছে ২টি এ্যাম্বুলেন্স,আধুনিক অবকাঠামো। নেই শুধু পর্যাপ্ত অর্থ, চিকিৎসক,নার্স ও ওষুধ।  এ কারনে এ অঞ্চলের ফাইলোরিয়ায় আক্রান্ত জনগোষ্টি চিকিৎসা সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছে।
পূর্বে এই হাসপাতালের রোগিদের জন্য সরকারিভাবে ওষুধ  বরাদ্দ দেয়া হতো। তখন চিকিৎসা সেবা দিতেন সরকারি চিকিৎসক ও নার্সরা। ওই সময় এই হাসপাতালে কর্মরত সকলের  বেতন ভাতাও পরিশোধ করা হত। । গত ২০১১ সাল হতে বন্ধ হয়ে যায় সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা। বর্তমানে হাসপাতালের আয় বলতে রোগি ভর্তি ফি, বেড ভাড়া, এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া, প্রতিদিন রোগিদের টিকিট বিক্রির টাকা। এতে হাসপাতালটির প্রতি মাসে গড়ে আয় হয় ৮০ হাজার হতে ১ লাখ টাকা। এ দিকে হাসপাতালটিতে ১৮ জন কর্মকর্তা কর্মচারির বেতন ও ওষুধ ক্রয়  বাবদ প্রতিমাসে হাসপাতালটির ব্যয় হয় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। প্রতি মাসে ঘাটতি কমপক্ষে ৮০ হাজার টাকা। ফাইলোরিয়া হাসপাতালটি প্রকৃত অর্থে সেবা দিতে চাইলে এখনও প্রয়োজন দুই জন ডাক্তার ও চারজন নার্স।
কথা হয় নীলফামারি জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার ফাইলোরিয়ায় আক্রান্ত রোগি আব্দুল গফুরের(৬৫) সাথে তিনি জানান; এখানে চিকিৎসা করে আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি। পূর্বে পায়ের অসহ্য যন্ত্রনায় দূর্বিসহ জীবন-যাপন করছিলাম।
ফাইলোরিয়া হাসপাতালের কর্মরত আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ রায়হান তারেক জানান;বৃহত্তর রংপুর বিভাগ হলো ফাইলেরিয়া জোন। চিকিৎসা নিলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ফাইলেরিয়া হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ছুরুত আলি বাবু জানান;আর্থিক সংকটে যে কোন মুহুর্তে এ হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তিনি হাসপাতলটির ব্যাপারে সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১০জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



রবিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৭

বদরগঞ্জে চলছে ইরি-বোরো আবাদের মহোৎসব

প্রচন্ড শীতকে উপেক্ষা করে
বদরগঞ্জে চলছে ইরি-বোরো আবাদের মহোৎসব

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জে প্রচন্ড শীতকে উপেক্ষা করে বিস্তৃীর্ন অঞ্চল জুড়ে চলছে ইরি-বোরো আবাদের মহোৎসব। বর্তমানে উৎসব মূখর পরিবেশে বদরগঞ্জের কৃষকরা ইরি-বোরো ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গ্রাম বাংলার চিরাচরিত  এ দৃশ্য বিস্তৃীর্ন মাঠ জুড়ে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। কিছুদিন পরেই কাদা মাটির বিস্তৃীর্ন ভূমি ভরে যাবে সবুজের সমারোহে। তৈরি হবে এক অভূতপূর্ব চিত্র।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়; চলতি বছর বদরগঞ্জ উপজেলায় ১৭হাজার ৩শত ৫০হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় সেচ সুবিধা রয়েছে সেসব এলাকায় বোরো চারা রোপণের কাজ কৃষকরা শুরু করেছেন।
কৃষি অফিস সূত্রে আরও জানা যায়; সাধারণতঃ বছরের জানুয়ারি থেকে মধ্য ফেব্রুয়ারি হল ইরি-বোরো রোপণের উপযুক্ত সময়। তবে যেসব জমিতে সরিষা বা আলু রয়েছে সেসব জমিতে পুরো ফেব্রুয়ারি জুড়েই বোরো চারা রোপণ করা যাবে। এবারে আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকুলে থাকায় ও কৃষক সচেতনতার কারণে ইরি-বোরো বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ না হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে ইরি-বোরো চাষ হবে বলে কৃষি অফিস আশা করছে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল জাতের মধ্যে  বিআর-১৬, ব্রি-ধান-২৮, ব্রি-ধান-২৯, ব্রি-ধান-৫০(বাংলামতি সূগন্ধি), ব্রি-ধান-৩৬ ৫৮,৬২ এবং বিভিন্ন জাতের হাইব্রিড ধানের মধ্যে তেজ,তেজগোল্ড,সম্পদ,শক্তি-২,নাফকো-১০৮,আফতাব এলপি-১০৮,সুপার হাইব্রিড এসএল-৮,হিরা-২,হিরা-৫  জাতের ধান চাষ করে থাকেন।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে;কৃষকরা মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ জমিতে চাষ দিচ্ছেন,কেউবা জমিতে জৈব সার প্রয়োগ করছেন। আবার যেসব জমিতে সেচনালা নষ্ট হয়েছে সে সব জমির সেচ নালা কৃষকরা ঠিক করছেন।
কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউপির কিসমত ঘাটাবিল এলাকার কৃষক মামুন মিয়া ও এমারুল হকের সাথে,তারা জানান; জমির সেচনালা নষ্ট হওয়ায় ঠিক করছি, সেচনালা ঠিক হওয়ার সাথে সাথেই জমিতে চারা রোপণ করা হবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবর রহমান জানান; ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যে পরিমাণ সার প্রয়োজন তা পুরোপুরি মজুদ রয়েছে। তাছাড়া কেউ যাতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য নিয়ে সার বিক্রি করতে না পারে সেজন্য সব সময় বাজার মনিটরিং চলছে। তিনি আরও জানান;যে পরিমাণ চারা প্রয়োজন তার চেয়ে অনেক বেশি চারা কৃষকরা উৎপাদন করেছেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৯জানুয়ারি/১৭
মোবাইল- ০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কবিতা-জনদরদী





“আমি ভাই জনদরদী
                 ফেলেছি জাল রাশি রাশি,
কারন সামনে ইলেকশান
                 পেতে হবে সিলেকশন।
আমি ভাই জনদরদী
৭১’ এ করেছি লুন্ঠন
                লুটেছি শত মা বোনের ইজ্জত সম্ভ্রম,
হয়েছি এখন সওদাগর(ধনী)
                সময় নেই পিছু তাকাবার।
আমি ভাই জনদরদী
একবার জিততে পারলে নির্বাচন
                জনগন বুঝবে আমার আচরন,
জনগনের রক্ত চুষে
               হাড়-হাড্ডিসহ পিষে পিষে,
খাবো আমি চপ বানিয়ে
তবেই না আমি জনদরদী।”



কামরুজ্জামান মুক্তা
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৯জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



শনিবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৭

দগদগে ক্ষত নিয়ে ঠাঁয় দাড়িয়ে আছে বদরগঞ্জের ঝাড়–য়ারবিল পদ্মপুকুর স্মৃতিসৌধ

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বদরগঞ্জ উপজেলা সদর হতে দক্ষিন-পশ্চিম কোনে ছোট দুটি বিল(বড় পুকুর)। নাম ঝাড়–য়ার বিল ও পদ্মপুকুর। এ বিল দুটিতে এক সময় এতটাই পদ্ম ফুল ফুটতো এ কারনে এলাকার মানূষ এ বিলের নামকরন করেন পদ্মপুকুর। দৃষ্টিনন্দন বিল দুটিতে এলাকার লোকজন বিকেলে পায়চারি সহ গোসল করতেন। এই দৃষ্টিনন্দন বিল দুটিতেই ঘটে গেল ইতিহাসের জঘন্যতম বর্বরতা। মহান মুক্তিযুদ্ধের এই সময়টাতে আশে পাশের এলাকার অসহায় নিরীহ বাঙ্গালীদের একত্রিত করে এই বিল দুটির উপর জড়ো করে চালায় নিষ্টুর নির্যাতন। নির্যাতন চালিয়ে তারা ক্ষান্ত হননি। তারা নিরস্ত্র বাঙ্গালীদের পাখির মত গুলি করে মেরে এই বিল দুটিতে ফেলে দেয়।
জানা যায়;১৭ এপ্রিল ১৯৭১। এ দিন পাক হানাদাররা দু’টি ট্রেনে চড়ে রামনাথপুর ইউনিয়নের বালাপাড়া ও কিসমত ঘাটাবিল এলাকার ঝাকুয়াপাড়া গ্রাম সংলগ্ন স্থানে আসে। পাকহানাদাররা রামনাথপুর ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ব্যাপক এলাকা ঘিরে ফেলে বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। এ সময় যারা বেঁচে যান তারা প্রাণভয়ে আশ্রয় নেন ঝাড়–য়ারবিল-পদ্মপুকুর পাড়ে। কিন্তু রাজাকাররা ঝাড়–য়ারবিল-পদ্মপুকুর পাড়ে সাধারণ মানুষের আশ্রয় নেয়ার বিষয়টি টের পেয়ে পাক হানাদারদের জানালে ওই এলাকা ঘিরে ফেলা হয় এবং প্রাণভয়ে লুকিয়ে থাকা মুক্তিকামি নিরীহ বাঙ্গালীকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে পাখির মত গুলি করে হত্যা করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধা ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতাদের দেয়া তথ্য মতে; সেদিন ওই ঝাড়–য়ারবিল ও পদ্মপুকুর বিলের পাড়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করে পাকহানাদাররা।
সে দিনের সেই হত্যাযজ্ঞের স্মৃতি আজো ভুলতে পারেননি রামনাথপুর ইউনিয়নের লোকজন।
কথা হয় প্রত্যক্ষদর্শি রামকৃষ্ণপুর মাষাণডোবার এলাকার আফজাল হোসেনের সাথে, তিনি জানান; সে সময় আমি বয়সে তরুন ছিলাম। ঝাড়–য়ারবিল-পদ্মপুকুরে হত্যাযজ্ঞ চালানোর পর পাকহানাদাররা বাঁশঝাড়, ফসলের ক্ষেত সবখানে চিরুনি অভিযান চালায়। আমি বাবার সাথে সেদিন বাঁশঝাড়ে লুকিয়েছিলাম। তাদের হাতে অন্যদের সাথে আমিও ধরা পড়ি। সে দিন হয়তো ভাগ্য ভালো ছিল বলেই বেঁচে গেছি। কারণ পাক হানাদাররা রেললাইনের ধারে যুবক, নারী ও বৃদ্ধদের জন্য তিনটি সারি করলে চাদর গায়ে দিয়ে আমি বৃদ্ধের সারিতে দাঁড়াই। পাকবাহিনীর সদস্যরা ওই তিন সারির মধ্যে শুধু যুবকদের ধরে নিয়ে ট্রেনে চড়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়। তাদের ভাগ্যে সেদিন কি ঘটেছে তা আজো জানতে পারিনি।’
বধ্যভূমি সংরক্ষন কমিটির সভাপতি ও সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মেছের উদ্দিন বলেন, ‘পাকসেনারা বাড়িঘরে আগুন দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে সেদিন ঝাড়–য়ারবিল-পদ্মপুকুর পাড়ে ১২শ’ লোককে হত্যা করা হয়।
সরেজমিন এলাকা পরিদর্শনকালে জানা যায়;রামনাথপুর ইউনিয়নের কিসমত ঘাটাবিল, ঘাটাবিল, রামকৃষ্ণপুর, খালিশা হাজীপুর, খোর্দ্দবাগবাড়, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের সরদারপাড়া, বুজরুক হাজিপুর, বুজরুক বাগবাড়ের এমন কোন পাড়া বা বাড়ি নেই যে পাড়ার বা বাড়ির মানুষ সে দিন পাক বাহিনীর হাতে নির্মম হত্যার শিকার হননি। সে দিনের সেই ভয়াল স্মৃতিকে ধারণ করে ও শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে প্রতিবছর বদরগঞ্জের লোকজন ১৭ এপ্রিলকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করেন। ইতোমধ্যে ঝাড়–য়ার বিল পদ্মপুকুর বধ্যভুমি “স্মৃতিসৌধ” নির্মাণ করা হয়েছে।
এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ঝাড়–য়ার বিল পদ্মপুকুর স্মুতিসৌধ যাওয়ার রাস্তাটি পাকা করা হোক তাহলে স্বাধীনতা পরবর্তী লোকজনরা সহজেই যেতে পারবে এবং জানতে পারবে স্বাধীনতার জন্য তাদের পূর্বপুরুষদের কি মূল্য দিতে হয়েছে। মানুষের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক রাস্তা পাকাকরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান; ঝাড়–য়ার বিল পদ্মপুকুর যাওয়ার রাস্তা পাকা করনের কাজ দ্রুত শুরু হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৮জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
 



শুক্রবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৭

গরীবের সুপার সেলুন

আমরা মানুষকে সুন্দর করি কিন্তু আমাদের জীবন সুন্দর নয়
গরীবের সুপার সেলুন


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


রাস্তার ধারে চট বিছিয়ে ক্ষুর কাঁচি আর পিড়ি নিয়ে বসে আছেন এক বৃদ্ধ। তার নাম শশী মোহন শীল(৭০)। পেশায় নাপিত। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির আমরুলবাড়ির মোস্তাফাপুর গ্রামে। জমি জমাহীন সম্বলহীন মানূষটি এ কাজ করছেন পাকিস্তান আমল হতে। অনেক কষ্টে বাপ-দাদার পেশাটিকে তিনি আঁকড়ে ধরে আছেন। তার  ৩ ছেলে এক মেয়ে। সবার বিয়ে হয়ে গেছে। সন্তানরা তাদের নিজ নিজ সংসার নিয়ে ব্যস্ত। বয়সের ভারে ন্যুইয়ে পড়া এই বৃদ্ধ মানুষটি জীবনের তাগিদে নাপিতের কাজ করছেন।বৃদ্ধ নর সুন্দর শশী মোহন শীল জানান; জমি-জমা কিছুই নেই আমার। বৃদ্ধ বয়সে কোন কাজও করতে পারি না। তাই এই বয়সেও নরসুন্দরের কাজ করে যাচ্ছি। রাস্তার ধারে ঝড় বৃষ্টি অতিক্রম করে কোন রকমে এ পেশাটিকে ধরে রেখেছি। কষ্ট হয় সস্তানরাও দেখে না পৌরসভা কর্তৃপক্ষও দেখে না। পৌরসভা হতে যদি কোন ঘর বরাদ্দ করে দিত তাহলে এই বৃদ্ধ বয়সে কাজ করে শান্তি পেতাম। তিনি আরও জানান;গরীব মানুষরা আমার এখানে এসে চুল দাড়ি কামায়। চুল কাটা ১০ টাকা আর দাড়ি কামানো ৫ টাকা। আর কেউ যদি চুল-দাড়ি একসঙ্গেঁ কাটে তবে ৩ টাকা কম নেই। বদরগঞ্জ উপজেলায় যত নরসুন্দর আছেন তারা আমাদেরই বংশধর।
কথা হয় অপর নরসুন্দর কালি পদ(৬৫)সাথে,তার বাড়ি উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউপির হাজিপুর গ্রামে। তিনি জানান;রোদ বৃষ্টি ঝড় মাথায় নিয়ে আমরা রাস্তার ধারে বসে চুল দাড়ি কাটার কাজ করি। যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চলে। আমরা রাস্তার ধারে বসা নরসুন্দররা শুধু মাত্র ২দিন অর্থ্যাৎ বদরগঞ্জের হাটবারে কাজ করি। বাকি দিন অন্যের বাড়িতে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করি। বাপ-দাদার পেশা ছাড়তেও পারি না। তবে আমাদের দিকে কেউ তাকায় না। পুঁজি থাকলে কি আমরা রাস্তার ধারে বসতাম ?
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন অপর নরসুন্দর নির্মল বিশ্বাস(৬৩)। বাড়ি উপজেলার মধুপুর ইউপির রাজারামপুর গ্রামে। তিনি জানান;হতদরিদ্র গরীব লোকজনরাই আমাদের কাষ্টমার। সারাদিন কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে চলে আমার সংসার। তিনি আরও জানান;আমরা মানুষকে সুন্দর করি কিন্তু আমাদের জীবন সুন্দর নয়। অনেক কষ্টে চলে আমাদের জীবন। এভাবে কি বেঁচে থাকা যায় !
একে একে নরসুন্দর লাল মিয়া((৬৫),মেনহাজুল হক(৪৫),সাজ্জাদ আলি(২৮) এই প্রতিবেদককে জানান;ভাই আমরা রাস্তার ধারে খুব কষ্টের মধ্যে দিয়ে কাজ করি। এমনভাবে লিখে দেন পৌরসভা কর্তৃপক্ষ যেন আমাদের জন্য কিছু একটা করে।
বদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র উত্তম সাহা জানান;বিষয়টি আমি অবগত আছি। জমি পাওয়া মাত্র রাস্তার ধারে বসা ভ্রাম্যমান নরসুন্দরদের পুর্নবাসন করা হবে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৭ জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪








     


বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৭

সন্তোষের দারিদ্র জয়ের গল্প

সন্তোষের দারিদ্র জয়ের গল্প


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

সন্তোষ গোস্বামি। শিক্ষিত এক বেকার যুবকের নাম। বাড়ি রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির গুদামপাড়া গ্রামে। দরিদ্র কৃষক পিতার সন্তান সন্তোষ অদম্য ইচ্ছা শক্তির উপর ভর করে টিউশনি(প্রাইভেট)করে ব্যবস্থাপনা বিভাগে এম কম পাশ করেছেন। এম কম পাশের পর ভেবে পারছিলেন না কিভাবে দরিদ্র পিতাকে সাহায্য করা যায়। এরই মধ্যে চাকুরির জন্য অনেক জায়গায় দরখাস্ত করেও কোন ফল হয়নি। অনেক সময় কেউ চাকুরি দিতে চাইলেও তারা চান নগদ অর্থ। যা সন্তোষের দরিদ্র কৃষক পিতার সামর্থ্যের মধ্যে ছিল না। প্রতিবেশির পরামর্শে সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে বাধ্য হয়েই যমুনেশ্বরি নদীর তীরবর্তী অন্যের পরিত্যক্ত জমিতে চুক্তির মাধ্যমে কলা চাষের সিন্ধান্ত নেন। এই কলা চাষই তার জীবনে নিয়ে আসে সাফল্য। কলা চাষ করে বর্তমানে তিনি স্বাবলম্বি। এখন বাড়ি গাড়ি সবই হয়েছে তার।
সরেজমিনে তার কলা বাগানে গিয়ে কথা হয় সফল কলা চাষি সন্তোষের সাথে,তিনি জানান;এক সময় সংসারের খরচ ও আমার লেখাপড়ার খরচ যোগানো আমার দরিদ্র পিতার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই আমি স্কুল হতে শুরু করে এম কম পাশ করা পর্যন্ত টিউশনি করেই লেখাপড়া করেছি। লেখাপড়া শেষ করে চাকুরির পিছনে ছুটতে ছুটতে যখন আমি ক্লান্ত তখন আমার এক প্রতিবেশি আমাকে পরামর্শ দেন কলা চাষ করার জন্য। এ ভাবেই শুরু। আমি এখন বুঝে গেছি কি ভাবে দারিদ্রকে জয় করতে হয়। তিনি জানান;চাকুরি হয়নি এতে আমার কোন আক্ষেপ নেই। আমার এই ভেবে ভাল লাগে যে,আমি এখন স্বাবলম্বি। আমার কলা বাগানে ৫০জন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরেছি। 
তিনি জানান;২০০০সালে শুরু। প্রথমে তিনি এলাকার এক কৃষকের ৩০ শতক অনাবাদি জমি চুক্তি করে কলা চাষ করি। ফসল তুলতে সময় লাগে ১৫ মাস। তার জমির ভাড়া, চাষাবাদ সহ মোট খরচ হয় ১২ হাজার টাকা। কলা বিক্রি করি ১৯ হাজার টাকায়। এতে  লাভ হয় ৭ হাজার টাকা। এই লাভের আনন্দই আমাকে কলা চাষি হতে সাহায্য করে।তিনি এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলার ফাঁকেও কলা গাছের পরিচর্যা করছেন। লক্ষ্য করলাম গাছে গাছে পরিপুষ্ট কলার অসংখ্য পিঁড় ঝুলছে।
সন্তোষ গোস্বামি আরও জানান;মাষ্টার্স করে যে শুধু চাকুরি করতে হবে এটা মোটেও ঠিক নয়। গত ১৬ বছর থেকে কলা চাষ করছি। ইচ্ছা আগ্রহ ও ধৈর্য্য থাকলে যে কোন মানুষ দারিদ্রকে জয় করে সফলতার দ্বারপ্রান্তে যেতে পারে আমি তার বাস্তব প্রমান।  চলতি বছর আমি ৪ একর জমিতে ৪ হাজার ২০০ মোহন ভোগ (মালভোগ) কলার চারা লাগিয়েছি। এখন ফল(কলা) কাটার কাজ চলছে। ওই কলা চাষে ১৫ মাসে জমির ভাড়া সহ আমার খরচ হয়েছে ৫২ হাজার টাকা।
কলা বাবদ কলার পাইকাড়ি বিক্রেতাদের কাছে অগ্রিম নিয়েছি ২লাখ ৫০ হাজার টাকা। অবশ্য হিসেব অনুযায়ি তাদের কাছে আরও টাকা পাবো। আশা করছি খরচ বাদে আমার লাভ হবে কমপক্ষে ২লাখ টাকা।
দামোদর ইউপির সম্ভ্রান্ত কৃষক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বাবু নলিনী সরকার জানান;দরিদ্র ঘরের শিক্ষিত সন্তান সন্তোষ গোস্বামি। সন্তোষের মত বাংলাদেশের শিক্ষিত বেকাররা যদি চাকুরির পিছনে না ঘুরে মনে প্রানে কোন কাজকে বেঁচে নেয় তাহলে নিজে যেমন স্বাবলম্বি হবে,অন্যদিকে দেশ এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধির দিকে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; কলা লাভ জনক ফসল। পতিত জমি চাষের উপযোগি করে অনেকে কলা চাষ করে সাবলম্বি হয়েছেন।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৬ জানুয়ারি/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


বুধবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৭

একটি নদীর কান্না

একটি নদীর কান্না


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

নদীর নাম যমুনেশ্বরি। কেউ কেউ বলে গড়ডাঙ্গি নদী । যুগ যুগ ধরে নদীটি ভিন্ন ভিন্ন নামে পরম মমতায় আবদ্ধ করে রেখেছে বদরগঞ্জ উপজেলার মানুষকে। ধরিত্রির পেট চিঁড়ে বয়ে চলা প্রমত্ত যমুনেশ্বরির সেই যৌবন আর নেই । পাল তোলা নৌকা আর জেলেদের জারি-সারি  গান এ যেন সূদূর অতীত।
বর্তমানে বার্ধ্যক্ষের ভারে ন্যুইয়ে পড়েছে যৌবন হারানো সেই যমুনেম্বরি নদী। নদী দখল,ড্রেজিং ব্যবস্থা না থাকা বা অব্যবস্থাপনা,ময়লা আর্বজনাসহ বর্জ্যরে স্তুপে পুর্ণ যমুনেশ্বরির যেন ত্রাহি-ত্রাহি অবস্থা।
সরেজমিনে সকালে যমুনেশ্বরি নদী পরিদর্শনে গিয়ে এমনই চিত্র চোখে পড়ে। পৌর শহরের কেন্দ্রস্থলে শাহাপুর ব্রীজ। ব্রীজের নীচেই ময়লা-আর্বজনার ভাগাড়। পৌরসভার ময়লা-আর্বজনার গাড়ি এসে অবলীলায় ফেলছে এর ভিতর দিয়ে চলা যমুনেশ্বরি নদীতে। বর্ষা মৌসুমে ময়লা আর্বজনার এই ভাগাড় নদী ভরাট সহ শাহাপুর ব্রীজ হুমকির মুখে পড়বে তা নি:সন্দেহে বলা যায়। দূর্গন্ধযুক্ত ময়লা আর্বজনায় শিক্ষার্থী,মসজিদের মুসুল্লি সহ এলাকার সাধারন মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।
কথা হয় ; ব্রীজ দিয়ে চলাচল করা স্কুল শিক্ষার্থী মাহি (১০) ও মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্খী আয়েশা সিদ্দিকা(১৬) সাথে,তারা জানান; দূর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করা যায় না। ময়লা ফেলতে ফেলতে নদী বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আর্বজনার গন্ধে চলাফেরা করা দায়।
পৌরশহরের শাহাপুর এলাকার বাসিন্দা ও বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারন সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা জানান; একদিকে ময়লা আর্বজনার দূগর্ন্ধে এলাকার পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে নদীতে ময়লা আর্বজনা ফেলে নদী ভরাট সহ জীববৈচিত্রের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।  
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান;নদীর ময়লা আর্বজনা পরিস্কার,নদী সংস্কার করে নদীর হারোনো যৌবন যদি ফেরানো যায় তাহলে নদী যেমন তার প্রকৃত রুপ ফিরে পাবে অন্যদিকে রক্ষা পাবে জীববৈচিত্র। এর পাশাপাশি নদীর দু-পাড়ে দেশিয় বনজ ও ফলজ বৃক্ষ রোপন করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা সহ নদীর দু-পাড়ে মানুষের বসার ব্যবস্থা করা যায় তাহলে পৌরসভার ভ্রমন পিপাসু মানুষ সহ সকলের উপকার হবে। যমুনেশ্বরি নদীও বেঁচে থাকবে।
বদরগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর নীলকান্ত পাইকাড় জানান ; পৌরসভার উচিত নদীতে ময়লা আর্বজনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা।
বদরগঞ্জ পৌর মেয়র উত্তম কুমার সাহা জানান ; আমি নির্দেশ দিয়েছি নদীতে ময়লা- আর্বজনা না ফেলার জন্য। আগে যদি নদীতে কিছু আর্বজনা পড়েও থাকে আর নতুন করে কোন আর্বজনা নদীতে পড়বে না।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৫ জানুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...