প্রচন্ড তাপদাহ,বর্ষা কিংবা বৃষ্টির আগমনি বার্তা পেলেই রাস্তার ধারে কিংবা দোকানঘরের এক পাশে চট বিছিয়ে সুঁই-সূতা হাতে নিয়েই কাজে লেগে যায় ওরা। প্রচন্ড তাপদাহ,বর্ষা কিংবা বৃষ্টিও তাদের কাবু করতে পারে না। এমন সময় তারা সুঁই-সূতা চট আর অকেজো ছাতা কোন রকমে মাথায় দিয়ে যবুথবু অবস্থায় ফুটপাতের এক কোনে অবস্থান করে। ওরা আর কেউ নয় ওরা মৌসুমি ছাতা মেরামতের কারিগর। ছিন্নমূল দিনমজুর কিংবা বর্গা-চাষি ধরনের লোকজনরাই একটু বাড়তি আয়ের জন্য ছাতা মেরামতের কাজ করেন। প্রচন্ড তাপদাহ,বর্ষা কিংবা বৃষ্টির যত বেশি ক্রন্দন ততবেশি তাদের আয়। গতকাল শীতের এই মৌসুমে সকালে বৃষ্টির সময় বদরগঞ্জ পৌরশহর ঘুরার সময় দেখা মেলে মৌসুমি ছাতা মেরামতের কারিগর শামিম, নূর ইসলাম ও মোজাম্মেল হোসেনের। এদের সকলের বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
ছাতা মেরামত কারিগর শামিম জানান; সবচাইতে বেশি ছাতা মেরামতের ব্যবসা হয় বর্ষাকালে এবং গ্রীষ্মকালে। এর পর শীতের শুরুতে যখন বৃষ্টি হয় তখন ব্যবসা ভাল হয়। মূলতঃ এই সময়গুলি বাদে আমরা এ ব্যবসা গুটিয়ে কৃষি শ্রমিক হিসেবে ক্ষেতে খামারে কাজ করে বেড়াই।
ছাতা মেরামতের কারিগর নূর ইসলাম জানান;সারা দিনে ছাতা মেরামতের কাজ করে ৪-৫শত টাকা আয় হয়। সে টাকা দিয়ে কোন রকমে সংসার চলে।
কারিগর মোজাম্মেল হোসেন জানান; এই কাজ(ব্যবসা)করার পর বাকি সময় মানূষের বাড়িতে কামলা(মজুর)দেন। ব্যবসা হতে বাড়তি যা আয় হয় তা দিয়ে বছরের অন্য সময়গুলোতে কোন রকমে জীবন চলে।
ছাতা মেরামত করতে আসা বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারন সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা জানান;অহেতুক সময় নষ্ট না করে এই ব্যবসা দিয়ে বাড়তি আয় করে সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে তারা কাজ করছে,এটা অবশ্যই ভাল দিক।এভাবে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ যদি কোন কাজকে ছোট মনে না করে নিরলশভাবে পরিশ্রম করে যায়,তবে দেশ অবশ্যই সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ,রংপুর
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন