কৃষি বিপ্লবের আরেক নাম সোলার ইরিগেশন পাম্পকামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
রক্ত বর্নের ন্যায় লাল মাটি। শুস্ক মৌসুমে এ অঞ্চলের মাটি হয়ে যায় ইটের মত। পানির অভাবে বছরের পর বছর শত শত একর জমি অনাবাদি(পরিত্যক্ত) পড়ে থাকে। ছোট বেলা হতে দেখছি আমাদের জমির এই অবস্থা। বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের এখানকার কৃষকরা বউ বাচ্চা নিয়ে বাঁচার আশায় নানা ধরনের সমস্যার মধ্যেও শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ কাজ পরিচালনা করতো। গত বছর হতে সোলার ইরিগেশন পাম্প সেচ কাজে ব্যবহার করে এখানকার শত শত একর পরিত্যক্ত জমি কৃষকরা নানা ধরনের ফসল ফলিয়ে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছে। আবেগ তাড়িত হয়ে কথাগুলো বললেন বদরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী পার-খাগড়াবন্দ এলাকার প্রবীন কৃষক মজনু শাহ্(৭২)।
রংপুরের বদরগঞ্জে কৃষি কাজে বিপ্লব ঘটিয়েছে সোলার ইরিগেশন পাম্প। গত বছর ৫১টি সোলার পাম্পের মাধ্যমে স্বল্প খরচে উপজেলার ৯ ইউনিয়নে ১ হাজার একর জমিতে ইরি-বোরো চাষাবাদ করা হয়েছিল। ডিজেলের চেয়ে খরচ কম হওয়ায় এই অঞ্চলের কৃষকরা বর্তমানে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন বিকল্প সেচ ব্যবস্থা সোলার পাম্পের উপর।
জানা যায়; উপজেলার বিঞ্চুপুর, লোহানিপাড়া, কালুপাড়া, মধুপুর, রামনাথপুর, রাধানগর, গোপিনাথপুর, কুতুবপুর ও গোপালপুর ইউনিয়নের যে সব এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছেনি ওইসব এলাকায় সোলার পাম্পের মাধ্যমে চাষাবাদ করে কৃষকদের খরচ ও সময় দুটোই সাশ্রয় হয়েছিল। সেইসাথে ভরা মৌসুমের হয়রানি থেকেও রেহাই পেয়েছিলেন এলাকার কৃষকরা। এ কারনে চলতি মৌসুমে কৃষকরা বিকল্প সেচ ব্যবস্থা হিসেবে সোলার পাম্পকেই তারা বন্ধু হিসেবে বেঁচে নিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার (২৭ডিসেম্বর)) উপজেলার বিঞ্চুপুর ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় ওসমানপুর দলুয়া গ্রামের কৃষক আতাউর রহমানের সাথে,তিনি জানান;যেখানে এক একর জমিতে ডিজেল চালিত স্যালোমেশিন দিয়ে চাষাবাদ করতে খরচ হয় ১০ হাজার টাকা। সেখানে সোলার পাম্পের মাধ্যমে সেচ দিতে আমাদের খরচ হচ্ছে ৬ হাজার টাকা। এ ছাড়াও লোকবল ও স্যালো মেশিনের কোন ঝুটঝামেলা নেই।
কৃষক ফিরোজ মানিক জানান; গত বছর থেকে সোলার পাম্পের মাধ্যমে আমি ৩ একর জমি চাষাবাদ করে আসছি। আমার জমিতে কোন বিদ্যুতের সংযোগ নাই, কবে নাগাদ বিদ্যৃৎ সংযোগ দেয়া হবে সেটাও অনিশ্চিত। তাই আমরা এই অঞ্চলের কৃষকরা এখন সোলার পাম্পের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। তিনি আরও বলেন; আমাদের এই অঞ্চলে এক সময় প্রয়োজনীয় পানির অভাবে একেবারেই চাষাবাদ হতো না। সোলার পাম্প আমাদের সেই অভাব পুরণ করেছে। শুধু ইরি-বোরো চাষাবাদ নয়, এই পাম্পের মাধ্যমে আমরা সারা বছর সব ধরনের ফসলের চাষ করে আসছি।
কথা হয় সোনারগাঁও লিমিটেড সোলার ইরিগেশনের বদরগঞ্জ উপজেলায় দায়িত্বরত জেনারেল ম্যানেজার আশরাফুল আলম সুমন বলেন; গত বছর উপজেলায় ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টি ইউনিয়নেই ১ হাজার একর জমিতে সোলার ইরিগেশন পাম্পের মাধ্যমে সেচ প্রদান করা হয়েছিল। ব্যাটারি ব্যাক-আপ না থাকায় শুধু দিনের বেলায় সেচ পাম্প চালানোর ব্যবস্থা রয়েছে। তবে মেঘলা দিনে দু-দিন পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা না গেলেও আবহাওয়া যদি অনুকুলে থাকে তাহলে সোলার পাম্পে তেমন কোন সমস্যা হয় না। চলতি বছর আর ১টি ইউনিয়ন এই সেচ ব্যবস্থার আওতায় আসবে বলে তিনি আশা পোষন করছেন।
সোনারগাঁও লিমিটেড সোলার ইরিগেশনের বদরগঞ্জ উপজেলা পরিচালক সামছুল আলম স্বপন জানান;বদরগঞ্জ উপজেলায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে সোলার ইরিগেশন পাম্প।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবর রহমান জানান; যে সব এলাকায় বিদ্যুৎ নেই সেইসব এলাকায় বিকল্প সেচ হিসেবে সোলার ইরিগেশন পাম্প গুরত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৭ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন