বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

পূর্বে কাছ থেকে দেখা আমার যমুনা (নদী)

ভ্রমন কাহিনী
পূর্বে কাছ থেকে দেখা আমার যমুনা (নদী)


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
১৯৯৪ সাল। রাজধানি ঢাকা হতে রংপুরে ফেরার পথে বাহাদুরাবাদ ঘাটে এসে ট্রেনের যাত্রিরা যমুনা নদী পারাপারের জন্য ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিলো। বাহাদুরাবাদ ঘাট কর্তৃপক্ষ যাত্রিদের জানিয়ে দিল দুইটি যাত্রিবাহি ফেরি মাঝ নদীতে ডুবোচরে আটকা পড়েছে। নিরুপায় যাত্রিরা বাধ্য হয়ে ছোট ছোট নৌকায় করে নদী পারাপারের সিদ্ধান্ত নিল। এক সময় আমিও বাধ্য হয়ে ছোট একটি নৌকায় অন্যান্যদের সহযাত্রি হলাম। জীবনে এই প্রথম আমি কাছ হতে এত বড় নদী দেখলাম এবং ছোট নৌকায় করে পার হব এটা ভেবেই শংকিত বোধ করছিলাম।
বিকেল ৩টা। ছোট নৌকায় করে যাত্রা শুরু। কিছুদুর পথ যেতে না যেতে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি চারদিক অন্ধকারে ছেয়ে যাচ্ছে,আকাশে তখন কালো মেঘের ঘনঘটা,বুঝলাম হালকা বর্নিল স্বচ্ছ নীল আকাশটা বুঝি পেয়ে গেছে কোন অশনি সংকেত। ভয়ে জড়সড় হয়ে চুপটি করে নৌকার এক কোনে বসে রইলাম। এমনি এক দিনে সৌভাগ্য হয়েছিলো আমার বাংলাদেশের বড় নদী যমুনা ভ্রমনের।
নদীর উত্তাল তরঙ্গঁ আর শ্যালো নৌকার গুড়গুড় শব্দে আমার হৃদপিন্ড শিহরে উঠেছিলো। কি যে একটা ভীতি আমার মধ্যে কাজ করছিলো ! এ ভীতি আমাকে যেন অক্টোপাসের মত ঘিরে রেখেছে,এখান হতে বেরুবার যেন কোন পথ নেই।
বিস্তৃর্ন জলরাশি,যতদূর চোখ যায় শুধু নদীর উত্তাল তরঙ্গঁই চোখে পড়ে। আকাশ আর নদী যেন মিতালি করেছে অর্থ্যাৎ এক সুরে গাথা। দূর হতে নদীর তীরের নাম না জানা পাহাড়গুলোকে মনে হচ্ছিল এক ঘোমটা পরা বধূ। যে বধু তার প্রিয়জনকেই মূখ দেখানোর জন্য ব্যাকুল হয়ে আছে। নদীর তীরের এই অপরুপ সৌন্দর্য যেন সে একাই উপভোগ করছে।
আর নদীর তীরের মানুষগুলোর জীবন যেন কোন এক রাত্রির স্বপ্নের মত। এই আছে এই নেই। কি বিচিত্রই না জীবন তাদের ! এই সর্বনাশা নদী তাদের জীবনটাকে জিম্মি করে রেখেছে। নদী যেমন তাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে অন্যদিকে দিয়েছে তাদের আহার বাসস্থান অর্থ্যাৎ বাঁচার আশ্বাস। এক বুক আশা নিয়ে তারাও বেঁচে আছে। আশা আছে বলেই তো মানুষ বেঁচে থাকে।
দূর হতে দেখা যাচ্ছে ফুলছড়ি ঘাট অর্থ্যাৎ আমাদের গন্তব্যস্থল। পড়ন্ত বিকেলের গোধুলি লগ্নে আমরা ধরনীর বুকে উত্তাল নদী পেরিয়ে হয়তঃ এক সময় উপস্থিত হব আমাদের গন্তব্যস্থলে। পিছনে পড়ে থাকবে কিছু আবেগতাড়িত মূহুর্ত কিছু স্মৃতি। আমার হয়তঃ আজই এ পথে চলার শেষ। কিন্তু নদীর তীরের মানুষদের। পৃথিবীর বুকে যতদিন সূর্য উদিত হবে যতদিন সূর্য অস্তমিত হবে ততদিন তাদের এ উত্তাল নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করতেই হবে। দেখা যাবে একদিন তারা কা¬ন্ত নিঃস্তেজ হয়ে যাবে,আবার সজীব হয়ে বেড়িয়ে পড়বে জীবিকার সন্ধানে। এ চলার যেন শেষ নেই। এ যেন এক অফুরন্ত পথ।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৯ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...