রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

অধরাই রয়ে গেল বদরগঞ্জের ঐতিহাসিক লালদিঘি নয় গম্বুজ মসজিদ

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুর বদরগঞ্জের ঐতিহাসিক লালদিঘি মসজিদ জনসাধারনের কাছে দৃষ্টিনন্দন হলেও প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে অধরায় রয়ে গেল। অযতœ অবহেলা আর অনাদরে হারিয়ে যেতে বসেছে মূল্যবান প্রতœ-তাত্তিক সামগ্রিগুলো।
গতকাল রবিবার (৪ডিসেম্বর) সকালে উপজেলা সদর হতে ৮কিঃমিঃ পশ্চিমে লালদিঘি নামক স্থানে গিয়ে দেখা যায় ;গোপিনাথপুর ইউনিয়নের লালদীঘি নামক স্থানে ওই মসজিদটির অবস্থান। মসজিদটি নির্মাণের সঠিক দিন-ক্ষণ জানা না গেলেও প্রত্মতাত্ত্বিকদের মতে, এটি সম্ভবতঃ বৃটিশ আমলে নির্মিত। এতে শেষ মোঘল যুগের মসজিদে ব্যবহৃত গঠণ পদ্ধতি ও স্থাপত্য শৈলীর বিশেষ ছাপ রয়েছে। এলাকার অনেকেই  জানিয়েছেন এটি ১২১২ সালে নির্মিত হয়েছে। এ নিয়ে  লোকজনের মাঝে নানা কথারও প্রচলন আছে। কথিত রয়েছে ওই মসজিদটির নির্মাণ কাজ শেষ এবং মসজিদ সংলগ্ন পুকুরটি একরাতে খনন করা হয়েছে।
দেখা যায় মসজিদটি বর্গাকার এবং নয় গম্বুজ বিশিষ্ট। গম্বুজের শীর্ষদেশে শোভা পাচ্ছে পদ্মফুল সদৃশ শীর্ষচূড়া। আর নিুাংশে কিছুটা মারলন অলংকরন রয়েছে। প্রত্মতাত্ত্বিকরা জানান; মসজিদের প্রতিটি কোণায় অষ্টকোণাকৃতি কিউপলাযুক্ত মিনার রয়েছে। এ ছাড়া উত্তর-পূর্ব কোণে চার স্তর বিশিষ্ট মিনার রয়েছে। যা আজও শুধুমাত্র মসজিদের আযানের কাজে ব্যবহৃত হয়। মসজিদের সামনের দেয়ালের দৃশ্য চমৎকারভাবে নানা প্যানেল দ্বারা স-ুসজ্জিত করা হয়েছে। সম্মুখ দেয়ালের বহুভাঁজ বিশিষ্ট খিলান সদৃশ তিনটি প্রবেশ দ্বার রয়েছে। প্রবেশ দ্বারের ডানে ও বামে দেয়াল ঘেঁষে ক্ষীণ স্তম্ভের সন্নিবেশ রয়েছে। অন্যান্য দেয়ালেও প্যানেল অলংকরনের মাধ্যমে শ্রীবৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া মসজিদের উত্তর-দক্ষিণের দেয়ালে জালিযুক্ত জানালার মত রয়েছে। যা মূলতঃ মসজিদের অভ্যন্তরে আলো-বাতাস গমন-নির্গমণের সহায়ক হিসেবে কাজ করে। প্রত্মতাত্ত্বিকরা জানান; প্রতিটি গম্বুজ পেনডেনটিভ খিলান ও স্কুইন্সের উপর ভর করে তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া চারটি স্তম্ভ অষ্টকোণাকৃতি গম্বুজগুলোর জন্যই নির্মিত হয়েছে। এই চারটি স্তম্ভের নিচের অংশ আবার আয়তাকার প্রকৃতির। মাঝখানে অবস্থিত গম্বুজটির নীচ দন্ডাকৃতি এবং স্কুইন্সগুলোয় একইভাবে অলংকরন করা হয়েছে।  মসজিদের অভ্যন্তরে পশ্চিম দেয়ালের মিহরাবের শীর্ষদেশ বহুভাঁজ বিশিষ্ট খিলান সদৃশ। এর ডান ও বাম উভয় দিকে ক্যাপিটালযুক্ত ক্ষীণ স্তম্ভ রয়েছে যার নিচের অংশ কলসাকৃতির।
বগুড়া জাদুঘরের সাবেক কিউরেটর  আব্দুল লতিফ প্রামানিক জানান ; লালদিঘি মসজিদ শুধু ঐতিহাসিক নয়। এটি প্রত্মতত্ত্বের অফুরন্ত ভান্ডার। এটা জাতীয় সম্পদ তাই এই মসজিদকে জাতীয়ভাবে সংরক্ষণ করা উচিত বলে  মন্তব্য করেন।
লালদিঘি এলাকার লোকজনের কাছ থেকে জানা যায় ; প্রত্ততত্ত্ব অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ওই মসজিদটি বেশ ক’বার পরিদর্শণ করা হয়েছে। পরিদর্শকরা বার বার লোকজনকে জানিয়েছেন ওই মসজিদটি প্রত্মতত্ত্বের অফুরন্ত ভান্ডার। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে আজ পর্যন্ত সেটি প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রত্মসম্পদের তালিকায় স্থান করে নিতে পারেনি। এর মহা-মূল্যবান প্রত্মতাত্বিক সামগ্রি বিলীনের  দ্বার-প্রান্তে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৪ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

 

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...