রংপুরের সফল মা তহুরা বেগম
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
আমির আলি(৫৫)। পেশায় ভ্যান চালক। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার রাধানগর ইউপির লালদিঘী শাস্ত্রিপাড়া গ্রামে। ৩ সন্তানসহ তার পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা ৫জন। এক সময় গ্রামে রিক্সাভ্যান চালিয়ে সংসারের ব্যয়ভার বহন করা তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছিলো। বাধ্য হয়ে তিনি বদরগঞ্জ পৌরশহরের শাহাপুর মহল্লার ছকিমুদ্দিনের ডাঙ্গা এলাকায় অন্যের ফাঁকা জমিতে ছোট একটি ঝুপড়ি ঘর তোলেন। এখানে (পৌরশহর) এসেও আমির আলি রিক্সাভ্যান চালিয়ে যখন সংসারের ব্যয়ভার বহন করতে পারছিলেন না তখন বাধ্য হয়ে আমিরের স্ত্রী তহুরা বেগম(৪৬) অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মি হিসেবে কাজ করে সংসারের হাল ধরেন। আমির দম্পতির ৩ সন্তানই মেধাবি। বড় ছেলে আবু তাহির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তো এবং আর্থিক দৈন্যতার কথা ভেবে ঢাকায় টিউশনি করে নিজের ব্যয়ভার বহন ও বাড়িতে টাকা পাঠাতো। পরবর্তীতে ছোট ছেলে মোতালেব হোসেনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সেও টিউশনি করে নিজের ব্যয়ভার বহন সহ বাবা মার কাছে টাকা পাঠাতো। এক সময় বড় ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বের হয়ে বিসিএস করে নির্বাহি ম্যাজিট্রেট হিসেবে যোগদান করেন পাবনা জেলায়। বর্তমানে ছোট ছেলে এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বের হবে। ছোট মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিবে।
এ দিকে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর,মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের তত্বাবধানে সমগ্র দেশব্যাপি পরিচার্লিত“জয়িতা অন্বেষনে বাংলাদেশ” শীর্ষক বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় সফল জননী হিসেবে বদরগঞ্জ উপজেলা ও রংপুর জেলার শ্রেষ্ঠ সফল জননী হিসাবে ক্রেষ্ট ও সন্মাননা পান বদরগঞ্জের শাহাপুর মহল্লার তহুরা বেগম।
সরেজমিনে শাহাপুর মহল্লার ছকিমুিদ্দনের ডাঙ্গা নামক এলাকায় অবস্থিত তার বাড়িতে গেলে সফল জননী তহুরা বেগম জানান; আমার স্বামি আমির আলি রিক্সা ভ্যান চালিয়ে যে রোজগার করতো তা দিয়েও সংসার চলতো না, এর মধ্যে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানো খুবই কষ্ট হত বাধ্য হয়ে আমি অন্যের বাড়িতে ঝিঁয়ের কাজ করতাম। অনেক পরিশ্রম করেছি সন্তানদের পড়াশুনার জন্য, চেষ্টা করেছি তাদের যেন লেখাপড়া বন্ধ না হয়। তিনি আরও জানান; আমার দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে আবু তাহির নির্বাহি ম্যাজিট্রেট,পাবনায় কর্মরত। ছোট ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ হতে এ বছর বের হবে। ছোট মেয়ে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিবে। সফল জননী হিসাবে স্বীকৃতি পাব ভাবতে পারি নাই।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার বলেন; সফল জননী হিসাবে তহুরা বেগম শুধু বদরগঞ্জ উপজেলায় নয় গোটা রংপুর জেলার গৌরব। তার মত মা প্রতিটি পরিবারেই থাকা উচিত। তা হলে দেশ এগিয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ রংপুর
তারিখ- ৩১ ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল- ০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
আমির আলি(৫৫)। পেশায় ভ্যান চালক। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার রাধানগর ইউপির লালদিঘী শাস্ত্রিপাড়া গ্রামে। ৩ সন্তানসহ তার পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা ৫জন। এক সময় গ্রামে রিক্সাভ্যান চালিয়ে সংসারের ব্যয়ভার বহন করা তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছিলো। বাধ্য হয়ে তিনি বদরগঞ্জ পৌরশহরের শাহাপুর মহল্লার ছকিমুদ্দিনের ডাঙ্গা এলাকায় অন্যের ফাঁকা জমিতে ছোট একটি ঝুপড়ি ঘর তোলেন। এখানে (পৌরশহর) এসেও আমির আলি রিক্সাভ্যান চালিয়ে যখন সংসারের ব্যয়ভার বহন করতে পারছিলেন না তখন বাধ্য হয়ে আমিরের স্ত্রী তহুরা বেগম(৪৬) অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মি হিসেবে কাজ করে সংসারের হাল ধরেন। আমির দম্পতির ৩ সন্তানই মেধাবি। বড় ছেলে আবু তাহির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তো এবং আর্থিক দৈন্যতার কথা ভেবে ঢাকায় টিউশনি করে নিজের ব্যয়ভার বহন ও বাড়িতে টাকা পাঠাতো। পরবর্তীতে ছোট ছেলে মোতালেব হোসেনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সেও টিউশনি করে নিজের ব্যয়ভার বহন সহ বাবা মার কাছে টাকা পাঠাতো। এক সময় বড় ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বের হয়ে বিসিএস করে নির্বাহি ম্যাজিট্রেট হিসেবে যোগদান করেন পাবনা জেলায়। বর্তমানে ছোট ছেলে এ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বের হবে। ছোট মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিবে।
এ দিকে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর,মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের তত্বাবধানে সমগ্র দেশব্যাপি পরিচার্লিত“জয়িতা অন্বেষনে বাংলাদেশ” শীর্ষক বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় সফল জননী হিসেবে বদরগঞ্জ উপজেলা ও রংপুর জেলার শ্রেষ্ঠ সফল জননী হিসাবে ক্রেষ্ট ও সন্মাননা পান বদরগঞ্জের শাহাপুর মহল্লার তহুরা বেগম।
সরেজমিনে শাহাপুর মহল্লার ছকিমুিদ্দনের ডাঙ্গা নামক এলাকায় অবস্থিত তার বাড়িতে গেলে সফল জননী তহুরা বেগম জানান; আমার স্বামি আমির আলি রিক্সা ভ্যান চালিয়ে যে রোজগার করতো তা দিয়েও সংসার চলতো না, এর মধ্যে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানো খুবই কষ্ট হত বাধ্য হয়ে আমি অন্যের বাড়িতে ঝিঁয়ের কাজ করতাম। অনেক পরিশ্রম করেছি সন্তানদের পড়াশুনার জন্য, চেষ্টা করেছি তাদের যেন লেখাপড়া বন্ধ না হয়। তিনি আরও জানান; আমার দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে আবু তাহির নির্বাহি ম্যাজিট্রেট,পাবনায় কর্মরত। ছোট ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ হতে এ বছর বের হবে। ছোট মেয়ে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিবে। সফল জননী হিসাবে স্বীকৃতি পাব ভাবতে পারি নাই।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার বলেন; সফল জননী হিসাবে তহুরা বেগম শুধু বদরগঞ্জ উপজেলায় নয় গোটা রংপুর জেলার গৌরব। তার মত মা প্রতিটি পরিবারেই থাকা উচিত। তা হলে দেশ এগিয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ রংপুর
তারিখ- ৩১ ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল- ০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন