বাউন্ডিলে দূর্নাম ঘূঁচিয়ে এখন
সফল চাষি বদরগঞ্জের মোহসেন আলি
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; মোহসেনের মত শিক্ষিত বেকাররা যদি বেকার না থেকে যুগপোযুগি আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষি কাজে মনোনিবেশ করেন তাহলে দেশের কৃষিখাতে বিপ্লব সংঘটিত হবে। উপজেলায় মোহসেনের মত অনেক কৃষক এখন এ ধরনের ফসল চাষাবাদ করে আর্থিক ভাবে সচ্ছল হচ্ছেন।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখঃ ১৬ডিসেম্বর/১৬
মোবাইলঃ ০১৭১৭৮৫০৯৬৪
সফল চাষি বদরগঞ্জের মোহসেন আলি
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
বছর দশেক আগেও যে ছিল বাউন্ডিলে,কাজ কর্মে যার ছিলনা কোন আন্তরিকতা। সকাল সন্ধ্যা যে শুধু আড্ডা দিয়ে সময় কাটাতো;দশ বছরের ব্যবধানে এই আড্ডাবাজ মানুষটি এখন সফল চাষি। কিন্তু কি ভাবে সম্ভব?
সরেজমিনে জমিতে গিয়ে কথা হয় বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের মোহসেন আলির (৩৪) সাথে, তিনি জানান; এস.এস.সি পাশের পর রংপুর পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে ঐ সময়ে পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট হতে একেবারেই চলে আসেন। তখন বাবা মা ভাই বোন সহ সবারই চোখের বালিতে পরিণত হন তিনি। এরই মধ্যে বাবা মারা যায়। আরও বেকায়দায় পড়ে যান তিনি। আগেই বোনদের বিয়ে হয় ভাইয়েরাও একে একে সবাই আলাদা হয়। স্ত্রী সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়ে যান তিনি। অবশ্য বাবা মারা যাওয়ার আগে ছোট ছেলে হিসেবে তাকে দিয়ে যান ১২ বিঘা জমি। এর মধ্যে কিছু ধানি জমি নিজে এবং বাকি জমি বর্গা দিয়ে কোন রকমে দিনযাপন করতেন। এমনিতেই তুলনামূলকভাবে ধানের দাম কম এবং কৃষি উপকরনের দাম বেশি হওয়ার কারনে তার সংসারে কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। এক আত্মীয়ের পরামর্শে উচু একবিঘা(৬০শতাংশ)জমিতেই(কিছু অংশ করে)
আলু,পটল,ভুট্টা,মরিচ,টমেটো,লাউ,শসা,পালাক্রমে চাষাবাদ শুরু করেন। এভাবেই শুরু হয় তার নতুন জীবনের গল্প। তাকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এই দশ বছরের ব্যবধানে পাকাবাড়ি, মোটরসাইকেল, জমি কেনা ,মাছের চাষ,গরুর খামার সহ অনেক কিছু করেছেন। তিনি এই প্রতিবেদককে জানান;প্রতি বছর এই এক বিঘা জমি হতে পালাক্রমে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষাবাদ করে দেড় হতে দুই লাখ টাকা আয় করেন। তিনি আরও জানান, যাদের সামান্য কিছু জমি আছে তা দিয়েই অনেক আয় করা সম্ভব। বেকার জীবন খুবই কষ্টের এবং অসম্মানের। গ্রামের বেকার যুবকদের তিনি এই পরামর্শই দিয়ে যাচ্ছেন। সরেজমিনে জমিতে গিয়ে কথা হয় বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের মোহসেন আলির (৩৪) সাথে, তিনি জানান; এস.এস.সি পাশের পর রংপুর পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে ঐ সময়ে পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট হতে একেবারেই চলে আসেন। তখন বাবা মা ভাই বোন সহ সবারই চোখের বালিতে পরিণত হন তিনি। এরই মধ্যে বাবা মারা যায়। আরও বেকায়দায় পড়ে যান তিনি। আগেই বোনদের বিয়ে হয় ভাইয়েরাও একে একে সবাই আলাদা হয়। স্ত্রী সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়ে যান তিনি। অবশ্য বাবা মারা যাওয়ার আগে ছোট ছেলে হিসেবে তাকে দিয়ে যান ১২ বিঘা জমি। এর মধ্যে কিছু ধানি জমি নিজে এবং বাকি জমি বর্গা দিয়ে কোন রকমে দিনযাপন করতেন। এমনিতেই তুলনামূলকভাবে ধানের দাম কম এবং কৃষি উপকরনের দাম বেশি হওয়ার কারনে তার সংসারে কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। এক আত্মীয়ের পরামর্শে উচু একবিঘা(৬০শতাংশ)জমিতেই(কিছু অংশ করে)
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; মোহসেনের মত শিক্ষিত বেকাররা যদি বেকার না থেকে যুগপোযুগি আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষি কাজে মনোনিবেশ করেন তাহলে দেশের কৃষিখাতে বিপ্লব সংঘটিত হবে। উপজেলায় মোহসেনের মত অনেক কৃষক এখন এ ধরনের ফসল চাষাবাদ করে আর্থিক ভাবে সচ্ছল হচ্ছেন।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখঃ ১৬ডিসেম্বর/১৬
মোবাইলঃ ০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন