বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

বিজয়ের মাসে
বদরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের আকুতি,দেখার কি কেউ নেই !

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
আমেনা বেগম(৮৫)। স্বামি প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমানের স্ত্রী। যুদ্ধকালিন সময়ে পাকহানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে স্বামিকে যুদ্ধের ময়দানে পাঠিয়ে দিয়েই তিনি ক্ষান্ত হননি তিনি(আমেনা বেগম) মুক্তিযোদ্ধাদের রসদ সরবরাহ,প্রতিদিন খাবার তৈরি করে পৌছিয়ে দেয়া সহ এলাকার যুবকদের সংগঠিত করে ভারতের প্রশিক্ষন ক্যাম্পে পাঠানো ও তাদের উৎসাহ প্রদানই ছিল তার ওই সময়ের রুটিন মাফিক কাজ। যুদ্ধকালিন সময়ে সন্মূখ সমরে শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা মুক্তিযোদ্ধা স্বামি যখন ক্লান্ত হয়ে চুপিসারে বাড়িতে ফিরতেন তখন স্ত্রী আমেনা বেগম সারারাত জেগে স্বামির সেবা সহ এলাকার অবর্ননীয় দূর্ভোগ কথা ও কিভাবে সমাধান করা যায় তা নিয়ে স্বামিকে পরামর্শ সহ সন্মূখ যুদ্ধের কথা এবং তাকে সাহস ও তার মনোবল অটুট রাখার জন্য তাকে সবসময় আমেনা বেগম প্রেরনা যুগিয়েছেন। স্বামি লুৎফর রহমানকে পরিস্কার ভাবে জানিয়ে দেন তুমি আমার কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ তার চাইতেও বড় এখন আমার দেশের স্বাধীনতা। অসহায় মুক্তিকামি আমেনা বেগম আজ বয়সের ভারে ন্যুইয়ে পড়েছেন। রোগ শোক তার এখন নিত্য সঙ্গী। শরীরে বাসা বেধেঁছে নানা ধরনের রোগ। অর্থাভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না তার। তার উপর একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, শেষ সম্বলটুকু স্বামির মুক্তিযোদ্ধা ভাতাও প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ। এতে করে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে।
সরেজমিনে গতকাল বৃহঃস্পতিবার(৮ডিসেম্বর)সকালে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউপির ঘাগড়াবন্দ গ্রামে গেলে দেখা যায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটির করুন চিত্র। ফাঁকা জায়গায় মাটির তৈরি দুটি ঘরে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন ছেলে,ছেলে বউ, নাতি-নাতনি মিলে দশ জন। কথা হয় প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমানের স্ত্রী মুক্তিকামি অসহায় আমেনা বেগমের সাথে,তিনি জানান;১৯৭১ সালে বঙ্গঁবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে তার স্বামি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন । এবং তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করার কারনেই সে সময় রাজাকাররা তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। যুদ্ধ শেষে ২১ দিন পর স্বামি লুৎফর রহমান বাড়িতে ফিরে আসেন এবং অনেক কষ্টে ভাংগাচোরা বাড়িতে সংসার শুরু করেন। কিন্তু বিধি বাম। দুশমনরা ১৯৮২ সালে তার স্বামিকে মেরে ফেলে। আমেনা বেগম আরও জানান;২০০৭ সালে স্বামির নামে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা শুরু হয়। তখন থেকেই ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ভাতা ভোগ করেন আমেনা বেগম। এর পর ওই বছরের মে মাসে ভাতা উত্তোলন করতে গেলে ব্যাংক হতে জানিয়ে দেন তার স্বামির নামের ভাতা বন্ধ। কি কারনে বন্ধ তা আমি আজও জানি না। মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমানের ছেলে আমিনুল ইসলাম জানান;ভাতা বন্ধ হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রালয়ে আবেদন করলে সেখান হতে লুৎফর
রহমানের জন্মসনদ ও মৃত্যুসনদ চাওয়া হয়। যখন তার(লুৎফর রহমানের) জন্ম হয়েছিলো তখন জন্মসনদ চালুই হয়নি চালু হবার আগেই আমার বাবা মারা যায়। প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত সনদপত্র নেই তাই আমার বাবার ভাতা বাতিল করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন;মুক্তিবার্তা লাল বই খুঁজে দেখেছি সেখানে আমার বাবার নাম আছে। মুক্তিবার্তার নম্বর-০৩১৩০৩০০০৩। মে ২০০৫ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটে(মুক্তিযোদ্ধার তালিকা) কার নাম আছে। গেজেট নম্বর-৬১৫ আইডি নম্বর-০৬০৭০১০১৩৭। মুক্তিযুদ্ধকালিন ভারতীয় ক্যাম্পের সনদও তার আছে। এতকিছুর পরেও তার বাবার নামের ভাতা বন্ধ কেন আমিনুল ইসলাম এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
একই এলাকার সহযোদ্ধা সেকেন্দোর আলি(৭১) জানান; লুৎফর ভাই সহ আমি ৭নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছি। আমি ভাতা পেলে সে পাবে না কেন? তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে
তার ভাতাটি চালু করার জন্য অনুরোধ করছি।
বদরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব আলি জানান;বিষয়টি আমি জানি। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি আজ মানবেতর জীবন যাপন করছে। উপজেলা যাচাই বাছাই কমিটি তার ভাতাটি বন্ধ করেছে। মানবিক বিবেচনায় মুক্তিযোদ্ধা লুৎফরের ভাতাটি চালুর দাবি জানাচ্ছি।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার কাজি আবেদা গুলশান জানান; বিষয়টি আমার জানা নেই। এ রকম হলে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হবে। 
রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক জানান; বিষয়টি আমার জানা নেই। তবুও বলছি তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হলে অবশ্যই মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাবেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৮ ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪












কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...