শিশু শ্রম ও রাজধানি ঢাকা
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
জীবন মানে গতিশীলতা,থেমে থাকা তার কাছে যেন দ্যর্থহীন কোন বাসনা। জীবন চলে তার নিজস্ব গতিতে আপন ভঙ্গিমায়। জীবনটাকে উপভোগ করছি আমরা সবাই ভিন্ন রঙ্গে ভিন্ন সাজে এই যা ! সবাই তো আর এক ভাবে জীবনটাকে উপভোগ করে না আর করতে পারেও না। এ জীবনে কতইনা উত্থান কতইনা পতন। জীবনের পড়ন্ত বেলায়ও সে যেন চলে ঘড়ির কাটার মত টিক টিক করে।
আমি আজ সেই জীবনের কথা বলবো যেখানে আছে শুধু গতিশীলতা,নেই কোন বিনোদনের লেশ মাত্র উপকরন। বেকার দারিদ্রতা হতাশাগ্রস্থ জীবন আর বিভিষিকাময় দিনগুলিকে পিছনে ফেলে মূলতঃ নিয়তির উপর ভর করে আদম সন্তানদের রাজধানি শহরে ছুঁটে আসা।
ছুঁটতে ছুঁটতে হোঁচট খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে হয়তঃ শরীরের কোন স্থান হতে লবন মিশ্রিত লাল পানি মুছে অথবা ঝটপট নোংড়া কাপড় দিয়ে আবৃত করে ব্যাথায় কাতরাতে কাতরাতে আবারো ছুঁটা। এ যেন দৌঁড় দৌঁড় খেলা।
এমন চরম বাস্তবতাকে স্বচক্ষে দেখতে গেলে সকাল ৭টা হতে ৮টার মধ্যে রাজধানির যে কোন রাস্তায় কিংবা গলির দিকে তাকালে এর সচিত্র সহজেই চোখে পড়বে। ছোট বড় কমবয়সি মধ্যবয়সি সব ধরনের লোকজন অর্থাৎ যাকে বলি আবালবৃদ্ধবনিতা। তবে এদের মধ্যে সহজেই দৃষ্টি কাড়ে কোমলমতি শিশুদের। যাদের কোমল হাত প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত হচ্ছে জীবিকার কষাঘাতে। এ সব দেখে আবেগে আপ্লুত হয় মন। ঘৃনা ক্ষোভ আর লজ্জা যেন আমার ঘুমিয়ে থাকা বিবেককে যাতাকলে পিষ্ট করে।
উন্নত বিশ্বে যখন শিশুশ্রম নিষিদ্ধ হচ্ছে তখন আমরা তাকে ঘটা করে স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা এতটাই নির্দয় ও অমানবিক যে, এমন কোন কাজ নেই যা আমরা শিশুদের দিয়ে করাচ্ছি না। খোঁয়া(ইট)ভাঁঙ্গা হতে শুরু করে পতিতাবৃত্তি পর্যন্ত। খোঁয়া ভাঁঙ্গতে ভাঁঙ্গতে এ সব কোমলমতি শিশুদের হাতের নরম মাংসপিন্ড গুলো যেন শিখ কাবাবের মত হয়ে যায় আর তাদের হাতের তালুগুলো দেখলে মনে হয় তেলে ভাজা পিঁয়াজির অংশ বিশেষ। জীবিকার তাগিদে তবুও চলে একের পর এক ইট ভাঁঙ্গার কাজ। এ সব কথা ভাবলে শিহরে উঠে শরীর,মোচড় দিয়ে ওঠে হৃদপিন্ড, হৃদয়ে ভীষন ব্যথা অনুভব হয়। তখন লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করে। এ লজ্জা কি শুধু আমার একার! এ লজ্জা আমাদের সকলের। ভেবে দেখুন পাঠক,এই সব আদম সন্তানরা আমাদের ভাই বন্ধু এবং আমাদের সন্তান। এই সকল শিশুরাও চায় সুন্দর এই পৃথিবীতে সূস্থ্যভাবে বেঁচে থাকতে,চায় আনন্দময় জীবন। বের হয়ে আসতে চায় দারিদ্রের কষাঘাত,পাচারকারি,ধর্ষনকারি তথা মানুষরুপি পশুদের শৃঙ্খল হতে। এই দু-পা বিশিষ্ট প্রানিদের দায়িত্ব কে নেবে? এই নিষ্পাপ ফুলের মত আদম সন্তানদের নির্বিঘেœ চলাফেরা,চিকিৎসা,লেখাপড়া,বাসস্থান তথা মৌলিক চাহিদাগুলো পূরনে কে এগিয়ে আসবে? নাকি এদের সকলের দয়ায় অনুকম্পায় বেঁচে থাকতে হবে। এভাবে বেঁচে থাকার নামকে কি জীবন বলে ? কি মূল্য আছে এ জীবনের ? দেয়ালে পিঠ লেগে থাকা শিশুদের হয়তঃ একদিন দেখা যাবে সারাদেশ জুড়ে মিছিলের কলকানি,স্লোগান একটাই “আমরা বাঁচতে চাই,আমাদের বাঁচতে দিন”।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৩ ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
জীবন মানে গতিশীলতা,থেমে থাকা তার কাছে যেন দ্যর্থহীন কোন বাসনা। জীবন চলে তার নিজস্ব গতিতে আপন ভঙ্গিমায়। জীবনটাকে উপভোগ করছি আমরা সবাই ভিন্ন রঙ্গে ভিন্ন সাজে এই যা ! সবাই তো আর এক ভাবে জীবনটাকে উপভোগ করে না আর করতে পারেও না। এ জীবনে কতইনা উত্থান কতইনা পতন। জীবনের পড়ন্ত বেলায়ও সে যেন চলে ঘড়ির কাটার মত টিক টিক করে।
আমি আজ সেই জীবনের কথা বলবো যেখানে আছে শুধু গতিশীলতা,নেই কোন বিনোদনের লেশ মাত্র উপকরন। বেকার দারিদ্রতা হতাশাগ্রস্থ জীবন আর বিভিষিকাময় দিনগুলিকে পিছনে ফেলে মূলতঃ নিয়তির উপর ভর করে আদম সন্তানদের রাজধানি শহরে ছুঁটে আসা।
ছুঁটতে ছুঁটতে হোঁচট খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে হয়তঃ শরীরের কোন স্থান হতে লবন মিশ্রিত লাল পানি মুছে অথবা ঝটপট নোংড়া কাপড় দিয়ে আবৃত করে ব্যাথায় কাতরাতে কাতরাতে আবারো ছুঁটা। এ যেন দৌঁড় দৌঁড় খেলা।
এমন চরম বাস্তবতাকে স্বচক্ষে দেখতে গেলে সকাল ৭টা হতে ৮টার মধ্যে রাজধানির যে কোন রাস্তায় কিংবা গলির দিকে তাকালে এর সচিত্র সহজেই চোখে পড়বে। ছোট বড় কমবয়সি মধ্যবয়সি সব ধরনের লোকজন অর্থাৎ যাকে বলি আবালবৃদ্ধবনিতা। তবে এদের মধ্যে সহজেই দৃষ্টি কাড়ে কোমলমতি শিশুদের। যাদের কোমল হাত প্রতিনিয়ত ব্যবহৃত হচ্ছে জীবিকার কষাঘাতে। এ সব দেখে আবেগে আপ্লুত হয় মন। ঘৃনা ক্ষোভ আর লজ্জা যেন আমার ঘুমিয়ে থাকা বিবেককে যাতাকলে পিষ্ট করে।
উন্নত বিশ্বে যখন শিশুশ্রম নিষিদ্ধ হচ্ছে তখন আমরা তাকে ঘটা করে স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা এতটাই নির্দয় ও অমানবিক যে, এমন কোন কাজ নেই যা আমরা শিশুদের দিয়ে করাচ্ছি না। খোঁয়া(ইট)ভাঁঙ্গা হতে শুরু করে পতিতাবৃত্তি পর্যন্ত। খোঁয়া ভাঁঙ্গতে ভাঁঙ্গতে এ সব কোমলমতি শিশুদের হাতের নরম মাংসপিন্ড গুলো যেন শিখ কাবাবের মত হয়ে যায় আর তাদের হাতের তালুগুলো দেখলে মনে হয় তেলে ভাজা পিঁয়াজির অংশ বিশেষ। জীবিকার তাগিদে তবুও চলে একের পর এক ইট ভাঁঙ্গার কাজ। এ সব কথা ভাবলে শিহরে উঠে শরীর,মোচড় দিয়ে ওঠে হৃদপিন্ড, হৃদয়ে ভীষন ব্যথা অনুভব হয়। তখন লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করে। এ লজ্জা কি শুধু আমার একার! এ লজ্জা আমাদের সকলের। ভেবে দেখুন পাঠক,এই সব আদম সন্তানরা আমাদের ভাই বন্ধু এবং আমাদের সন্তান। এই সকল শিশুরাও চায় সুন্দর এই পৃথিবীতে সূস্থ্যভাবে বেঁচে থাকতে,চায় আনন্দময় জীবন। বের হয়ে আসতে চায় দারিদ্রের কষাঘাত,পাচারকারি,ধর্ষনকারি তথা মানুষরুপি পশুদের শৃঙ্খল হতে। এই দু-পা বিশিষ্ট প্রানিদের দায়িত্ব কে নেবে? এই নিষ্পাপ ফুলের মত আদম সন্তানদের নির্বিঘেœ চলাফেরা,চিকিৎসা,লেখাপড়া,বাসস্থান তথা মৌলিক চাহিদাগুলো পূরনে কে এগিয়ে আসবে? নাকি এদের সকলের দয়ায় অনুকম্পায় বেঁচে থাকতে হবে। এভাবে বেঁচে থাকার নামকে কি জীবন বলে ? কি মূল্য আছে এ জীবনের ? দেয়ালে পিঠ লেগে থাকা শিশুদের হয়তঃ একদিন দেখা যাবে সারাদেশ জুড়ে মিছিলের কলকানি,স্লোগান একটাই “আমরা বাঁচতে চাই,আমাদের বাঁচতে দিন”।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৩ ডিসেম্বর/১৬
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন