বাঁধের ফাঁদে “বাংলাদেশ”
পরিত্রান কি একবারেই অসম্ভব!
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
গ্রামাঞ্চলে একটি প্রবাদ আছে ” পিঠে পড়রে কিল, পাগলেও ছুড়ে ঢিল” অর্থ্যাৎ নিজের ব্যাপার পাগলেও বুঝে।
চীন নিকট অতীতে ব্রহ্মপুত্র নদের উৎস্থলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তিনটি বাঁধ নির্মানের ঘোষনা দিয়েছিল। চীনের এই ঘোষনার পর পরই ভারত সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিল,ওই সময় ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদও হয়েছে। একদা আমাদের এই দেশ ছিল প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি এর উত্তরে রয়েছে হিমালায় পর্বতমালা অভিভাবকের মত। দক্ষিনের পদতলে নিরন্তর প্রবাহিত বঙ্গোপসাগর। আর সমগ্র সমতল ভুমি জুড়ে রয়েছে জালের মত অসংখ্য নদ-নদী। এই নদ-নদী বাংলাদেশকে করে তুলেছে সৌন্দর্যের লীলানিকেতন। আর এর প্রবাহমান জলধারা বাংলাদেশকে শষ্য শ্যামল সুদৃশ্য দেশ হিসাবে গড়ে তুলে গৌরবময় স্থান দিয়েছিল বিশ্বসভায়। এ দেশের নদ-নদী যুগপৎ আমাদের সমৃদ্ধি ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসাবে বিবেচিত হত।নদীকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের যে অপরুপ রুপ মাধুরি তা মানুষের মনকে ছুঁয়ে যেত গভীর ভাবে। শুধুমাত্র নদীই এ দেশের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুনে।বর্তমানে নদীর এই অপার সৌন্দর্যমন্ডিত চিরচেনা রূপ আর চোখে পড়ে না ভাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র ভারতের অবিবেচকের মত আন্তর্জাতিক নদী আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে অসংখ্য বাঁধ নির্মানের কারনে।
চীন বাঁধ নির্মান করেছে যেখানেঃ
নিকট অতীতে চীন তার দেশের তিব্বত এলাকায় দাগু, জিয়াচা, ও জিইশু পার্বত্য এলাকায় ব্রাহ্মপুত্রের উপর তিনটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করে। এ প্রকল্প গুলোতে পর্যাপ্ত পানি যোগানোর জন্য ব্রহ্মপুত্রের উপর তিনটি বাধ নির্মান করছে চীন। চীন শাসিত তিব্বতে আমাদের ব্রহ্মপুত্রের নাম সেদেশে সেংপো। এটি এশিয়ার দীর্ঘতম নদী। এর দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৯০৬ কিলোমিটার। এ নদী তিব্বত (১৬২৫ কিঃমিঃ) ভারত (৯১৮ কিঃমিঃ) ও বাংলাদেশ (৩৬৩ কিঃমিঃ) উপর দিয়ে প্রবাহিত। জনগনের পানির চাহিদা মেটাতে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চীন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভারত তো বটে বাংলাদেশ আবারো নতুন করে অকল্পনীয় ক্ষতির স্বীকার হবে। আন্তর্জাতিক নদী আইনে কি আছে?যৌথ নদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত হেলসিংকি (১৯৬৬) নীতিমালার ৪ ও ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে “প্রতিটি অবহবাহিকাভূক্ত দেশ অভিন্ন নদী ব্যবহারের ক্ষেত্রে অন্য দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রয়োজন বিবেচনা করবে। এ জন্য অবশ্যই যেন অন্য দেশের কোন ক্ষতি না হয় সে দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। একই আইনের ২৯(২) নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে “একটি রাষ্ট্র নদী অববাহিকার যেখানেই অবস্থান করুক না কেন তার যে কোন প্রস্তাবিত অবকাঠামো নির্মান এবং ইনস্টলেশনের ব্যাপারে নদী অববাহিকায় অবস্থিত অন্য যে কোন রাষ্ট্র এই কাজের ফলে অববাহিকায় ঘটা পরিবর্তনের কারনে যার স্বার্থহানি হওযায় আশঙ্খা রযেছে তাকে এ ব্যাপারে নোটিশ দিতে হবে। নোটিশ গ্রহীতা দেশ যেন প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সম্ভাব্য ফলাফলের বিচার-বিশ্লেষন করতে পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি থাকতে হবে। কিন্তু ভারত বাংলাদেশের উজানে বাঁধ নির্মানের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক আইন অনুসরন তো করেইনি বরং তারা সব সময় গোপনীয়তা রক্ষা করে চলেছে। বাংলাদেশ নামক ভুখন্ডে ভারতের বাধ নির্মান নতুন কোন ঘটনা নয়। সেই ১৯৪৭ পরবর্তী সময় থেকে ৮০ হাজার কোটি রুপি খরচ করে এ পর্যন্ত ৩৬০০ বাঁধ নির্মান করেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৪টি আন্তনদীর মধ্যে ৪৭টি নদীতেই বাঁধ দিয়েছে ভারত।World Commission of Dam(WCD); ১২৫ টি বাঁধের উপর সমীক্ষা চালিয়ে তাদের গবেষনায় এটাই প্রতীয়মান হয়েছিল যে; বন্যা নিয়ন্ত্রনের জন্য বেশিরভাগ বাঁধ নির্মান করা হলেও বন্যা খরার প্রকোপ বেড়েছে, বাঁধ ও ব্যারেজ নির্মানের ফলে উদ্বাস্তু হয়েছে প্রায় সাড়ে আট কোটি মানুষ যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উদ্বাস্তুর সংখ্যার চেয়ে বেশি। সর্বসাকুল্যে তারা এই বাঁধ নির্মান প্রকল্পকে মানূষ পরিবেশ-প্রতিবেশ এবং উৎপাদনের জন্য অলাভজনক বলেছিল।
উৎপত্তিস্থল হতে ভারত এক তরফা নদীশাসন তথা স্বাদু পানিকে নিজ নিয়ন্ত্রনে নেয়ার আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জীবন ধারনের জন্য পানির গুরত্ব অপরিসীম বটে তবে তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিঃসন্দেহে স্বাদু পানি। একটি পরিসংখ্যানের আলোকে বিশ্বে স্বাদু পানির পরিমান দেখা যেতে পারে।
পানির উৎস বর্হিভাগ হিসাবে
বর্গমাইলে আয়তন হিসাবে
ঘনমাইলে শতকরা পরিমান
ক)লবনাক্ত পানি
সমুদ্রের পানি
আভ্যন্তরীন সাগর ও হ্রদের পানি
১৩৯,৫০০,০০০
২৭০,০০০
৩১৭,০০০,০০০
২৫,০০০
৯৭.২
০.০০৮
মোট ১৩৯,৭৭০,০০০ ৩১৭,০২৫,০০০ ৯৭.২০৮
খ)স্বাদু পানি
হ্রদের পানি
নদীর পানি
উত্তর মেরুর বরফ
দক্ষিণ মেরুর বরফ
বাতাসে জলীয় বাষ্প
ভূ-গর্ভস্থ পানি
৩০০,০০০
৬১,০০০,০০০
৯০০,০০০
১৯৮,০০০,০০০
৩০,০০০
৩০০
৬,৫০০,০০০
৫০০,০০০
৩১০০
২,০১৬,০০০
০.০০৯
০.০০১
১.৯৯২
০.১৫৪
০.০০১
০.৬৩৫
মোট ২৬০,২৩০,০০০ ৯,০৪৯,৪০০ ২.৭৯২
সর্বমোট ৪০০,০০০,০০০ ৩২৬,০৭৪,৪০০ ১০০.০০০
উপরের পরিসংখ্যান হতে দেখা যাচ্ছে যে, পৃথিবীর মোট পানির আয়তন ৩২৬,০৭৪,৪০০ ঘনমাইল। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৯৭ ভাগ লবনাক্ত পানি (স্যালাইন ওয়াটার) এবং ২.৫০ভাগ (নরমাল ওয়াটার) স্বাদু পানি। মোট স্বাদু পানির অধিকাংশই বরফ হিমবাহ ও জলীয় বাস্পে আবদ্ধ। হ্রদ, নদী ও খাল-বিলে অবস্থিত পানির পরিমান খুবই সামান্য। অর্থাৎ পৃথিবীর মোট পানির পরিমান ০.০১ ভাগ। (সুত্রঃ স্নাতক উদ্ভিদ বিজ্ঞান; প্রফেসর আমজাদ আলী খান)।ভারতের দেয়া অনেকগুলো বাঁধের মধ্যে আমাদের দেশে আলোচিত দুটো বাঁধের মধ্যে একটি হলো ফারাক্কা বাধ। এই ফারাক্কা বাঁধের কারনে আমাদের উত্তরাঞ্চল আজ মরুকরনের পথে। এটা দেশবাসি প্রত্যেকেই জানে। শুধু তাই নয় ভারতের উজানে বাঁধ দেয়ার কারনে বাংলাদেশের বড় বড় সেচ প্রকল্প যেমন তিস্তা সেচ প্রকল্প, গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জি-কে) প্রকল্প, ডি.এন.ডি প্রকল্প, কর্নফুিল বহুমুখি সেচ পরিকল্পনা, ব্রহ্মপুত্র সেচ প্রকল্প, গোমতি পরিকল্পনা, মেঘনা উপত্যকা পরিকল্পনা সহ অসংখ্য পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে যার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ( অবশ্য এ হিসাব অবকাঠামো ও ভূমির অপচয় যোগ করেই) ।
দ্বিতীয়টি হলো “টিপাইমুখ বাঁধ”। এর একটু ইতিহাস আমাদের সংক্ষেপে জানা দরকার। আসাম রাজ্যের কাছাড় অঞ্চলের মৌসুমি বন্যা প্রতিরোধের নামে মনিপুরের ২৭৫.৫০বর্গ কিঃমি এলাকায় বাঁধ নির্মানের পরিকল্পনা হাতে নেয় ভারত সরকার। আসামের জনগনের প্রতিরোধের মুখে ভারত সরকার মনিপুরের বরাক নদের উপর বাঁধ নির্মানের স্থান ক্রমেই পরিবর্তিত হতে থাকে। ১৯৫৫ সালে ময়নাধর, ১৯৬৪ সালে নারায়নধর এরপর ভূবন্দর এবং সর্বশেষ ৮০র দশকে টুইভাই ও বরাক নদের সঙ্গম স্থলের ৫০০ মিটার ভাটিতে টিপাইমুখে বাঁধ নির্মানের পরিকল্পনা করা হয়। প্রথমে বাধটি ব্রহ্মপুত্র ফ্লাড কন্ট্রোল বোর্ড (ই.ঋ.ঈ.ই) আওতায় থাকলেও ১৯৮৫ সালে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর ১৯৯৯ সালে এটিকে নর্থ ইষ্টার্ন ইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন (নেপকো) হাতে দেওয়া হয়। তখন থেকে বাঁধটির নাম টিপাইমুখ হাই ড্যাম থেকে পরিবর্তিত হয়ে টিপাইমুখ পাওয়ার প্রজেক্ট হয়। টিপাইমুখ নামের গ্রামে বরাক এবং টুইভাই নদের মিলন স্থলের ১ হাজার ৬০০ ফুট দূরে বরাক নদে ৫০০ফুট উঁচু এবং ১হাজার ৬০০ফুট দীর্ঘ বাধ নির্মান করে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ভারত সরকার কাজ শুরু করেছে। বরাক নদ ভারতের মনিপুর রাজ্যের কাছাড় পর্বতে উৎপন্ন হয়ে মনিপুর আসাম মিজোরামের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশে প্রবেশের আগে ভারতের অমলসিদ নামক স্থানে নদটি সুরমা ও কুশিয়ারা এ দুভাগে বিভক্ত হয়ে সিলেট জেলার জকিগঞ্চ দিয়ে প্রবেশ করেছে। সুরমা ও কুশিয়ারা হবিগঞ্জের মারকুলির কাছে পুনরায় মিলিত হয়ে কালনি নামে প্রবাহিত হয়েছে। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে কালনি ঘোড়াউত্রা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে মেঘনা নাম ধারন করে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশিছে। বরাক নদের ভারতে প্রবাহিত অংশের দৈর্ঘ্য ৪৯৯ কিঃমিঃ। আর বাংলাদেশে এর দৈর্ঘ্য ৪০৩ কিঃমিঃ। সুরমা ও কুশিয়ারা পাচটি প্লাবনভূমি অতিক্রম করেছে যার অববাহিকায় বাংলাদেশের গুরত্বপূর্ণ কৃষি নির্ভর জনবসতি গড়ে উঠেছে।এই ফারাক্কার কারনে গোটা উত্তরাঞ্চল এবং টিপাইমুখ বাঁধের কারনে গোটা দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে যে বিপর্যয় দেখা দেবে। তাতে নিঃসন্দেহে সমগ্র বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়বে। আমাদের মত গরিব দেশ কি এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারবে? এর সঙ্গে আবার নতুন করে যুক্ত হচ্ছে বক্ষ্মপুত্র নদের উৎসস্থলে বাধ নির্মান। অব¯া’ দৃষ্টে মনে হচ্ছে বাঁধের ফাঁদে আটকে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পরিত্রান কি একেবারেই অসম্ভব?আমার কছে মনে হয় আমাদের সবার আগে দরকার মাথা উচু করে দাড়ানোর মানসিকতা। ভারত বড় রাষ্ট্র বলে কি; বাংলাদেশের উজানে বাঁধ দিলে বাংলাদেশের কিছুই করার নেই ॥ অবশ্যই আছে। মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ দক্ষিন এশিয়ার একটি সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র। প্রায় একই ধরনের সাংস্কৃতিক ঐক্য এখানে বিরাজমান।আমরা এও জানি ভারতের অভ্যন্তরে রয়েছে পাঁচ শতাধিক জাতি- ভাষা- ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর মানুষ। যা দেশটির অখন্ডতা রক্ষার প্রধান অন্তরায়। বিশেষ করে বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানের কারনে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন দর কষাকষিরও হাতিয়ার।
সেই সময়ের ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব রাজিব সিক্তি কলকাতায় “বিমসটেক অগ্রগতির পথ” শীর্ষক এক সেমিনারে বাংলাদেশকে ভারতের সবচেয়ে গুরত্বপূর্ন প্রতিবেশি হিসাবে অভিহিত করে বলেছিলেন; বাংলাদেশের সাহায্য ও সমর্থন ছাড়া আমরা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যেতে পারবো না। আমাদের পূর্বমুখি নীতির সফলতার জন্য বাংলাদেশ সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ। উক্ত সেমিনারে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলিয় কমান্ডের সাবেক প্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল জে.আর মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন; বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে অর্থপূর্ন উপায়ে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রশমন করেছে। (সুত্রঃ দৈনিক খবর)।
এখন আমার প্রশ্ন হল যেখানে ভারতের কর্নধাররা বাংলাদেশকে এতটা গুরত্ব দিচ্ছে গুরত্বপূর্ণ ভাবছে সেখানে বাংলাদেশের সরকার ও বিরোধীদলের নেতা নেত্রি সহ বাংলাদেশের জনগন নিজেকে এতটা গুরত্বহীন ভাবছে কেন?
এমতবস্থায় তিব্বতীয় মালভূমি এলাকায় দক্ষিনমূখি সব নদীর উপর বৃহৎ চীনের উন্নয়ন প্রকল্পের সব তথ্য ভাটির দেশগুলোর কাছে প্রকাশ করা উচিত। হিমালয় এলাকার দক্ষিনমূখি নদীর উপর পরিকল্পিত সমস্ত অবকাঠামো বাতিল করন, চীন ভারত ভূটান নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রবাহিত সব আন্তরাষ্ট্রীয় নদী ও পানি সম্পদ বিষয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রনয়ন; নদীর উপর বৃহৎ অবকাঠামো নির্মানের নীতি পরিহার এবং মুক্ত নদী নীতি গ্রহন করতে হবে। এক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষাও জরুরি। আন্তর্জাতিক নদী আইনের প্রতি সকল দেশের শ্রদ্ধাশীল হওয়াটাও জরুরি। আমাদের সরকারকে এ ব্যাপারে সব সময় তৎপর হতে হবে। নচেৎ বাংলাদেশ সাহারা মরুভূমি হতে আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না।
বদরগঞ্জ,রংপুর।
তারিখ-১৯ডিসেম্বর/১৬
মোবাইলঃ ০১৭১৭৮৫০৯৬৪