শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে ছাতিম নামক উদ্ভিদটি

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে ছাতিম নামক উদ্ভিদটি


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

ছাতিম একটি গাছের নাম। ছত্র বা ছাতা হতে নামের উৎপত্তি। চিরহরিৎ গাছটির আরেকটি নাম আছে। তা হল সপ্তপর্নী। গাছের শীর্ষে গোল করে থাকে ৫-৭টি বড় বড় পাতা। এ কারনে গাছটির নাম সপ্তপর্নী। ছাতিমের বৈজ্ঞানিক নাম আ্যালসটোনিয়া স্কোলারিস, গোত্রের নাম আ্যাপোসাইসেসি। এক সময় এর কাঠ দিয়ে স্কুলের ব্লাক-বোর্ড তৈরি করা হতো। ছাতিমের ফুল ফোটে হেমন্ত আর অগ্রায়ন মাসে। সাদাটে সবুজ ছোট ছোট থোকা থোকা ফুল খুব ঝাঁঝালো গন্ধের হয়। এর সুগন্ধ সন্ধ্যার বাতাস ভরে তোলে এবং তা দুর দরান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। এর সুগন্ধ খুবই উপভোগ্য। গাছটির উচ্চতা ৩০ হতে ৪০ মিটার পর্যন্ত হয়। প্রকৃতি হতে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে ছাতিম নামক উদ্ভিদটি। চিরচেনা এই উদ্ভিদটি এক সময় বাংলাদেশের সবখানে দেখা গেলেও বর্তমানে তেমন আর চোখে পড়ে না।
সরেজমিনে ঘুরে বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির কিসমত ঘাটাবিল এলাকার রেল লাইনের ধারে দেখা মেলে গাছটির।
ছাতিম গাছ সম্পর্কে কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঘাটাবিল ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এমারুল হকের(৫৫)সাথে,তিনি জানান; এক সময় কমবেশি সকল স্থানে ছাতিমের গাছ চোখে পড়তো। বর্তমানে আর দেখা যায় না। গাছগুলি কেটে ফেলে নতুন চারা না লাগানোর কারনে গাছটি আজ বিলুপ্তির পথে।
কথা হয় ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা(৬০)সাথে,তিনি জানান; আম লিচুর গাছ আমরা যেভাবে রোপন করছি তার কিঞ্চিত পরিমানও ছাতিম গাছের চারা রোপন করছি না। উপরন্তু যে সকল ছাতিম গাছ ছিল তা কেটে আমরা সাবাড় করে ফেলেছি।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; প্রকৃতি বান্ধব ছাতিম গাছটি আর নেই বললেই চলে। কারনে অকারনে আমরা গাছটিকে কেটে শেষ করে দিয়েছি। ছাতিমের কাঠ দিয়ে স্কুল কলেজের ব্লাক বোর্ড,দিয়াশলাইয়ের বক্স ও কাঠি, আসবাবপত্র তৈরি করা হয়। এছাড়াও ছাতিমের ছাল ও কস(রস) জ্বর আমাশয় ও চর্মরোগ ভাল করতে কার্যকর ভুমিকা রাখে। বর্তমান সময়ের ছাত্র-ছাত্রিরা ছাতিম নামক গাছটিকে চেনে না। নতুন প্রজন্মের মানুষদের ছাতিম সম্পর্কে এবং এর উপকারিতা সম্পর্কে জানাতে হবে। তিনি আরও জানান; আমাদের প্রয়োজনে গাছটিকে সংরক্ষন করতে হবে তা না হলে ছাতিম নামের প্রকৃতি বান্ধব গাছটি একদিন হারিয়ে যাবে নিশ্চিত।
বদরগঞ্জ উপজেলা সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক চন্দ্র রায় জানান; দেশিয় প্রজাতির ছাতিম নামক গাছটিকে আমাদের স্বার্থে সংরক্ষন করতে হবে। তা না হলে প্রকৃতি হতে একদিন হারিয়ে যাবে। 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৭ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...