
অর্থনীতিতে বিশাল ভুমিকা রাখতে পারে অবহেলিত এক উদ্ভিদের নাম কচুরিপানা
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
আমাদের বাড়ির আশে পাশে পুকুর ডোবা নালা বা পরিত্যক্ত কোন জলাশয়ে আপনাআপনি ভাবে বেড়ে উঠে যে উদ্ভিদটি তার নাম কচুরিপানা। কচুরিপানা একাধারে পরিবেশ দুষন মুক্তকারি,জমির উর্ব্বরতা শক্তি বৃদ্ধিকারি,মাটির গুনগত মান আনায়ন কারি,জৈব গ্যাস উৎপাদন কারি,গবাদি পশুখাদ্য সরবরাহকারি হিসেবে অবহেলিত এই উদ্ভিদটিও যে আমাদের দেশের অর্থনীতিতে বিশাল ভুমিকা রাখতে পারে এ বিষয়টি আরও ভালো ভাবে আমাদের জানা দরকার। কচুরিপানার বৈজ্ঞানিক নাম আইকরনিয়া ক্রাসিপেস
গোত্রের নাম পনটিডিরেসি।
বিজ্ঞানীদের ধারনা;কচুরিপানার উৎপত্তিস্থল দক্ষিন আমেরিকার ভেনিজুয়েলায়।
ভারতের জহরলাল নেহেরু কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষনা রিপোর্ট অনুযায়ি শুকনা কচুরিপানায় আছে প্রায় ২২.৯ভাগ আমিষ,২.১২ভাগ চর্বি,১৮.৩ভাগ আঁশ,১৭.৮ভাগ ছাই,৩.৬৫ভাগ নাইট্রোজেন,৩.৮৭ফসফরাস এবং র্কাব-নাইট্রোজেনের অনুপাত ১৭ঃ১। কচুরিপানার গাছ অপেক্ষা পাতায় বেশি পরিমানে আমিষ জাতীয় পদার্থ পাওয়া যায়। যার পরিমান ৩২.৯ভাগ। তাই একে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করলে গরুকে প্রাকৃতিক উপায়ে স্বাস্থ্যবান করা সম্ভব।
কচুরিপানা হতে জৈব গ্যাস ঃ
আমাদের দেশে জ্বালানি সংকট প্রকট। ছোট ছোট জৈব গ্যাসের প্লান্ট তৈরি করে ছোট পরিবারগুলো অনায়েসে রান্নার কাজে সুবিধা নিতে পারে। এজন্য ৪ফুট হতে ৮ফুটের মোটা টিনের তৈরি বায়ুরোধি একটি প্লান্ট তৈরি করতে হবে। প্লান্টটিতে পচা কচুরিপানা ও পানি দিয়ে ভর্তি করতে হবে। এটি মাটির নিচে থাকবে। এ প্লান্টের গ্যাস হতে রান্নার কাজ সহ বাতি জ্বালানো সম্ভব।
কাগজের মন্ড তৈরি ঃ
কচুরিপানার মন্ড, ব্লিচিং পাউডার, ক্যালসিয়াম কার্বনেট ও সোডিয়াম কার্বনেট এক সাথে করে উত্তপ্ত করলে কাগজের মন্ড প্রস্তুত হয়।
মশার কয়েল তৈরিঃ
শুকনা কচুরিপানাকে সিদ্ধ করে মন্ড তৈরি করতে হবে। এর সাথে চিটাগুড়, কাঠের গুঁড়া,ব্লিচিং পাউডার ও ধুপ এক সাথে মিশিয়ে রোদে শুকালে ভাল জ্বলে এবং মশা তাড়ানো যায়।
কীটনাশক ও সার হিসেবে কচুরিপানাঃ কাঁচা কচুরিপানার মন্ড,কপার সালফেট বা তুঁতে এক সাথে মিশিয়ে ফসলে স্প্রে করলে করলে কীটপতঙ্গ যেমন মরে যাবে অন্য দিকে জমিতে মান সম্পন্ন সার স্প্রে করা হবে।
মাছের খাদ্য হিসেবে কচুরিপানাঃ মাছের দৈহিক বৃদ্ধি,রোগমুক্ত ও সুস্থ্য রাখার জন্য প্রয়োজন খাদ্য ও সার। আর উৎকৃষ্ট মানের কম্পোষ্ট সার ও খাদ্য তৈরি হতে পারে এই কচুরিপানা দিয়েই। কারন এই কম্পোষ্ট সারটি তৈরি করতে ৮৮ভাগ কচুরিপানা প্রয়োজন। আমরা কম বেশি সবাই জানি গ্রাসকার্প নামক মাছটি কচুরিপানা সরাসরি খেয়ে থাকে। এ ছাড়াও কচুরিপানার তৈরি কম্পোষ্ট সারটি জমির উর্ব্বরতা শক্তি বৃদ্ধিতে কার্যকর ভুমিকা রাখে।
খাদ্য হিসেবে কচুরিপানার ব্যবহারঃ কচুরিপানার নীলাভ ফুল হতে তৈরি করা যায় স্বুস্বাদু বড়া। এই বড়া অধিক প্রোটিন সমৃদ্ধ।
এছাড়াও কচুরিপানা দিয়ে দড়ি তৈরি,পেট্রোলিয়াম জাতীয় দ্রব্য প্রস্তুত,পানি বিশুদ্ধকরন সহ নানা কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; অবহেলিত কচুরিপানা গ্রামিন অর্থনীতেতে বিশাল ভুমিকা রাখতে পারে। সহজলভ্য অবহেলিত এই উদ্ভিদটিকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য না করে এর অবদানের কথা মাথায় রেখে এ ব্যাপারে আরও গবেষনা করা দরকার।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন