প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে বটবৃক্ষ
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
বট শুধু বৃক্ষ নয়। এ হল বৃক্ষরাজ,বনস্পতি,মহিরুহ। মোরাসি গোত্রের বিশালাকার উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম ফাইকাস বেঙ্গালেনসিস। এক সময় বাংলাদেশের সকল অঞ্চলে বট গাছ দেখা যেত। বাংলা সংস্কৃতি ও প্রকৃতি সংস্পর্শে মিশে আছে বট বৃক্ষ। যার শাখা প্রশাখা চারপাশ ছড়িয়ে ইকোলজিক্যাল সিষ্টেম ধরে রাখে।
আমাদের পরিবারের জীবিত বয়স্ক ব্যক্তিকে বটবৃক্ষের সাথে তুলনা করা হয়। বর্তমানে বট গাছ আর তেমন চোখে পড়ে না। একটা সময় ছিল যখন বাড়ির সামনে,জমির ধারে ও খেয়াঘাটগুলোতে বট গাছ থাকতো। তখন কোন ঠিকানা নিশ্চিত করতে বট গাছকেই ব্যবহার করা হতো। বট গাছ ছিল মানুষের মিলন মেলা। খেয়াঘাটে বটগাছের নীচে মানুষের জন্য তৈরি করা হতো বাঁশের মাচাং। যেখানে খেয়া পারাপারের আগে পথচারিরা অলস সময় কাটিয়ে খেয়া পার হতো। গ্রাম-গঞ্জের মেলাও বসতো বটবৃক্ষের নীচে। এমনকি কৃষি শ্রমিকরা এক সময় বিশ্রাম নিতো এই বট বৃক্ষের তলায়।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার কবিতায় লিখেছেন;“লুটিয়ে পড়ে জটিল জটা,ঘন পাতায় গহন ঘটা,হেতা-হোতায় রবির ছটা,পুকুর ধারে বট”।
বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীন ব্যক্তি নলিনী সরকার(৯০) মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদকে জানান; ছোট বেলা হতে আমাদের এ অঞ্চলে অসংখ্য বটবৃক্ষ ছিল। পুরাতন বটগাছগুলো মানুষ কেটে ফেললেও নতুন করে কোন চারা রোপন না করায় আর চোখে পড়ছে না প্রকৃতি বান্ধব এই বট গাছ। বিশাল আকৃতির এই বটগাছগুলোকে আমাদের প্রয়োজনে রক্ষা করতে হবে।
ঐতিহ্যের ধারক ও পরিবেশ বান্ধব এই বটগাছ নিয়ে পরিবেশ ও প্রকৃতিবিদগন গবেষনালব্ধ জ্ঞান হতে বলেছেন “যখন কোন প্রজাতি ধ্বংস হয়ে পরিবেশের ইকো সিষ্টেম নষ্ট করে তখন ধরে নেয়া যায় সেই জায়গা থেকে বটগাছ নিধন হয়েছে। পাখি কমে যাওয়ার অন্যতম কারন বটগাছ নিধন হওয়া”।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; একটি বট গাছ কাটার সাথে সাথে ৩ শতাধিক প্রজাতির আবাস নষ্ট হয়। এরা আশ্রয়ের সন্ধান খুঁজে বেড়ায়। আশ্রয় না মিললে এক সময় হারিয়ে যায় বা বিলুপ্ত হয়।
তিনি আরও জানান;আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে পরিবেশ বান্ধব বৃহৎ আকৃতির এই বটবৃক্ষকে রক্ষা করতে হবে। তা না হলে একদিন প্রকৃতি হতে এই বৃক্ষরাজ হারিয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৫ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
বট শুধু বৃক্ষ নয়। এ হল বৃক্ষরাজ,বনস্পতি,মহিরুহ। মোরাসি গোত্রের বিশালাকার উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম ফাইকাস বেঙ্গালেনসিস। এক সময় বাংলাদেশের সকল অঞ্চলে বট গাছ দেখা যেত। বাংলা সংস্কৃতি ও প্রকৃতি সংস্পর্শে মিশে আছে বট বৃক্ষ। যার শাখা প্রশাখা চারপাশ ছড়িয়ে ইকোলজিক্যাল সিষ্টেম ধরে রাখে।
আমাদের পরিবারের জীবিত বয়স্ক ব্যক্তিকে বটবৃক্ষের সাথে তুলনা করা হয়। বর্তমানে বট গাছ আর তেমন চোখে পড়ে না। একটা সময় ছিল যখন বাড়ির সামনে,জমির ধারে ও খেয়াঘাটগুলোতে বট গাছ থাকতো। তখন কোন ঠিকানা নিশ্চিত করতে বট গাছকেই ব্যবহার করা হতো। বট গাছ ছিল মানুষের মিলন মেলা। খেয়াঘাটে বটগাছের নীচে মানুষের জন্য তৈরি করা হতো বাঁশের মাচাং। যেখানে খেয়া পারাপারের আগে পথচারিরা অলস সময় কাটিয়ে খেয়া পার হতো। গ্রাম-গঞ্জের মেলাও বসতো বটবৃক্ষের নীচে। এমনকি কৃষি শ্রমিকরা এক সময় বিশ্রাম নিতো এই বট বৃক্ষের তলায়।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার কবিতায় লিখেছেন;“লুটিয়ে পড়ে জটিল জটা,ঘন পাতায় গহন ঘটা,হেতা-হোতায় রবির ছটা,পুকুর ধারে বট”।
বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীন ব্যক্তি নলিনী সরকার(৯০) মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদকে জানান; ছোট বেলা হতে আমাদের এ অঞ্চলে অসংখ্য বটবৃক্ষ ছিল। পুরাতন বটগাছগুলো মানুষ কেটে ফেললেও নতুন করে কোন চারা রোপন না করায় আর চোখে পড়ছে না প্রকৃতি বান্ধব এই বট গাছ। বিশাল আকৃতির এই বটগাছগুলোকে আমাদের প্রয়োজনে রক্ষা করতে হবে।
ঐতিহ্যের ধারক ও পরিবেশ বান্ধব এই বটগাছ নিয়ে পরিবেশ ও প্রকৃতিবিদগন গবেষনালব্ধ জ্ঞান হতে বলেছেন “যখন কোন প্রজাতি ধ্বংস হয়ে পরিবেশের ইকো সিষ্টেম নষ্ট করে তখন ধরে নেয়া যায় সেই জায়গা থেকে বটগাছ নিধন হয়েছে। পাখি কমে যাওয়ার অন্যতম কারন বটগাছ নিধন হওয়া”।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; একটি বট গাছ কাটার সাথে সাথে ৩ শতাধিক প্রজাতির আবাস নষ্ট হয়। এরা আশ্রয়ের সন্ধান খুঁজে বেড়ায়। আশ্রয় না মিললে এক সময় হারিয়ে যায় বা বিলুপ্ত হয়।
তিনি আরও জানান;আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে পরিবেশ বান্ধব বৃহৎ আকৃতির এই বটবৃক্ষকে রক্ষা করতে হবে। তা না হলে একদিন প্রকৃতি হতে এই বৃক্ষরাজ হারিয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৫ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন