বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

কৃষি শ্রমিকের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরু-মহিষের হাল

কৃষি শ্রমিকের অভাবে
হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরু-মহিষের হাল


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

সময়ের সাথে সাথে এক সময়ের গ্রাম বাংলার ঐহিত্য গরুর হাল দিয়ে জমি চাষ হারিয়ে যেতে বসেছে।
আধুনিক যুগে পাওয়ার টিলার আর ট্রাক্টরের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে এক সময়ের গরু-মহিষের হাল দিয়ে জমি চাষ। বর্তমান সময়ের কৃষকরা মনে করেন গরু কিংবা মহিষের হাল দিয়ে জমি চাষ করতে বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু তারা এও স্বীকার করেন যে,জমি চাষ করতে গরু-মহিষের হালের কোন জুড়ি নেই। মুলতঃ সময় বাঁচাতেই বর্তমান সময়ের কৃষকরা ট্রাক্টর কিংবা পাওয়ার টিলারের দিকে ঝুকে পড়েছেন।
কথা হয় বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত কৃষক আফজাল প্রামানিকের(৬৫) সাথে,তিনি জানান;আমাদের বাড়িতে আগে ৫-৬জোড়া গরু মহিষের হাল ছিল। বর্তমানে আছে ১জোড়া গরুর হাল। পাওয়ার টিলার দিয়ে এখন আমরা জমি চাষ করি। গরু মহিষের হাল দিয়ে জমি চাষ করতে বাড়তি কৃষি শ্রমিক প্রয়োজন হয়। বর্তমানে কৃষি শ্রমিক পাওয়া যায় না। পাওয়ার টিলার দিয়ে অল্প সময়ে অনেক জমি চাষ করা যায়। বাড়তি কৃষি শ্রমিকও লাগে না।
তিনি বলেন; পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি ভাল ভাবে চাষ করা যায় না এটা সত্যি। মাটি ঝুঁরঝুঁরে করতে গরু-মহিষের হালের প্রয়োজন হয়। শুধু মাত্র কৃষি শ্রমিক স্বল্পতার কারনেই আমি আমার জমি বাধ্য হয়ে পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করি।
তিনি আরও জানান;জমি চাষ করতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরু কিংবা মহিষের হাল দিয়ে জমি চাষ এখন আর নেই বললেই চলে। বর্তমানে গ্রামের খুব কম বাড়িতেই গরু-মহিষের হাল রয়েছে। গরু মহিষের হাল আমাদের দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সাথে মিশে আছে,এর সংরক্ষন জরুরি। তা না হলে একদিন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য জমি চাষের জন্য গরু-মহিষের হাল কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
কথা হয় একই গ্রামের কৃষক এমারুল হকের(৫৫)সাথে,তিনি জানান;জমি চাষে গরু মহিষের হালের কোন বিকল্প নেই। শুধুমাত্র কৃষি শ্রমিক স্বল্পতা আর সময় বাঁচাতে গরু-মহিষের হাল উঠে যাচ্ছে।
আমি আমার জমিতে পেঁয়াজ, রসুন,পটল,করলা আবাদ করেছি। গরু-মহিষের হাল ছাড়া এ সমস্ত ফসলের জমি তৈরি করা অসম্ভব। তিনি আরও জানান; আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরু মহিষের হাল এটা আমাদেরকেই সংরক্ষন করতে হবে। তা না হলে জমি চাষের জন্য গরু মহিষের হাল বিলীন হয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান;আগে আমাদের বাড়িতেও ৫-৬জোড়া গর-মহিষের হাল ছিল। সময় মত কৃষি শ্রমিক পাওয়া যায় না বিধায় গরু মহিষের হাল কমে গেছে।
ফসলের জন্য জমি উপযুক্ত করতে গরু-মহিষের হালের কোন বিকল্প নেই।
তিনি আরও জানান;পাওয়ার টিলার আর ট্রাক্টর দিয়ে আর যাই হোক জমি উপযুক্তভাবে প্রস্তুত করা যায় না। জমি তৈরি জন্য আমাদের দেশের ঐতিহ্য গরু-মহিষের হাল আমাদেরকেই রক্ষা করতে হবে। তা না হলে জমি তৈরিতে যে আগে গরু মহিষের হালের ব্যবহার হতো,তা আগামি প্রজন্ম জানতেই পারবে না।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; সময় বাঁচাতে আর কৃষি শ্রমিকের অভাবে জমি চাষের জন্য গ্রাম বাংলার এক সময়ের ঐতিহ্য গরু-মহিষের হাল আর তেমন চোখে পড়ে না। নিজেদের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে তো নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৪ ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪      
 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...