কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
সুিধর রায় কর্মকার(৮৫)। পেশায় কামার। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির আমরুল বাড়ি গ্রামে। সেই ব্রিটিশ আমল হতে বাপ-দাদার হাত ধরে এই পেশার সাথে যুক্ত হওয়া। তখন হতে আজ অবধি তিনি কামারের কাজ করে চলেছেন। তার তিন সন্তানও এই পেশার সাথে সরাসরি জড়িত। মুলতঃ তারাই এখন এই ক্ষুদ্র ব্যবসাটি পরিচালনা করছেন।দা,কুড়াল,ছুরি,বটি,কোদাল সহ ব্যবহার্য নানা ধরনের জিনিষপত্র লোহা দিয়ে তিনি তৈরি করেন। শুধুমাত্র এই ব্যবসা করেই সুধির রায় কর্মকার আজ স্বাবলম্বি।
সরেজমিনে পৌরশহরের শহীদ মিনার সংলগ্ন কামার পল্লীতে গিয়ে কথা হয়, কামার শিল্পের সাথে জড়িত প্রবীন কামার সুধির রায়ের সাথে,তিনি জানান; ছোট বেলা হতে এই কাজ করছি। আমাদের পুর্বপুরুষের পেশা এটি। ব্রিটিশ আমলে আমার বাবা-দাদু কামারের কাজ করতো। তাদেরকে সহয়োগিতা করতে আমার এ কাজে জড়িয়ে যাওয়া। আমার তিন সন্তানও এই ব্যবসার সাথে জড়িত। বর্তমানে তারা আমাকে সহযোগিতা করছে। ভগবানের দয়ায় এই ব্যবসা করেই আজ আমি স্বাবলম্বি। আমি মুলতঃ এখানকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমার মালামাল পাঠাই,তাতে আমার ব্যবসা ভাল হয়।
তিনি আরও জানান;ভাল লাগে এই ভেবে যে,আমার এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ৩০জন লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরেছি। তবে এ পেশা অত্যন্ত পরিশ্রমের। যে কেউ ইচ্ছে করলেই এ ধরনের কাজ করতে পারবে না।
কর্মচারি ধনঞ্জন মহন্ত(৫৫)জানান; কয়েক যুগ ধরে এ কাজ করছি। অন্য কাজ জানি না। প্রতিদিন এখানে কাজ করে ৬শত টাকা পাই, যা দিয়ে চলে আমার সংসার।
কর্মচারি ধীরেন চন্দ্র রায়(৪৫)জানান;এক সময় বেকার ছিলাম। এই প্রতিষ্ঠানে ১০বছর ধরে কাজ করছি। প্রতিদিন যা উপার্জন হয় তা দিয়েই চলে আমার সংসার।
কামার পল্লীতে কথা হয়,অপর কামার কার্তিক চন্দ্রের(৬৫)সাথে,তিনি জানান; পাকিস্তান আমল হতে কামারের কাজ করছি। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১০জন শ্রমিক আছে। আমিও এখানকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের নানা প্রান্তে মালামাল পাঠাই তাতে আয় ভাল হয়। এই ব্যবসা করে ভগবানের দয়ায় আমি ভাল আছি।
খুচরা ব্যবসায়ি তোছাদ্দেক হোসেন জানান;সুধির কামারের কাছ হতে পাইকাড়ি দা,ছুরি,খুন্তি,কোদাল সহ নানা ধরনের মাল ক্রয় করে বাজারে বিক্রি করি। এতে আমার ব্যবসা ভাল হয়।
দা কিনতে আসা বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান;মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় যেমন,দা,বটি,কোদাল, খুন্তি,ছুরি সহ নানা ধরনের জিনিষপত্র তারা তৈরি করেন। আসলে এটি একটি শিল্প। দেশিয় এই শিল্পটি যাতে টিকে থাকে এ জন্য সকলের সহযোগিতা করা উচিত।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৫ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন