বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

ওরা হিজরা , হিজরাদের সাথে একদিন

ওরা হিজরা
হিজরাদের সাথে একদিন


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
সৈয়দ আলি(৫৯),নুপুর(৩৭),ফরিদা(২৫),স্বপ্না(২৪),কেয়া(২৫) শান্তা(২৭) মেঘা(৩৫)। এদের সকলের বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে। ওরা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। আর সাধারন মানুষ হতে তারা সম্পুর্নরুপে আলাদা। দেখতে পুরুষ কিংবা মহিলাদের মত মনে হলেও তারা পুরুষ কিংবা মহিলা কোনটিই নয়। এই সমস্ত মানুষগুলো পরিবার পরিজন হতে যেমন বিচ্ছিন্ন তেমনি অন্যের দয়া ও অনুকম্পায় বেঁচে আছে এরা। এ নিয়ে তাদের ক্ষোভের অন্ত নেই। বেঁচে থাকা তাদের কাছে এক অসহনীয় যন্ত্রনার। 
সরেজমিনে গিয়ে এ বিষয়ে তৃতীয় লিঙ্গের এই মানুষগুলোর সাথে কথা হলে দলনেতা সৈয়দ আলি(৫৯)জানান; আমাদের কষ্টের কথা কেউ বুঝতে চায় না। আমাদের নিজস্ব কোন জায়গা নেই,বাড়ি নেই, সংসার নেই। দীর্ঘ ২ যুগেরও বেশি সময় ধরে অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মি হিসেবে ছিলাম। শুন্য হাতে এক সময় ওই বাড়ি হতে চলে আসি। এই বৃদ্ধ বয়সে আমি এখন কোথায় যাবো?কে আমার ভরন-পোষনের দায়িত্ব নেবে? আমরাও মানুষ। আমরা অন্যের দুঃখ কষ্টের কথা বুঝলেও আমাদের কষ্টের কথা কেউ শুনতেও চায় না বুঝতেও চায় না।  
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর মোক্তারপাড়া গ্রামের হিজরা কোহিনুর(৪৫),তিনি জানান; আমাদের কষ্টের জীবন। অতি কষ্টে আমরা বেঁচে আছি। প্রতিনিয়ত অন্যের লাথি আর অপমান নিয়ে আমাদের চলতে হয়। নিজেদের বাড়িতেও আমরা অবহেলিত। নিজ গ্রামের মানুষরাও আমাদের সাথে মিশে না। ভাল চোখে দেখে না। বাধ্য হয়ে বাঁচার তাগিদে আমরা হিজরারা একত্রিত হয়ে গ্রামে গ্রামে হাত পেতে অন্যের সাহায্যে বেঁচে আছি।
বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের হিজরা নুপুর(৩৭)জানান; আমাদের পরিবার পরিজন থেকেও নেই। ওরা আমাদের খোঁজ নেন না। এ ভাবে বেঁচে থাকার নামকে কি জীবন বলে? আর ভাল লাগে না। আমরা বদরগঞ্জের হিজরারা একসঙ্গে থাকতে চাই। সরকার যদি আমাদের সরকারি জমিতে পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করে দিত তাহলে আমাদের উপকার হতো।
তিনি আরও জানান; আমরা মানুষের লাথি আর অপমান সহ্য করে তাদের কাছে হাত পেতে সাহায্য নিয়ে কোন রকমে জীবন বাঁচাই,কিন্তু সবচাইতে খারাপ লাগে,রংপরের হিজরা নুরজাহান ও তার লোকজন এসে প্রতি মাসে আমাদের কাছ হতে জোরপুর্বক ৩ হাজার টাকা করে নিয়ে যায়। এভাবে বদরগঞ্জ হতে প্রতিমাসে নুরজাহান ৩ হাজার টাকা এবং তারাগঞ্জ হতে ২ হাজার টাকা নিয়ে যায়। টাকা দিতে দেরি হলে কিংবা অস্বীকৃতি জানালে রংপুরের হিজরারা আমাদের বাড়ি হতে বের হতে দেয় না এবং শারিরীক ও মানুষিক নির্যাতন চালায়। এ হতে আমরা পরিত্রান চাই। তার কথার সুত্র ধরে বাকি সকল হিজরারাও একই কথা এই প্রতিবেদকে জানান। 
বদরগঞ্জ গোপালপুর ইউপির হিজরা ফরিদা(২৫)জানান; শুনেছি সরকার হিজরাদের জন্য অনেক কিছু করছে। কিন্তু আমরা সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা হতে বঞ্চিত। আমরা প্রতিবন্ধি ভাতাও পাই না।
বদরগঞ্জ সমাজসেবা অফিসার নজরুল ইসলাম জানান;ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে শুধু হিজরা সনাক্তকরন সম্ভব। বদরগঞ্জ উপজেলায় সামসুন্নাহার নামে একজন হিজরা পাওয়া গেছে। তাকে সরকারি ভাতা দেয়ার
প্রক্রিয়া চলছে। 
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার কাজি আবেদা গুলশান জানান; বর্তমান সরকার হিজরাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। ধীরে ধীরে সম্পুর্ন হিজরা সম্প্রদায়কে ভাতার আওতায় আনা হবে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৮ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...