রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে অশ্বথ(পাকুড়)গাছ


প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে অশ্বথ(পাকুড়)গাছ


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
 

অশ্বথ বৃক্ষ। আঞ্চলিক ভাষায় একে পাকুড় বৃক্ষ নামে সকলেই চেনে। এর আরেকটি নাম হল বোধিদ্রুম। 
বৌদ্ধদের ধর্মিয় গুরু গৌতম বুদ্ধ এই গাছের তলায় বসে বুদ্ধত্ব লাভ করেন। অশ্বথ গাছটি বৌদ্ধ ও হিন্দুদের কাছে অতি পবিত্র। অশ্বথের(পাকুড়ের)বৈজ্ঞানিক নাম ফাইকাস রেলিজিওসা,গোত্রের নাম মোরাসি।
৬০-৭০মিটার উঁচু গাছটি বটবৃক্ষের নিকটাত্মীয়। গাছটি ২ হাজার বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এর ফুল দেখা যায় না। ফলগুলো বট গাছের মত। অবশ্য বট গাছের মত অশ্বথ(পাকুড়)গাছের ঝুরি থাকে না। এর পাতাগুলি অনেকটা পান পাতার মত। শীতকালে এই গাছের পাতাগুলি ঝরে পড়ে যায়। এই গাছের নীচে দাঁড়ালে সামান্য বাতাসে পাতার ঝমঝম শব্দ শোনা যায়। 
এক সময় বাংলাদেশের সকল অঞ্চলে অশ্বথ(পাকুড়) গাছ দেখা যেত। বাংলা সংস্কৃতি ও প্রকৃতি সংস্পর্শে মিশে আছে এই অশ্বথ বৃক্ষ। বর্তমানে অশ্বথ(পাকুড়) গাছ আর তেমন চোখে পড়ে না। একটা সময় ছিল যখন বাড়ির সামনে,জমির ধারে ও খেয়াঘাটগুলোতে অশ্বথ গাছ থাকতো। তখন কোন ঠিকানা নিশ্চিত করতে পাকুড় বা অশ্বথ গাছকে ব্যবহার করা হতো। অশ্বথ গাছ ছিল মানুষের মিলন মেলা। খেয়াঘাটে অশ্বথ গাছের নীচে মানুষের জন্য তৈরি করা হতো বাঁশের মাচাং। যেখানে খেয়া পারাপারের আগে পথচারিরা অলস সময় কাটিয়ে খেয়া পার হতো। গ্রাম-গঞ্জের মেলাও বসতো এই অশ্বথ বৃক্ষের নীচে। এমনকি কৃষি শ্রমিকরা এক সময় বিশ্রাম নিতো এই অশ্বথ বৃক্ষের তলায়।
বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীন ব্যক্তি নলিনী সরকার(৯০) মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদকে জানান; ছোট বেলা হতে আমাদের এ অঞ্চলে অসংখ্য বট ও অশ্বথ বৃক্ষ ছিল। পুরাতন গাছগুলো মানুষ কেটে ফেললেও নতুন করে কোন চারা রোপন না করায় আর চোখে পড়ছে না প্রকৃতি বান্ধব এই বট ও অশ্বথ গাছ। বিশাল আকৃতির এই গাছগুলোকে আমাদের প্রয়োজনে রক্ষা করতে হবে। 
ঐতিহ্যের ধারক ও পরিবেশ বান্ধব এই বট ও অশ্বথ গাছ নিয়ে পরিবেশ ও প্রকৃতিবিদগন গবেষনালব্ধ জ্ঞান হতে বলেছেন “যখন কোন প্রজাতি ধ্বংস হয়ে পরিবেশের ইকো সিষ্টেম নষ্ট করে তখন ধরে নেয়া যায় সেই জায়গা থেকে বট ও অশ্বথ গাছ নিধন হয়েছে। পাখি কমে যাওয়ার অন্যতম কারন বট ও অশ্বথ গাছ নিধন হওয়া”।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; একটি বট ও অশ্বথ(পাকুড়)গাছ কাটার সাথে সাথে ৩ শতাধিক প্রজাতির আবাস নষ্ট হয়। এরা আশ্রয়ের সন্ধান খুঁজে বেড়ায়। আশ্রয় না মিললে এক সময় হারিয়ে যায় বা বিলুপ্ত হয়।
তিনি আরও জানান;আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে পরিবেশ বান্ধব বৃহৎ আকৃতির দেশিয় প্রজাতির এই বট ও অশ্বথ বৃক্ষকে রক্ষা করতে হবে। তা না হলে একদিন প্রকৃতি হতে এই অশ্বথ(পাকুড়)বৃক্ষ হারিয়ে যাবে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৯ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...