শীতের মিষ্টি রোদে হতদরিদ্র মহিলাদের চুল বাঁধা এবং তাদের বেঁচে থাকা !
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
আধুনিকতার ছোঁয়া আর প্রাচত্যের সংস্কৃতিতে শহুরে কিছু মানুষ গা ভাসিয়ে দিলেও গ্রামাঞ্চলের মানুষজন এখনও রয়ে গেছে প্রেম ভালবাসার মোহে আচ্ছন্ন। সহজ সরল এই মানুষগুলো কঠিন বাস্তবতা আর দারিদ্রতার মাঝেও তারা একজন আরেকজনকে মনে প্রানে ভালবাসে এবং সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। ছুটির দিনে বেড়ানোর ফাঁকে চলে যাই বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউপি পরিষদ কার্যালয়ে। একটু এগিয়ে গিয়েই দৃষ্টি কাড়ে শীতের মিষ্টি রোদে বসে কয়েকজন মহিলা পরম মমতায় একে অপরের মাথার চুল আছড়িয়ে দিচ্ছেন কেউবা মাথার উকুন তুলে দিচ্ছেন। গ্রাম বাংলার চিরাচরিত এই অপরুপ দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে। সকল মহিলার পরনে ছেঁড়া শাড়ি বা জামা থাকলেও বুঝা গেল তাদের একে অপরের প্রতি প্রেম, মমত্ব আর ভালবাসার বিষয়টি। এরা যেন সকলেই প্রেম ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ।
পরে জানা গেল,মহিলারা এই গ্রামেরই বাসিন্দা। এখানে ৩৫টি হতদরিদ্র পরিবার বাস করে। অনাহার অর্ধাহার যাদের নিত্য সঙ্গি অথচ তারা একে অপরের সাথে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে বেঁচে আছে।
মাথার চুল দেখতে বসা মিনতি বালা (৪৫),দুলালি রানি(৪৭),সুমি রানি(৩২) ও কিনি রানির(৫০) সাথে কথা হলে তারা জানান; আমাদের পরিবারের পুরুষরা বাঁশের তৈরি জিনিষপত্র নিয়ে বাজারে গেছে, ফিরে আসলে আমরা সবাই রান্নার কাজ শুরু করবো। সত্যি কথা বলতে কি বাড়িতে কোন খাবারই নেই?
তবুও ক্ষুধা নিয়ে মুচকি হেসে সকলেই উত্তর দিলেন,যতক্ষন ওনারা না আসেন,ততক্ষন রোদে একটু একে অপরের চুল দেখছি।
দোল কিনি বালা(৬০) জানান;আমাদের এই গ্রামের মানুষদের মুল কাজ বাঁশের তৈরি জিনিষপত্র যেমন,ডালা কুলা,চালা,পাটি সহ নানা ধরনের ব্যবহার্য জিনিষপত্র তৈরি করে বাজারজাত করা। আর তা দিয়ে যা আয় হয় তাতেই চালাতে হয় আমাদের প্রত্যেকের সংসার।
কথা হয় এই গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি মন্টু চন্দ্রের(৮৫)সাথে,তিনি জানান; এটি আমার পুর্বপুরুষের পেশা। বর্তমানে অনেক কষ্টে ধরে রেখেছি। গ্রামে আর আগের মত বাঁশ পাওয়া যায় না। দুরের কোন গ্রাম হতে বাঁশ বেশি দামে ক্রয় করে আনতে হয়। তাতে অনেক খরচ পড়ে যায়। লাভও তেমন হয় না। এ ছাড়া অন্য কাজও করতে পারি না, বাধ্য হয়ে কোন রকমে এ পেশা ধরে রেখেছি। তিনি আরও জানান; বাঁশের তৈরি দৃষ্টি নন্দন অনেক কাজ জানি কিন্তু টাকা পয়সার অভাবে করতে পারি না। কোন ব্যাংক কিংবা এনজিও যদি সহজ সুদে লোন দিত তাহলে আমাদের অনেক উপকার হতো। আমরা আরও দৃষ্টি নন্দন অনেক জিনিষ তৈরি করতে পারতাম।
গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজার রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ না করায় তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০১ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন