রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে মহামুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ আকন্দ


প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে মহামুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ আকন্দ


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

প্রকৃতির কোলে আপনাআপনি বেড়ে ওঠা একটি গাছের নাম আকন্দ। অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে উঠা গাছটির অবদান মনুষ্য সমাজে অনেকখানি। অনেকেই আমরা গাছটির গুনাগুন সম্পর্কে জানি আবার জানি না। ভেষজগুন সম্পন্ন দেশিয় প্রজাতির আকন্দ গাছটিকে জ্বালানি হিসেবে অনায়েসে কেটে ফেলে সাবাড় করে দিচ্ছি। অতীতে মুল্যবান এ গাছটিকে রাস্তার ধারে কিংবা পরিত্যক্ত কোন জমিতে খুব বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে আর আগের মত চোখে পড়ে না। আকন্দের বৈজ্ঞানিক নাম-ক্যালোট্রপিস প্রোসিরা,গোত্রের নাম-এসক্লিপিয়েডেসি। গাছটির উচ্চতা-৩-৬ ফিট। পাতা রোমশ ধরনের, এর পাতা ও ডাল হতে দুধের মত সাদা রংয়ের রসালো আটা বের হয়। মহামুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন গাছটির পাতা ব্যাথানাশক হিসেবে অত্যন্ত কার্যকর ভুমিকা রাখে।
সরেজমিনে গোটা উপজেলা ঘুরে বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের রেল লাইনের ধারে দেখতে পাওয়া যায়।
আকন্দ গাছ সম্পর্কে কথা হয় রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীন ব্যক্তি মহিউদ্দিন প্রামানিকের(৮৫)সাথে, তিনি জানান; দেশিয় প্রজাতির ভেষজগুন সম্পন্ন এ গাছটি আগে আমাদের বাড়িসহ যেখানে সেখানে পাওয়া যেত। জ্বালানি সংকটের কারনে গাছটিকে কেটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করায় আকন্দ গাছ আর চোখে পড়ছে না।
তিনি আরও জানান;অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে ওঠা গাছটি প্রকৃতির একটি অমুল্য সম্পদ। ব্যথানাশক হিসেবে খুবই কার্যকর। গাছটি যাতে প্রকৃতি হতে হারিয়ে না যায় সে দিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।
গ্রাম্য কবিরাজ রহমত আলি(৭০) জানান;অনেক খোঁজাখুঁজির পর রেললাইনের ধারে গাছটি পেলাম। একজন বাতের রোগির জন্য গাছটির পাতা আমার ভীষন দরকার ছিল। এখান হতে পাতা নিয়ে যাচ্ছি,ঔষধ তৈরি করবো।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান;নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা দেশিয় প্রজাতির আকন্দ গাছটিকে চেনে না এবং জানে না এর গুনাগুন সম্পর্কে। মানুষের নানা রোগ নিরাময়ে আকন্দ গাছ কার্যকর ভুমিকা রাখে। অথচ আমরা ভেষজ গুন সম্পন্ন গাছটিকে কেটে সাবাড় করে ফেলছি। আকন্দ গাছটিকে যদি আমরা না বুঝে জ্বালানি হিসেবে কেটে শেষ করি তাহলে প্রকৃতি হতে ভেষজগুন সম্পন্ন গাছটি একদিন চিরতরে হারিয়ে যাবে। তিনি আরও জানান;আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে দেশিয় প্রজাতির মহামুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন গাছটিকে আমাদের সংরক্ষন করতে হবে। আমাদের মত শিক্ষকদের উচিত হবে, শিক্ষার্থীদের মুল্যবান এ গাছটির সাথে পরিচিত করে দেয়া এবং এর গুনাগুন সম্পর্কে অবগত করা।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক চন্দ্র রায় জানান; আকন্দ গাছটিকে আর আগের মত পাওয়া যায় না। মুল্যবান ভেষজ গুন সম্পন্ন দেশিয় প্রজাতির এ গাছটিকে আমাদের স্বার্থেই রক্ষা করতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৬ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪        

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...