বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

ইউরিয়ার বিকল্প এ্যাজোলা

ডেইরি শিল্পেও অবদান রাখতে পারে এ্যাজোলা
ইউরিয়ার বিকল্প এ্যাজোলা

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

অবহেলা আর অনাদরে আপনা আপনি বেড়ে ওঠা উদ্ভিদের মধ্যে এ্যাজোলা একটি। অতি গুরুত্বপুর্ন উদ্ভিদটিকে আমাদের দেশের কৃষকরা আগাছা হিসেবে নষ্ট করে ফেলে। অথচ এই উদ্ভিদটি হতে পারে ইউরিয়ার বিকল্প। আমরা সবাই জানি যে,জমিতে ইউরিয়া ছিটিয়ে দেই ফসলের নাইট্রোজেনের ঘাটতি পুরনে। অথচ অবহেলিত এই এ্যাজোলা উদ্ভিদটিতে প্রচুর পরিমানে থাকে নাইট্রোজেন। যা উদ্ভিদের জন্য অতি প্রয়োজন। এ্যাজোলাতে নাইট্রোজেন ছাড়াও প্রচুর পরিমানে জৈব পদার্থ পাওয়া যায়। যা মাটির উর্ব্বরতা শক্তি বাড়ায়। দেশের কৃষকরা যদি এ্যাজোলা নামক উদ্ভিদটিকে আগাছা হিসেবে নষ্ট না করে তবে ইউরিয়া কিনতে তারা যে পরিমান আর্থিক ক্ষতি সহ হয়রানির স্বীকার হন তা থেকে তারা সহজেই মুক্তি পেতে পারেন। শুধু তাই নয় ডেইরি শিল্পেও এ্যাজোলাকে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ্যাজোলা চাষ করে তা গরুকে খাওয়ালে গরুর দুধ বৃদ্ধি সহ গরুকে মোটাতাজা করা সম্ভব। পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে ব্যাপক ভাবে এ্যাজোলা চাষ করে তারা এর সুফল নিচ্ছে।  
এ্যজোলা কি ?
এ্যাজোলা এক ধরনের জলজ উদ্ভিদ(পানা)। যা দ্রুত বর্ধনশীল। প্রায় বাংলাদেশের সকল অঞ্চলেই ডোবা নালা,এমনকি ধানের জমিতে সামান্য পানিতে এদের দেখতে পাওয়া যায়। এ্যাজোলা দ্রুত বর্ধনশীল বিধায় ধানের জমিতে এরা দ্রুত অঙ্গজ বিস্তার লাভ করতে পারে এবং পানির উপরিভাগে আস্তর তৈরি করে ফলে আগাছা জন্মাতে পারে না।
চাষ পদ্ধতিঃ ধান রোপনের ১০-১৫দিনের মধ্যে জমিতে ৪-৫সেমি পানি থাকা অবস্থায় এ্যাজোলা ছিটাতে হবে। উপযুক্ত পরিবেশে ১০-১৫দিনের মধ্যে এ্যাজোলা অঙ্গজ বিস্তার শুরু করে। এ সময় অল্প পানি থাকা অবস্থায় এ্যাজোলাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। আমাদের পরিত্যক্ত পুকুর ডোবা জলাশয়ে সারা বছর এ্যাজোলার চাষ করে জমিতে ইউরিয়া সারের বিকল্প হিসেবে একে ব্যবহার করা যেতে পারে। গাছের অনুখাদ্য উপাদানের উৎস হিসেবে এর ভুমিকা ব্যাপক। এটি ব্যবহারে গন্ধক,দস্তার ঘাটতি লাঘব করা সম্ভব। এছাড়াও এ্যাজোলা হরমোন সরবরাহ করে থাকে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক ও বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান মুক্তা জানান;জমিতে ইউরিয়ার ব্যবহার হয় মুলতঃ নাইট্রোজেনের কারনে। কৃষকরা যদি জমিতে মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া ব্যবহার করেন তাহলে ফসল ও জমির উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। ফলন কম হয়,জমির উর্ব্বরতা শক্তি কমে যায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এ্যাজোলা নামক জলজ উদ্ভিদটি বেশি পরিমান নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে। জমির উর্ব্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে। মাটির পানি ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এ্যাজোলাতে গাছের প্রয়োজনীয় নানা ধরনের খনিজ পুষ্টিগুন বিদ্যমান থাকে। হরমোনও সিক্রেশন করে।
তিনি আরও জানান; এ্যাজোলা ব্যবহারে ইউরিয়ার ব্যবহার বহুলাংশে কমিয়ে আনা যেতে পারে।   
বদরগঞ্জ উপজেলা প্রানিসম্পদ বিভাগের ভেটেরনারি সার্জন ডাঃ শাখাওয়াৎ হোসেন জানান; ডেইরি শিল্পে এ্যাজোলার গুরুত্ব অপরিসীম। এ্যাজোলা খাওয়ালে গরুর দুধ বৃদ্ধি সহ গরু সুস্থ্য সবল হবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন) কনক চন্দ্র রায় জানান; এ্যাজোলা নামক উদ্ভিদটি কৃষকরা সার হিসেবে ব্যবহার করলে ইউরিয়ার ব্যবহার কমে যাবে নিশ্চিত। তাতে কৃষকরা লাভবান হবেন।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৬ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
  
 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...