প্রকৃতি হতে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে মান্দার নামক গাছটি
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
প্রকৃতি হতে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে দেশিয় প্রজাতির অসংখ্য উদ্ভিদ। অসংখ্য উদ্ভিদ এর মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিছু উদ্ভিদ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। অযতœ অবহেলা আর জ্বালানির প্রয়োজনে আমরা নির্বিচারে কেটে শেষ করে ফেলছি প্রকৃতির মহামুল্যবান এই উদ্ভিদ গুলোকে। বিলুপ্তির দ্বার-প্রান্তে যাওয়া একটি উদ্ভিদের নাম মান্দার। ১০-১৫মিটার উঁচু গাছটি কাষ্ঠল ধরনের হলেও অনন্য বৈশিষ্ট্য এর ডগডগে লাল ফুল। রক্তিম লাল আভা ছড়ানো এই ফুলটি প্রতিটি মানুষের মনে নাড়া দেয়।
এক সময় বাড়ির আশে পাশে অসংখ্য মান্দার গাছটি দেখা গেলে সময়ের পথ পরিক্রমায় এ গাছটি যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। সহজেই চোখে পড়ে না রক্তিম আভা ছড়ানো দেশিয় প্রজাতির এই মান্দার গাছটি।
সরেজমিনে গোটা উপজেলা ঘুরে রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর মোক্তারপাড়া নামক এলাকায় দেখা মেলে অপরুপ শোভা বর্ধনকারি এই মান্দার গাছটিকে।
মান্দারের বৈজ্ঞানিক নাম-এ্যারিথ্রিনা ইনডিকা, গোত্রের নাম-লিগুমাইনোসি।
দেশিয় প্রজাতির শোভাবর্ধনকারি গাছটি লম্বাটে গড়নের। কান্ডে ফাটা ফাটা সবুজ দাগ দেখতে পাওয়া যায়। ডালপালা এলোমেলো আর ধারালো কাঁটায় ভরা। লম্বা বোঁটার আগায় প্রায় তিনটি ত্রিভুজাকার পাতা থাকে। ফেব্রুয়ারি মাসে পাতা ঝরে পড়ে এবং এ সময়টিতেই ফুল ফোটে। ফুলগুলো রক্তিম লাল বর্নের এবং ফুলগুলো ফোটে গোড়া হতে উপরের দিকে। গাছটি সাদামাটা হলেও ফুলগুলো কিন্তু চমৎকার।
গল্প হতে জানা যায়; মান্দার নাকি স্বর্গের ফুল। মর্ত্যরে রাজা শ্রীকৃষ্ণ স্বর্গের রাজা
ইন্দ্রের কাছ হতে জোর করে তার বাগানে লাগান এই মান্দার গাছটিকে। যাই হোক,পূর্বে শোভা বর্ধনকারি এ গাছটির কদর থাকলেও বর্তমানে আর এর কদর নেই বললেই চলে। যার কারনে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রকৃতির অপরুপ শোভাবর্ধনকারি মান্দার নামক এ গাছটি।
মান্দার গাছ সম্পর্কে কথা হয় রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীন ব্যক্তি একরামুল হক দুলু(৭৫)সাথে,তিনি জানান;এক সময় আমাদের এলাকায় অসংখ্য মান্দারের গাছ ছিল। লোকজনরা জ্বালানি হিসেবে গাছটি কেটে ফেলার কারনে আর তেমন চোখে পড়ে না। তিনি আরও জানান; গাছটিতে রক্তের মত লাল ফুল ফুটতো। তখন এত সুন্দর লাগতো তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান;আমাদের গ্রামের বাড়ি সহ তার আশে পাশে এক সময় অসংখ্য মান্দারের গাছ ছিল। দেশিয় প্রজাতির শোভাবর্ধনকারি গাছটিকে মানুষ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে শেষ করে ফেলেছে। যার কারনে প্রকৃতির মুলবান এ গাছটিকে আর তেমন চোখে পড়ে না। তিনি আরও জানান;নতুন করে চারা রোপনের মাধ্যমে গাছটিকে রক্ষা করা সম্ভব। তা না হলে প্রকৃতি হতে মান্দার নামক এ গাছটি চিরতরে হারিয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; দেশিয় প্রজাতির শোভাবর্ধনকারি মান্দার গাছটিকে আর দেখতে পাওয়া যায় না। আমাদের নিজের স্বার্থে দেশিয় প্রজাতির এ গাছটিকে রক্ষা করতে হবে।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৭ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন