হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামিন বাঁশ বেত শিল্প
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
মন্টু চন্দ্র(৮০)। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউপি পরিষদ সংলগ্ন গ্রাম। জীবনের তাগিদে বাঁচার আশায় এই বৃদ্ধ বয়সে তিনি বাঁশ ও বেতের তৈরি ব্যবহার্য জিনিষপত্র তৈরি করে,বাজারজাত করেন। যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে চলে তার সংসার। গ্রামে আগের মত আর বাঁশ ও বেত পাওয়া যায় না। দুর গ্রাম হতে বাঁশ কিনে আনতে হয়। এতে খরচ বেশি পড়ে। বর্তমানে বাঁশের তৈরি এ সব জিনিষপত্র আর তেমন কেউ কিনতে চায় না।
তিনি জানান;আমার পুর্বপুরুষের পেশা এটি। বাঁশ ও বেতের তৈরি দৃষ্টি নন্দন কিছু ব্যবহার্য জিনিষপত্র তৈরি করতে পারলে এ শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে পারতাম। সরকার যদি পৃষ্ঠপোষকতা করতো এবং ব্যাংক যদি আমাদের সহজ শর্তে লোনের ব্যবস্থা করে দিতো,তাহলে এই শিল্পটিকে বাঁচানো সম্ভব হতো। আমাদের গ্রামের ৩৫ পরিবার সবাই এ কাজ জানে। এ কাজ করে কোন রকমে বেঁচে আছে।
তিনি আরও জানান;আমার তিন ছেলে। সবাই এই পেশা ছেড়ে দিয়ে ঢাকায় চলে গেছে জীবিকার সন্ধানে। আমি বৃদ্ধ মানুষ,কষ্ট করে হলেও বাপ-দাদার পেশাটিকে কোন রকমে ধরে আছি।
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন দোল কিনি বালা(৬৫),তিনি জানান;সারাদিন পরিশ্রম করে জিনিষপত্র তৈরির পর বাজারজাত করে আয় হয় ১৫০শত হতে ২ শত টাকা। এ দিয়ে কি সংসার চলে বলেন ? অন্য কোন কাজও জানি না,বাধ্য হয়ে কাজ করি।
দেবেন্দ্র নাথ(৫৫)জানান;আধুনিক এই যুগে প্লাটিকের সহজলভ্যতা ও দাম কম হবার কারনে বাঁশের তৈরি জিনিষপত্র আর মানুষ কিনতে চায় না। তাহলে আমরা আমাদের পরিবার নিয়ে কেমন করে বাঁচবো বলতে পারেন ?
বদরগঞ্জ কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক আঃ সালাম জানান; বাঁশ ও বেত দিয়ে দৃষ্টি নন্দন ব্যবহার্য জিনিষপত্র তৈরি এটি একটি শিল্প। এ শিল্পের সাথে জড়িত মানুষজন সহ শিল্পটিকে আমাদের স্বার্থেই বাঁচাতে হবে। কারন এর সাথে আমাদের দেশিয় শিল্প ও ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে।
গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজার রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ না করায় তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান;ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যদি এদের সহজ শর্তে লোন দিতো,তাহলে এই শিল্পের সাথে জড়িত লোকজন সহ শিল্পটি বেঁচে যেতো।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৪ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
Ashole projukti to theme nei. Somoy paltasse manush poriborton hocche
উত্তরমুছুন