সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

কবিতা- ভালবাসা চাই


কবিতা- ভালবাসা চাই


“তুমিই আমার ভালবাসা,
                  আমার জীবন তরী,
তোমায় আরো বাসবো ভালো,
                  যুগযুগান্তর ধরি।
প্রেমে প্রেমে গড়বো আমি,
                  স্বপ্নের তাজমহল,
তোমায় পেয়ে ধন্য আমার,
                  এ দেহ মন।
চাঁদের মত মুখ যে তোমার,
                  যায় না সে তো ভোলা,
এক মুহুর্তে পারি না ভাবতে,
                  শুধু তোমায় ছাড়া।
যে দিন নিভে যাবে জীবন প্রদীপ,
                  সে দিন থেকো পাশে,
আমার প্রেম সার্থক হবে,
                 এই পৃথিবীর মাঝে।”





কামরুজ্জামান মুক্তা
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৮ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



প্রকৃতি হতে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে মান্দার নামক গাছটি


প্রকৃতি হতে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে মান্দার নামক গাছটি

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

প্রকৃতি হতে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে দেশিয় প্রজাতির অসংখ্য উদ্ভিদ। অসংখ্য উদ্ভিদ এর মধ্যে  বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিছু উদ্ভিদ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। অযতœ অবহেলা আর জ্বালানির প্রয়োজনে আমরা নির্বিচারে কেটে শেষ করে ফেলছি প্রকৃতির মহামুল্যবান এই উদ্ভিদ গুলোকে। বিলুপ্তির দ্বার-প্রান্তে যাওয়া একটি উদ্ভিদের নাম মান্দার। ১০-১৫মিটার উঁচু গাছটি কাষ্ঠল ধরনের হলেও অনন্য বৈশিষ্ট্য এর ডগডগে লাল ফুল। রক্তিম লাল আভা ছড়ানো এই ফুলটি প্রতিটি মানুষের মনে নাড়া দেয়।
এক সময় বাড়ির আশে পাশে অসংখ্য মান্দার গাছটি দেখা গেলে সময়ের পথ পরিক্রমায় এ গাছটি যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। সহজেই চোখে পড়ে না রক্তিম আভা ছড়ানো দেশিয় প্রজাতির এই মান্দার গাছটি।
সরেজমিনে গোটা উপজেলা ঘুরে রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর মোক্তারপাড়া নামক এলাকায় দেখা মেলে অপরুপ শোভা বর্ধনকারি এই মান্দার গাছটিকে।
মান্দারের বৈজ্ঞানিক নাম-এ্যারিথ্রিনা ইনডিকা, গোত্রের নাম-লিগুমাইনোসি।
দেশিয় প্রজাতির শোভাবর্ধনকারি গাছটি লম্বাটে গড়নের। কান্ডে ফাটা ফাটা সবুজ দাগ দেখতে পাওয়া যায়। ডালপালা এলোমেলো আর ধারালো কাঁটায় ভরা। লম্বা বোঁটার আগায় প্রায় তিনটি ত্রিভুজাকার পাতা থাকে। ফেব্রুয়ারি মাসে পাতা ঝরে পড়ে এবং এ সময়টিতেই ফুল ফোটে। ফুলগুলো রক্তিম লাল বর্নের এবং ফুলগুলো ফোটে গোড়া হতে উপরের দিকে। গাছটি সাদামাটা হলেও ফুলগুলো কিন্তু চমৎকার। 
গল্প হতে জানা যায়; মান্দার নাকি স্বর্গের ফুল। মর্ত্যরে রাজা শ্রীকৃষ্ণ স্বর্গের রাজা
ইন্দ্রের কাছ হতে জোর করে তার বাগানে লাগান এই মান্দার গাছটিকে। যাই হোক,পূর্বে শোভা বর্ধনকারি এ গাছটির কদর থাকলেও বর্তমানে আর এর কদর নেই বললেই চলে। যার কারনে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রকৃতির অপরুপ শোভাবর্ধনকারি মান্দার নামক এ গাছটি।
মান্দার গাছ সম্পর্কে কথা হয় রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীন ব্যক্তি একরামুল হক দুলু(৭৫)সাথে,তিনি জানান;এক সময় আমাদের এলাকায় অসংখ্য মান্দারের গাছ ছিল। লোকজনরা জ্বালানি হিসেবে গাছটি কেটে ফেলার কারনে আর তেমন চোখে পড়ে না। তিনি আরও জানান; গাছটিতে রক্তের মত লাল ফুল ফুটতো। তখন এত সুন্দর লাগতো তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান;আমাদের গ্রামের বাড়ি সহ তার আশে পাশে এক সময় অসংখ্য মান্দারের গাছ ছিল। দেশিয় প্রজাতির শোভাবর্ধনকারি গাছটিকে মানুষ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে শেষ করে ফেলেছে। যার কারনে প্রকৃতির মুলবান এ গাছটিকে আর তেমন চোখে পড়ে না। তিনি আরও জানান;নতুন করে চারা রোপনের মাধ্যমে গাছটিকে রক্ষা করা সম্ভব। তা না হলে প্রকৃতি হতে মান্দার নামক এ গাছটি চিরতরে হারিয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; দেশিয় প্রজাতির শোভাবর্ধনকারি মান্দার গাছটিকে আর দেখতে পাওয়া যায় না। আমাদের নিজের স্বার্থে দেশিয় প্রজাতির এ গাছটিকে রক্ষা করতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৭ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে মহামুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ আকন্দ


প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে মহামুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ আকন্দ


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

প্রকৃতির কোলে আপনাআপনি বেড়ে ওঠা একটি গাছের নাম আকন্দ। অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে উঠা গাছটির অবদান মনুষ্য সমাজে অনেকখানি। অনেকেই আমরা গাছটির গুনাগুন সম্পর্কে জানি আবার জানি না। ভেষজগুন সম্পন্ন দেশিয় প্রজাতির আকন্দ গাছটিকে জ্বালানি হিসেবে অনায়েসে কেটে ফেলে সাবাড় করে দিচ্ছি। অতীতে মুল্যবান এ গাছটিকে রাস্তার ধারে কিংবা পরিত্যক্ত কোন জমিতে খুব বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে আর আগের মত চোখে পড়ে না। আকন্দের বৈজ্ঞানিক নাম-ক্যালোট্রপিস প্রোসিরা,গোত্রের নাম-এসক্লিপিয়েডেসি। গাছটির উচ্চতা-৩-৬ ফিট। পাতা রোমশ ধরনের, এর পাতা ও ডাল হতে দুধের মত সাদা রংয়ের রসালো আটা বের হয়। মহামুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন গাছটির পাতা ব্যাথানাশক হিসেবে অত্যন্ত কার্যকর ভুমিকা রাখে।
সরেজমিনে গোটা উপজেলা ঘুরে বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের রেল লাইনের ধারে দেখতে পাওয়া যায়।
আকন্দ গাছ সম্পর্কে কথা হয় রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীন ব্যক্তি মহিউদ্দিন প্রামানিকের(৮৫)সাথে, তিনি জানান; দেশিয় প্রজাতির ভেষজগুন সম্পন্ন এ গাছটি আগে আমাদের বাড়িসহ যেখানে সেখানে পাওয়া যেত। জ্বালানি সংকটের কারনে গাছটিকে কেটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করায় আকন্দ গাছ আর চোখে পড়ছে না।
তিনি আরও জানান;অবহেলা আর অনাদরে বেড়ে ওঠা গাছটি প্রকৃতির একটি অমুল্য সম্পদ। ব্যথানাশক হিসেবে খুবই কার্যকর। গাছটি যাতে প্রকৃতি হতে হারিয়ে না যায় সে দিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।
গ্রাম্য কবিরাজ রহমত আলি(৭০) জানান;অনেক খোঁজাখুঁজির পর রেললাইনের ধারে গাছটি পেলাম। একজন বাতের রোগির জন্য গাছটির পাতা আমার ভীষন দরকার ছিল। এখান হতে পাতা নিয়ে যাচ্ছি,ঔষধ তৈরি করবো।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান;নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা দেশিয় প্রজাতির আকন্দ গাছটিকে চেনে না এবং জানে না এর গুনাগুন সম্পর্কে। মানুষের নানা রোগ নিরাময়ে আকন্দ গাছ কার্যকর ভুমিকা রাখে। অথচ আমরা ভেষজ গুন সম্পন্ন গাছটিকে কেটে সাবাড় করে ফেলছি। আকন্দ গাছটিকে যদি আমরা না বুঝে জ্বালানি হিসেবে কেটে শেষ করি তাহলে প্রকৃতি হতে ভেষজগুন সম্পন্ন গাছটি একদিন চিরতরে হারিয়ে যাবে। তিনি আরও জানান;আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে দেশিয় প্রজাতির মহামুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন গাছটিকে আমাদের সংরক্ষন করতে হবে। আমাদের মত শিক্ষকদের উচিত হবে, শিক্ষার্থীদের মুল্যবান এ গাছটির সাথে পরিচিত করে দেয়া এবং এর গুনাগুন সম্পর্কে অবগত করা।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক চন্দ্র রায় জানান; আকন্দ গাছটিকে আর আগের মত পাওয়া যায় না। মুল্যবান ভেষজ গুন সম্পন্ন দেশিয় প্রজাতির এ গাছটিকে আমাদের স্বার্থেই রক্ষা করতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৬ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪        

শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

অর্থনীতিতে বিশাল ভুমিকা রাখতে পারে
অবহেলিত এক উদ্ভিদের নাম কচুরিপানা


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


আমাদের বাড়ির আশে পাশে পুকুর ডোবা নালা বা পরিত্যক্ত কোন জলাশয়ে আপনাআপনি ভাবে বেড়ে উঠে যে উদ্ভিদটি তার নাম কচুরিপানা। কচুরিপানা একাধারে পরিবেশ দুষন মুক্তকারি,জমির উর্ব্বরতা শক্তি বৃদ্ধিকারি,মাটির গুনগত মান আনায়ন কারি,জৈব গ্যাস উৎপাদন কারি,গবাদি পশুখাদ্য সরবরাহকারি হিসেবে অবহেলিত এই উদ্ভিদটিও যে আমাদের দেশের অর্থনীতিতে বিশাল ভুমিকা রাখতে পারে এ বিষয়টি আরও ভালো ভাবে আমাদের জানা দরকার। কচুরিপানার বৈজ্ঞানিক নাম আইকরনিয়া ক্রাসিপেস
গোত্রের নাম পনটিডিরেসি।
বিজ্ঞানীদের ধারনা;কচুরিপানার উৎপত্তিস্থল দক্ষিন আমেরিকার ভেনিজুয়েলায়।
ভারতের জহরলাল নেহেরু কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষনা রিপোর্ট অনুযায়ি শুকনা কচুরিপানায় আছে প্রায় ২২.৯ভাগ আমিষ,২.১২ভাগ চর্বি,১৮.৩ভাগ আঁশ,১৭.৮ভাগ ছাই,৩.৬৫ভাগ নাইট্রোজেন,৩.৮৭ফসফরাস এবং র্কাব-নাইট্রোজেনের অনুপাত ১৭ঃ১। কচুরিপানার গাছ অপেক্ষা পাতায় বেশি পরিমানে আমিষ জাতীয় পদার্থ পাওয়া যায়। যার পরিমান ৩২.৯ভাগ। তাই একে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করলে গরুকে প্রাকৃতিক উপায়ে স্বাস্থ্যবান করা সম্ভব।
কচুরিপানা হতে জৈব গ্যাস ঃ
আমাদের দেশে জ্বালানি সংকট প্রকট। ছোট ছোট জৈব গ্যাসের প্লান্ট তৈরি করে ছোট পরিবারগুলো  অনায়েসে রান্নার কাজে সুবিধা নিতে পারে। এজন্য ৪ফুট হতে ৮ফুটের মোটা টিনের তৈরি বায়ুরোধি একটি প্লান্ট তৈরি করতে হবে।  প্লান্টটিতে পচা কচুরিপানা ও পানি দিয়ে ভর্তি করতে হবে। এটি মাটির নিচে থাকবে। এ প্লান্টের গ্যাস হতে রান্নার কাজ সহ বাতি জ্বালানো সম্ভব।
কাগজের মন্ড তৈরি ঃ
কচুরিপানার মন্ড, ব্লিচিং পাউডার, ক্যালসিয়াম কার্বনেট ও সোডিয়াম কার্বনেট এক সাথে করে উত্তপ্ত করলে কাগজের মন্ড প্রস্তুত হয়।
মশার কয়েল তৈরিঃ
শুকনা কচুরিপানাকে সিদ্ধ করে মন্ড তৈরি করতে হবে। এর সাথে চিটাগুড়, কাঠের গুঁড়া,ব্লিচিং পাউডার ও ধুপ এক সাথে মিশিয়ে রোদে শুকালে ভাল জ্বলে এবং মশা তাড়ানো যায়।
কীটনাশক ও সার হিসেবে কচুরিপানাঃ কাঁচা কচুরিপানার মন্ড,কপার সালফেট বা তুঁতে এক সাথে মিশিয়ে ফসলে স্প্রে করলে করলে কীটপতঙ্গ যেমন মরে যাবে অন্য দিকে জমিতে মান সম্পন্ন সার স্প্রে করা হবে।
মাছের খাদ্য হিসেবে কচুরিপানাঃ মাছের দৈহিক বৃদ্ধি,রোগমুক্ত ও সুস্থ্য রাখার জন্য প্রয়োজন খাদ্য ও সার। আর উৎকৃষ্ট মানের কম্পোষ্ট সার ও খাদ্য তৈরি হতে পারে এই কচুরিপানা দিয়েই। কারন এই কম্পোষ্ট সারটি তৈরি করতে ৮৮ভাগ কচুরিপানা প্রয়োজন। আমরা কম বেশি সবাই জানি গ্রাসকার্প নামক মাছটি কচুরিপানা সরাসরি খেয়ে থাকে। এ ছাড়াও কচুরিপানার তৈরি কম্পোষ্ট সারটি জমির উর্ব্বরতা শক্তি বৃদ্ধিতে কার্যকর ভুমিকা রাখে।
খাদ্য হিসেবে কচুরিপানার ব্যবহারঃ কচুরিপানার নীলাভ ফুল হতে তৈরি করা যায় স্বুস্বাদু বড়া। এই বড়া অধিক প্রোটিন সমৃদ্ধ।
এছাড়াও কচুরিপানা দিয়ে দড়ি তৈরি,পেট্রোলিয়াম জাতীয় দ্রব্য প্রস্তুত,পানি বিশুদ্ধকরন সহ নানা কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; অবহেলিত কচুরিপানা গ্রামিন অর্থনীতেতে বিশাল ভুমিকা রাখতে পারে। সহজলভ্য অবহেলিত এই উদ্ভিদটিকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য না করে এর অবদানের কথা মাথায় রেখে এ ব্যাপারে আরও গবেষনা করা দরকার।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪




      

বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

কৃষি শ্রমিকের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরু-মহিষের হাল

কৃষি শ্রমিকের অভাবে
হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরু-মহিষের হাল


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

সময়ের সাথে সাথে এক সময়ের গ্রাম বাংলার ঐহিত্য গরুর হাল দিয়ে জমি চাষ হারিয়ে যেতে বসেছে।
আধুনিক যুগে পাওয়ার টিলার আর ট্রাক্টরের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে এক সময়ের গরু-মহিষের হাল দিয়ে জমি চাষ। বর্তমান সময়ের কৃষকরা মনে করেন গরু কিংবা মহিষের হাল দিয়ে জমি চাষ করতে বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু তারা এও স্বীকার করেন যে,জমি চাষ করতে গরু-মহিষের হালের কোন জুড়ি নেই। মুলতঃ সময় বাঁচাতেই বর্তমান সময়ের কৃষকরা ট্রাক্টর কিংবা পাওয়ার টিলারের দিকে ঝুকে পড়েছেন।
কথা হয় বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত কৃষক আফজাল প্রামানিকের(৬৫) সাথে,তিনি জানান;আমাদের বাড়িতে আগে ৫-৬জোড়া গরু মহিষের হাল ছিল। বর্তমানে আছে ১জোড়া গরুর হাল। পাওয়ার টিলার দিয়ে এখন আমরা জমি চাষ করি। গরু মহিষের হাল দিয়ে জমি চাষ করতে বাড়তি কৃষি শ্রমিক প্রয়োজন হয়। বর্তমানে কৃষি শ্রমিক পাওয়া যায় না। পাওয়ার টিলার দিয়ে অল্প সময়ে অনেক জমি চাষ করা যায়। বাড়তি কৃষি শ্রমিকও লাগে না।
তিনি বলেন; পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি ভাল ভাবে চাষ করা যায় না এটা সত্যি। মাটি ঝুঁরঝুঁরে করতে গরু-মহিষের হালের প্রয়োজন হয়। শুধু মাত্র কৃষি শ্রমিক স্বল্পতার কারনেই আমি আমার জমি বাধ্য হয়ে পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করি।
তিনি আরও জানান;জমি চাষ করতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরু কিংবা মহিষের হাল দিয়ে জমি চাষ এখন আর নেই বললেই চলে। বর্তমানে গ্রামের খুব কম বাড়িতেই গরু-মহিষের হাল রয়েছে। গরু মহিষের হাল আমাদের দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সাথে মিশে আছে,এর সংরক্ষন জরুরি। তা না হলে একদিন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য জমি চাষের জন্য গরু-মহিষের হাল কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
কথা হয় একই গ্রামের কৃষক এমারুল হকের(৫৫)সাথে,তিনি জানান;জমি চাষে গরু মহিষের হালের কোন বিকল্প নেই। শুধুমাত্র কৃষি শ্রমিক স্বল্পতা আর সময় বাঁচাতে গরু-মহিষের হাল উঠে যাচ্ছে।
আমি আমার জমিতে পেঁয়াজ, রসুন,পটল,করলা আবাদ করেছি। গরু-মহিষের হাল ছাড়া এ সমস্ত ফসলের জমি তৈরি করা অসম্ভব। তিনি আরও জানান; আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরু মহিষের হাল এটা আমাদেরকেই সংরক্ষন করতে হবে। তা না হলে জমি চাষের জন্য গরু মহিষের হাল বিলীন হয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান;আগে আমাদের বাড়িতেও ৫-৬জোড়া গর-মহিষের হাল ছিল। সময় মত কৃষি শ্রমিক পাওয়া যায় না বিধায় গরু মহিষের হাল কমে গেছে।
ফসলের জন্য জমি উপযুক্ত করতে গরু-মহিষের হালের কোন বিকল্প নেই।
তিনি আরও জানান;পাওয়ার টিলার আর ট্রাক্টর দিয়ে আর যাই হোক জমি উপযুক্তভাবে প্রস্তুত করা যায় না। জমি তৈরি জন্য আমাদের দেশের ঐতিহ্য গরু-মহিষের হাল আমাদেরকেই রক্ষা করতে হবে। তা না হলে জমি তৈরিতে যে আগে গরু মহিষের হালের ব্যবহার হতো,তা আগামি প্রজন্ম জানতেই পারবে না।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; সময় বাঁচাতে আর কৃষি শ্রমিকের অভাবে জমি চাষের জন্য গ্রাম বাংলার এক সময়ের ঐতিহ্য গরু-মহিষের হাল আর তেমন চোখে পড়ে না। নিজেদের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে তো নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৪ ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪      
 

বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

বয়লার মুরগীর মাংস বিক্রি করে স্বাবলম্বি বদরগঞ্জের নুরু মিয়া

বয়লার মুরগীর মাংস বিক্রি করে স্বাবলম্বি বদরগঞ্জের নুরু মিয়া

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

নুরু মিয়া(৫৫)। একজন খেটে খাওয়া মানুষের নাম। হতদরিদ্র এই মানুষটি জীবনের প্রয়োজনে একটা সময় কাজের সন্ধানে পথে পথে ঘুরেছেন। সেই সময় কাজ না পেয়ে তার পরিবারকে অভুক্ত থাকতে হয়েছে প্রতিনিয়ত। অবশেষে তিনি কাজ পান হোটেল বয়ের। দীর্ঘ সময় ধরে নুরু মিয়া হোটেল বয়ের কাজ করে অতি কষ্টে পরিবার পরিচালনা করেছেন। হোটেল বয়ের উপার্জিত অর্থ দিয়ে যখন সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ আর সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছিলেন তখন তিনি বাধ্য হয়ে দেশি মুরগী কেনা-বেচার ব্যবসা শুরু করেন। কিছু দিন যেতে না যেতে এই ব্যবসায় লোকসান হয় তার। পুঁজি হারিয়ে তিনি যখন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন এমন সময় এক প্রতিবেশির পরামর্শে রয়লার মুরগীর মাংস বিক্রি শুরু করেন। কয়েক বছরের ব্যবধানে এই ব্যবসা করেই নুরু মিয়া এখন স্বাবলম্বি।
কথা হয় বদরগঞ্জ পৌরশহরের ধানহাটি মহল্লার নুরু মিয়ার সাথে,তিনি জানান;দীর্ঘ সময় ধরে হোটেল বয়ের কাজ করেছি। বেকার থেকেছি। অনেক সময় পরিবার নিয়ে অভুক্ত অবস্থায় দিন কাটিয়েছি। ৪বছর ধরে বয়লার মুরগীর মাংস বিক্রি করে আজ আমি স্বাবলম্বি। তিনি আরও জানান;গরু,খাসি ও দেশি মুরগীর দাম বেশি হওয়ার কারনে নি¤œ আয়ের মানুষরা মাংস কিনতে পারেন না। বয়লার মুরগীর মাংসের দাম কম হওয়ার কারনে এর ক্রেতা বেশি এবং লাভও বেশি। আমার সন্তানরা সবাই লেখাপড়া করছে। এই ব্যবসা দিয়েই নিজস্ব পাকাবাড়ি তৈরি করেছি। কিছু ধানি জমি কিনেছি।
কথা হয় অপর বয়লার মুরগীর মাংস ব্যবসায়ি পৌর শহরের মন্ডলপাড়া মহল্লার মহিদুল হকের(৪৫)সাথে,তিনি জানান;আমরা গরীব মানুষ। জীবনের প্রয়োজনে অনেক কাজ করেছি কিন্তু তেমন কিছু করতে পারি নাই। শুধুমাত্র এই ব্যবসা করেই আজ এতদুর এগিয়েছি। টাকা,জমি-জমা,বাড়ি-ঘর সবই হয়েছে।
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন বয়লার মুরগীর মাংস বিক্রেতা উপজেলার রাধানগর ইউপির শাস্ত্রিপাড়া গ্রামের আঃ মজিদ(৪০)। তিনি জানান; দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলাম। বড় ধরনের ব্যবসা করার মত কোন পুঁজি ছিল না। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে ছিলাম তখন। আমার এক প্রতিবেশির এই মাংস বিক্রির ব্যবসা করা দেখে আমারও এই ব্যবসায় আসা। তিনি আরও জানান;এই মাংসের দাম কম হওয়ার কারনে এর ক্রেতা অনেক বেশি। ক্রেতা চাইলেই পরিমান মত মাংস ক্রয় করতে পারেন। সত্যি কথা বলতে কি,ক্রেতাও বেশি লাভও বেশি।
বয়লার মুরগীর মাংস কিনতে আসা বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ইউনুস আলি জানান; বর্তমানে জনপ্রিয় মাংসের মধ্যে বয়লার মুরগীর মাংস অন্যতম। দাম কম হওয়ার কারনে সব শ্রেনির মানুষ এই মাংসের ক্রেতা। ভাল লাগছে এই ভেবে যে,সারা দেশে শুধুমাত্র এই বয়লার মুরগীর মাংস বিক্রি করে হাজারো বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২২ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪    


মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

কবিতা- শহীদদের অনুরাগ

কবিতা-শহীদদের অনুরাগ



“এই সমাজ তুমি কি জানো,
                   আমি কে ?
আমি একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা,
                   কত আশা প্রত্যয় নিয়ে,
দেশের জন্য দিলাম প্রান,
                  তোমরা কি মোরে ভুলে গেছো,
কি ছিল মোর নাম ?
                  নাইবা যদি ভুলে যাও,
মোর সংসারের দিকে একটু তাকাও,
                  অবহেলা আর অনাদরে,
মোর সšাÍনরা গেল মরে,
                  আমিই তো ভাই গেছি মরে,
একটু খানি পেট পুরে তাদের তোমরা খেতে দাও,
                  নাই যদি দাও,
শেষ করো তবে,
                 পাঠিয়ে দাও পরপারে,
নিছক কত আশা নিয়ে,
                দিয়ে দিলাম আমার প্রান,
এই কি তার প্রতিদান,
                তাই যদি হয়,
তবে এসো না শহীদ মিনারে,
                ফুল দিও না মোদের তরে,
কি লাভ সময় নষ্ট করে,
                খাও সবাই পেট পুরে..........”


কামরুজ্জামান মুক্তা
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২১ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪













 

সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে নাগেশ্বর নামক গাছটি


প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে নাগেশ্বর নামক গাছটি


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে দেশিয় প্রজাতির নাগেশ্বর নামক উদ্ভিদটি। এক সময় বাংলাদেশের কমবেশি সকল অঞ্চলে দেখা গেলেও এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। ১০-১৫মিটার উঁচু গাছটির পাতাগুলি লম্বাটে ধরনের, গাছ পাতায় পুর্ন থাকে বলে গাছটির ডালপালা তেমন কিছুই চোখে পড়ে না। গাছটির পাতা ঝরায় না বলে সারা বছরই ছাঁয়া দেয়। গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম মিসুয়া নাগাসারিয়াম। গোত্রের নাম-গুটিফেরি। বাংলা সংস্কৃতি ও প্রকৃতি সংস্পর্শে মিশে রয়েছে এই নাগেশ্বর বৃক্ষ।
বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীন ব্যক্তি মহিউদ্দিন প্রামানিক(৮৫) মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদকে জানান; ছোট বেলা হতে দেখছি আমাদের এ অঞ্চলে অসংখ্য নাগেশ্বরের গাছ ছিল। গাছগুলো মানুষ কেটে ফেললেও নতুন করে কোন চারা রোপন না করায় আর চোখে পড়ছে না প্রকৃতি বান্ধব এই নাগেশ্বর গাছ। দেশিয় প্রজাতির এই নাগেশ্বর গাছকে আমাদের প্রয়োজনে রক্ষা করতে হবে। তিনি আরও জানান;দেশিয় প্রজাতির এ সমস্ত গাছে অনেক পাখিরা বাসা বাঁধে,অথচ বিদেশি প্রজাতির গাছে পাখিরা বাসা বাঁধে না। 
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; দেশিয় প্রজাতির গাছের মধ্যে নাগেশ্বর একটি। বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে যাওয়া প্রকৃতি বান্ধব এ গাছটিকে আমাদের স্বার্থেই রক্ষা করতে হবে। ভেষজ গুন সম্পন্ন এ গাছটি সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে এবং চিনিয়ে দিতে হবে।
তিনি আরও জানান; প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাওয়া এই নাগেশ্বর গাছটির চারা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। তা না হলে নাগেশ্বর নামক পরিবেশ বান্ধব এ গাছটি এক দিন হারিয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; নাগেশ্বর নামক গাছটিকে আর তেমন চোখে পড়ে না। পরিবেশ বান্ধব গাছটিকে আমাদের প্রয়োজনে রক্ষা করতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২০ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 


রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে অশ্বথ(পাকুড়)গাছ


প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে অশ্বথ(পাকুড়)গাছ


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
 

অশ্বথ বৃক্ষ। আঞ্চলিক ভাষায় একে পাকুড় বৃক্ষ নামে সকলেই চেনে। এর আরেকটি নাম হল বোধিদ্রুম। 
বৌদ্ধদের ধর্মিয় গুরু গৌতম বুদ্ধ এই গাছের তলায় বসে বুদ্ধত্ব লাভ করেন। অশ্বথ গাছটি বৌদ্ধ ও হিন্দুদের কাছে অতি পবিত্র। অশ্বথের(পাকুড়ের)বৈজ্ঞানিক নাম ফাইকাস রেলিজিওসা,গোত্রের নাম মোরাসি।
৬০-৭০মিটার উঁচু গাছটি বটবৃক্ষের নিকটাত্মীয়। গাছটি ২ হাজার বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এর ফুল দেখা যায় না। ফলগুলো বট গাছের মত। অবশ্য বট গাছের মত অশ্বথ(পাকুড়)গাছের ঝুরি থাকে না। এর পাতাগুলি অনেকটা পান পাতার মত। শীতকালে এই গাছের পাতাগুলি ঝরে পড়ে যায়। এই গাছের নীচে দাঁড়ালে সামান্য বাতাসে পাতার ঝমঝম শব্দ শোনা যায়। 
এক সময় বাংলাদেশের সকল অঞ্চলে অশ্বথ(পাকুড়) গাছ দেখা যেত। বাংলা সংস্কৃতি ও প্রকৃতি সংস্পর্শে মিশে আছে এই অশ্বথ বৃক্ষ। বর্তমানে অশ্বথ(পাকুড়) গাছ আর তেমন চোখে পড়ে না। একটা সময় ছিল যখন বাড়ির সামনে,জমির ধারে ও খেয়াঘাটগুলোতে অশ্বথ গাছ থাকতো। তখন কোন ঠিকানা নিশ্চিত করতে পাকুড় বা অশ্বথ গাছকে ব্যবহার করা হতো। অশ্বথ গাছ ছিল মানুষের মিলন মেলা। খেয়াঘাটে অশ্বথ গাছের নীচে মানুষের জন্য তৈরি করা হতো বাঁশের মাচাং। যেখানে খেয়া পারাপারের আগে পথচারিরা অলস সময় কাটিয়ে খেয়া পার হতো। গ্রাম-গঞ্জের মেলাও বসতো এই অশ্বথ বৃক্ষের নীচে। এমনকি কৃষি শ্রমিকরা এক সময় বিশ্রাম নিতো এই অশ্বথ বৃক্ষের তলায়।
বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীন ব্যক্তি নলিনী সরকার(৯০) মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদকে জানান; ছোট বেলা হতে আমাদের এ অঞ্চলে অসংখ্য বট ও অশ্বথ বৃক্ষ ছিল। পুরাতন গাছগুলো মানুষ কেটে ফেললেও নতুন করে কোন চারা রোপন না করায় আর চোখে পড়ছে না প্রকৃতি বান্ধব এই বট ও অশ্বথ গাছ। বিশাল আকৃতির এই গাছগুলোকে আমাদের প্রয়োজনে রক্ষা করতে হবে। 
ঐতিহ্যের ধারক ও পরিবেশ বান্ধব এই বট ও অশ্বথ গাছ নিয়ে পরিবেশ ও প্রকৃতিবিদগন গবেষনালব্ধ জ্ঞান হতে বলেছেন “যখন কোন প্রজাতি ধ্বংস হয়ে পরিবেশের ইকো সিষ্টেম নষ্ট করে তখন ধরে নেয়া যায় সেই জায়গা থেকে বট ও অশ্বথ গাছ নিধন হয়েছে। পাখি কমে যাওয়ার অন্যতম কারন বট ও অশ্বথ গাছ নিধন হওয়া”।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; একটি বট ও অশ্বথ(পাকুড়)গাছ কাটার সাথে সাথে ৩ শতাধিক প্রজাতির আবাস নষ্ট হয়। এরা আশ্রয়ের সন্ধান খুঁজে বেড়ায়। আশ্রয় না মিললে এক সময় হারিয়ে যায় বা বিলুপ্ত হয়।
তিনি আরও জানান;আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে পরিবেশ বান্ধব বৃহৎ আকৃতির দেশিয় প্রজাতির এই বট ও অশ্বথ বৃক্ষকে রক্ষা করতে হবে। তা না হলে একদিন প্রকৃতি হতে এই অশ্বথ(পাকুড়)বৃক্ষ হারিয়ে যাবে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৯ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 

শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

কবিতা- আমার জন্মভুমি

কবিতা- আমার জন্মভুমি


“ছোট একটি দেশ,
           নাম যে তার বাংলাদেশ,
এ যে আমার স্বপ্নের দেশ,
           জন্মভুমি বাংলাদেশ।
ভাষার জন্য আত্মহুতি,
           নাই যে কোন দেশের এই খ্যাতিটি,
স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বের লাগি,
           জীবন তারা রাখলো বাজি,
এখন স্বাধীন স্বার্বভৌম দেশ,
           আমার প্রিয় জন্মভুমি বাংলাদেশ”।



কামরুজ্জামান মুক্তা
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৮ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে ছাতিম নামক উদ্ভিদটি

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে ছাতিম নামক উদ্ভিদটি


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

ছাতিম একটি গাছের নাম। ছত্র বা ছাতা হতে নামের উৎপত্তি। চিরহরিৎ গাছটির আরেকটি নাম আছে। তা হল সপ্তপর্নী। গাছের শীর্ষে গোল করে থাকে ৫-৭টি বড় বড় পাতা। এ কারনে গাছটির নাম সপ্তপর্নী। ছাতিমের বৈজ্ঞানিক নাম আ্যালসটোনিয়া স্কোলারিস, গোত্রের নাম আ্যাপোসাইসেসি। এক সময় এর কাঠ দিয়ে স্কুলের ব্লাক-বোর্ড তৈরি করা হতো। ছাতিমের ফুল ফোটে হেমন্ত আর অগ্রায়ন মাসে। সাদাটে সবুজ ছোট ছোট থোকা থোকা ফুল খুব ঝাঁঝালো গন্ধের হয়। এর সুগন্ধ সন্ধ্যার বাতাস ভরে তোলে এবং তা দুর দরান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। এর সুগন্ধ খুবই উপভোগ্য। গাছটির উচ্চতা ৩০ হতে ৪০ মিটার পর্যন্ত হয়। প্রকৃতি হতে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে ছাতিম নামক উদ্ভিদটি। চিরচেনা এই উদ্ভিদটি এক সময় বাংলাদেশের সবখানে দেখা গেলেও বর্তমানে তেমন আর চোখে পড়ে না।
সরেজমিনে ঘুরে বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির কিসমত ঘাটাবিল এলাকার রেল লাইনের ধারে দেখা মেলে গাছটির।
ছাতিম গাছ সম্পর্কে কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঘাটাবিল ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এমারুল হকের(৫৫)সাথে,তিনি জানান; এক সময় কমবেশি সকল স্থানে ছাতিমের গাছ চোখে পড়তো। বর্তমানে আর দেখা যায় না। গাছগুলি কেটে ফেলে নতুন চারা না লাগানোর কারনে গাছটি আজ বিলুপ্তির পথে।
কথা হয় ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা(৬০)সাথে,তিনি জানান; আম লিচুর গাছ আমরা যেভাবে রোপন করছি তার কিঞ্চিত পরিমানও ছাতিম গাছের চারা রোপন করছি না। উপরন্তু যে সকল ছাতিম গাছ ছিল তা কেটে আমরা সাবাড় করে ফেলেছি।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; প্রকৃতি বান্ধব ছাতিম গাছটি আর নেই বললেই চলে। কারনে অকারনে আমরা গাছটিকে কেটে শেষ করে দিয়েছি। ছাতিমের কাঠ দিয়ে স্কুল কলেজের ব্লাক বোর্ড,দিয়াশলাইয়ের বক্স ও কাঠি, আসবাবপত্র তৈরি করা হয়। এছাড়াও ছাতিমের ছাল ও কস(রস) জ্বর আমাশয় ও চর্মরোগ ভাল করতে কার্যকর ভুমিকা রাখে। বর্তমান সময়ের ছাত্র-ছাত্রিরা ছাতিম নামক গাছটিকে চেনে না। নতুন প্রজন্মের মানুষদের ছাতিম সম্পর্কে এবং এর উপকারিতা সম্পর্কে জানাতে হবে। তিনি আরও জানান; আমাদের প্রয়োজনে গাছটিকে সংরক্ষন করতে হবে তা না হলে ছাতিম নামের প্রকৃতি বান্ধব গাছটি একদিন হারিয়ে যাবে নিশ্চিত।
বদরগঞ্জ উপজেলা সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক চন্দ্র রায় জানান; দেশিয় প্রজাতির ছাতিম নামক গাছটিকে আমাদের স্বার্থে সংরক্ষন করতে হবে। তা না হলে প্রকৃতি হতে একদিন হারিয়ে যাবে। 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৭ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 

বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

ইউরিয়ার বিকল্প এ্যাজোলা

ডেইরি শিল্পেও অবদান রাখতে পারে এ্যাজোলা
ইউরিয়ার বিকল্প এ্যাজোলা

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

অবহেলা আর অনাদরে আপনা আপনি বেড়ে ওঠা উদ্ভিদের মধ্যে এ্যাজোলা একটি। অতি গুরুত্বপুর্ন উদ্ভিদটিকে আমাদের দেশের কৃষকরা আগাছা হিসেবে নষ্ট করে ফেলে। অথচ এই উদ্ভিদটি হতে পারে ইউরিয়ার বিকল্প। আমরা সবাই জানি যে,জমিতে ইউরিয়া ছিটিয়ে দেই ফসলের নাইট্রোজেনের ঘাটতি পুরনে। অথচ অবহেলিত এই এ্যাজোলা উদ্ভিদটিতে প্রচুর পরিমানে থাকে নাইট্রোজেন। যা উদ্ভিদের জন্য অতি প্রয়োজন। এ্যাজোলাতে নাইট্রোজেন ছাড়াও প্রচুর পরিমানে জৈব পদার্থ পাওয়া যায়। যা মাটির উর্ব্বরতা শক্তি বাড়ায়। দেশের কৃষকরা যদি এ্যাজোলা নামক উদ্ভিদটিকে আগাছা হিসেবে নষ্ট না করে তবে ইউরিয়া কিনতে তারা যে পরিমান আর্থিক ক্ষতি সহ হয়রানির স্বীকার হন তা থেকে তারা সহজেই মুক্তি পেতে পারেন। শুধু তাই নয় ডেইরি শিল্পেও এ্যাজোলাকে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ্যাজোলা চাষ করে তা গরুকে খাওয়ালে গরুর দুধ বৃদ্ধি সহ গরুকে মোটাতাজা করা সম্ভব। পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে ব্যাপক ভাবে এ্যাজোলা চাষ করে তারা এর সুফল নিচ্ছে।  
এ্যজোলা কি ?
এ্যাজোলা এক ধরনের জলজ উদ্ভিদ(পানা)। যা দ্রুত বর্ধনশীল। প্রায় বাংলাদেশের সকল অঞ্চলেই ডোবা নালা,এমনকি ধানের জমিতে সামান্য পানিতে এদের দেখতে পাওয়া যায়। এ্যাজোলা দ্রুত বর্ধনশীল বিধায় ধানের জমিতে এরা দ্রুত অঙ্গজ বিস্তার লাভ করতে পারে এবং পানির উপরিভাগে আস্তর তৈরি করে ফলে আগাছা জন্মাতে পারে না।
চাষ পদ্ধতিঃ ধান রোপনের ১০-১৫দিনের মধ্যে জমিতে ৪-৫সেমি পানি থাকা অবস্থায় এ্যাজোলা ছিটাতে হবে। উপযুক্ত পরিবেশে ১০-১৫দিনের মধ্যে এ্যাজোলা অঙ্গজ বিস্তার শুরু করে। এ সময় অল্প পানি থাকা অবস্থায় এ্যাজোলাকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। আমাদের পরিত্যক্ত পুকুর ডোবা জলাশয়ে সারা বছর এ্যাজোলার চাষ করে জমিতে ইউরিয়া সারের বিকল্প হিসেবে একে ব্যবহার করা যেতে পারে। গাছের অনুখাদ্য উপাদানের উৎস হিসেবে এর ভুমিকা ব্যাপক। এটি ব্যবহারে গন্ধক,দস্তার ঘাটতি লাঘব করা সম্ভব। এছাড়াও এ্যাজোলা হরমোন সরবরাহ করে থাকে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক ও বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান মুক্তা জানান;জমিতে ইউরিয়ার ব্যবহার হয় মুলতঃ নাইট্রোজেনের কারনে। কৃষকরা যদি জমিতে মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া ব্যবহার করেন তাহলে ফসল ও জমির উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। ফলন কম হয়,জমির উর্ব্বরতা শক্তি কমে যায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এ্যাজোলা নামক জলজ উদ্ভিদটি বেশি পরিমান নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে। জমির উর্ব্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে। মাটির পানি ধারন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এ্যাজোলাতে গাছের প্রয়োজনীয় নানা ধরনের খনিজ পুষ্টিগুন বিদ্যমান থাকে। হরমোনও সিক্রেশন করে।
তিনি আরও জানান; এ্যাজোলা ব্যবহারে ইউরিয়ার ব্যবহার বহুলাংশে কমিয়ে আনা যেতে পারে।   
বদরগঞ্জ উপজেলা প্রানিসম্পদ বিভাগের ভেটেরনারি সার্জন ডাঃ শাখাওয়াৎ হোসেন জানান; ডেইরি শিল্পে এ্যাজোলার গুরুত্ব অপরিসীম। এ্যাজোলা খাওয়ালে গরুর দুধ বৃদ্ধি সহ গরু সুস্থ্য সবল হবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন) কনক চন্দ্র রায় জানান; এ্যাজোলা নামক উদ্ভিদটি কৃষকরা সার হিসেবে ব্যবহার করলে ইউরিয়ার ব্যবহার কমে যাবে নিশ্চিত। তাতে কৃষকরা লাভবান হবেন।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৬ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
  
 


বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে বটবৃক্ষ

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে বটবৃক্ষ

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বট শুধু বৃক্ষ নয়। এ হল বৃক্ষরাজ,বনস্পতি,মহিরুহ। মোরাসি গোত্রের বিশালাকার উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম ফাইকাস বেঙ্গালেনসিস। এক সময় বাংলাদেশের সকল অঞ্চলে বট গাছ দেখা যেত। বাংলা সংস্কৃতি ও প্রকৃতি সংস্পর্শে মিশে আছে বট বৃক্ষ। যার শাখা প্রশাখা চারপাশ ছড়িয়ে ইকোলজিক্যাল সিষ্টেম ধরে রাখে।
আমাদের পরিবারের জীবিত বয়স্ক ব্যক্তিকে বটবৃক্ষের সাথে তুলনা করা হয়। বর্তমানে বট গাছ আর তেমন চোখে পড়ে না। একটা সময় ছিল যখন বাড়ির সামনে,জমির ধারে ও খেয়াঘাটগুলোতে বট গাছ থাকতো। তখন কোন ঠিকানা নিশ্চিত করতে বট গাছকেই ব্যবহার করা হতো। বট গাছ ছিল মানুষের মিলন মেলা। খেয়াঘাটে বটগাছের নীচে মানুষের জন্য তৈরি করা হতো বাঁশের মাচাং। যেখানে খেয়া পারাপারের আগে পথচারিরা অলস সময় কাটিয়ে খেয়া পার হতো। গ্রাম-গঞ্জের মেলাও বসতো বটবৃক্ষের নীচে। এমনকি কৃষি শ্রমিকরা এক সময় বিশ্রাম নিতো এই বট বৃক্ষের তলায়।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার কবিতায় লিখেছেন;“লুটিয়ে পড়ে জটিল জটা,ঘন পাতায় গহন ঘটা,হেতা-হোতায় রবির ছটা,পুকুর ধারে বট”।
বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীন ব্যক্তি নলিনী সরকার(৯০) মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদকে জানান; ছোট বেলা হতে আমাদের এ অঞ্চলে অসংখ্য বটবৃক্ষ ছিল। পুরাতন বটগাছগুলো মানুষ কেটে ফেললেও নতুন করে কোন চারা রোপন না করায় আর চোখে পড়ছে না প্রকৃতি বান্ধব এই বট গাছ। বিশাল আকৃতির এই বটগাছগুলোকে আমাদের প্রয়োজনে রক্ষা করতে হবে। 
ঐতিহ্যের ধারক ও পরিবেশ বান্ধব এই বটগাছ নিয়ে পরিবেশ ও প্রকৃতিবিদগন গবেষনালব্ধ জ্ঞান হতে বলেছেন “যখন কোন প্রজাতি ধ্বংস হয়ে পরিবেশের ইকো সিষ্টেম নষ্ট করে তখন ধরে নেয়া যায় সেই জায়গা থেকে বটগাছ নিধন হয়েছে। পাখি কমে যাওয়ার অন্যতম কারন বটগাছ নিধন হওয়া”।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; একটি বট গাছ কাটার সাথে সাথে ৩ শতাধিক প্রজাতির আবাস নষ্ট হয়। এরা আশ্রয়ের সন্ধান খুঁজে বেড়ায়। আশ্রয় না মিললে এক সময় হারিয়ে যায় বা বিলুপ্ত হয়।
তিনি আরও জানান;আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে পরিবেশ বান্ধব বৃহৎ আকৃতির এই বটবৃক্ষকে রক্ষা করতে হবে। তা না হলে একদিন প্রকৃতি হতে এই বৃক্ষরাজ হারিয়ে যাবে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৫ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 

মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

কবিতা- ভালবাসা

কবিতা- ভালবাসা



“চলতি পথে যেতে যেতে
                  পরিচয় হয় দু-জনাতে,
দেখা হয় কথা হয়
                  বন্ধুত্বও হয়ে যায়,
নিঃশ্বাসে বিশ্বাসে স্বপ্নীল অনুভবে
                  কাছাকাছি আরও হয়,
দিন যায় রাত যায়
                  থেকে থেকে মাস যায়,
ভেবে ভেবে এই মন
                  আনচান সারাক্ষন,
কি হল কেন হল?
                 বিশ্বাস গাঢ হলো,
এক সময়
                ভালবাসাও হয়ে গেল”।


কামরুজ্জামান মুক্তা
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৪ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে বসন্তবরন উৎসব

বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে বসন্তবরন উৎসব


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


আজি এ বসন্ত। ঋতুরাজ বসন্ত আসার সাথে সাথে প্রকৃতি যেন সেজেছে নতুন সাজে। প্রকৃতির এই উদারতায় বাংলা ও বাংঙ্গালীরা যেন প্রান পেয়েছে নতুন ভাবে। আবহমান কাল ধরে চলা ঋতুরাজ বসন্তকে স্বাগত জানায় বাঙ্গালীরা নেচে গেয়ে মনের মাধুরি মেশানো লাল আর হলুদ রংয়ের শাড়ি পড়ে বাসন্তী সাজে। জানান দেয় ভালবাসার আকুতি। বাংঙ্গালীদের কাছে বসন্ত মানে নতুন প্রানের কলরব,কোকিলের কুহুতান,দখিনা হাওয়া,ঝরা পাতার মড়মড় শব্দ। প্রকৃতির মিলন যেন সবই এ বসন্তে। বাংলার প্রকৃতি,বাংলা ভাষা,সমাজ,সংস্কৃতি ও সাহিত্যের বড় স্থান দখল করে আছে এই ঋতুরাজ বসন্ত। এই বসন্ত বাংঙ্গালীদের হৃদয়ে সৃষ্টি করে প্রনোদনা। নাড়া দেয় এক অব্যক্ত আবহ। কেবল মানব-মানবীর মনেই নয়,বৃক্ষরাজি ও প্রানিকুলেও এ হাওয়া যেন দোলা দেয়।
সারা দেশের বাঙ্গালীদের ন্যায় ঋতুরাজ বসন্তকে স্বাগত জানিয়ে নানা আয়োজন করেন বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ। বসন্তের গান দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি হিসেবে টেলিকনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আ.ম.আ কাইয়ুম,বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ(ভারপ্রাপ্ত) আলহাজ্ব মেছের উদ্দিন,কলেজ গর্ভনিং বডির সদস্য আহসান হাবীব লাইজু। সভাপতিত্ব করেন বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার।
প্রধান অতিথি ডিউক চৌধুরি এমপি টেলিকনফারেন্সে ছাত্রিদের উদ্দেশ্য বলেন; বাংলা ও বাঙ্গালীদের কৃষ্টি কালচার সংস্কৃতিকে অন্তরে ধারন ও লালন করতে হবে। পাশাপাশি ছাত্রিদের বেশি বেশি করে লেখাপড়া করার তাগিদ দেন তিনি।
পরিশেষে বসন্ত বরন উপলক্ষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরন করা হয়।
গানে- প্রথম স্থান অধিকার করে দ্বাদশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রি বাবলি,কবিতায়-প্রথম হন অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রি নদী,নৃত্যে-প্রথম হন একাদশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রি মিষ্টি,বসন্তের সাজে- প্রথম হন একাদশ মানবিক বিভাগের ছাত্রি সুইটি,বসন্ত উৎসব উপলক্ষে উপস্থিত বক্তব্যে- প্রথম হন একাদশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রি আইরিন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দ্বাদশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রি বাবলি ও একাদশ ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ছাত্রি রাত্রি। 
  
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৩ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

কুমড়া ও শসা চাষ করে স্বাবলম্বি বদরগঞ্জের মনো মহন্ত

কুমড়া ও শসা চাষ করে স্বাবলম্বি বদরগঞ্জের মনো মহন্ত


কামরুজ্জামান মুক্তা, বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বছর পাঁচেক আগে কিছু ধানি জমি চাষ করে মনো মহন্ত যখন নিঃস্ব হওয়ার পথে তখনই এক আত্মীয়ের পরামর্শে তার বাড়ির সামনে পরিত্যক্ত ২০ শতাংশ জমিতে শুরু করলেন কুমড়া ও শসার চাষ। এই ৫ বছরের ব্যবধানে মনো মহন্ত এখন স্বাবলম্বি। কাঁচাবাড়ি ভেঙ্গে তৈরি করেছেন পাকা দালানের বাড়ি,গরুর খামার আরও কিনেছেন কিছু ধানি জমি। বদরগঞ্জ পৌরসভার ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন যুগিপাড়া নামক গ্রামে মনো মহন্তের বাস।
কথা হয় মনো মহন্ত ও তার স্ত্রী জয়ন্তী মহন্তের সাথে; জয়ন্তী মহন্ত এই প্রতিবেদককে বলেন ৫ বছর আগে আমরা শুধু আমাদের কিছু ধানি জমিতে ধানই চাষ করতাম। ইউরিয়া,ডিজেল, কীটনাশকের মুল্য বৃদ্ধি ও অব্যাহত ভাবে ধানের দাম কমে যাওয়ায় কোন রকমে আমাদের সংসার চলতো। গত ৫ বছর ধরে ২০শতাংশ জমিতে লাউ শসা সহ অন্যান্য সব্জি জাতীয়  ফসলের চাষাবাদের ফলে আমরা এখন অনেক ভাল আছি। গত বছর ৪ শতক জমিতে ২০ টাকার কুমড়া বীজ কিনে এনে ৪০ হাজার টাকার কুমড়া বিক্রি করেছি। এর সঙ্গে শসা বিক্রি করেছি ৫০ হাজার টাকার মত। এবারেও আমরা ভাল ফলনের আশা করছি।
তিনি আরও বলেন; আমাদের মত যে কেউ সব্জি জাতীয় চাষাবাদ করে লাভবান হতে পারেন।
প্রতিবেশি সবুজ মহন্ত জানান; কয়েক বছর আগেও ওনাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল ছিল না। শুধু মাত্র সবজির চাষ করেই আজ তারা স্বাবলম্বি।
বদরগঞ্জ উপজেলা সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; এ অঞ্চলের কৃষকরা বেশি বেশি ধান গম ভূট্টারই চাষ করে। সেই সাথে সামান্য জমিতে লাউ শসা চাষ করে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হতে পারেন।

বদরগঞ্জ রংপুর
তারিখ-১২ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪             



শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

একটুখানি অসর্তকতায় যেতে পারে জীবন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেল লাইনে গরম কাপড়ের দোকান

একটুখানি অসর্তকতায় যেতে পারে জীবন
  জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেল লাইনে গরম কাপড়ের দোকান



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

জীবন চলে তার নিজস্ব গতিতে আপন ভঙ্গিমায় এ যেন চলে ঘড়ির কাটার মত টিকটিক করে। জীবনের প্রয়োজনে  মানুষ কত না পেশায় জড়িয়ে পড়ে। পেশা যতই ঝুকি পূর্ন হোক না কেন জীবনের প্রয়োজনে তা যেন সয়ে যায়। দেশের নানা প্রান্তে রেল লাইনের উপর গড়ে উঠেছে শীত কালীন মৌসুমি গরম কাপড়ের ব্যবসা। জীবন জীবিকার তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সব ক্ষুদ্র ব্যবসায়িরা চালিয়ে যাচ্ছেন শীত কালীন গরম কাপড়ের মৌসুমি এই ব্যবসা।
সরেজমিনে গিয়ে কথা হয়,রেল লাইনের উপরে দোকান দেয়া শীতকালিন গরম কাপড়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি আফজাল হোসেন,মানিক মিয়ার সাথে, তারা জানান; জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেল লাইনের উপরে ব্যবসা করছি। কি করব ভাই,আমরা গরীব মানুষ,জীবন তো বাঁচাতে হবে। তারা আরও জানান;আমাদের মত সারা দেশে রেল লাইনের উপর ক্ষুদ্র ব্যবসায়িরা নানা ধরনের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের আর করার কিছুই নেই। আমার আয় দিয়েই চালাতে হয় আমার সংসার। তা না হলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে। আমাদের এই ব্যবসার মুল কাষ্টমার, খেটে খাওয়া গরীব মানুষ। ইচ্ছে করলেই তারা বড় বড় দোকান হতে চড়া দামে গরম কাপড় কিনতে পারবে না। জীবন বাঁচার তাগিদে বাধ্য হয়ে আমরা রেল লাইনের উপর দোকান দিয়েছি।
গরম কাপড় কিনতে আসা রিক্সা চালক আমজাদ আলি জানান;এই দোকানগুলো না থাকলে আমরা অল্প টাকায় শীতের কাপড় কিনতে পারতাম না। রেলের উপর দোকান করাটা অবশ্যই ঝুকিপূর্ন কিন্তু সরকারের খাস(পতিত)জমিতে এদের ব্যবসা করার জায়গা করে দিলেই হয়? তাহলে এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়িরাও বাঁচে আমরাও বাঁচি।
কথা হয় গরম কাপড় কিনতে আসা বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ইউনুস আলির সাথে,তিনি জানান;কম দামে গরম কিছু কাপড় নেয়ার জন্য এখানে এসেছি। রেলের উপর দোকান দেয়াটা অত্যন্ত ঝুঁকিপুর্ন। আসলে এরা গরীব ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি। কম পুঁজি নিয়ে এরা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। কর্তৃপক্ষ এদের যদি ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা করে দিতো, তাহলে এদের জন্য খুব ভালো হতো। 
উত্তরাঞ্চলের রেলওয়ের বড় জংশন দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে ষ্টেশন মাস্টার জিয়াউল আহসান মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে জানান;পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশনে রেল লাইনের উপর গরম কাপড়ের দোকান আছে বলে আমার জানা নেই। যদি দোকান থাকে তবে এখুনি দোকানগুলো সরানোর ব্যবস্থা করছি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১১ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 

শুক্রবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামিন ঐতিহ্যের প্রতীক গরু ও মহিষের গাড়ি

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামিন ঐতিহ্যের প্রতীক গরু ও মহিষের গাড়ি

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

আবহমান কাল ধরে চলা গ্রাম বাংলার এক সময়ের ঐতিহ্য গরু ও মহিষের গাড়ি আর নেই। সময়ের পথ পরিক্রমায় এ যেন সুদুর অতীত। এক সময় মালামাল পরিবহন সহ দুরদুরান্তে যাতায়াতের একমাত্র বাহন ছিল পরিবেশ বান্ধব এই গরু-মহিষের গাড়ি। তখন গ্রামে-গঞ্জে ব্যাপক ভাবে গরু মহিষের গাড়ির দেখা মিলতো। আধুনিক যুগে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরু মহিষের গাড়ি আর চোখে পড়ে না।
কথা হয় বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি(গৃহিনী) আলতাপোন নেছা(৯৮)সাথে,তিনি জানান; সেই ছোট বেলায় আমার বিয়ে হয়েছে। ছাউনি দেয়া গরু-মহিষের গাড়িকে বাহারি সাজে সাজিয়ে আমার বিয়েতে দুইশত গাড়ি গিয়েছিলো। তখন এই গরু মহিষের গাড়ি ছাড়া পরিবহনের জন্য আর কোন ব্যবস্থাই ছিল না। সে দিনগুলো আজ স্মৃতি। দিনগুলোর কথা ভীষন মনে পড়ে।
তিনি আরও জানান; এক সময় আমাদের গ্রাম সহ আশে পাশের গ্রামের মানুষ বিয়ে বাড়ি সহ নানা কাজে এই পরিবারের গরু-মহিষের গাড়িগুলো ব্যবহার করতো।  
কথা হয় গোপিনাথপুর ইউপির প্রবীন ব্যক্তি ফজলার রহমানের(৯০)সাথে তিনি জানান;
আমার বাড়িতে এক সময় ১০জোড়া গরু মহিষের গাড়ি ছিল। তখন গ্রামের মানুষরা তাদের বিয়েতে আমার গরু মহিষের গাড়ি নিয়ে যেত। জমি চাষ করতে গরু-মহিষের হালের জুড়ি মেলা ভার। বর্তমানে পাওয়ার টিলার দিয়ে হাল চাষ করা হলেও জমিকে ঠিক মত চাষ করা যায় না। জমিতে মই দেয়া সহ মাটি সঠিকভাবে ঝুরঝুরে করতে গরু-মহিষের হালের তুলনা নেই।
বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আফজাল হোসেন প্রামানিক জানান; বর্তমান যুগের ছেলেমেয়েদের কাছে গরু-মহিষের গাড়িতে মানুষ চলাফেরা করতো এটি আশ্চর্যের বিষয়। তারা আমাদের গ্রাম বাংলার অতীত ঐতিহ্য গরু-মহিষের গাড়ি সম্পর্কে জানে না। পরিবেশ বান্ধব এই গরু গাড়িগুলো এখন আর তেমন দেখতে পাওয়া যায় না। আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে সন্তানদের গ্রাম বাংলার অতীত ঐতিহ্য সম্পর্কে জানাতে হবে। তা না হলে বাংলা এবং বাঙ্গালীর ঐতিহ্যগুলি এক দিন হারিয়ে যাবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১০ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪


বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

কবিতা- বস্তি

কবিতা- বস্তি



“রাস্তার ধারের বস্তিতে
                 নাই যে তারা স্বস্তিতে,
ক্ষুধা আর দারিদ্রতা
                হতাশা আর ব্যর্থতা,
কিসের আশা কিসের ভরসা
               সবকিছুতেই নিরাশা,
জীবন নামের অগ্নিশিখা
               নিভু নিভু করছে তা,
যন্ত্রনায় কাতর রুগ্ন শিশু
              যমদুত তার পিছু পিছু,
হচ্ছে না তার চিকিৎসা
              কে দেবে ভরসা !
বাঁচার জন্য বেঁচে থাকা
             এ কেমন বেঁচে থাকা ! !”



কামরুজ্জামান মুক্তা
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৯ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

ওরা হিজরা , হিজরাদের সাথে একদিন

ওরা হিজরা
হিজরাদের সাথে একদিন


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
সৈয়দ আলি(৫৯),নুপুর(৩৭),ফরিদা(২৫),স্বপ্না(২৪),কেয়া(২৫) শান্তা(২৭) মেঘা(৩৫)। এদের সকলের বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে। ওরা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। আর সাধারন মানুষ হতে তারা সম্পুর্নরুপে আলাদা। দেখতে পুরুষ কিংবা মহিলাদের মত মনে হলেও তারা পুরুষ কিংবা মহিলা কোনটিই নয়। এই সমস্ত মানুষগুলো পরিবার পরিজন হতে যেমন বিচ্ছিন্ন তেমনি অন্যের দয়া ও অনুকম্পায় বেঁচে আছে এরা। এ নিয়ে তাদের ক্ষোভের অন্ত নেই। বেঁচে থাকা তাদের কাছে এক অসহনীয় যন্ত্রনার। 
সরেজমিনে গিয়ে এ বিষয়ে তৃতীয় লিঙ্গের এই মানুষগুলোর সাথে কথা হলে দলনেতা সৈয়দ আলি(৫৯)জানান; আমাদের কষ্টের কথা কেউ বুঝতে চায় না। আমাদের নিজস্ব কোন জায়গা নেই,বাড়ি নেই, সংসার নেই। দীর্ঘ ২ যুগেরও বেশি সময় ধরে অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মি হিসেবে ছিলাম। শুন্য হাতে এক সময় ওই বাড়ি হতে চলে আসি। এই বৃদ্ধ বয়সে আমি এখন কোথায় যাবো?কে আমার ভরন-পোষনের দায়িত্ব নেবে? আমরাও মানুষ। আমরা অন্যের দুঃখ কষ্টের কথা বুঝলেও আমাদের কষ্টের কথা কেউ শুনতেও চায় না বুঝতেও চায় না।  
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর মোক্তারপাড়া গ্রামের হিজরা কোহিনুর(৪৫),তিনি জানান; আমাদের কষ্টের জীবন। অতি কষ্টে আমরা বেঁচে আছি। প্রতিনিয়ত অন্যের লাথি আর অপমান নিয়ে আমাদের চলতে হয়। নিজেদের বাড়িতেও আমরা অবহেলিত। নিজ গ্রামের মানুষরাও আমাদের সাথে মিশে না। ভাল চোখে দেখে না। বাধ্য হয়ে বাঁচার তাগিদে আমরা হিজরারা একত্রিত হয়ে গ্রামে গ্রামে হাত পেতে অন্যের সাহায্যে বেঁচে আছি।
বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের হিজরা নুপুর(৩৭)জানান; আমাদের পরিবার পরিজন থেকেও নেই। ওরা আমাদের খোঁজ নেন না। এ ভাবে বেঁচে থাকার নামকে কি জীবন বলে? আর ভাল লাগে না। আমরা বদরগঞ্জের হিজরারা একসঙ্গে থাকতে চাই। সরকার যদি আমাদের সরকারি জমিতে পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করে দিত তাহলে আমাদের উপকার হতো।
তিনি আরও জানান; আমরা মানুষের লাথি আর অপমান সহ্য করে তাদের কাছে হাত পেতে সাহায্য নিয়ে কোন রকমে জীবন বাঁচাই,কিন্তু সবচাইতে খারাপ লাগে,রংপরের হিজরা নুরজাহান ও তার লোকজন এসে প্রতি মাসে আমাদের কাছ হতে জোরপুর্বক ৩ হাজার টাকা করে নিয়ে যায়। এভাবে বদরগঞ্জ হতে প্রতিমাসে নুরজাহান ৩ হাজার টাকা এবং তারাগঞ্জ হতে ২ হাজার টাকা নিয়ে যায়। টাকা দিতে দেরি হলে কিংবা অস্বীকৃতি জানালে রংপুরের হিজরারা আমাদের বাড়ি হতে বের হতে দেয় না এবং শারিরীক ও মানুষিক নির্যাতন চালায়। এ হতে আমরা পরিত্রান চাই। তার কথার সুত্র ধরে বাকি সকল হিজরারাও একই কথা এই প্রতিবেদকে জানান। 
বদরগঞ্জ গোপালপুর ইউপির হিজরা ফরিদা(২৫)জানান; শুনেছি সরকার হিজরাদের জন্য অনেক কিছু করছে। কিন্তু আমরা সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা হতে বঞ্চিত। আমরা প্রতিবন্ধি ভাতাও পাই না।
বদরগঞ্জ সমাজসেবা অফিসার নজরুল ইসলাম জানান;ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে শুধু হিজরা সনাক্তকরন সম্ভব। বদরগঞ্জ উপজেলায় সামসুন্নাহার নামে একজন হিজরা পাওয়া গেছে। তাকে সরকারি ভাতা দেয়ার
প্রক্রিয়া চলছে। 
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার কাজি আবেদা গুলশান জানান; বর্তমান সরকার হিজরাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছেন। ধীরে ধীরে সম্পুর্ন হিজরা সম্প্রদায়কে ভাতার আওতায় আনা হবে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৮ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪




মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

কবিতা- একান্তই আপন

কবিতা-      একান্তই আপন

 
“আপন ভেবে হৃদয়ের মাঝে,
             তোমাকে সাজিয়েছি ভিন্ন সাজে,
হৃদয়ের মাঝে গোপন কুটিরে,
             তোমাকে বসিয়েছি দেবির আসনে,
তুমি যে আমার,
             শুধুই আমার,
যেও না আবার কখনো ভুলে।”




কামরুজ্জামান মুক্তা
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৮ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

হতদরিদ্র যুব মহিলাদের স্বাবলম্বি করছে বদরগঞ্জের বিআরডিবি অফিস

হতদরিদ্র যুব মহিলাদের স্বাবলম্বি করছে বদরগঞ্জের বিআরডিবি অফিস

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


জাহানারা বেগম(৪২)। এক হতদরিদ্র মহিলার নাম। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার রাধানগর ইউপির লালদিঘি গ্রামে। স্বামি দিনমজুর। এক সময় সংসারের অভাব অভিযোগ ছিল যার  নিত্য সঙ্গি। প্রতিদিনের সংসারের ব্যয় সামাল দিতে স্বামি যখন দিশেহারা তখন জাহানারা সিন্ধান্ত নেন কিছু একটা করার। এ সময় পাড়ার এক স্কুল শিক্ষকের কাছে জানতে পারেন বদরগঞ্জ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড(বিআরডিবি) যুব মহিলাদের কারিগরি শিক্ষা দিয়ে তাদের স্বাবলম্বি করার চেষ্টা করছে। স্বামিকে না জানিয়ে এক সময় জাহানারা বেগম বদরগঞ্জ বিআরডিবি অফিসে আসেন। ট্রেনিং নেন শতরঞ্জি তৈরির। আধুনিক কারুকার্যময় এই শতরঞ্জির চাহিদা দেশ ও বিদেশে। শুরু হয় তার শতরঞ্জি তৈরির কাজ। বর্তমানে শতরঞ্জি তৈরি করে এবং বাজারজাত করে তিনি এখন স্বাবলম্বি।
কথা হয় শতরঞ্জি তৈরির কারিগর ও স্বাবলম্বি নারী জাহানারা বেগমের সাথে,তিনি জানান;আমার জীবনের অনেকটা সময় গেছে খেয়ে না খেয়ে। দিনমজুর স্বামির একার রোজগার দিয়ে কষ্টে চলতো আমাদের সংসার। কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। এক স্কুল শিক্ষকের পরামর্শে বদরগঞ্জ বিআরডিবি অফিসে গিয়ে শতরজ্ঞি তৈরির ট্রেনিং নেই। এখন শতরজ্ঞি তৈরি ও বাজারজাত করে আমি আল্লাহ্র রহমতে ভাল আছি। আমি কৃতজ্ঞ বিআরডিবি অফিস কর্তৃপক্ষের কাছে। তারা আমাকে স্বাবলম্বি করতে সহযোগিতা করেছে।
বদরগঞ্জ বিআরডিবি অফিস সুত্রে জানা যায়;দারিদ্র বিমোচনে গ্রামিন ইলেকট্রিশিয়ান,
এমব্রডারি,সেলাই ও শতরঞ্জি এই চারটি বিষয়ের উপর কারিগরি শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। ২ মাস ব্যাপি যুব মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে তাদের ট্রেনিং দেয়া হয়। ট্রেনিং কালে প্রতি যুব মহিলা ২৫০ টাকা করে ভাতা দেয়া হয়। কর্তৃপক্ষ প্রতি যুব মহিলাকে প্রতিদিন ১শত টাকা দেন, বাকি টাকা ট্রেনিং শেষে তাদের হাতে দেয়া হয় এবং সাথে দেয়া হয় ট্রেনিং প্রাপ্তদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি।
এ সব যুব মহিলারা ট্রেনিং নিয়ে গ্রামে গিয়ে দল গঠন করেন। তারপর ওই দল বিআরডিবির কাছে লোনের আবেদন করলে বিআরডিবি সহজ শর্তে লোনের ব্যবস্থা করে দেন। এমনকি তাদের তৈরি জিনিষপত্র বাজারজাত করতেও সহযোগিতা করেন।
কথা হয় ট্রেনিং নিতে আসা খাদিজা বেগম(৪৫),মহিলা বেগম(৩৫),আইনুন নাহার ববি(৩৫)সাথে,তারা জানান; এখানে আমরা একেকজন একেক বিষয়ের উপর ট্রেনিং নিচ্ছি। খুবই ভাল লাগছে। আশা করছি ভবিষ্যতে আমরা ভাল কিছু করতে পারবো।
বদরগঞ্জ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান; ২০০৮ সাল হতে এই কার্যক্রমটি শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৩টি দলকে অর্থ্যাৎ ১৭৩ জনকে স্বাবলম্বি করা হয়েছে এবং তাদেরকে সহজ শর্তে লোন দেয়া হয়েছে। যার পরিমান ৩১লক্ষ ৪ হাজার টাকা।
বদরগঞ্জ বিআরডিবির চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক চৌধুরি জানান; সরকার দারিদ্র বিমোচনে নিরলশভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আমরাও কাজ করে যাচ্ছি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৭ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

ওরা কামার

ওরা কামার


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


সুিধর রায় কর্মকার(৮৫)। পেশায় কামার। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির আমরুল বাড়ি গ্রামে। সেই ব্রিটিশ আমল হতে বাপ-দাদার হাত ধরে এই পেশার সাথে যুক্ত হওয়া। তখন হতে আজ অবধি তিনি কামারের কাজ করে চলেছেন। তার তিন সন্তানও এই পেশার সাথে সরাসরি জড়িত। মুলতঃ তারাই এখন এই ক্ষুদ্র ব্যবসাটি পরিচালনা করছেন।দা,কুড়াল,ছুরি,বটি,কোদাল সহ ব্যবহার্য নানা ধরনের জিনিষপত্র লোহা দিয়ে তিনি তৈরি করেন। শুধুমাত্র এই ব্যবসা করেই সুধির রায় কর্মকার আজ স্বাবলম্বি।
সরেজমিনে পৌরশহরের শহীদ মিনার সংলগ্ন কামার পল্লীতে গিয়ে কথা হয়, কামার শিল্পের সাথে জড়িত প্রবীন কামার সুধির রায়ের সাথে,তিনি জানান; ছোট বেলা হতে এই কাজ করছি। আমাদের পুর্বপুরুষের পেশা এটি। ব্রিটিশ আমলে আমার বাবা-দাদু কামারের কাজ করতো। তাদেরকে সহয়োগিতা করতে আমার এ কাজে জড়িয়ে যাওয়া। আমার তিন সন্তানও এই ব্যবসার সাথে জড়িত। বর্তমানে তারা আমাকে সহযোগিতা করছে। ভগবানের দয়ায় এই ব্যবসা করেই আজ আমি স্বাবলম্বি। আমি মুলতঃ এখানকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমার মালামাল পাঠাই,তাতে আমার ব্যবসা ভাল হয়।
তিনি আরও জানান;ভাল লাগে এই ভেবে যে,আমার এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ৩০জন লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরেছি। তবে এ পেশা অত্যন্ত পরিশ্রমের। যে কেউ ইচ্ছে করলেই এ ধরনের কাজ করতে পারবে না।
কর্মচারি ধনঞ্জন মহন্ত(৫৫)জানান; কয়েক যুগ ধরে এ কাজ করছি। অন্য কাজ জানি না। প্রতিদিন এখানে কাজ করে ৬শত টাকা পাই, যা দিয়ে চলে আমার সংসার।
কর্মচারি ধীরেন চন্দ্র রায়(৪৫)জানান;এক সময় বেকার ছিলাম। এই প্রতিষ্ঠানে ১০বছর ধরে কাজ করছি। প্রতিদিন যা উপার্জন হয় তা দিয়েই চলে আমার সংসার।
কামার পল্লীতে কথা হয়,অপর কামার কার্তিক চন্দ্রের(৬৫)সাথে,তিনি জানান; পাকিস্তান আমল হতে কামারের কাজ করছি। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১০জন শ্রমিক আছে। আমিও এখানকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের নানা প্রান্তে মালামাল পাঠাই তাতে আয় ভাল হয়। এই ব্যবসা করে ভগবানের দয়ায় আমি ভাল আছি।
খুচরা ব্যবসায়ি তোছাদ্দেক হোসেন জানান;সুধির কামারের কাছ হতে পাইকাড়ি দা,ছুরি,খুন্তি,কোদাল সহ নানা ধরনের মাল ক্রয় করে বাজারে বিক্রি করি। এতে আমার ব্যবসা ভাল হয়।
দা কিনতে আসা বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান;মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় যেমন,দা,বটি,কোদাল, খুন্তি,ছুরি সহ নানা ধরনের জিনিষপত্র তারা তৈরি করেন। আসলে এটি একটি শিল্প। দেশিয় এই শিল্পটি যাতে টিকে থাকে এ জন্য সকলের সহযোগিতা করা উচিত।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৫ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 
  


শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামিন বাঁশ বেত শিল্প


হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামিন বাঁশ বেত শিল্প


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

মন্টু চন্দ্র(৮০)। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউপি পরিষদ সংলগ্ন গ্রাম। জীবনের তাগিদে বাঁচার আশায় এই বৃদ্ধ বয়সে তিনি বাঁশ ও বেতের তৈরি ব্যবহার্য জিনিষপত্র তৈরি করে,বাজারজাত করেন। যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে চলে তার সংসার। গ্রামে আগের মত আর বাঁশ ও বেত  পাওয়া যায় না। দুর গ্রাম হতে বাঁশ কিনে আনতে হয়। এতে খরচ বেশি পড়ে। বর্তমানে বাঁশের তৈরি এ সব জিনিষপত্র আর তেমন কেউ কিনতে চায় না।
তিনি জানান;আমার পুর্বপুরুষের পেশা এটি। বাঁশ ও বেতের তৈরি দৃষ্টি নন্দন কিছু ব্যবহার্য জিনিষপত্র তৈরি করতে পারলে এ শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে পারতাম। সরকার যদি পৃষ্ঠপোষকতা করতো এবং ব্যাংক যদি আমাদের সহজ শর্তে লোনের ব্যবস্থা করে দিতো,তাহলে এই শিল্পটিকে বাঁচানো সম্ভব হতো। আমাদের গ্রামের ৩৫ পরিবার সবাই এ কাজ জানে। এ কাজ করে কোন রকমে বেঁচে আছে।
তিনি আরও জানান;আমার তিন ছেলে। সবাই এই পেশা ছেড়ে দিয়ে ঢাকায় চলে গেছে জীবিকার সন্ধানে। আমি বৃদ্ধ মানুষ,কষ্ট করে হলেও বাপ-দাদার পেশাটিকে কোন রকমে ধরে আছি।
সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে এগিয়ে আসেন দোল কিনি বালা(৬৫),তিনি জানান;সারাদিন পরিশ্রম করে জিনিষপত্র তৈরির পর বাজারজাত করে আয় হয় ১৫০শত হতে ২ শত টাকা। এ দিয়ে কি সংসার চলে বলেন ? অন্য কোন কাজও জানি না,বাধ্য হয়ে কাজ করি।
দেবেন্দ্র নাথ(৫৫)জানান;আধুনিক এই যুগে প্লাটিকের সহজলভ্যতা ও দাম কম হবার কারনে বাঁশের তৈরি জিনিষপত্র আর মানুষ কিনতে চায় না। তাহলে আমরা আমাদের পরিবার নিয়ে কেমন করে বাঁচবো বলতে পারেন ?
বদরগঞ্জ কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক আঃ সালাম জানান; বাঁশ ও বেত দিয়ে দৃষ্টি নন্দন ব্যবহার্য জিনিষপত্র তৈরি এটি একটি শিল্প। এ শিল্পের সাথে জড়িত মানুষজন সহ শিল্পটিকে আমাদের স্বার্থেই বাঁচাতে হবে। কারন এর সাথে আমাদের দেশিয় শিল্প ও ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে।
গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজার রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ না করায় তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম জানান;ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যদি এদের সহজ শর্তে লোন দিতো,তাহলে এই শিল্পের সাথে জড়িত লোকজন সহ শিল্পটি বেঁচে যেতো। 
 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৪ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

নারী শিক্ষার অগ্রনী ভুমিকায় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ

নারী শিক্ষার অগ্রনী ভুমিকায় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

পশ্চাৎপদ নারী শিক্ষায় অগ্রনী ভুমিকার ব্রত নিয়েই বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সৃষ্টি।
সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা হাতে গোনা কয়েকজন যুবক মিলে সিন্ধান্ত নেন মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার। সেই ১৯৯৪ সালে কলেজটির যাত্রা শুরু। দীর্ঘ ২২ বছরের পথ পরিক্রমায় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ পশ্চাৎপদ নারী শিক্ষায় অগ্রনী ভুমিকা রাখছে। কলেজটির সুন্দর মনোরম পরিবেশে পাঠদান,শৃঙ্খলাবোধ ,ভাল ফলাফল,সামাজিক সংস্কৃতি,বিনোদন সহ নানা ক্ষেত্রে বিশেষ ভুমিকা পালন করার পাশাপাশি,নারী শিক্ষায় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি আজ রংপুর বিভাগে তার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছে। এই প্রতিষ্ঠান হতে শত শত শিক্ষার্থী বের হয়ে দেশের নামকরা নানা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেখানে ভাল রেজাল্ট করার পাশাপাশি দেশের দায়িত্বপুর্ন কর্মে নিয়োজিত রয়েছে।
কলেজটির অবস্থানঃবদরগঞ্জ পৌর শহরের চিকলি নদীর অববাহিকায় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ অবস্থিত।
যাদের অবদানে কলেজটি প্রতিষ্ঠিতঃ কাজি খয়রাত হোসেনের ০.৪৫একর,মরহুম আঃ রহমান প্রামানিকের দানকৃত ০.০৪ একর জমির উপর কলেজটির মুল অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। পরে আঃ ম.আঃ কাইয়ুম ০.৫০একর, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নলিনী সরকার ১.১৩একর জমি দান করে কলেজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করেন। এরপর গোলাম মোস্তফা ০.০১ একর এবং লুৎফর রহমান(বিএস)০.০১ একর জমি দান করেন। পরে কলেজের নিজস্ব অর্থায়নে ০.৪৬একর জমি ক্রয় করা হয়। সর্বমোট ২.৬০একর জমির উপর প্রতিষ্ঠানটি মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
কলেজ সুত্রে জানা যায়;১৯৯৪ সালের ২৩ জুলাই তৎকালিন শিক্ষামন্ত্রি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজটির ভিক্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রি মরহুম আনিছুল হক চৌধুরি ২০০০সালে দ্বি-তল একাডেমিক ভবন নির্মান করে কলেজটির গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখেন। এ ছাড়াও বদরগঞ্জে সর্বস্তরের জনগন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কলেজটিতে বিশেষ ভুমিকা রাখেন। কলেজটিতে প্রায় ১ হাজার ৫ শত ছাত্রি পড়াশুনা করছে।
বর্তমানে কলেজটিতে আধুনিক বিজ্ঞানাগার,সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার,কম্পিউটার ল্যাব,সুসজ্জিত একাডেমিক ভবন রয়েছে। বর্তমানে একাদশ,দ্বাদশ শ্রেনিতে মানবিক,বিজ্ঞান,ব্যবসায় শিক্ষা শাখা। ¯œাতক(পাশ) পযার্যে বিএ,বিএসএস,বিএসসি ও বিবিএস সা¯œক(সন্মান)পর্যায়ে বাংলা,সমাজ বিজ্ঞান,দর্শন ও ইতিহাস বিষয় নিয়ে শিক্ষা দান অব্যাহত রয়েছে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও লন্ডনে ব্যারিষ্টার পড়–য়া শিক্ষার্থী তামান্না আশফি মোবাইল ফোনে জানান;বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে না পড়লে আজ আমি লন্ডনের সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যারিষ্টারি পড়তে পারতাম না। এক সময় আমি বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের ছাত্রি ছিলাম,এ ভেবে গর্ব বোধ করি। 
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক ও অভিভাবক মজিবর রহমান বকস্ িজানান; আমার দুই মেয়ে এই কলেজ হতে ভাল রেজাল্ট করে বর্তমানে একজন ডাক্তারি পাশ করেছে,অন্যজন এমবিবিএস ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রি।
বদরগঞ্জ বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; প্রতিবছর এই কলেজের ফলাফল অত্যন্ত ভাল। ভাল রেজাল্টের উপর ভিক্তি করে দীর্ঘ সময় ধরে রংপুর বিভাগে বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। আশা করি ভবিষ্যতেও এই কলেজ তার ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখবে এবং নারী শিক্ষায় অগ্রনী ভুমিকা পালন করে যাবে।  
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য,মহিলা ডিগ্রি কলেজের সভাপতি ও রংপুর-আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক মোবাইল ফোনে জানান; কলেজটির লেখাপড়ার মান অত্যন্ত ভাল। নারী শিক্ষায় কলেজটি গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করছে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩ ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

   

বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

দেশিয় সংস্কৃতিতে এক অন্য রকম বিয়ে!

দেশিয় সংস্কৃতিতে এক অন্য রকম বিয়ে!


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


আবহমান বাংলার অপরুপ সৌন্দের্যের জুড়ি মেলা ভার। বাংলা ও বাঙ্গালীর হাজার বছরের শিক্ষা সংস্কৃতির সাথে দেশের প্রতিটি মানুষ মিলে মিশে একাকার। যদিও সময়ের সাথে সাথে প্রাচত্যের কিছু সংস্কৃতি আমাদের সংস্কৃতিতে মিশে গেছে। এর পরও আমরা বাঙ্গালীর সংস্কৃতিতে গর্ব বোধ করি। শুধু তাই নয়,বাঙ্গালী জাতি আজ পৃথিবীর মানচিত্রে উচু আসনে স্থান করে নিয়েছে। আমাদের দেশিয় সংস্কৃতির মধ্যে বিয়ের আচার অনুষ্ঠান উল্লেখযোগ্য। অনেক দিন পর দেশিয় সংস্কৃতির সাথে মিল রেখে ঘোড়া গাড়িতে করে বরের বিয়ে বাড়ি গমন। এ এক অন্য ধরনের অনুভুতি।
সরেজমিনে বিয়ে বাড়ির এ আয়োজন দেখে লোভ সামলাতে না পেরে পৌছে যাই বিয়ে বাড়িতে। বর বহনকারি ঘোড়া গাড়িকে সাজানো হয়েছে ফুলে ফুলে। বর ইসতিয়াক আহম্মেদ লিমন। দিনাজপুর হাজি দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমএজি করে চাকুরি করছেন। বরের পিতা আঃ লতিফ প্রামানিক জাতীয় জাদুঘরের সাবেক কিউরেটর। মা ইয়াসমিন আরা বেগম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
কনে জান্নাতুল ফেরদৌসি বৃষ্টি দিনাজপুর হাজি দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএজিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী। মা খাদিজা বেগম একজন সরকারি চাকুরে। বৃষ্টিদের বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউপির শংকরপুর ঝাড়পাড়ায়। বৃষ্টির পিতা(মৃতঃ) আঃ জলিল সরকার একজন কলেজ শিক্ষক ছিলেন।
ঘোড়ার গাড়িতে করে বরের কনের বাড়িতে যাবার দৃশ্য পৌরশহরের সকলেরই দৃষ্টি কাড়ে।
কথা হয় বরের পিতা ও জাতীয় জাদুঘরের সাবেক কিউরেটর আঃ লতিফ প্রামানিকের সাথে, তিনি জানান; ইচ্ছে ছিল একমাত্র ছেলের বিয়েতে আমি দেশিয় সংস্কৃতির আলোকে আয়োজন করবো। এ কারনে ঘোড়া গাড়ি সহ দেশিয় ঐতিহ্যের বিষয়গুলিকে মাথায় রেখে বিয়ে বাড়ির গেটটিকেও আমি খড় দিয়ে সাজিয়েছি।
বর যাত্রি হাসান আল মাহমুদ জানান; আমি অনেক বিয়ে বাড়িতে বর যাত্রি হিসেবে গিয়েছি,তবে এ বিয়ে বাড়ির আয়োজনটাই ভিন্ন। যা আমাকে মুগ্ধ করেছে।
বিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আফজাল হোসেন জানান;দেশিয় সংস্কৃতিকে বুকে ধারন লালন করে এ বিয়ে বাড়িটাকে সাজানোটা আমার ভীষন ভাল লেগেছে। দেশিয় সংস্কৃতিকে প্রতিটি বাঙ্গালীর ধারন ও লালন করা উচিত।    



বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪   

বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে স্বরস্বতি পুজা অনুষ্ঠিত

বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে স্বরস্বতি পুজা অনুষ্ঠিত



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে বিদ্যার দেবি স্বরস্বতি পুজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার(২ফেব্রুয়ারি)দিনব্যাপি অনুষ্ঠিত স্বরস্বতি পুজায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে  মুখরিত  হয়ে ওঠে কলেজ ক্যাম্পাস।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারি অধ্যাপক জয়ন্তি সরকার ও নিখিল সরকারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত স্বরস্বতি পুজায় উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজ কর্ম বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক ফরহাদ হোসেন, রসায়ন বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক ইউনুস আলি,রংপুর মহানগর চক-ইসবপুর অনার্স কলেজের সিনিয়র প্রভাষক ও সাংবাদিক ফয়সাল সরকার পলাশ, শিক্ষক বিজয় মন্ডল সহ কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।  
এ সময় আরতি পরিবেশন করেন একাদশ শ্রেনির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রি চেতনা রায় মৌ, মিতা ব্যানার্জি,মাধবি দাস,তুয়া প্রমুখ।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪  


শীতের মিষ্টি রোদে হতদরিদ্র মহিলাদের চুল বাঁধা এবং তাদের বেঁচে থাকা !



শীতের মিষ্টি রোদে হতদরিদ্র মহিলাদের চুল বাঁধা এবং তাদের বেঁচে থাকা !


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

আধুনিকতার ছোঁয়া আর প্রাচত্যের সংস্কৃতিতে শহুরে কিছু মানুষ গা ভাসিয়ে দিলেও গ্রামাঞ্চলের মানুষজন এখনও রয়ে গেছে প্রেম ভালবাসার মোহে আচ্ছন্ন। সহজ সরল এই মানুষগুলো কঠিন বাস্তবতা আর দারিদ্রতার মাঝেও তারা একজন আরেকজনকে মনে প্রানে ভালবাসে এবং সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। ছুটির দিনে বেড়ানোর ফাঁকে চলে যাই বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউপি পরিষদ কার্যালয়ে। একটু এগিয়ে গিয়েই দৃষ্টি কাড়ে শীতের মিষ্টি রোদে বসে কয়েকজন মহিলা পরম মমতায় একে অপরের মাথার চুল আছড়িয়ে দিচ্ছেন কেউবা মাথার উকুন তুলে দিচ্ছেন। গ্রাম বাংলার চিরাচরিত এই অপরুপ দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে। সকল মহিলার পরনে ছেঁড়া শাড়ি বা জামা থাকলেও বুঝা গেল তাদের একে অপরের প্রতি প্রেম, মমত্ব আর ভালবাসার বিষয়টি। এরা যেন সকলেই প্রেম ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ।
পরে জানা গেল,মহিলারা এই গ্রামেরই বাসিন্দা। এখানে ৩৫টি হতদরিদ্র পরিবার বাস করে। অনাহার অর্ধাহার যাদের নিত্য সঙ্গি অথচ তারা একে অপরের সাথে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে বেঁচে আছে।
মাথার চুল দেখতে বসা মিনতি বালা (৪৫),দুলালি রানি(৪৭),সুমি রানি(৩২) ও কিনি রানির(৫০) সাথে কথা হলে তারা জানান; আমাদের পরিবারের পুরুষরা বাঁশের তৈরি জিনিষপত্র নিয়ে বাজারে গেছে, ফিরে আসলে আমরা সবাই রান্নার কাজ শুরু করবো। সত্যি কথা বলতে কি বাড়িতে কোন খাবারই নেই?
তবুও ক্ষুধা নিয়ে মুচকি হেসে সকলেই উত্তর দিলেন,যতক্ষন ওনারা না আসেন,ততক্ষন রোদে একটু একে অপরের চুল দেখছি।  
দোল কিনি বালা(৬০) জানান;আমাদের এই গ্রামের মানুষদের মুল কাজ বাঁশের তৈরি জিনিষপত্র যেমন,ডালা কুলা,চালা,পাটি সহ নানা ধরনের ব্যবহার্য জিনিষপত্র তৈরি করে বাজারজাত করা। আর তা দিয়ে যা আয় হয় তাতেই চালাতে হয় আমাদের প্রত্যেকের সংসার।
কথা হয় এই গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি মন্টু চন্দ্রের(৮৫)সাথে,তিনি জানান; এটি আমার পুর্বপুরুষের পেশা। বর্তমানে অনেক কষ্টে ধরে রেখেছি। গ্রামে আর আগের মত বাঁশ পাওয়া যায় না। দুরের কোন গ্রাম হতে বাঁশ বেশি দামে ক্রয় করে আনতে হয়। তাতে অনেক খরচ পড়ে যায়। লাভও তেমন হয় না। এ ছাড়া অন্য কাজও করতে পারি না, বাধ্য হয়ে কোন রকমে এ পেশা ধরে রেখেছি। তিনি আরও জানান; বাঁশের তৈরি দৃষ্টি নন্দন অনেক কাজ জানি কিন্তু টাকা পয়সার অভাবে করতে পারি না। কোন ব্যাংক কিংবা এনজিও যদি সহজ সুদে লোন দিত তাহলে আমাদের অনেক উপকার হতো। আমরা আরও দৃষ্টি নন্দন অনেক জিনিষ তৈরি করতে পারতাম।
গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজার রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ না করায় তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০১ফেব্রুয়ারি/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪    





  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...