মঙ্গলবার, ২১ মার্চ, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে মহামুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ শতমুলী



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

শতমুলী একটি ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদের নাম। বাসা-বাড়ির পরিত্যক্ত কোন জায়গায়,রাস্তার ধারে,পথে প্রান্তরে আপনা-আপনি ভাবে যে গাছটি জন্মাতো তার নামই শতমুলী। এর পাতা চিকন অনেকটা সুঁচের ন্যায়। আপনা-আপনি অবহেলা আর অনাদরে জন্মায় বলে এর গুরুত্ব আমরা তেমনভাবে দেই না। অথচ পরিবেশ বান্ধব দেশিয় প্রজাতির এই গাছটি আমাদের অনেক উপকারে আসে। সেই প্রাচীন কাল হতে ভেষজগুন সম্পন্ন দেশিয় প্রজাতির এই উদ্ভিদটি আমাদের নানা রোগের মহাষৌধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর গুনাগুন আমরা সবাই জানি এবং বুঝি। এত কিছু জানা ও বুঝার পরেও শুধুমাত্র অনাদর আর অবহেলার কারনেই প্রকৃতি হতে হারিয়ে যেতে বসেছে এই মহামুল্যবান ভেষজ সম্পদটি। প্রকৃতির এই অমুল্য সম্পদটিকে আমরা শেষ করে ফেলছি। আমরা সবাই জানি,প্রকৃতি সবসময় মানুষকে বুকে আগলে রাখার পাশাপাশি তার সবটুকু উজাড় করে দেয়। কখনো কোনদিন নিজেকে বিলিয়ে দিতে বিন্দু মাত্র কার্পন্য করে না। আর আমরা প্রকৃতির এই অমুল্য সম্পদগুলোকে সব সময় নিজের মত করে ব্যবহার করেই চলেছি। নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার্য এই মহামুল্যবান সম্পদকে রক্ষা করার তাগিদ অনুভব করছিনা কখনো। আর অনুভব করছিনা বলেই মহামুল্যবান ভেষজ সম্পদগুলো আজ প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে।
প্রকৃতিতে এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ। শুধুমাত্র অবহেলা অনাদর আর আপনা-আপনি বেড়ে ওঠা মহামুল্যবান ভেষজ উদ্ভিদগুলো আজ অস্তিত্ব সংকটে। ভেষজ উদ্ভিদগুলোর অস্তিত্ব সংকটের মুল কারন;আগাছা হিসেবে নির্বিচারে কেটে ধ্বংস করা। আর এভাবেই প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে এই মুল্যবান উদ্ভিদগুলো। এরই মধ্যে অসংখ্য উদ্ভিদ হারিয়ে গেছে। বর্তমানে হারিয়ে যাওয়ার তালিকায় রয়েছে ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ শতমুলী।
আগে বাংলাদেশের সব অঞ্চলে শতমুলী নামক উদ্ভিটির দেখা মিললেও বর্তমানে আর চোখেই পড়ে না।
সরেজমিনে অনেক খোঁজাখুঁজির পর শতমুলী নামক উদ্ভিদটির দেখা মেলে বদরগঞ্জ পৌরশহরের মুন্সিপাড়া রেলগেট এলাকার এক নার্সারিতে। কাছে গিয়ে দেখা যায়;বিলুপ্তপ্রায় ভেষজগুন সম্পন্ন শতমুলী নামক রোহিনী জাতীয় উদ্ভিদটি তার অস্তিত্ব জানান দিয়ে বলছে,এখনও আমার অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায়নি,তবে আমি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে,পারলে আমাকে রক্ষা করো।
শতমুলীর বৈজ্ঞানিক নাম-অ্যাসপারাগাস রেসিমোসাস,গোত্রের নাম-লিলিয়েসি।
কথা হয় মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা ও বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ইউনুস আলির সাথে,তিনি জানান;ছোট বেলা হতে দেখছি আমাদের এলাকায় অনেক শতমুলী গাছ ছিল। তবে এখন আর তেমন ভাবে চোখে পড়ে না। আগে বিভিন্ন জায়গা হতে অনেক গ্রাম্য চিকিৎসক এসে এখান হতে শতমুলী নামক গাছটি নিয়ে যেত। শুনেছি,এই গাছটি মানুষের অনেক উপকারে আসে।
গ্রাম্য কবিরাজ মাসুদ আলি(৫৫) জানান; শতমুলী মানুষের অনেক উপকারে আসে। বিশেষ করে এর মুল যৌন রোগের মহাষৌধ হিসেবে কাজ করে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; শতমুলী একটি ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ। আগে এ গাছটি প্রচুর পরিমানে যেখানে সেখানে দেখা গেলেও বর্তমানে এ গাছটি খুব কম চোখে পড়ছে। মুলতঃ গাছটির মুল মানুষের কাজে লাগে। পরিবেশ বান্ধব দেশিয় প্রজাতির এ গাছটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা(সংরক্ষন) করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যত প্রজন্ম জানতেই পারবে না শতমুলীর নাম।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন) কনক চন্দ্র রায় জানান; শতমুলী নামক উপকারি উদ্ভিদটি আর চোখে পড়ছে না। পরিবেশ বান্ধব দেশিয় প্রজাতির ভেষজগুন সম্পন্ন এ উদ্ভিদটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা করতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২২মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...