ওদের হাতে বইয়ের বদলে সংসারের ঘানি
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
যে বয়সে ওদের বাবা মায়ের সাথে আনন্দে দিন কাটার কথা। স্কুলে যাবার কথা, লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হবার কথা। সংসারের অর্থনৈতিক দৈন্যতা ফেরাতে এই ভাগ্যবিড়ম্বিত শিশুরা বাধ্য হয়ে কাজ করছেন কোন ওয়ার্কসপ,বাইসাইকেল গ্যারেজ,ইটভাটা কিংবা মিষ্টির দোকানে। এ ছাড়াও শিশুরা বাধ্য হচ্ছেন রিক্সার হ্যান্ডেল শক্ত হাতে ধরতে। বাধ্য হচ্ছে তাদের তাদের সস্তা শ্রম বিকিয়ে দিতে। আমরাও সুযোগ বুঝে তাদের সস্তা শ্রম কিনে নিচ্ছি। অভাব আর অনাটনে বেড়ে ওঠা ওই সব পথশিশুদের যেন দেখার কেউ নেই। সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে বইয়ের বদলে শিশুরা যেমন বেঁচে নিয়েছে তাদের কায়িক শ্রম বিক্রি করতে অন্যদিকে তাদের পরিবাররাও শিশুদের এক প্রকার বাধ্য করছেন স্কুলের যাওয়ার পরিবর্তে কায়িক শ্রম বিকিয়ে তাদের সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে।
সরেজমিনে বদরগঞ্জ উপজেলাসহ পৌরসভা ঘুরে দেখা মেলে ওই সকল ভাগ্যবিড়ম্বিত শিশুদের। যারা প্রতিনিয়ত শ্রম বিক্রি করে চলেছেন।
এদের একজনের নাম রায়হান(১০)। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপির বাতাসন গ্রামে। রায়হান জানান; ক্লাশ টু পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে সে। কাজ করে এক ওয়েলডিং ওয়ার্কসপে। প্রতিদিন যা আয় হয় তা দিয়ে কষ্ট করে চলে তাদের সংসার। বাবা নেই। তার মা কাজ করে অন্যের বাড়িতে। বাধ্য হয়ে তাকে ওয়েলডিং ওয়ার্কসপে ঝুঁকিপুর্ন কাজ করতে হচ্ছে। সে আরও জানায়; লেখাপড়া আমিও করতে চাই কিন্তু আমার সংসার চালাবে কে?
কথা হয় হোটেল বয় শিশু শ্রমিক মিন্টুর(১১)সাথে,সে জানায়; এক বছর ধরে হোটেলের বয়ের কাজ করছি। প্রতিদিন যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে চলে আমাদের সংসার।
শিশু মিন্টু দুঃখ করে আরও জানায়; আমাদের জন্য লেখাপড়া নয়। লেখাপড়া করলে খাবো কি?
এদিকে সরকারি কিংবা বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বদরগঞ্জ উপজেলায় ঠিক কত জন শিশু শ্রমিক রয়েছে তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান তাদের হাতে নেই।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; আমাদের কাছে কষ্টের বিষয়,এই সমস্ত কোমল মতি ভাগ্যবিড়ম্বিত শিশুরা আজ জীবিকার সন্ধানে লেখাপড়া বাদ দিয়ে তাদের সস্তা শ্রম বিকিয়ে দিচ্ছে। সরকার বিনামুল্যে পাঠ্যপুস্তক সহ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে দিলেও তারা লেখাপড়ার দিকে না ঝুঁকে পরিবারের অভাবের কারনে শিশুরা বাধ্য হচ্ছেন ঝুঁকিপুর্ন কিংবা কম ঝুঁকিপুর্ন অন্যের প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে। তিনি আরও জানান; শিশুদের দিয়ে ঝুঁকিপুর্ন কাজ করানোটা আরও অন্যায়। এ ক্ষেত্রে পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
বদরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার হুমায়ুন কবির মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে জানান; সরকার বিনামুল্যে পাঠ্যপুস্তক সহ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে দিলেও
এই সমস্ত শিশুরা লেখাপড়া না করে তাদের শিশুশ্রম দেয়াটা দুর্ভাগ্যজনক। এ বিষয়ে পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি বলে তিনি মত দেন।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
যে বয়সে ওদের বাবা মায়ের সাথে আনন্দে দিন কাটার কথা। স্কুলে যাবার কথা, লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হবার কথা। সংসারের অর্থনৈতিক দৈন্যতা ফেরাতে এই ভাগ্যবিড়ম্বিত শিশুরা বাধ্য হয়ে কাজ করছেন কোন ওয়ার্কসপ,বাইসাইকেল গ্যারেজ,ইটভাটা কিংবা মিষ্টির দোকানে। এ ছাড়াও শিশুরা বাধ্য হচ্ছেন রিক্সার হ্যান্ডেল শক্ত হাতে ধরতে। বাধ্য হচ্ছে তাদের তাদের সস্তা শ্রম বিকিয়ে দিতে। আমরাও সুযোগ বুঝে তাদের সস্তা শ্রম কিনে নিচ্ছি। অভাব আর অনাটনে বেড়ে ওঠা ওই সব পথশিশুদের যেন দেখার কেউ নেই। সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে বইয়ের বদলে শিশুরা যেমন বেঁচে নিয়েছে তাদের কায়িক শ্রম বিক্রি করতে অন্যদিকে তাদের পরিবাররাও শিশুদের এক প্রকার বাধ্য করছেন স্কুলের যাওয়ার পরিবর্তে কায়িক শ্রম বিকিয়ে তাদের সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে।
সরেজমিনে বদরগঞ্জ উপজেলাসহ পৌরসভা ঘুরে দেখা মেলে ওই সকল ভাগ্যবিড়ম্বিত শিশুদের। যারা প্রতিনিয়ত শ্রম বিক্রি করে চলেছেন।
এদের একজনের নাম রায়হান(১০)। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপির বাতাসন গ্রামে। রায়হান জানান; ক্লাশ টু পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে সে। কাজ করে এক ওয়েলডিং ওয়ার্কসপে। প্রতিদিন যা আয় হয় তা দিয়ে কষ্ট করে চলে তাদের সংসার। বাবা নেই। তার মা কাজ করে অন্যের বাড়িতে। বাধ্য হয়ে তাকে ওয়েলডিং ওয়ার্কসপে ঝুঁকিপুর্ন কাজ করতে হচ্ছে। সে আরও জানায়; লেখাপড়া আমিও করতে চাই কিন্তু আমার সংসার চালাবে কে?
কথা হয় হোটেল বয় শিশু শ্রমিক মিন্টুর(১১)সাথে,সে জানায়; এক বছর ধরে হোটেলের বয়ের কাজ করছি। প্রতিদিন যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে চলে আমাদের সংসার।
শিশু মিন্টু দুঃখ করে আরও জানায়; আমাদের জন্য লেখাপড়া নয়। লেখাপড়া করলে খাবো কি?
এদিকে সরকারি কিংবা বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বদরগঞ্জ উপজেলায় ঠিক কত জন শিশু শ্রমিক রয়েছে তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান তাদের হাতে নেই।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; আমাদের কাছে কষ্টের বিষয়,এই সমস্ত কোমল মতি ভাগ্যবিড়ম্বিত শিশুরা আজ জীবিকার সন্ধানে লেখাপড়া বাদ দিয়ে তাদের সস্তা শ্রম বিকিয়ে দিচ্ছে। সরকার বিনামুল্যে পাঠ্যপুস্তক সহ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে দিলেও তারা লেখাপড়ার দিকে না ঝুঁকে পরিবারের অভাবের কারনে শিশুরা বাধ্য হচ্ছেন ঝুঁকিপুর্ন কিংবা কম ঝুঁকিপুর্ন অন্যের প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে। তিনি আরও জানান; শিশুদের দিয়ে ঝুঁকিপুর্ন কাজ করানোটা আরও অন্যায়। এ ক্ষেত্রে পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
বদরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার হুমায়ুন কবির মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে জানান; সরকার বিনামুল্যে পাঠ্যপুস্তক সহ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে দিলেও
এই সমস্ত শিশুরা লেখাপড়া না করে তাদের শিশুশ্রম দেয়াটা দুর্ভাগ্যজনক। এ বিষয়ে পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি বলে তিনি মত দেন।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন