বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ, ২০১৭

একটি ব্রীজ, কমাতে পারে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ

একটি ব্রীজ, কমাতে পারে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

চিকলি একটি নদীর নাম। বর্ষাকালে দু-কুল ছাপিয়ে পানিতে পুর্ন থাকে। তখন দামোদরপুর ইউনিয়নের হাজারো মানুষ পাড়ি দেন ছোট ডিঙ্গি নৌকায় করে। মাঝে মাঝে নদীতে নৌকা না থাকলে তখন মানুষের দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই ঘাটটিতে একটি ব্রীজ নির্মানের। অবহেলিত এ জনপদের মানুষগুলি এক সময় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছিলেন কিন্তু তাদের প্রানের দাবি পুরনে কেউ এগিয়ে আসেননি। অবশেষে ২০১২ সালে তৎকালিন স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য ৮৩ মিটার বেইলি ব্রীজ নির্মানের জন্য,১কোটি ৯৯লক্ষ ৯৮হাজার ৪৭৯ টাকা বরাদ্দ পান। তখনই শুরু হয় ব্রীজ নির্মানের কাজ। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি ব্রীজের জন্য পিলার নির্মান ও মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়। এলজিইডির চুক্তি অনুযায়ি ওই ব্রীজের জন্য ইস্পাতের তৈরি পাতাটন সরবরাহের কথা ছিল সড়ক ও জনপথ (সওজ)বিভাগের। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগ পাতাটন সরবরাহ না করায় ব্রীজটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্রীজটির অবস্থান রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির মোস্তফাপুর খেয়াঘাট স্থানে। সরেজমিনে ব্রীজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়; শুকনো নদীর ধু-ধু বালুচরের উপর নীরবে দাঁড়িয়ে আছে ব্রীজের জন্য নির্মিত পিলারগুলি। ব্রীজ নির্মানের আগে পথচারিদের যাতায়াতের জন্য যে রাস্তাটি ছিল সেটিও রয়েছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। তীরবর্তী মানুষগুলো নতুন করে রাস্তা নির্মান করে ধু-ধু বালুচরের মধ্য দিয়ে অনেক কষ্টে যাতায়াত করছেন।
কথা হয় ওই এলাকার বাসিন্দা রিক্সা ভ্যানচালক আমির আলির(৪৫)সাথে তিনি জানান; ছোট বেলা হতে উপজেলা সদরে যাওয়ার জন্য নদীর ঘাটে এসে নৌকার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতাম। প্রথমে ব্রীজ নির্মানের কথা শুনে মনে হল, এবার বুঝি আমাদের কষ্ট দুর হবে। কিন্তু ব্রীজ আর হলো না। আমাদের কষ্ট থেকেই গেল। তিনি আক্ষেপ করে জানান;আমি হয়তঃ আমার জীবদ্দশায় এ ব্রীজ দেখে যেতে পারবো না। ধু-ধু বালুচরের মধ্য দিয়ে রিক্সা-ভ্যান পারাপার কি যে কষ্টের সে আমি জানি ?
কথা হয় এই এলাকার বাসিন্দা ও বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেনির ছাত্রি আফরোজা বেগমের সাথে,তিনি জানান; বর্ষাকালে নৌকার অভাবে কলেজ যেতে দেরি হলে ক্লাস মিস করি। এ জন্য স্যারদের বকুনি খেতে হয়। কলেজে ছাত্রিটি এই প্রতিবেদককে উল্টো প্রশ্ন রেখে বলেন,আদৌ এ ব্রীজটি হবে তো !
দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক জানান;ব্রীজটি না থাকায় এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এলাকার মানুষ অসুস্থ্য হয়ে পড়লেও সঠিক সময়ে তারা স্বাস্থ্য সেবা নিতে পারেন না।
বদরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলি আবু তালেব সরকার জানান;দরপত্র অনুযায়ি বরাদ্দের টাকায় ঠীকাদার ব্রীজের কাজ বুঝিয়ে দিয়েছে। কিন্তু চুক্তি মোতাবেক সড়ক ও জনপথ বিভাগ ব্রীজের জন্য ইস্পাতের পাতাটন সরবরাহ না করায় ব্রীজ নির্মানের কাজ শেষ হয়নি।
তিনি আরও জানান; এ জন্য গত বছর বেইলি ব্রীজের ডিজাইন পরিবর্তন করে এলজিইডির অধীনে সেখানে গার্ডার ব্রীজ নির্মানের জন্য ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দ চেয়ে বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউকের ডিও লেটার সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি অচিরেই অনুমোদন পাওয়া যাবে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৯ মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 

        

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...