রবিবার, ৫ মার্চ, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ সাদা লজ্জাবতী

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ সাদা লজ্জাবতী


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

প্রকৃতি সবসময় মানুষকে বুকে আগলে রাখার পাশাপাশি তার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে। কখনো কোনদিন নিজেকে বিলিয়ে দিতে বিন্দু মাত্র কার্পন্য করেনি। আর আমরা প্রকৃতির এই অমুল্য সম্পদকে সব সময় নিজের মত করে ব্যবহার করেই চলেছি। নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার্য এই মহামুল্যবান সম্পদকে রক্ষা করার তাগিদ অনুভব করিনি কখনো। আর অনুভব করিনি বলেই মহামুল্যবান ভেষজ সম্পদগুলো আজ প্রকৃতি হতে হারিয়ে যেতে বসেছে। এখনও প্রকৃতিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ। অবহেলা অনাদর আর আপনাআপনি বেড়ে ওঠা মহামুল্যবান ভেষজ উদ্ভিদগুলো আজ অস্তিত্ব সংকটে। ভেষজ উদ্ভিদগুলোর অস্তিত্ব সংকটের মুল কারন; জ্বালানি সমস্যা আর (আগাছা হিসেবে) নির্বিচারে কেটে ধ্বংস করা। আর এভাবেই প্রকৃতি হতে ভেষজগুন সম্পন্ন মহামুল্যবান অসংখ্য উদ্ভিদ ইতোমধ্যে হারিয়ে গেছে। হারিয়ে যাওয়ার তালিকায় রয়েছে সাদা লজ্জাবতী।
আগে বাংলাদেশের সব অঞ্চলে লজ্জাবতী নামক বিরুৎ জাতীয় উদ্ভিটির দেখা মিললেও বর্তমানে আর চোখেই পড়ে না মহামুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন এই উদ্ভিদটি।
সরেজমিনে গত ১ মাস ধরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর লজ্জাবতী নামক উদ্ভিদটির দেখা মেলে রংপুর মহানগরের লাহিড়ির হাট নামক এলাকার মেইন সড়কের ধারে। কাছে গিয়ে দেখা যায়;বিলুপ্তপ্রায় ভেষজগুন সম্পন্ন লজ্জাবতী নামক উদ্ভিদটি অনেকটা লজ্জা আর ভয় নিয়ে ভাট নামক গাছের আড়ালে লুকিয়ে তার অস্তিত্ব জানান দিয়ে বলছে,এখনও আমার অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায়নি,তবে আমি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে,আমাকে রক্ষা করো।
লজ্জাবতীর বৈজ্ঞানিক নাম-মাইমোসা পুডিকা,গোত্রের নাম-লিগুমাইনোসি। বাংলাদেশে দুই ধরনের লজ্জাবতী গাছ দেখতে পাওয়া যায়। এদের মধ্যে লাল লজ্জাবতীর পাতা অনেকটা ছোট ও চিকন আর সাদা লজ্জাবতীর পাতা তুলনামুলকভাবে বড় ও চ্যাপ্টা।   
কথা হয় লাড়িহির হাট এলাকার লজ্জাবতী নামক দুলর্ভ গাছটি খুঁজে বের করা কৃষক সামসুল হকের(৫৬)সাথে; তিনি জানান; ছোট বেলা হতে দেখছি আমাদের এলাকায় অনেক সাদা লজ্জাবতীর গাছ ছিল। তবে এখন আর চোখে পড়ে না। আগে বিভিন্ন জেলা হতে অনেক গ্রাম্য চিকিৎসক এসে এখান হতে সাদা লজ্জবতী নামক গাছটি নিয়ে যেত। শুনেছি এই গাছটি মানুষের অনেক উপকারে আসে। তিনি আরও জানান; এখনও গাছটির ফুল আসেনি। ভাগ্য ভালো আপনার(প্রতিবেদকের)যে, সাদা লজ্জাবতীর গাছের দেখা পেলেন। অনেক বছর হতে আমিও এই গাছটিকে দেখিনি।
গ্রাম্য কবিরাজ রহমত আলি(৬৫) জানান; সাদা লজ্জাবতী মানুষের অনেক উপকারে আসে। বিশেষ করে এর পাতা ও মুল। যৌন সমস্যা জনিত রোগিদের সাদা লজ্জাবতী গাছটি অনেক উপকারে আসে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; মহামুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ এই সাদা লজ্জাবতী। লাল লজ্জাবতী কিছুটা দেখা গেলেও বর্তমানে সাদা লজ্জাবতী নামে বিরুৎ জাতীয় এ গাছটি আর দেখা যায় না। মুলতঃ গাছটির পাতা ও মুল কাজে লাগে। দেশিয় প্রজাতির এ গাছটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা(সংরক্ষন) করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যত প্রজন্ম জানতেই পারবে না সাদা লজ্জাবতীর নাম।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন) কনক চন্দ্র রায় জানান; সাদা লজ্জাবতী নামক উপকারি উদ্ভিদটি আর চোখে পড়ে না। দেশিয় প্রজাতির ভেষজগুন সম্পন্ন এ উদ্ভিদটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা করতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৫মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...