প্রকৃতি হতে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে বেল গাছ
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
প্রকৃতি হতে ক্রমেই হারিয়ে যেতে বসেছে বেল গাছ। সু-স্বাদু ফল ও ভেষজগুন সম্পন্ন গাছটিকে আগে বাসা-বাড়ির পরিত্যক্ত কোন জায়গায়,রাস্তার ধারে,পথে প্রান্তরে আপনা-আপনি ভাবে জন্মাতে দেখা যেত। আপনা-আপনি অবহেলা আর অনাদরে জন্মায় বলে এর গুরুত্বটা আমাদের কাছে তেমনভাবে নেই। অথচ দেশিয় প্রজাতির এই গাছটির ফল অত্যন্ত সু-স্বাদু ও গাছটি আমাদের অনেক উপকারে আসে। সেই প্রাচীন কাল হতে এর ফল,পাতা সহ গাছটিই আমাদের নানা রোগের মহাষৌধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর গুনাগুন আমরা সবাই জানি এবং বুঝি। এত কিছু জানা ও বুঝার পরেও শুধুমাত্র অনাদর আর অবহেলার কারনেই প্রকৃতি হতে হারিয়ে যেতে বসেছে এই মহামুল্যবান বেল গাছটি। প্রকৃতির এই অমুল্য সম্পদটিকে আমরা নির্বিচারে কেটে শেষ করে ফেলছি। আমরা সবাই জানি,প্রকৃতি সবসময় মানুষকে বুকে আগলে রাখার পাশাপাশি তার সবটুকু উজাড় করে দেয়। কখনো কোনদিন নিজেকে বিলিয়ে দিতে বিন্দু মাত্র কার্পন্য করে না। আর আমরা প্রকৃতির এই অমুল্য সম্পদগুলোকে সব সময় নিজের মত করে ব্যবহার করেই চলেছি। নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার্য এই মহামুল্যবান সম্পদকে রক্ষা করার তাগিদ অনুভব করছিনা কখনো। আর অনুভব করছিনা বলেই মহামুল্যবান সম্পদগুলো আজ প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে।
শুধুমাত্র অবহেলা অনাদর আর আপনা-আপনি বেড়ে ওঠা মহামুল্যবান উদ্ভিদগুলো আজ অস্তিত্ব সংকটে। এই মুল্যবান উদ্ভিদগুলোর অস্তিত্ব সংকটের মুল কারন; জ্বালানি সমস্যার কারনে নির্বিচারে কেটে ধ্বংস করা। আর এভাবেই প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে এই মুল্যবান উদ্ভিদগুলো। এরই মধ্যে অসংখ্য উদ্ভিদ হারিয়ে গেছে। বর্তমানে হারিয়ে যাওয়ার তালিকায় রয়েছে বেল গাছ।
আগে বাংলাদেশের সব অঞ্চলে বেল নামক গাছটির দেখা মিললেও বর্তমানে আর চোখেই পড়ে না।
সরেজমিনে অনেক খোঁজাখুঁজির পর বেল গাছ নামক গাছটির দেখা মেলে বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামে। কাছে গিয়ে দেখা যায়;বিলুপ্তপ্রায় ভেষজগুন সম্পন্ন বেল নামক গাছটি তার অস্তিত্ব জানান দিয়ে বলছে,এখনও আমার অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায়নি,তবে আমি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে,পারলে আমাকে রক্ষা করো। বেলের বৈজ্ঞানিক নাম-এ্যায়িগেল মারমিলস,গোত্রের নাম-রুটাসি।
কথা হয় ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি ও রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক(৮৫)সাথে তিনি জানান;ছোট বেলা হতে দেখছি আমাদের এলাকায় অনেক বেল গাছ ছিল। তবে এখন আর তেমন ভাবে চোখে পড়ে না। আগে আমরা গরমের দিনে পাকা বেল দিয়ে শরবত তৈরি করে খেতাম।
গ্রাম্য কবিরাজ ওমর আলি(৭০) জানান;বেল গাছ মানুষের অনেক উপকারে আসে। বিশেষ করে পুরুষদের দুর্বল পুরুষাংগ সবল ও সতেজ করতে বেলের জুড়ি নেই। ছাত্র-ছাত্রিদের স্মরন শক্তি বৃদ্ধিতে বেল পাতা ঘিয়ে ভেঁজে খাওয়ালে অনেক উপকার হয়। এক চা চামচ বেল পাতার রস খেলে জ্বর সর্দি ভাল হয়ে যায়।
বিশিষ্ট স্বর্ন ব্যবসায়ি সঞ্জিত চক্রবর্তী মনা জানান; আমাদের হিন্দু ধর্মীয় মতে,বেল একটি পবিত্র গাছ। বেল পাতা ছাড়া পুজা সম্পন্ন হয় না। তিনি আরও জানান; আমাদের নিজেদের স্বার্থে দেশিয় প্রজাতির এই পবিত্র গাছটিকে আমাদের রক্ষা করতে হবে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; আগে বেল গাছ প্রচুর পরিমানে যেখানে সেখানে দেখা গেলেও বর্তমানে এ গাছটি খুব কম চোখে পড়ছে। গাছটি মানুষের অনেক কাজে লাগে। দেশিয় প্রজাতির এ গাছটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা(সংরক্ষন) করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যত প্রজন্ম জানতেই পারবে না বেল গাছের নাম।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন) কনক চন্দ্র রায় জানান; বেল গাছ নামক উপকারি গাছটি আর চোখে পড়ছে না। দেশিয় প্রজাতির ভেষজগুন সম্পন্ন এ উদ্ভিদটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা করতে হবে।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৫মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
প্রকৃতি হতে ক্রমেই হারিয়ে যেতে বসেছে বেল গাছ। সু-স্বাদু ফল ও ভেষজগুন সম্পন্ন গাছটিকে আগে বাসা-বাড়ির পরিত্যক্ত কোন জায়গায়,রাস্তার ধারে,পথে প্রান্তরে আপনা-আপনি ভাবে জন্মাতে দেখা যেত। আপনা-আপনি অবহেলা আর অনাদরে জন্মায় বলে এর গুরুত্বটা আমাদের কাছে তেমনভাবে নেই। অথচ দেশিয় প্রজাতির এই গাছটির ফল অত্যন্ত সু-স্বাদু ও গাছটি আমাদের অনেক উপকারে আসে। সেই প্রাচীন কাল হতে এর ফল,পাতা সহ গাছটিই আমাদের নানা রোগের মহাষৌধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর গুনাগুন আমরা সবাই জানি এবং বুঝি। এত কিছু জানা ও বুঝার পরেও শুধুমাত্র অনাদর আর অবহেলার কারনেই প্রকৃতি হতে হারিয়ে যেতে বসেছে এই মহামুল্যবান বেল গাছটি। প্রকৃতির এই অমুল্য সম্পদটিকে আমরা নির্বিচারে কেটে শেষ করে ফেলছি। আমরা সবাই জানি,প্রকৃতি সবসময় মানুষকে বুকে আগলে রাখার পাশাপাশি তার সবটুকু উজাড় করে দেয়। কখনো কোনদিন নিজেকে বিলিয়ে দিতে বিন্দু মাত্র কার্পন্য করে না। আর আমরা প্রকৃতির এই অমুল্য সম্পদগুলোকে সব সময় নিজের মত করে ব্যবহার করেই চলেছি। নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার্য এই মহামুল্যবান সম্পদকে রক্ষা করার তাগিদ অনুভব করছিনা কখনো। আর অনুভব করছিনা বলেই মহামুল্যবান সম্পদগুলো আজ প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে।
শুধুমাত্র অবহেলা অনাদর আর আপনা-আপনি বেড়ে ওঠা মহামুল্যবান উদ্ভিদগুলো আজ অস্তিত্ব সংকটে। এই মুল্যবান উদ্ভিদগুলোর অস্তিত্ব সংকটের মুল কারন; জ্বালানি সমস্যার কারনে নির্বিচারে কেটে ধ্বংস করা। আর এভাবেই প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে এই মুল্যবান উদ্ভিদগুলো। এরই মধ্যে অসংখ্য উদ্ভিদ হারিয়ে গেছে। বর্তমানে হারিয়ে যাওয়ার তালিকায় রয়েছে বেল গাছ।
আগে বাংলাদেশের সব অঞ্চলে বেল নামক গাছটির দেখা মিললেও বর্তমানে আর চোখেই পড়ে না।
সরেজমিনে অনেক খোঁজাখুঁজির পর বেল গাছ নামক গাছটির দেখা মেলে বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামে। কাছে গিয়ে দেখা যায়;বিলুপ্তপ্রায় ভেষজগুন সম্পন্ন বেল নামক গাছটি তার অস্তিত্ব জানান দিয়ে বলছে,এখনও আমার অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায়নি,তবে আমি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে,পারলে আমাকে রক্ষা করো। বেলের বৈজ্ঞানিক নাম-এ্যায়িগেল মারমিলস,গোত্রের নাম-রুটাসি।
কথা হয় ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি ও রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক(৮৫)সাথে তিনি জানান;ছোট বেলা হতে দেখছি আমাদের এলাকায় অনেক বেল গাছ ছিল। তবে এখন আর তেমন ভাবে চোখে পড়ে না। আগে আমরা গরমের দিনে পাকা বেল দিয়ে শরবত তৈরি করে খেতাম।
গ্রাম্য কবিরাজ ওমর আলি(৭০) জানান;বেল গাছ মানুষের অনেক উপকারে আসে। বিশেষ করে পুরুষদের দুর্বল পুরুষাংগ সবল ও সতেজ করতে বেলের জুড়ি নেই। ছাত্র-ছাত্রিদের স্মরন শক্তি বৃদ্ধিতে বেল পাতা ঘিয়ে ভেঁজে খাওয়ালে অনেক উপকার হয়। এক চা চামচ বেল পাতার রস খেলে জ্বর সর্দি ভাল হয়ে যায়।
বিশিষ্ট স্বর্ন ব্যবসায়ি সঞ্জিত চক্রবর্তী মনা জানান; আমাদের হিন্দু ধর্মীয় মতে,বেল একটি পবিত্র গাছ। বেল পাতা ছাড়া পুজা সম্পন্ন হয় না। তিনি আরও জানান; আমাদের নিজেদের স্বার্থে দেশিয় প্রজাতির এই পবিত্র গাছটিকে আমাদের রক্ষা করতে হবে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; আগে বেল গাছ প্রচুর পরিমানে যেখানে সেখানে দেখা গেলেও বর্তমানে এ গাছটি খুব কম চোখে পড়ছে। গাছটি মানুষের অনেক কাজে লাগে। দেশিয় প্রজাতির এ গাছটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা(সংরক্ষন) করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যত প্রজন্ম জানতেই পারবে না বেল গাছের নাম।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন) কনক চন্দ্র রায় জানান; বেল গাছ নামক উপকারি গাছটি আর চোখে পড়ছে না। দেশিয় প্রজাতির ভেষজগুন সম্পন্ন এ উদ্ভিদটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা করতে হবে।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৫মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন