নারী দিবস আসে যায় তবুও
মজুরি বৈষম্যে শ্রমজীবি নারীরা
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
নারী দিবস আসে আবার যায় কিন্তু নারীদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় না। প্রতিনিয়ত অসহায় নারীরা যেমন নিজ বাড়ি সমাজ সংসারে অপমান আর লাঞ্চনা সহ্য করে চলতে হয় তেমনি অভাবের তাড়নায় কর্ম ক্ষেত্রেও মজুরি বৈষম্যের শিকার হন তারা। আজকের এই দিবসটিকে ঘটা করে পালন করা হলেও নারীদের মজুরি বৈষম্যের বিষয়টি অধরাই থেকে যায়। যেন দেখার কেউ নেই !!
সরেজমিনে বদরগঞ্জ উপজেলা ঘুরে দেখা যায়; হাতে মেহেদি মাথায় ঘোমটা আর শাঁখা সিধুর দিয়ে যে নারীরা স্বামির বাড়িতে পা রেখেছিলেন তারা এখন অভাবের তাড়না আর আর্থিক সচ্ছলতার নিমিত্তে পুরুষের পাশাপাশি শ্রম বিক্রিতে নেমে পড়েছেন শ্রমজীবি নারীরা। কাকডাকা ভোরে হাতে ঝুড়ি এবং কাঁধে কোদাল নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছেন তারা। এ সমস্ত শ্রমজীবি মহিলারা রাস্তাভরাট,ইটভাটা,দালানকোটা নির্মান কাজে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। অনেক লোকের সমাগম কিন্তু তাতে মহিলা শ্রমিকদের মাঝে বিন্দুমাত্রও সংকোচ নেই। শ্রমবাজার নামে পরিচিত বদরগঞ্জ প্লাটফরম,ননী গোপালের মোড়, সিও বাজার মোড়,১৩ নং রেলগেট এলাকায় কাকডাকা ভোর এলেই এদের সহজেই চোখে পড়ে। এ সমস্ত শ্রমজীবি নারীরা আবার বিভিন্ন দলে বিভক্ত। প্রতিটি দলেই থাকে একজন করে দলনেত্রি।
কথা হয় বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউপির উত্তর বাওচন্ডি গ্রামের দলনেত্রি তসলিমা বেগম(৪৫) সাথে তিনি জানান ; নারী শ্রমিক হিসেবে মাটি কাটার কাজ করি। এ উপার্জনেই চলে তার সংসার। সংসারে উপযুক্ত কোন ব্যক্তি না থাকায় বাধ্য হয়ে মাথায় ঝুড়ি ও হাতে কোদাল ধরতে হয়েছে। তিনি আরও জানান; পুরুষরা তাদের ভিন্ন চোখে দেখে, কিন্তু যখন না খেয়ে দিন কাটাতে হয় তখন তো কেউ খাবার নিয়ে আসে না। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় মাটির কাজ সহ অন্যান্য কাজও সমানতালে করে যাচ্ছি।
রামনাথপুর ইউপির সর্দ্দারপাড়া গ্রামের নারী শ্রমিক আফরোজা বেগম (৪২)জানান ; ইটভাটায় কাজ করেই চলে আমার সংসার। পরুষদের তুলনায় নারী অনেক কম মজুরি পান। তিনি আরও জানান; যেখানে পুরুষ শ্রমিকরা ২৫০ টাকা পায় সেখানে আমাদের ১২০-১৪০টাকা মজুরি দেয়। এরপরও আমরা কাজ করি ।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক আঃ সালাম জানান; এ এলাকার মহিলারা পুরুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শ্রমিকের কাজ করে, পাশাপাশি মহিলারা পুরুষের তুলনায় বেশ ভাল কাজ করে তবুও তাদের মজুরি কম। তাদের এই মজুরি বৈষম্য দূর হওয়া উচিত।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার কাজি আবেদা গুলশান জানান;পুরুষ ও নারী শ্রমিকের মজুরি বৈষম্য অবশ্যই দুর হওয়া উচিত। কারন পুরুষদের তুলনায় নারীরা কো অংশে কম কাজ করেন না।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০৮এপ্রিল/১৫
মোবাইল- ০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন