রবিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৭

“আলোক ফাঁদ” ধান ক্ষেতে ক্ষতিকর পোকা সনাক্ত করতে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখছে




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

ভু-প্রকৃতি ও ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশ কৃষির উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ নামক ভৃ-খন্ড সৃষ্টির সময় বাংলাদেশে জনসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি। বর্তমানে জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি। পুর্বে জনসংখ্যা কম থাকার পরও আমাদের দেশে খাদ্যের ঘাটতি দেখা দিত। অথচ বর্তমানে জনসংখ্যা দ্বি-গুন হবার পরেও খাদ্য শষ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে রফতানি করা হচ্ছে। কিন্তু কিভাবে সম্ভব ! মুলতঃ কৃষকরা সনাতন ধারনা হতে বের হয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগি কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং দেশের কৃষি বিজ্ঞানীদের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশের কৃষি খাত আজ সমৃদ্ধ হয়েছে। যারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা ফসলের জমিতে ক্ষতিকর পোকা সনাক্তকরনে আলোক ফাঁদ স্থাপন করেছে। অন্ধকারে আলোক ফাঁদ স্থাপন করলে আলো দেখে পোকা তাতে আকৃষ্ট হয়। ফাঁদে আটকে যাওয়া পোকা পর্যবেক্ষন করলে বুঝা যায় ফসলে ক্ষতিকর পোকার আর্বিভাব হয়েছে কিনা। এভাবেই কৃষকরা কীটনাশক প্রয়োগ ব্যতিরেকে প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা দমনের কৌশল শিখেছেন অধুনালব্ধ জ্ঞান হতে। 
রংপুরের বদরগঞ্জে ফসলের জমিতে(ইরি ধান) ক্ষতিকর পোকা সনাক্ত করতে কিছু ফসলের মাঠে আলোক ফাঁদ স্থাপন করছে কৃষি অফিস। এখন পর্যন্ত তেমন কোন ক্ষতিকর পোকা সনাক্ত না হওয়ায় বদরগঞ্জ কৃষি অফিস আশা করছে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ইরি ধানের বাম্পার ফলন হবে।
কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়; চলতি মৌসুমে বদরগঞ্জ উপজেলার ১০ ইউনিয়নে মোট ১৭হাজার ৪১০হেক্টর জমিতে ইরি ধানের চাষ হয়েছে। ইরি ক্ষেতে ক্ষতিকর পোকার আবির্ভাব ঘটতে পারে। এ কারণে কৃষকরা তাদের জমিতে স্থাপন করেছে আলোক ফাঁদ। যাতে করে ক্ষতিকর পোকা সনাক্ত করা যায়।
বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত কৃষক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক(৮৫)জানান; পুর্বে কৃষকরা সনাতন পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনের কারনে তাদের উৎপাদিত ফসলের ফলন কম হতো। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যেত। বর্তমানে কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান সন্মত জ্ঞান লাভের ফলেই ফসলের উৎপাদন বেড়ে গেছে এবং প্রাকৃতিক উপায়ে ক্ষতিকর পোকা দমনের ফলে উৎপাদন খরচও কমে গেছে। ফলশ্রুতিতে কৃষিতে এসেছে সমৃদ্ধি।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা (উদ্ভিদ সংরক্ষন) কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; ধান ক্ষেতে রাতের অন্ধকারে আলোক ফাঁদ স্থাপন করলে তাতে পোকা আকৃষ্ট হয়। আর ওই ফাঁদ থেকে প্রাপ্ত পোকা পর্যবেক্ষণ করলে সহজেই বোঝা যায় ক্ষতিকর পোকার আবির্ভাব হয়েছে কিনা।
তিনি জানান; ইরি ক্ষেতের সবচেয়ে বড় ক্ষতিকর পোকার নাম মাজরা পোকা। এ কারনে জমিতে বাঁশের কঞ্চি পুঁতে দেয়া হয়েছে। পাখি ওই কঞ্চিতে বসে মাজরা পোকার ডিম(মথ) খেয়ে ফেললে আর মাজরা পোকা ফসলের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। এ ছাড়াও কিছুটা বাদামী গাছ ফড়িং বা কারেন্ট পোকার ভয় রয়েছে। যার কারনে কৃষকরা জমিতে আলোক ফাঁদের ব্যবস্থা করেছেন। যাতে ক্ষতিকর পোকা সনাক্ত করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও জানান;অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ ইরি ক্ষেত ও স্যাঁৎ স্যাঁতে স্থান হল বাদামি গাছ ফড়িংয়ের বা কারেন্ট পোকার আশ্রয় স্থল। এরা ধান গাছের গোড়ায় অবস্থান করে। যদি কোন ক্ষেতে বাদামি গাছ ফড়িং থাকে তাহলে ওই ক্ষেতের গাছ সরিয়ে মাটিতে ভালোভাবে চোখ রাখলেই দেখা যায় বাদামি রঙের পাখনাযুক্ত ছোট ছোট পোকা ভরাপেট নিয়ে কৌণিকভাবে ছুটে চলছে। এ দৃশ্য চোখে পড়ার সাথে সাথেই ধান গাছের মাথা সরিয়ে দিতে হবে। যাতে করে মাটিতে সহজেই আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। কারণ, বাদামি গাছ ফড়িং আলো-বাতাস যুক্ত স্থানে কখনোই থাকতে পারে না।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহাবুবর রহমান জানান; ফসল রক্ষায় কৃষকরা আগের চাইতে অনেক বেশি সচেতন। আশা করছি বড় কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে ইরির ফলন বাম্পার হবে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৬মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...