সোমবার, ৬ মার্চ, ২০১৭

আমের মুকুলের ভাঁজে ভাঁজে কৃষকের সোনালি স্বপ্নের হাতছানি


আমের মুকুলের ভাঁজে ভাঁজে কৃষকের সোনালি স্বপ্নের হাতছানি

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

আমের মুকুলে মুকুলে ছেঁয়ে গেছে রংপুর বদরগঞ্জের ফলের বাগানগুলো। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ আর মৌমাছির গুনগুন শব্দে শুভাসিত ও মুখরিত গোটা অঞ্চল। মুকুলের ভাঁজে ভাঁজে প্রোথিত রয়েছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। কয়েক দিন পর মুকুলের পেট চিড়ে বের হবে আমের দানা। এ দানা শুধু দানাই নয় এ হল কৃষকের আগামির (দিনের)স্বপ্ন। আগামির সোনালি স্বপ্নে আম চাষিরা বিভোর।
সরেজমিনে আম বাগানে গিয়ে দেখা যায়; বিস্তৃীর্ন বাগান জুড়ে চোখ ধাঁধানো মুকুলের সমারোহ,নয়নাভিরাম চিরচেনা সেই অপূর্ব নৈসর্গিক দৃশ্য যে কারোরই মনকে দোলা দিবে। আম চাষিরা তাদের সোনালি স্বপ্নের কথা ভেবে আম বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কথা হয় বদরগঞ্জ রাধানগর ইউপির পাঠানের হাট এলাকার আম চাষি আজিজুল ইসলাম খান জানান; আমার আম বাগানে পর্যাপ্ত মুকুল এসেছে। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে কয়েক লক্ষ টাকার আম বিক্রি করতে পারবো। তিনি জানান; আমার ধারনা ছিল সরিষার সময়ই শুধু মৌ চাষ হয়,আম বাগানেও যে মৌ চাষ করা যায় এটা আগে কখনও মাথায় আসেনি। খুলনা হতে আসা এক দল মৌয়ালের সাথে গত ১০দিন আগে হঠাৎ দেখা হলে তারা আমার আম বাগানে মৌ-চাষের কথা বললে আমি রাজি হয়ে যাই। তখনই শুরু হয় আম বাগানে মৌ চাষ। তিনি আরও জানান;মূলতঃ আম বাগানে মৌ চাষের কারনে আমের মুকুলে পরাগায়ন বেশি হবে ফলনও বৃদ্ধি পাবে,এটাই আমার লাভ।
কথা হয় বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের আম চাষি হাসান আল মাহমুদের সাথে,তিনি জানান;গত বছর এ বাগান হতে ৪ লক্ষ টাকার আম বিক্রি করেছি। আশা করছি যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমের মুকুলের ক্ষতি না হয় তবে দ্বি-গুন টাকার আম বিক্রি করতে পারবো।
কথা হয় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের সাথে তিনি জানান ; আম একটি সু-স্বাদু ফল। এর চাহিদা দেশে বিদেশে। আমের বাগান করে বর্তমানে অনেকেই স্বাবলম্বি। তিনি আরও জানান;আম বাগানে মৌমাছি পরাগায়নে সহায়তা করে। মার্চের শুরু হতে আম-লিচুর মুকুল হতে মধু আহরন শুরু হয়। সারাদেশের আম চাষিরা যদি তাদের আম বাগানে মধু চাষের জন্য হাতে কলমে প্রশিক্ষন দেন তাহলে সকল কৃষকই ফলের পাশাপাশি বাড়তি আয় করতে পারবেন।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান ; গত ১০ বছর আগেও বদরগঞ্জ উপজেলায় ফলের বাগান ছিল ১৫০ হেঃ। তা বেড়ে বর্তমানে ৯০০হেঃ ছাঁড়িয়ে গেছে। আম বাগান করে বর্তমানে অনেকেই স্বাবলম্বি। অনেকের সফলতা দেখে চাষিরা ফলের বাগানের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৬মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...