কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
কদম একটি গাছের নাম। ফুল ফোটে মুলতঃ বর্ষাকালে। গাছটি লম্বাটে ধরনের। এর পাতা বড় ও চ্যাপ্টা ধরনের। ফুলগুলো দেখতে ছোট ছোট বাতির মত গোল গোল। ফল ৩সে.মি চওড়া, শাঁসাল ও হলুদ রংয়ের। ফুলটি আসলে অনেকগুলো ফুলের গুচ্ছ। এর সুগন্ধ খুবই উপভোগ্য।
কদমের বৈজ্ঞানিক নাম- অ্যানথোসিফালাস সাইনেনসিস। গোত্র- রুবিয়েসি।
গাছটির উচ্চতা ২০ হতে ৩০ মিটার পর্যন্ত হয়। প্রকৃতি হতে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে কদম নামক উদ্ভিদটি। চিরচেনা পরিবেশ বান্ধব এই উদ্ভিদটি এক সময় বাংলাদেশের সবখানে দেখা গেলেও বর্তমানে তেমন আর চোখে পড়ে না।
সরেজমিনে ঘুরে বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা মেলে কদম গাছটির।
কদম গাছ সম্পর্কে কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঘাটাবিল ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাফিজ উদ্দিনের (৬৫)সাথে,তিনি জানান; এক সময় কমবেশি সকল স্থানে কদমের গাছ চোখে পড়তো। বর্তমানে আর দেখা যায় না। গাছগুলি কেটে ফেলে নতুন চারা না লাগানোর কারনে গাছটি আজ বিলুপ্তির পথে।
কথা হয় একই গ্রামের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা(৬০)সাথে,তিনি জানান; আম লিচুর গাছ আমরা যেভাবে রোপন করছি তার কিঞ্চিত পরিমানও কদম গাছের চারা রোপন করছি না। উপরন্তু যে সকল কদম গাছ ছিল তা কেটে আমরা সাবাড় করে ফেলেছি।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; প্রকৃতি বান্ধব কদম গাছটি আর নেই বললেই চলে। কারনে অকারনে আমরা গাছটিকে কেটে শেষ করে দিয়েছি। নতুন প্রজন্মকে কদম গাছ সম্পর্কে জানাতে হবে।
তিনি আরও জানান; আমাদের প্রয়োজনে গাছটিকে সংরক্ষন করতে হবে তা না হলে কদম নামের প্রকৃতি বান্ধব গাছটি একদিন হারিয়ে যাবে নিশ্চিত।
বদরগঞ্জ উপজেলা সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক চন্দ্র রায় জানান; দেশিয় প্রজাতির কদম নামক গাছটিকে আমাদের স্বার্থে সংরক্ষন করতে হবে। তা না হলে প্রকৃতি হতে একদিন হারিয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৮মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন