কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
মানব দেশের জন্য অতি প্রয়োজনীয় উপাদান আমিষ বা প্রোটিন। নানা উৎস হতে আমিষের চাহিদা পুরন করে মানুষ। এর মধ্যে শুটকি মাছ অন্যতম। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়,যে উৎস হতে আমরা বেশি পরিমানে আমিষ পেয়ে থাকি সেই শুটকি মাছে যদি দেয়া হয় ক্ষতিকর কেমিকেল তাহলে একবার অনুভব করুন, কতটা হুমকিতে আমাদের জনস্বাস্থ্য।
সরেজমিনে রংপুর বিভাগের শুটকি মাছের বড় আড়ত নীলফামারির সৈয়দপুরে গিয়ে দেখা যায় এর বাস্তব চিত্র। শুটকির আড়তের কম বেশি সকল দোকান ঘুরে যায় ক্ষতিকর কেমিকেল ডিডিটি পাউডার সহজলভ্য হওয়ায় এসব আড়তে শুটকি মাছে পোকা দমনের নামে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর পাউডারটিই ব্যবহৃত হচ্ছে সবচাইতে বেশি। সেই সাথে দেয়া হচ্ছে শুঁটকির স্থায়িত্বকাল বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ধরনের তরল রাসায়নিক। যা মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
বিভিন্ন দোকানদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়; বর্তমানে ওই আড়তে শুটকি মাছের ব্যবসায় মন্দাভাব বিরাজ করছে।
অনেক ব্যবসায়ি ব্যবসায় পুঁজি হারিয়ে এবং ব্যাংকের লোন পরিশোধ করতে না পারায় নিঃস্ব হয়েছেন। কেউবা আবার বাড়ি ঘর বিক্রি করে লোন পরিশোধ করে নিজ গ্রামে ফিরে গেছেন। এই আড়ত হতে দেশের বিভিন্ন জেলা হতে পাইকাড়রা এসে শুটকি মাছ ক্রয় করে বিক্রি করছেন তারা দেশের বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে। এতে করে ভোক্তরা চড়া দাম দিয়ে শুটকি মাছ কিনলেও কেমিকেল মিশ্রিত এই শুটকি মাছ কিনে একদিকে যেমন প্রতারিত হচ্ছেন অন্যদিকে রয়েছেন চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।
আরও জানা যায়;বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ভেজাল বিরোধি অভিযানে সৈয়দপুরের বেশকিছু শুঁটকির আড়তে অভিযান চালিয়ে লাখ লাখ টাকা জরিমানা আদায়সহ শুঁটকিতে ক্ষতিকর ডিডিটি পাউডার মিশ্রনের দায়ে অনেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীলগালা করে দেয়া হয়েছিল।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথেই এক শ্রেনির অসাধু ব্যবসায়িরা পূনরায় শুঁটকিতে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর ডিডিটিসহ বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যের মিশ্রন শুরু করে দিয়েছে।
বর্তমানে শুঁটকির আড়তে ভেজাল বিরোধি অভিযান পরিচালনা না হওয়ায় ব্যবসায়িরা অবাধেই চালিয়ে যাচ্ছে তাদের রমরমা ব্যবসা।
শুঁটকি মাছ ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি আবুল খায়ের এই প্রতিবেদককে জানান; ১৯৮৩ সালে সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল (নিয়ামতপুর) এলাকায় গড়ে উঠে এ শুঁটকি মাছ ব্যবসার আড়ত। প্রথম দিকে এখানে ১০-১৫ জন আড়তদার ছিল। ধীরে ধীরে আজ এ ব্যবসা বিস্তার লাভ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের দেশের ২য় বৃহত্তম শুঁটকি মাছের বন্দর এটি। এখানে স্থানীয় ফড়িয়া রয়েছে ৫৬ জন আড়তদার রয়েছে ১৫ জন। দেশের নানা প্রান্ত হতে এখানে শুটকি মাছের ব্যবসায়িরা আসেন প্রায় কয়েক হাজার। প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার শুঁটকি মাছ কেনা-বেচা হয়ে থাকে এখানে। মাছ আসে দেশের চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী এবং পাবনা থেকে। এছাড়াও ভারতীয় শুঁটকি মাছ আসে বৈধভাবে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে। বর্তমানে এখানে মিঠা পানি ও সামুদ্রিক শুঁটকি মাছ কেনা বেচা হয়ে থাকে। তিনি আরও জানান;, আগের তুলনায় শুঁটকি মাছের দাম অনেকটা বেশি। এছাড়া তেলের দাম বাড়ায় বেড়েছে গাড়ি ভাড়া। এখানকার বেশির ভাগ ফড়িয়া ও আড়তদার রয়েছেন পাবনা, সিলেট, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ফরিদপুর এলাকার।
সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সিরাজুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে জানান; রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো শুঁটকি মাছ খেলে মানুষের কিডনি ড্যামেজ, চর্ম রোগসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এ সব খাবার পরিহার করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৯মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন