

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
গ্রামিন ঐতিহ্যের প্রতীক মাটির দোতলা আর নেই। সময়ের পথ পরিক্রমায় ঐতিহ্যবাহি মাটির দোতলা আজ কালের গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। একটা সময়ে গ্রাম গঞ্জের ঐতিহ্যবাহি পরিবারগুলো অনেকটা শখ আর পরিবারের সামাজিক মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠিত করতে তৈরি করতেন মাটি দিয়ে নির্মিত মাটির দোতলা। দোতলাতেই তারা তাদের পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। আর নিচ তলায় থাকতো কাচারি ঘর। কাচারি ঘরে থাকতো অতিথিশালা। আর সেখানে গ্রামের মানুষদের নানাবিধ সমস্যার সমাধান সহ বিচারিক কাজ। গ্রামের অনেক সম্ভ্রান্ত পরিবার আবার অনেকটা শখের বশেই তৈরি করতো মাটির দোতলা।
অনেক অনুসন্ধান করে মাটির দোতলা তৈরির নেপথ্যে কয়েকটি কারন খুঁজে পাওয়া যায় তা হলো; সামাজিক মর্যাদা বাড়ানো, জীবজন্তুর ভয়, প্রকৃতির নির্ভেজাল হাওয়ায়(বাতাস)বসবাস করা আর শখের বশবর্তীতে মাটির দোতলা নির্মান। যে কারনেই তারা তৈরি করুক না কেন মাটির দোতলাগুলো ৮-১০ যুগ আগের। সরেজমিনে গত ১ মাস ধরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির রামকৃষ্ণপুর বানিয়াপাড়ায় গিয়ে চোখে পড়ে মাটির দোতলা। কাছে গিয়ে দেখা যায় পরিত্যক্ত ও ভঙ্কুরদশা নিয়ে ঠাঁয় দাড়িয়ে আছে মাটির দোতলাটি। আর সে যেন বলছে, আধুনিক এ যুগে আমার কদর না থাকলেও এক সময় আমিই ছিলাম সবার সেরা।
কথা হয় মাটির দোতলার মালিকের উত্তরসুরি এ্যাডভোকেট আরমানুজ্জামান সরকার জামানের সাথে, তিনি জানান; আমার দাদার পিতা মরহুম ফারাজ উদ্দিন সরকার এই মাটির দোতলাটি তৈরি করেছিলেন অনেকটা শখের বশে কমপক্ষে ৯০বছর আগে। তিনি জানান; গরমের দিনে মাটির দোতলা বসবাসের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক। বাতাসের জন্য ইলেকট্রিক ফ্যানের কোন প্রয়োজন নেই। এ দোতলায় এখন আর কেউ থাকে না।
বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক(৮৫)জানান; আগে আমাদের এ অঞ্চলটি বন জঙ্গলে ঘেরা ছিল, মানুষ অনেকটা জীবজন্তুর ভয়ে মাটির দোতলা তৈরি করে বসবাস করতো। আমি ছোট বেলা হতে আমাদের অঞ্চলে অনেক মাটির দোতলা দেখেছি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ইট-সুড়কির সহজলভ্যতায় পুরোনো সেই মাটির দোতলা ভেঙ্গে দালান বাড়ি তৈরি করছেন। তিনি আরও জানান; মাটির তৈরি দোতলা বাড়ি আমাদের দেশের গ্রামিন ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে আমাদের সংরক্ষন করা জরুরি।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; ছোট বেলা হতে আমাদের এ অঞ্চলে অনেক মাটির দোতলা দেখেছি। কিন্তু এখন আর চোখে পড়ে না। আমাদের এ গ্রামিন ঐতিহ্যকে তো আমাদেরই সংরক্ষন করতে হবে। তা না হলে আমাদের নতুন প্রজন্ম মাটি দিয়ে দোতলা বাড়ি যে এক সময় নির্মিত হতো,তা তারা জানতেই পারবে না।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৯মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন