গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য কূয়া(পানীয় জলের কূপ)আর নেই
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য পানীয় জলের কুপ “কুয়া” আর নেই। সময়ের পথ পরিক্রমায় মানুষের পিপাসা নিবারন সহ গৃহস্থলীর কাজে ব্যবহৃত কুয়া যেন সুদুর অতীত। এক সময় গ্রাম-গঞ্জের প্রতিটি বাড়িতে কুয়া দেখা গেলেও বর্তমানে আর চোখে পড়ে না। আধুনিক এ যুগে মানুষ নানা ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের মাধ্যমে ব্যবহার্য প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করায় কমে গেছে এক কালের বহুল সমাদৃত পানীয় জলের কুপ “কুয়ার” ব্যবহার।
পুর্বে দুই ধরনের কুয়া দেখা যেত। এক.মাটি খননের মধ্য দিয়েই শেষ হত কুয়ার কাজ। দুই.মাটি খননের পর তাতে রিং স্লাব বসিয়ে সিমেন্ট দিয়ে সুন্দর ও পরিপাটি করে ব্যবহার উপযোগি করা হয় কুয়াটিকে।
সরেজমিনে গত এক সপ্তাহ ধরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর পানীয় জলের এই কুপটির(কুয়ার)দেখা মেলে বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপির নাগেরহাট নামক এলাকায়। কুয়াটির কাছে গিয়ে দেখা যায়;ইট সিমেন্ট দিয়ে ঘেরা সুন্দর একটি পানীয় জলের কুপ “কুয়া”। যা বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কুয়াটি ৭৫ বছর আগে তৈরি করেছিলেন ওই এলাকার সমাজসেবক মরহুম দলিল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। তিনি কুয়াটি তৈরি করেছিলেন নিজ পরিবারের এবং গ্রামের মানুষদের কথা ভেবে।
কুয়া সম্পর্কে কথা হয় দলিল উদ্দিনের নাতি সাজ্জাদ হোসেনের সাথে,তিনি জানান; আমার দাদা পানীয় জলের এ কুপটি তৈরি করেছিলেন ৭৫ বছর আগে। যদিও কুয়াটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। আমরা দাদার সৃত্মি সরুপ কুয়াটিকে অক্ষত অবস্থায় রেখেছি।
রামনাথপুরের ঝাকুয়া পাড়া গ্রামের প্রবীন বাসিন্দা আলতাপনন্নেছা (৯০)জানান; যখন নলকুপ ছিল না,তখন বাড়ি বাড়ি না হলেও পাড়ার মানুষদের পিপাসা নিবারনের জন্য পানি সহ গৃহস্থলীর কাজের ব্যবহার হত কুয়ার পানি। তিনি জানান;আমাদের সময়ের গৃহিনীরা গৃহস্থলীর কাজ সহ পানি পান করার জন্য কাঁধে কলসি ও হাতে বালতি নিয়ে সারিবদ্ধভাবে কুপ হতে পানি নিয়ে যেত। সে সময় কুপই ছিল গ্রামের মহিলাদের মিলনস্থল। পানি আনার ছলেই চলতো পাড়ার মহিলাদের কুশল বিনিময়। তিনি আরও জানান; সে সুন্দর দিনগুলো আজ আর নেই। এ যেন সুদুর অতীত।
বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের প্রবীব ব্যক্তি ও রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক জানান; কুয়া নামক পানীয় জলের কুপটি শুধু কুপ ছিল না, এ হল আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। এর পানি আমরা ব্যবহার না করলেও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আমাদের কুয়া নামক পানীয় জলের কুপটিকে সংরক্ষন করা উচিত।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; আধুনিক এ যুগে কুয়ার ব্যবহার নেই বলেই কুয়াকে এখন আর চোখে পড়ে না। তবে এর ব্যবহার যতই সীমিত হোক না কেন,এক কালের আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য কুয়াকে নতুন প্রজন্মের জন্য সংরক্ষন করা উচিত।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৭মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য পানীয় জলের কুপ “কুয়া” আর নেই। সময়ের পথ পরিক্রমায় মানুষের পিপাসা নিবারন সহ গৃহস্থলীর কাজে ব্যবহৃত কুয়া যেন সুদুর অতীত। এক সময় গ্রাম-গঞ্জের প্রতিটি বাড়িতে কুয়া দেখা গেলেও বর্তমানে আর চোখে পড়ে না। আধুনিক এ যুগে মানুষ নানা ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের মাধ্যমে ব্যবহার্য প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করায় কমে গেছে এক কালের বহুল সমাদৃত পানীয় জলের কুপ “কুয়ার” ব্যবহার।
পুর্বে দুই ধরনের কুয়া দেখা যেত। এক.মাটি খননের মধ্য দিয়েই শেষ হত কুয়ার কাজ। দুই.মাটি খননের পর তাতে রিং স্লাব বসিয়ে সিমেন্ট দিয়ে সুন্দর ও পরিপাটি করে ব্যবহার উপযোগি করা হয় কুয়াটিকে।
সরেজমিনে গত এক সপ্তাহ ধরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর পানীয় জলের এই কুপটির(কুয়ার)দেখা মেলে বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপির নাগেরহাট নামক এলাকায়। কুয়াটির কাছে গিয়ে দেখা যায়;ইট সিমেন্ট দিয়ে ঘেরা সুন্দর একটি পানীয় জলের কুপ “কুয়া”। যা বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কুয়াটি ৭৫ বছর আগে তৈরি করেছিলেন ওই এলাকার সমাজসেবক মরহুম দলিল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। তিনি কুয়াটি তৈরি করেছিলেন নিজ পরিবারের এবং গ্রামের মানুষদের কথা ভেবে।
কুয়া সম্পর্কে কথা হয় দলিল উদ্দিনের নাতি সাজ্জাদ হোসেনের সাথে,তিনি জানান; আমার দাদা পানীয় জলের এ কুপটি তৈরি করেছিলেন ৭৫ বছর আগে। যদিও কুয়াটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। আমরা দাদার সৃত্মি সরুপ কুয়াটিকে অক্ষত অবস্থায় রেখেছি।
রামনাথপুরের ঝাকুয়া পাড়া গ্রামের প্রবীন বাসিন্দা আলতাপনন্নেছা (৯০)জানান; যখন নলকুপ ছিল না,তখন বাড়ি বাড়ি না হলেও পাড়ার মানুষদের পিপাসা নিবারনের জন্য পানি সহ গৃহস্থলীর কাজের ব্যবহার হত কুয়ার পানি। তিনি জানান;আমাদের সময়ের গৃহিনীরা গৃহস্থলীর কাজ সহ পানি পান করার জন্য কাঁধে কলসি ও হাতে বালতি নিয়ে সারিবদ্ধভাবে কুপ হতে পানি নিয়ে যেত। সে সময় কুপই ছিল গ্রামের মহিলাদের মিলনস্থল। পানি আনার ছলেই চলতো পাড়ার মহিলাদের কুশল বিনিময়। তিনি আরও জানান; সে সুন্দর দিনগুলো আজ আর নেই। এ যেন সুদুর অতীত।
বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের প্রবীব ব্যক্তি ও রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক জানান; কুয়া নামক পানীয় জলের কুপটি শুধু কুপ ছিল না, এ হল আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। এর পানি আমরা ব্যবহার না করলেও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আমাদের কুয়া নামক পানীয় জলের কুপটিকে সংরক্ষন করা উচিত।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; আধুনিক এ যুগে কুয়ার ব্যবহার নেই বলেই কুয়াকে এখন আর চোখে পড়ে না। তবে এর ব্যবহার যতই সীমিত হোক না কেন,এক কালের আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য কুয়াকে নতুন প্রজন্মের জন্য সংরক্ষন করা উচিত।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৭মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন