কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
গ্রামিন ঐতিহ্যের প্রতীক কাঠের দোতলা আর নেই। সময়ের পথ পরিক্রমায় ঐতিহ্যবাহি কাঠের দোতলা আজ কালের গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। একটা সময়ে গ্রাম গঞ্জের ঐতিহ্যবাহি পরিবারগুলো অনেকটা শখ আর পরিবারের সামাজিক মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠিত করতে তৈরি করতেন কাঠ দিয়ে নির্মিত কাঠের দোতলা। দোতলাতেই তারা তাদের পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। আর নিচ তলায় থাকতো কাচারি ঘর। কাচারি ঘরে থাকতো অতিথিশালা। আর তার পাশেই চলতো গ্রামের মানুষদের নানাবিধ সমস্যার সমাধান সহ বিচারিক কাজ। গ্রামের অনেক সম্ভ্রান্ত পরিবার আবার অনেকটা শখের বশেই তৈরি করতো কাঠের দোতলা।
অনেক অনুসন্ধান করে কাঠের দোতলা তৈরির নেপথ্যে কয়েকটি কারন খুঁজে পাওয়া যায় তা হলো; সামাজিক মর্যাদা বাড়ানো, জীবজন্তুর ভয়, প্রকৃতির নির্ভেজাল হাওয়ায়(বাতাস)বসবাস করা আর শখের বশবর্তীতে কাঠের দোতলা নির্মান। যে কারনেই তারা তৈরি করুক না কেন কাঠের দোতলাগুলো ৮-১০ যুগ আগের।
সরেজমিনে বদরগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় চোখে পড়ে কাঠের দোতলা। কাছে গিয়ে দেখা যায়,পরিত্যক্ত ও ভঙ্কুরদশা নিয়ে ঠাঁয় দাড়িয়ে আছে কাঠের দোতলাটি। আর সে যেন বলছে, আধুনিক এ যুগে আমার কদর না থাকলেও এক সময় আমিই ছিলাম সবার সেরা।
কথা হয় কাঠের দোতলার মালিকের উত্তরসুরি মর্জিনা সরকারের (৫৫)সাথে, তিনি জানান; আমার পিতা বদরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম ইব্রাহিম সরকার এই কাঠের দোতলাটি তৈরি করেছিলেন অনেকটা শখের বশে কমপক্ষে ৮৫বছর আগে। তিনি জানান; গরমের দিনে কাঠের দোতলা বসবাসের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক। ওই সময় বদরগঞ্জে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ছিল না। দোতলায় উঠলে প্রাকৃতিক হাওয়ায় মন জুড়িয়ে যেত। এ দোতলায় বর্তমানে আর কেউ থাকে না। তিনি আরও জানান;পিতার সৃত্মি ধরে রাখতে কাঠের দোতলাটি রাখা হয়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক(৮৫)জানান; আগে আমাদের এ অঞ্চলটি বন জঙ্গলে ঘেরা ছিল, মানুষ অনেকটা জীবজন্তুর ভয়ে মাটি ও কাঠের দোতলা তৈরি করে বসবাস করতো। আমি ছোট বেলা হতে আমাদের অঞ্চলে অনেক মাটি ও কাঠের দোতলা দেখেছি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ইট-সুড়কির সহজলভ্যতায় পুরোনো সেই মাটি ও কাঠের দোতলা ভেঙ্গে দালান বাড়ি তৈরি করছেন। তিনি আরও জানান; মাটি ও কাঠের তৈরি দোতলা বাড়ি আমাদের গ্রামিন ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে আমাদের সংরক্ষন করা উচিত।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; ছোট বেলা হতে আমাদের এ অঞ্চলে অনেক মাটির ও কাঠের দোতলা দেখেছি। কিন্তু এখন আর চোখে পড়ে না। আমাদের এ গ্রামিন ঐতিহ্যকে তো আমাদেরই সংরক্ষন করতে হবে। তা না হলে আমাদের নতুন প্রজন্ম মাটি ও কাঠ দিয়ে দোতলা বাড়ি যে এক সময় নির্মিত হতো,তা তারা জানতেই পারবে না।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২১মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন