শনিবার, ১৮ মার্চ, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যেতে বসেছে মৌমাছির বাসা(চাক)


প্রকৃতি হতে হারিয়ে যেতে বসেছে মৌমাছির বাসা(চাক)

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

প্রকৃতি তার যা কিছু রয়েছে সবটুকুই বিলিয়ে দিয়েছে মানুষকে উজাড় করে,ভালবেসে। তার এই অকৃত্রিম ভালবাসাতে নেই কোন চাতুরি বা খাঁদ। আর আমরা মানুষ প্রকৃতির অমুল্য সম্পদগুলোকে নিজেদের প্রয়োজনে ইচ্ছেমত ব্যবহার করেই চলেছি। বিনিময়ে প্রকৃতিকে কিছু দেয়া তো দুরের কথা, তাদের রক্ষা করার তাগিদ পর্যন্ত অনুভব করছিনা কখনো। প্রকৃতি তথা তার অমুল্য সম্পদগুলোকে আমরা রক্ষা করার বদলে নির্দয়ভাবে ধ্বংস করেই চলেছি। একবারও অনুভব করছি না যে, এই সম্পদগুলোকে রক্ষার বদলে ধ্বংস করলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এর বহুবিধ সুবিধা হতে বঞ্চিত হবে !
সময় ফুরিয়ে যাবার আগেই আমাদের অনুভব করতে হবে,প্রকৃতির মুল্যবান সম্পদগুলিকে রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই। এখনও প্রকৃতিতে অসংখ্য অমুল্য সম্পদ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। প্রকৃতির এই অমুল্য সম্পদের মধ্যে মৌমাছি একটি। মৌমাছি তার কর্ষ্টাজিত আহরিত মধু মনুষ্যকুলকেই বিলিয়ে দেয়। এই মধু মুলতঃ সর্ব রোগের মহাষৌধ হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত।
আগে বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জের বড় বড় গাছের মগডালে,বাসা বাড়ির কোন এক কোনে লোকচক্ষুর আড়ালে মৌমাছিরা বাসা বাঁধতো। মানুষের জন্য উপকারি এই বন্ধু প্রানিটির বাসা(চাক) আর তেমনভাবে চোখে পড়ে না। মৌমাছির বাসা(চাক) না বাধার কারন হল; ফসলে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার আর নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন। গাছ না থাকার কারনে একদিকে যেমন মৌমাছির আবাসস্থল নষ্ট হয়েছে অন্যদিকে ফসলে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মৌমাছি ফুলে ফুলে মধু(খাদ্য) সঞ্চয় করতে গিয়ে নিজেই মারা পড়ছে। 
সরেজমিনে অনেক খোজাখুজির পর মানুষের উপকারি বন্ধু প্রানি মৌমাছির বাসা খুজে পাওয়া যায় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবনের তৃতীয় তলায়। অনেকটা লোকচক্ষুর অন্তরালে।
কথা হয় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের সাথে, তিনি জানান; মৌমাছি প্রকৃতির একটি অমুল্য সম্পদ। আগে যেখানে সেখানে মৌমাছির বাসা(চাক)দেখা গেলেও বর্তমানে আর তেমনভাবে চোখে পড়ে না। মধু সর্বরোগের মহষৌধ হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত। তিনি জানান;নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন এবং ফসলে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহারেই আমাদের এই উপকারি বন্ধু প্রানিটিকে আর তেমনভাবে চোখে পড়ছে না। তিনি আরও জানান; আমাদের নিজেদের প্রয়োজনেই প্রকৃতির এই অমুল্য সম্পদকে রক্ষা করতে হবে। তা না হলে এরা একদিন প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক(৮৫)জানান; আগে বড় বড় গাছপালা থাকার কারনে যেখানে সেখানে মৌমাছির বাসা (চাক)দেখা যেত। কিন্তু এখন আর বড় বড় গাছপালও নেই মৌমাছির বাসাও নেই। এরা যেন হারিয়ে গেছে। আমাদের প্রয়োজনেই উপকারি এই বন্ধু প্রানিটিকে আমাদেরই রক্ষা করতে হবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; সত্যিই আর আগের মত মৌমাছির বাসা খুজে পাওয়া যায় না। কৃষক সমাজ সহ আমরা সবাই একটু সচেতন হলেই এই উপকারি বন্ধু প্রানিটিকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। তা না হলে এরা প্রকৃতি হতে একদিন চিরতরে বিদায় নিবে। আমাদের প্রয়োজনেই এদের সংরক্ষন জরুরি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৮মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...