শুক্রবার, ৩১ মার্চ, ২০১৭

কবিতা- ছেড়ে থাকা




“আমার ভালবাসার ফুলদানিতে,
                     তুমিই একমাত্র ফুল,
যে ফুলকে আমি সাজিয়েছি,
                     হৃদয়ের ফুলদানিতে,
বর্তমানে তোমার বসতি,
                     আমার হৃদয়ের গোপন কুঠিরে,
বুঝেছি এখন আমি,
                     তোমায় ছেড়ে থাকা মানে,
গহীন অরন্যে গন্তব্যহীন পথচারি হওয়া।”


কামরুজ্জামান মুক্তা
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩১মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

বুধবার, ২৯ মার্চ, ২০১৭

প্রানিজ আমিষের উৎস শুটকি মাছে ক্ষতিকর কেমিকেল, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

মানব দেশের জন্য অতি প্রয়োজনীয় উপাদান আমিষ বা প্রোটিন। নানা উৎস হতে আমিষের চাহিদা পুরন করে মানুষ। এর মধ্যে শুটকি মাছ অন্যতম। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়,যে উৎস হতে আমরা বেশি পরিমানে আমিষ পেয়ে থাকি সেই শুটকি মাছে যদি দেয়া হয় ক্ষতিকর কেমিকেল তাহলে একবার অনুভব করুন, কতটা হুমকিতে আমাদের জনস্বাস্থ্য।
সরেজমিনে রংপুর বিভাগের শুটকি মাছের বড় আড়ত নীলফামারির সৈয়দপুরে গিয়ে দেখা যায় এর বাস্তব চিত্র। শুটকির আড়তের কম বেশি সকল দোকান ঘুরে যায় ক্ষতিকর কেমিকেল ডিডিটি পাউডার সহজলভ্য হওয়ায় এসব আড়তে শুটকি মাছে পোকা দমনের নামে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর পাউডারটিই ব্যবহৃত হচ্ছে সবচাইতে বেশি। সেই সাথে দেয়া হচ্ছে শুঁটকির স্থায়িত্বকাল বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ধরনের তরল রাসায়নিক। যা মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
বিভিন্ন দোকানদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়; বর্তমানে ওই আড়তে শুটকি মাছের ব্যবসায় মন্দাভাব বিরাজ করছে।
অনেক ব্যবসায়ি ব্যবসায় পুঁজি হারিয়ে এবং ব্যাংকের লোন পরিশোধ করতে না পারায় নিঃস্ব হয়েছেন। কেউবা আবার বাড়ি ঘর বিক্রি করে লোন পরিশোধ করে নিজ গ্রামে ফিরে গেছেন। এই আড়ত হতে দেশের বিভিন্ন জেলা হতে পাইকাড়রা এসে শুটকি মাছ ক্রয় করে বিক্রি করছেন তারা  দেশের বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে। এতে করে ভোক্তরা চড়া দাম দিয়ে শুটকি মাছ কিনলেও কেমিকেল মিশ্রিত এই শুটকি মাছ কিনে একদিকে যেমন প্রতারিত হচ্ছেন অন্যদিকে রয়েছেন চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।
আরও জানা যায়;বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ভেজাল বিরোধি অভিযানে সৈয়দপুরের বেশকিছু শুঁটকির আড়তে অভিযান চালিয়ে লাখ লাখ টাকা জরিমানা আদায়সহ শুঁটকিতে ক্ষতিকর ডিডিটি পাউডার মিশ্রনের দায়ে অনেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীলগালা করে দেয়া হয়েছিল।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথেই এক শ্রেনির অসাধু ব্যবসায়িরা পূনরায় শুঁটকিতে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর ডিডিটিসহ বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যের মিশ্রন শুরু করে দিয়েছে।
বর্তমানে শুঁটকির আড়তে ভেজাল বিরোধি অভিযান পরিচালনা না হওয়ায় ব্যবসায়িরা অবাধেই চালিয়ে যাচ্ছে তাদের রমরমা ব্যবসা।
শুঁটকি মাছ ব্যবসায়ি সমিতির সভাপতি আবুল খায়ের  এই প্রতিবেদককে জানান; ১৯৮৩ সালে সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল (নিয়ামতপুর) এলাকায় গড়ে উঠে এ শুঁটকি মাছ ব্যবসার আড়ত। প্রথম দিকে এখানে ১০-১৫ জন আড়তদার ছিল। ধীরে ধীরে আজ এ ব্যবসা বিস্তার লাভ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের দেশের ২য় বৃহত্তম শুঁটকি মাছের বন্দর এটি। এখানে স্থানীয় ফড়িয়া রয়েছে ৫৬ জন আড়তদার রয়েছে ১৫ জন। দেশের নানা প্রান্ত হতে এখানে শুটকি মাছের ব্যবসায়িরা আসেন প্রায় কয়েক হাজার। প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার শুঁটকি মাছ কেনা-বেচা হয়ে থাকে এখানে। মাছ আসে দেশের চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী এবং পাবনা থেকে। এছাড়াও ভারতীয় শুঁটকি মাছ আসে বৈধভাবে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে। বর্তমানে এখানে মিঠা পানি ও সামুদ্রিক শুঁটকি মাছ কেনা বেচা হয়ে থাকে। তিনি আরও জানান;, আগের তুলনায় শুঁটকি মাছের দাম অনেকটা বেশি। এছাড়া তেলের দাম বাড়ায় বেড়েছে গাড়ি ভাড়া। এখানকার বেশির ভাগ ফড়িয়া ও আড়তদার রয়েছেন পাবনা, সিলেট, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ফরিদপুর এলাকার।
সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সিরাজুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে জানান; রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো শুঁটকি মাছ খেলে মানুষের কিডনি ড্যামেজ, চর্ম রোগসহ নানা ধরনের  সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এ সব খাবার পরিহার করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৯মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে কদম নামক বৃক্ষটি




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

কদম একটি গাছের নাম। ফুল ফোটে মুলতঃ বর্ষাকালে। গাছটি লম্বাটে ধরনের। এর পাতা বড় ও চ্যাপ্টা ধরনের। ফুলগুলো দেখতে ছোট ছোট বাতির মত গোল গোল। ফল ৩সে.মি চওড়া, শাঁসাল ও হলুদ রংয়ের। ফুলটি আসলে অনেকগুলো ফুলের গুচ্ছ। এর সুগন্ধ খুবই উপভোগ্য।  
কদমের বৈজ্ঞানিক নাম- অ্যানথোসিফালাস সাইনেনসিস। গোত্র- রুবিয়েসি।
গাছটির উচ্চতা ২০ হতে ৩০ মিটার পর্যন্ত হয়। প্রকৃতি হতে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে কদম নামক উদ্ভিদটি। চিরচেনা পরিবেশ বান্ধব এই উদ্ভিদটি এক সময় বাংলাদেশের সবখানে দেখা গেলেও বর্তমানে তেমন আর চোখে পড়ে না।
সরেজমিনে ঘুরে বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা মেলে কদম গাছটির।
কদম গাছ সম্পর্কে কথা হয় উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঘাটাবিল ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হাফিজ উদ্দিনের (৬৫)সাথে,তিনি জানান; এক সময় কমবেশি সকল স্থানে কদমের গাছ চোখে পড়তো। বর্তমানে আর দেখা যায় না। গাছগুলি কেটে ফেলে নতুন চারা না লাগানোর কারনে গাছটি আজ বিলুপ্তির পথে।
কথা হয় একই গ্রামের বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা(৬০)সাথে,তিনি জানান; আম লিচুর গাছ আমরা যেভাবে রোপন করছি তার কিঞ্চিত পরিমানও কদম গাছের চারা রোপন করছি না। উপরন্তু যে সকল কদম গাছ ছিল তা কেটে আমরা সাবাড় করে ফেলেছি।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; প্রকৃতি বান্ধব কদম গাছটি আর নেই বললেই চলে। কারনে অকারনে আমরা গাছটিকে কেটে শেষ করে দিয়েছি। নতুন প্রজন্মকে কদম গাছ সম্পর্কে জানাতে হবে।
তিনি আরও জানান; আমাদের প্রয়োজনে গাছটিকে সংরক্ষন করতে হবে তা না হলে কদম নামের প্রকৃতি বান্ধব গাছটি একদিন হারিয়ে যাবে নিশ্চিত।
বদরগঞ্জ উপজেলা সহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক চন্দ্র রায় জানান; দেশিয় প্রজাতির কদম নামক গাছটিকে আমাদের স্বার্থে সংরক্ষন করতে হবে। তা না হলে প্রকৃতি হতে একদিন হারিয়ে যাবে। 

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৮মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 

সোমবার, ২৭ মার্চ, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে কামিনী নামক উদ্ভিদটি



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

অবহেলা অনাদর আর আপনা-আপনি বেড়ে উঠা উদ্ভিদের মধ্যে“কামিনী” অন্যতম। ইচ্ছাকৃতভাবে কিংবা জ্বালানি হিসেবে এদের আমরা কেটে ফেলি। অথচ অযন্তে পড়ে থাকা গুল্ম জাতীয় দেশিয় প্রজাতির উদ্ভিদটির সাদা সাদা ছোট ফুলের ঘ্রান এতটাই চমৎকার যে কারোরই মন ভরিয়ে দেয়।
এক সময় বাংলাদেশের বন-জঙ্গল সহ সর্বত্রই কমবেশি কামিনী নামক ফুলের গাছটির দেখা গেলেও বর্তমানে তা আর সচারাচর দেখা যায় না।
কামিনীর বৈজ্ঞানিক নাম মুরায়া প্যানিকুলেটা। গোত্র-রুটাসি। গাছটি তুলনামুলক ছোট। কামিনীর ফুল ছোট ছোট সাদা রংয়ের হয়। গাছটির পাতা ঘন ও ছোট ।  
সরেজমিনে গোটা উপজেলা ঘুরে“কামিনী” নামক ফুল গাছটির দেখা মেলে বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে।
বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারন সম্পাদক সাইফুর রহমান রানা জানান;এখন আর কামিনী নামক ফুল গাছটি পাওয়া যায় না। কামিনী ফুলের ঘ্রান এতটাই যে, ফুল ফুটলে এর ঘ্রান আশে পাশে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও জানান; ছোট বেলা হতে দেখেছি আগে আমাদের এলাকায় যেখানে সেখানে কামিনী নামক ফুলের গাছ ছিল। বর্তমানে আর তেমন চোখে পড়ে না। দেশিয় প্রজাতির পরিবেশ বান্ধব কামিনী ফুল গাছটির সংরক্ষন জরুরি।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীবজ্ঞিান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; আপনা-আপনি বেড়ে ওঠা মুল্যবান কামিনী নামক পরিবেশ বান্ধব দেশিয় প্রজাতির ফুল গাছটি আর সচরাচর দেখা যায় না। গাছটির সংরক্ষন জরুরি। তা না হলে ফুল গাছটি একদিন প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা (উদ্ভিদ সংরক্ষন)কনক চন্দ্র রায় জানান; কামিনী নামক ফুল গাছটি আর চোখে পড়ে না। গাছটির সংরক্ষন জরুরি। 


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৭মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

রবিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৭

“আলোক ফাঁদ” ধান ক্ষেতে ক্ষতিকর পোকা সনাক্ত করতে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখছে




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

ভু-প্রকৃতি ও ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশ কৃষির উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ নামক ভৃ-খন্ড সৃষ্টির সময় বাংলাদেশে জনসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি। বর্তমানে জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি। পুর্বে জনসংখ্যা কম থাকার পরও আমাদের দেশে খাদ্যের ঘাটতি দেখা দিত। অথচ বর্তমানে জনসংখ্যা দ্বি-গুন হবার পরেও খাদ্য শষ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে রফতানি করা হচ্ছে। কিন্তু কিভাবে সম্ভব ! মুলতঃ কৃষকরা সনাতন ধারনা হতে বের হয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগি কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং দেশের কৃষি বিজ্ঞানীদের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশের কৃষি খাত আজ সমৃদ্ধ হয়েছে। যারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা ফসলের জমিতে ক্ষতিকর পোকা সনাক্তকরনে আলোক ফাঁদ স্থাপন করেছে। অন্ধকারে আলোক ফাঁদ স্থাপন করলে আলো দেখে পোকা তাতে আকৃষ্ট হয়। ফাঁদে আটকে যাওয়া পোকা পর্যবেক্ষন করলে বুঝা যায় ফসলে ক্ষতিকর পোকার আর্বিভাব হয়েছে কিনা। এভাবেই কৃষকরা কীটনাশক প্রয়োগ ব্যতিরেকে প্রাকৃতিক উপায়ে পোকা দমনের কৌশল শিখেছেন অধুনালব্ধ জ্ঞান হতে। 
রংপুরের বদরগঞ্জে ফসলের জমিতে(ইরি ধান) ক্ষতিকর পোকা সনাক্ত করতে কিছু ফসলের মাঠে আলোক ফাঁদ স্থাপন করছে কৃষি অফিস। এখন পর্যন্ত তেমন কোন ক্ষতিকর পোকা সনাক্ত না হওয়ায় বদরগঞ্জ কৃষি অফিস আশা করছে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ইরি ধানের বাম্পার ফলন হবে।
কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়; চলতি মৌসুমে বদরগঞ্জ উপজেলার ১০ ইউনিয়নে মোট ১৭হাজার ৪১০হেক্টর জমিতে ইরি ধানের চাষ হয়েছে। ইরি ক্ষেতে ক্ষতিকর পোকার আবির্ভাব ঘটতে পারে। এ কারণে কৃষকরা তাদের জমিতে স্থাপন করেছে আলোক ফাঁদ। যাতে করে ক্ষতিকর পোকা সনাক্ত করা যায়।
বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত কৃষক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক(৮৫)জানান; পুর্বে কৃষকরা সনাতন পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনের কারনে তাদের উৎপাদিত ফসলের ফলন কম হতো। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যেত। বর্তমানে কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান সন্মত জ্ঞান লাভের ফলেই ফসলের উৎপাদন বেড়ে গেছে এবং প্রাকৃতিক উপায়ে ক্ষতিকর পোকা দমনের ফলে উৎপাদন খরচও কমে গেছে। ফলশ্রুতিতে কৃষিতে এসেছে সমৃদ্ধি।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা (উদ্ভিদ সংরক্ষন) কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; ধান ক্ষেতে রাতের অন্ধকারে আলোক ফাঁদ স্থাপন করলে তাতে পোকা আকৃষ্ট হয়। আর ওই ফাঁদ থেকে প্রাপ্ত পোকা পর্যবেক্ষণ করলে সহজেই বোঝা যায় ক্ষতিকর পোকার আবির্ভাব হয়েছে কিনা।
তিনি জানান; ইরি ক্ষেতের সবচেয়ে বড় ক্ষতিকর পোকার নাম মাজরা পোকা। এ কারনে জমিতে বাঁশের কঞ্চি পুঁতে দেয়া হয়েছে। পাখি ওই কঞ্চিতে বসে মাজরা পোকার ডিম(মথ) খেয়ে ফেললে আর মাজরা পোকা ফসলের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। এ ছাড়াও কিছুটা বাদামী গাছ ফড়িং বা কারেন্ট পোকার ভয় রয়েছে। যার কারনে কৃষকরা জমিতে আলোক ফাঁদের ব্যবস্থা করেছেন। যাতে ক্ষতিকর পোকা সনাক্ত করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও জানান;অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ ইরি ক্ষেত ও স্যাঁৎ স্যাঁতে স্থান হল বাদামি গাছ ফড়িংয়ের বা কারেন্ট পোকার আশ্রয় স্থল। এরা ধান গাছের গোড়ায় অবস্থান করে। যদি কোন ক্ষেতে বাদামি গাছ ফড়িং থাকে তাহলে ওই ক্ষেতের গাছ সরিয়ে মাটিতে ভালোভাবে চোখ রাখলেই দেখা যায় বাদামি রঙের পাখনাযুক্ত ছোট ছোট পোকা ভরাপেট নিয়ে কৌণিকভাবে ছুটে চলছে। এ দৃশ্য চোখে পড়ার সাথে সাথেই ধান গাছের মাথা সরিয়ে দিতে হবে। যাতে করে মাটিতে সহজেই আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। কারণ, বাদামি গাছ ফড়িং আলো-বাতাস যুক্ত স্থানে কখনোই থাকতে পারে না।
বদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মাহাবুবর রহমান জানান; ফসল রক্ষায় কৃষকরা আগের চাইতে অনেক বেশি সচেতন। আশা করছি বড় কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দিলে ইরির ফলন বাম্পার হবে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৬মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



শনিবার, ২৫ মার্চ, ২০১৭

আমরা মানুষকে ভাল রাখার চেষ্টা করলেও আমরা ভাল নেই! রাস্তায় যাদের জীবন জীবিকা




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

জীবনের প্রয়োজনে মানুষ কতই না পেশার সাথে জড়িয়ে পড়ে। বাঁচার তাগিদে মানুষ জীবনের ঝুকি নিতেও ভয় পায় না। মেইন সড়কে যানযট নিরসনে কয়েকজন পৌর পুলিশ সকাল হতে রাত পর্যন্ত নিরলশভাবে কাজ করে চলেছেন তাদের একজন আনোয়ার হোসেন(৪০)। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউপির কাজিপাড়ায়।
তিনি জানান; ২ বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও মেইন সড়কে যানযট নিরসনে দিন রাত কাজ করছি। কখন কি হবে আমি জানি না। লেখাপড়া তেমন জানি না। গরীব মানুষ কিছু একটা কাজ করে তো সংসার চালাতে হবে। তিনি আরও জানান;মেইন সড়কে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা মানুষকে ভাল(নিরাপদ) রাখার চেষ্টা করলেও আমরা ভাল নেই।
পৌর পুলিশ জাবেদ মিয়া(৩২)জানান; আমরা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করি। মাঝে মাঝে মনে হয় আজ বাড়ি ফিরতে পারবো তো ! তিনি আরও জানান;গরীব মানুষ লেখাপড়া কম। কি আর করার আছে। ৫ হাজার টাকা বেতন পাই। এই টাকা দিয়ে কোন রকমে সংসার চালাতে হয়। পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাবো,বেতন যদি আর কিছুটা বাড়িয়ে দিত তাহলে উপকৃত হতাম।
অপর পৌর পুলিশ নুর আলম(৪২)জানান; রোদ বৃষ্টি ঝড় মাথায় নিয়ে আমরা রাস্তায় থাকি। যানযট নিরসনে কাজ করি। যা বেতন পাই তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চালাই। তিনি আরও জানান;পৌরসভা হতে আমাদের যা বেতন দেয়,উর্দ্ধমুল্যের বাজারে তাতে কিছু হয় না। পৌরসভা কর্তপক্ষ যদি বেতন বৃদ্ধি সহ পেনশনের ব্যবস্থা আমাদের করে দিত তাহলে আমাদের অনেক উপকার হতো।  
বদরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র উত্তম সাহা জানান; আগে পৌর পুলিশদের ভাতা কম ছিল সাম্প্রতিক সময়ে ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাদের ভাতা আরও যাতে বৃদ্ধি করা যায় এ বিষয়টি আমার মাথায় রয়েছে। আমি তাদের ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি অবশ্যই দেখবো।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৫মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪





বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৭

খই ভেজেই জীবিকা নির্বাহ যে গ্রামের মানুষদের



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বাঙ্গালীরা সবসময় ভোজন প্রিয় জাতি। বাহারি রকমের আহার গ্রহন করতে তারা স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জের মানুষরা সকালে নানা ধরনের আহার(খাদ্য) গ্রহন করেন তার মধ্যে ধান দিয়ে তৈরি খই অন্যতম। ভোজনপ্রিয় বাঙ্গালীদের আহারের জন্য তৈরিকৃত খাদ্য সরবরাহ করে একটি সম্প্রদায়ের ২ শতাধিক নারী-পুরুষ দীর্ঘসময় ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। এরা হলেন রংপুর বদরগঞ্জের রামনাথপুর ইউপির মোকছেদপুর হিন্দুপাড়ার গ্রামের বাসিন্দরা। এই গ্রামের সকল নারী পুরুষ প্রতিদিন খই ভাজা ও তাদের তৈরিকৃত খই বাজারজাত কাজে সদা ব্যস্ত সময় পার করেন। খই ভাজার আয় দিয়েই চলে তাদের প্রত্যেকের সংসার। বদরগঞ্জ উপজেলার সকল মানুষ ওই গ্রামকে চেনে খই গ্রাম নামে।
সরেজমিনে খই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়; চুলোর উনুনে বসে কাজ করা অগ্নি নারীরা নিজের সংসার সামলানোর পাশাপাশি প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে কাজ করে চলেছেন। প্রতিদিন এই গ্রামের অগ্নি নারীরা ৫মন পর্যন্ত ধানের খই ভাজতে পারেন। শুধুমাত্র খই ভাজার কাজ করে এই গ্রামের অনেকেই এখন স্বাবলম্বি হলেও বাপ-দাদার আদি পেশা তারা এখনও ধরে রেখেছেন।
কথা হয় ধান হতে তৈরি খই ভাজা নারী শ্রমিক উষা রানির(৩৫) সাথে,তিনি জানান; আমরা গরীব মানুষ। আমাদের বসতভিটা ছাড়া আর কিছু নাই। তাই খই ভেজে জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। হাতে সবকিছু মজুদ থাকলে আমরা নারীরা প্রতিদিন ৫মণ ধানের খই ভাজতে পারি।
নারী শ্রমিক কনিকা রাণী(৩২)জানান; দীর্ঘ সময় আমরা আগুনের কাছে থাকি। কষ্ট হলেও আমাদের সয়ে গেছে। আগুনের তাপে আর আমাদের কিছু হয় না। আর এই কাজ না করলে আমরা খাবো কি?
খই গ্রামের বাসিন্দা ও নারী শ্রমিক টোলো রানী, চন্দ্রনা রাণী, ও রঞ্জিতা রানি জানান;খইয়ের চাহিদা বেশি থাকায় এই অঞ্চলের মহাজনরা আমাদের কাছ থেকে প্রতি কেজি খই ৫০ টাকা দরে কিনে তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রাক যোগে পাঠায়।
রামনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুলাহ আল মামুন জানান;মোকছেদপুর বটতলি হিন্দুপাড়া গ্রামের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে খই তৈরি করে আসছেন। প্রতিদিন গ্রামের পার্শ্বে বটতলিতে বসে বিরাট খইয়ের বাজার। সেখানে খই বিক্রি করে এখন এই গ্রামের অনেকেই স্বাবলম্বি হচ্ছেন।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২৩মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪






মঙ্গলবার, ২১ মার্চ, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে মহামুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ শতমুলী



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

শতমুলী একটি ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদের নাম। বাসা-বাড়ির পরিত্যক্ত কোন জায়গায়,রাস্তার ধারে,পথে প্রান্তরে আপনা-আপনি ভাবে যে গাছটি জন্মাতো তার নামই শতমুলী। এর পাতা চিকন অনেকটা সুঁচের ন্যায়। আপনা-আপনি অবহেলা আর অনাদরে জন্মায় বলে এর গুরুত্ব আমরা তেমনভাবে দেই না। অথচ পরিবেশ বান্ধব দেশিয় প্রজাতির এই গাছটি আমাদের অনেক উপকারে আসে। সেই প্রাচীন কাল হতে ভেষজগুন সম্পন্ন দেশিয় প্রজাতির এই উদ্ভিদটি আমাদের নানা রোগের মহাষৌধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর গুনাগুন আমরা সবাই জানি এবং বুঝি। এত কিছু জানা ও বুঝার পরেও শুধুমাত্র অনাদর আর অবহেলার কারনেই প্রকৃতি হতে হারিয়ে যেতে বসেছে এই মহামুল্যবান ভেষজ সম্পদটি। প্রকৃতির এই অমুল্য সম্পদটিকে আমরা শেষ করে ফেলছি। আমরা সবাই জানি,প্রকৃতি সবসময় মানুষকে বুকে আগলে রাখার পাশাপাশি তার সবটুকু উজাড় করে দেয়। কখনো কোনদিন নিজেকে বিলিয়ে দিতে বিন্দু মাত্র কার্পন্য করে না। আর আমরা প্রকৃতির এই অমুল্য সম্পদগুলোকে সব সময় নিজের মত করে ব্যবহার করেই চলেছি। নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার্য এই মহামুল্যবান সম্পদকে রক্ষা করার তাগিদ অনুভব করছিনা কখনো। আর অনুভব করছিনা বলেই মহামুল্যবান ভেষজ সম্পদগুলো আজ প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে।
প্রকৃতিতে এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ। শুধুমাত্র অবহেলা অনাদর আর আপনা-আপনি বেড়ে ওঠা মহামুল্যবান ভেষজ উদ্ভিদগুলো আজ অস্তিত্ব সংকটে। ভেষজ উদ্ভিদগুলোর অস্তিত্ব সংকটের মুল কারন;আগাছা হিসেবে নির্বিচারে কেটে ধ্বংস করা। আর এভাবেই প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে এই মুল্যবান উদ্ভিদগুলো। এরই মধ্যে অসংখ্য উদ্ভিদ হারিয়ে গেছে। বর্তমানে হারিয়ে যাওয়ার তালিকায় রয়েছে ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ শতমুলী।
আগে বাংলাদেশের সব অঞ্চলে শতমুলী নামক উদ্ভিটির দেখা মিললেও বর্তমানে আর চোখেই পড়ে না।
সরেজমিনে অনেক খোঁজাখুঁজির পর শতমুলী নামক উদ্ভিদটির দেখা মেলে বদরগঞ্জ পৌরশহরের মুন্সিপাড়া রেলগেট এলাকার এক নার্সারিতে। কাছে গিয়ে দেখা যায়;বিলুপ্তপ্রায় ভেষজগুন সম্পন্ন শতমুলী নামক রোহিনী জাতীয় উদ্ভিদটি তার অস্তিত্ব জানান দিয়ে বলছে,এখনও আমার অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায়নি,তবে আমি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে,পারলে আমাকে রক্ষা করো।
শতমুলীর বৈজ্ঞানিক নাম-অ্যাসপারাগাস রেসিমোসাস,গোত্রের নাম-লিলিয়েসি।
কথা হয় মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা ও বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ইউনুস আলির সাথে,তিনি জানান;ছোট বেলা হতে দেখছি আমাদের এলাকায় অনেক শতমুলী গাছ ছিল। তবে এখন আর তেমন ভাবে চোখে পড়ে না। আগে বিভিন্ন জায়গা হতে অনেক গ্রাম্য চিকিৎসক এসে এখান হতে শতমুলী নামক গাছটি নিয়ে যেত। শুনেছি,এই গাছটি মানুষের অনেক উপকারে আসে।
গ্রাম্য কবিরাজ মাসুদ আলি(৫৫) জানান; শতমুলী মানুষের অনেক উপকারে আসে। বিশেষ করে এর মুল যৌন রোগের মহাষৌধ হিসেবে কাজ করে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; শতমুলী একটি ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ। আগে এ গাছটি প্রচুর পরিমানে যেখানে সেখানে দেখা গেলেও বর্তমানে এ গাছটি খুব কম চোখে পড়ছে। মুলতঃ গাছটির মুল মানুষের কাজে লাগে। পরিবেশ বান্ধব দেশিয় প্রজাতির এ গাছটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা(সংরক্ষন) করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যত প্রজন্ম জানতেই পারবে না শতমুলীর নাম।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন) কনক চন্দ্র রায় জানান; শতমুলী নামক উপকারি উদ্ভিদটি আর চোখে পড়ছে না। পরিবেশ বান্ধব দেশিয় প্রজাতির ভেষজগুন সম্পন্ন এ উদ্ভিদটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা করতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২২মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪




হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামিন ঐতিহ্যের প্রতীক কাঠের দোতলা




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

গ্রামিন ঐতিহ্যের প্রতীক কাঠের দোতলা আর নেই। সময়ের পথ পরিক্রমায় ঐতিহ্যবাহি কাঠের দোতলা আজ কালের গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। একটা সময়ে গ্রাম গঞ্জের ঐতিহ্যবাহি পরিবারগুলো অনেকটা শখ আর পরিবারের সামাজিক মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠিত করতে তৈরি করতেন কাঠ দিয়ে নির্মিত কাঠের দোতলা। দোতলাতেই তারা তাদের পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। আর নিচ তলায় থাকতো কাচারি ঘর। কাচারি ঘরে থাকতো অতিথিশালা। আর তার পাশেই চলতো গ্রামের মানুষদের নানাবিধ সমস্যার সমাধান সহ বিচারিক কাজ। গ্রামের অনেক সম্ভ্রান্ত পরিবার আবার অনেকটা শখের বশেই তৈরি করতো কাঠের দোতলা।
অনেক অনুসন্ধান করে কাঠের দোতলা তৈরির নেপথ্যে কয়েকটি কারন খুঁজে পাওয়া যায় তা হলো; সামাজিক মর্যাদা বাড়ানো, জীবজন্তুর ভয়, প্রকৃতির নির্ভেজাল হাওয়ায়(বাতাস)বসবাস করা আর শখের বশবর্তীতে কাঠের দোতলা নির্মান। যে কারনেই তারা তৈরি করুক না কেন কাঠের দোতলাগুলো ৮-১০ যুগ আগের।
সরেজমিনে বদরগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় চোখে পড়ে কাঠের দোতলা। কাছে গিয়ে দেখা যায়,পরিত্যক্ত ও ভঙ্কুরদশা নিয়ে ঠাঁয় দাড়িয়ে আছে কাঠের দোতলাটি। আর সে যেন বলছে, আধুনিক এ যুগে আমার কদর না থাকলেও এক সময় আমিই ছিলাম সবার সেরা।
কথা হয় কাঠের দোতলার মালিকের উত্তরসুরি মর্জিনা সরকারের (৫৫)সাথে, তিনি জানান; আমার পিতা বদরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম ইব্রাহিম সরকার এই কাঠের দোতলাটি তৈরি করেছিলেন অনেকটা শখের বশে কমপক্ষে ৮৫বছর আগে। তিনি জানান; গরমের দিনে কাঠের দোতলা বসবাসের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক। ওই সময় বদরগঞ্জে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ছিল না। দোতলায় উঠলে প্রাকৃতিক হাওয়ায় মন জুড়িয়ে যেত। এ দোতলায় বর্তমানে আর কেউ থাকে না। তিনি আরও জানান;পিতার সৃত্মি ধরে রাখতে কাঠের দোতলাটি রাখা হয়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক(৮৫)জানান; আগে আমাদের এ অঞ্চলটি বন জঙ্গলে ঘেরা ছিল, মানুষ অনেকটা জীবজন্তুর ভয়ে মাটি ও কাঠের দোতলা তৈরি করে বসবাস করতো। আমি ছোট বেলা হতে আমাদের অঞ্চলে অনেক মাটি ও কাঠের দোতলা দেখেছি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ইট-সুড়কির সহজলভ্যতায় পুরোনো সেই মাটি ও কাঠের দোতলা ভেঙ্গে দালান বাড়ি তৈরি করছেন। তিনি আরও জানান; মাটি ও কাঠের তৈরি দোতলা বাড়ি আমাদের গ্রামিন ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে আমাদের সংরক্ষন করা উচিত।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; ছোট বেলা হতে আমাদের এ অঞ্চলে অনেক মাটির ও কাঠের দোতলা দেখেছি। কিন্তু এখন আর চোখে পড়ে না। আমাদের এ গ্রামিন ঐতিহ্যকে তো আমাদেরই সংরক্ষন করতে হবে। তা না হলে আমাদের নতুন প্রজন্ম মাটি ও কাঠ দিয়ে দোতলা বাড়ি যে এক সময় নির্মিত হতো,তা তারা জানতেই পারবে না।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২১মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪      

রবিবার, ১৯ মার্চ, ২০১৭

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামিন ঐতিহ্যের প্রতীক মাটির দোতলা




কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ


গ্রামিন ঐতিহ্যের প্রতীক মাটির দোতলা আর নেই। সময়ের পথ পরিক্রমায় ঐতিহ্যবাহি মাটির দোতলা আজ কালের গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। একটা সময়ে গ্রাম গঞ্জের ঐতিহ্যবাহি পরিবারগুলো অনেকটা শখ আর পরিবারের সামাজিক মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠিত করতে তৈরি করতেন মাটি দিয়ে নির্মিত মাটির দোতলা। দোতলাতেই তারা তাদের পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। আর নিচ তলায় থাকতো কাচারি ঘর। কাচারি ঘরে থাকতো অতিথিশালা। আর সেখানে গ্রামের মানুষদের নানাবিধ সমস্যার সমাধান সহ বিচারিক কাজ। গ্রামের অনেক  সম্ভ্রান্ত পরিবার আবার অনেকটা শখের বশেই তৈরি করতো মাটির দোতলা।
অনেক অনুসন্ধান করে মাটির দোতলা তৈরির নেপথ্যে কয়েকটি কারন খুঁজে পাওয়া যায় তা হলো; সামাজিক মর্যাদা বাড়ানো, জীবজন্তুর ভয়, প্রকৃতির নির্ভেজাল হাওয়ায়(বাতাস)বসবাস করা আর শখের বশবর্তীতে মাটির দোতলা নির্মান। যে কারনেই তারা তৈরি করুক না কেন মাটির দোতলাগুলো ৮-১০ যুগ আগের। সরেজমিনে গত ১ মাস ধরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির রামকৃষ্ণপুর বানিয়াপাড়ায় গিয়ে চোখে পড়ে মাটির দোতলা। কাছে গিয়ে দেখা যায় পরিত্যক্ত ও ভঙ্কুরদশা নিয়ে ঠাঁয় দাড়িয়ে আছে মাটির দোতলাটি। আর সে যেন বলছে, আধুনিক এ যুগে আমার কদর না থাকলেও এক সময় আমিই ছিলাম সবার সেরা।
কথা হয় মাটির দোতলার মালিকের উত্তরসুরি এ্যাডভোকেট আরমানুজ্জামান সরকার জামানের সাথে, তিনি জানান; আমার দাদার পিতা মরহুম ফারাজ উদ্দিন সরকার এই মাটির দোতলাটি তৈরি করেছিলেন অনেকটা শখের বশে কমপক্ষে ৯০বছর আগে। তিনি জানান; গরমের দিনে মাটির দোতলা বসবাসের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক। বাতাসের জন্য ইলেকট্রিক ফ্যানের কোন প্রয়োজন নেই। এ দোতলায় এখন আর কেউ থাকে না।
বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক(৮৫)জানান; আগে আমাদের এ অঞ্চলটি বন জঙ্গলে ঘেরা ছিল, মানুষ অনেকটা জীবজন্তুর ভয়ে মাটির দোতলা তৈরি করে বসবাস করতো। আমি ছোট বেলা হতে আমাদের অঞ্চলে অনেক মাটির দোতলা দেখেছি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ইট-সুড়কির সহজলভ্যতায় পুরোনো সেই মাটির দোতলা ভেঙ্গে দালান বাড়ি তৈরি করছেন। তিনি আরও জানান; মাটির তৈরি দোতলা বাড়ি আমাদের দেশের গ্রামিন ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে আমাদের সংরক্ষন করা জরুরি।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; ছোট বেলা হতে আমাদের এ অঞ্চলে অনেক মাটির দোতলা দেখেছি। কিন্তু এখন আর চোখে পড়ে না। আমাদের এ গ্রামিন ঐতিহ্যকে তো আমাদেরই সংরক্ষন করতে হবে। তা না হলে আমাদের নতুন প্রজন্ম মাটি দিয়ে দোতলা বাড়ি যে এক সময় নির্মিত হতো,তা তারা জানতেই পারবে না।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৯মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪      

শনিবার, ১৮ মার্চ, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যেতে বসেছে মৌমাছির বাসা(চাক)


প্রকৃতি হতে হারিয়ে যেতে বসেছে মৌমাছির বাসা(চাক)

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

প্রকৃতি তার যা কিছু রয়েছে সবটুকুই বিলিয়ে দিয়েছে মানুষকে উজাড় করে,ভালবেসে। তার এই অকৃত্রিম ভালবাসাতে নেই কোন চাতুরি বা খাঁদ। আর আমরা মানুষ প্রকৃতির অমুল্য সম্পদগুলোকে নিজেদের প্রয়োজনে ইচ্ছেমত ব্যবহার করেই চলেছি। বিনিময়ে প্রকৃতিকে কিছু দেয়া তো দুরের কথা, তাদের রক্ষা করার তাগিদ পর্যন্ত অনুভব করছিনা কখনো। প্রকৃতি তথা তার অমুল্য সম্পদগুলোকে আমরা রক্ষা করার বদলে নির্দয়ভাবে ধ্বংস করেই চলেছি। একবারও অনুভব করছি না যে, এই সম্পদগুলোকে রক্ষার বদলে ধ্বংস করলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এর বহুবিধ সুবিধা হতে বঞ্চিত হবে !
সময় ফুরিয়ে যাবার আগেই আমাদের অনুভব করতে হবে,প্রকৃতির মুল্যবান সম্পদগুলিকে রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই। এখনও প্রকৃতিতে অসংখ্য অমুল্য সম্পদ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। প্রকৃতির এই অমুল্য সম্পদের মধ্যে মৌমাছি একটি। মৌমাছি তার কর্ষ্টাজিত আহরিত মধু মনুষ্যকুলকেই বিলিয়ে দেয়। এই মধু মুলতঃ সর্ব রোগের মহাষৌধ হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত।
আগে বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জের বড় বড় গাছের মগডালে,বাসা বাড়ির কোন এক কোনে লোকচক্ষুর আড়ালে মৌমাছিরা বাসা বাঁধতো। মানুষের জন্য উপকারি এই বন্ধু প্রানিটির বাসা(চাক) আর তেমনভাবে চোখে পড়ে না। মৌমাছির বাসা(চাক) না বাধার কারন হল; ফসলে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার আর নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন। গাছ না থাকার কারনে একদিকে যেমন মৌমাছির আবাসস্থল নষ্ট হয়েছে অন্যদিকে ফসলে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মৌমাছি ফুলে ফুলে মধু(খাদ্য) সঞ্চয় করতে গিয়ে নিজেই মারা পড়ছে। 
সরেজমিনে অনেক খোজাখুজির পর মানুষের উপকারি বন্ধু প্রানি মৌমাছির বাসা খুজে পাওয়া যায় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবনের তৃতীয় তলায়। অনেকটা লোকচক্ষুর অন্তরালে।
কথা হয় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের সাথে, তিনি জানান; মৌমাছি প্রকৃতির একটি অমুল্য সম্পদ। আগে যেখানে সেখানে মৌমাছির বাসা(চাক)দেখা গেলেও বর্তমানে আর তেমনভাবে চোখে পড়ে না। মধু সর্বরোগের মহষৌধ হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত। তিনি জানান;নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন এবং ফসলে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহারেই আমাদের এই উপকারি বন্ধু প্রানিটিকে আর তেমনভাবে চোখে পড়ছে না। তিনি আরও জানান; আমাদের নিজেদের প্রয়োজনেই প্রকৃতির এই অমুল্য সম্পদকে রক্ষা করতে হবে। তা না হলে এরা একদিন প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক(৮৫)জানান; আগে বড় বড় গাছপালা থাকার কারনে যেখানে সেখানে মৌমাছির বাসা (চাক)দেখা যেত। কিন্তু এখন আর বড় বড় গাছপালও নেই মৌমাছির বাসাও নেই। এরা যেন হারিয়ে গেছে। আমাদের প্রয়োজনেই উপকারি এই বন্ধু প্রানিটিকে আমাদেরই রক্ষা করতে হবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; সত্যিই আর আগের মত মৌমাছির বাসা খুজে পাওয়া যায় না। কৃষক সমাজ সহ আমরা সবাই একটু সচেতন হলেই এই উপকারি বন্ধু প্রানিটিকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। তা না হলে এরা প্রকৃতি হতে একদিন চিরতরে বিদায় নিবে। আমাদের প্রয়োজনেই এদের সংরক্ষন জরুরি।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৮মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০১৭

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য কূয়া(পানীয় জলের কূপ)আর নেই


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ 
  
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য পানীয় জলের কুপ “কুয়া” আর নেই। সময়ের পথ পরিক্রমায় মানুষের পিপাসা নিবারন সহ গৃহস্থলীর কাজে ব্যবহৃত কুয়া যেন সুদুর অতীত। এক সময় গ্রাম-গঞ্জের প্রতিটি বাড়িতে কুয়া দেখা গেলেও বর্তমানে আর চোখে পড়ে না। আধুনিক এ যুগে মানুষ নানা ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের মাধ্যমে ব্যবহার্য প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করায় কমে গেছে এক কালের বহুল সমাদৃত পানীয় জলের কুপ “কুয়ার” ব্যবহার।
পুর্বে দুই ধরনের কুয়া দেখা যেত। এক.মাটি খননের মধ্য দিয়েই শেষ হত কুয়ার কাজ। দুই.মাটি খননের পর তাতে রিং স্লাব বসিয়ে সিমেন্ট দিয়ে সুন্দর ও পরিপাটি করে ব্যবহার উপযোগি করা হয় কুয়াটিকে।
সরেজমিনে গত এক সপ্তাহ ধরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর পানীয় জলের এই কুপটির(কুয়ার)দেখা মেলে বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপির নাগেরহাট নামক এলাকায়। কুয়াটির কাছে গিয়ে দেখা যায়;ইট সিমেন্ট দিয়ে ঘেরা সুন্দর একটি পানীয় জলের কুপ “কুয়া”। যা বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কুয়াটি ৭৫ বছর আগে তৈরি করেছিলেন ওই এলাকার সমাজসেবক মরহুম দলিল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। তিনি কুয়াটি তৈরি করেছিলেন নিজ পরিবারের এবং গ্রামের মানুষদের কথা ভেবে।
কুয়া সম্পর্কে কথা হয় দলিল উদ্দিনের নাতি সাজ্জাদ হোসেনের সাথে,তিনি জানান; আমার দাদা পানীয় জলের এ কুপটি তৈরি করেছিলেন ৭৫ বছর আগে। যদিও কুয়াটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। আমরা দাদার সৃত্মি সরুপ কুয়াটিকে অক্ষত অবস্থায় রেখেছি।
রামনাথপুরের ঝাকুয়া পাড়া গ্রামের প্রবীন বাসিন্দা আলতাপনন্নেছা (৯০)জানান; যখন নলকুপ ছিল না,তখন বাড়ি বাড়ি না হলেও পাড়ার মানুষদের পিপাসা নিবারনের জন্য পানি সহ গৃহস্থলীর কাজের ব্যবহার হত কুয়ার পানি। তিনি জানান;আমাদের সময়ের গৃহিনীরা গৃহস্থলীর কাজ সহ পানি পান করার জন্য কাঁধে কলসি ও হাতে বালতি নিয়ে সারিবদ্ধভাবে কুপ হতে পানি নিয়ে যেত। সে সময় কুপই ছিল গ্রামের মহিলাদের মিলনস্থল। পানি আনার ছলেই চলতো পাড়ার মহিলাদের কুশল বিনিময়। তিনি আরও জানান; সে সুন্দর দিনগুলো আজ আর নেই। এ যেন সুদুর অতীত।
বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের প্রবীব ব্যক্তি ও রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক জানান; কুয়া নামক পানীয় জলের কুপটি শুধু কুপ ছিল না, এ হল আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। এর পানি আমরা ব্যবহার না করলেও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আমাদের কুয়া নামক পানীয় জলের কুপটিকে সংরক্ষন করা উচিত।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; আধুনিক এ যুগে কুয়ার ব্যবহার নেই বলেই কুয়াকে এখন আর চোখে পড়ে না। তবে এর ব্যবহার যতই সীমিত হোক না কেন,এক কালের আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য কুয়াকে নতুন প্রজন্মের জন্য সংরক্ষন করা উচিত।  


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৭মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ, ২০১৭

বদরগঞ্জে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের ৮ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকি পালিত

বদরগঞ্জে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের ৮ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকি পালিত



কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

রংপুরের বদরগঞ্জে বাংলাদেশের জনপ্রিয় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকি পালিত হয়েছে। গতকাল রাতে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠা বার্ষিকিতে প্রধান অতিথি হিসেবে মোবাইল ফোনে বক্তব্য রাখেন রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন;রংপুর জেলা পরিষদ সদস্য মমতাজ হোসেন,বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম,বদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামিলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এমডি শামসুল হক,বদরগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক হাসান তবিকুর চৌধুরি পলিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি প্রভাষক কামরুজ্জামান মুক্তা, সিনিয়র সভাপতি প্রভাষক আহসান হাবীব,সাধারন সম্পাদক ও দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের বদরগঞ্জ প্রতিনিধি সাইফুর রহমান রানা,রিপোর্টার্স ক্লাবের সদস্য রায়হান গোলাম কবির,বিপ্লব সরকার,শ্যামল লোহানী,সাইদুজ্জামান রিপন।
শেষে নানা উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকির কেক কাটা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংবাদিক ফয়সাল সরকার পলাশ। 


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৬মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

বুধবার, ১৫ মার্চ, ২০১৭

প্রকৃতি হতে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে বেল গাছ

প্রকৃতি হতে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে বেল গাছ
কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

প্রকৃতি হতে ক্রমেই হারিয়ে যেতে বসেছে বেল গাছ। সু-স্বাদু ফল ও ভেষজগুন সম্পন্ন গাছটিকে আগে বাসা-বাড়ির পরিত্যক্ত কোন জায়গায়,রাস্তার ধারে,পথে প্রান্তরে আপনা-আপনি ভাবে জন্মাতে দেখা যেত। আপনা-আপনি অবহেলা আর অনাদরে জন্মায় বলে এর গুরুত্বটা আমাদের কাছে তেমনভাবে নেই। অথচ দেশিয় প্রজাতির এই গাছটির ফল অত্যন্ত সু-স্বাদু ও গাছটি আমাদের অনেক উপকারে আসে। সেই প্রাচীন কাল হতে এর ফল,পাতা সহ গাছটিই আমাদের নানা রোগের মহাষৌধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর গুনাগুন আমরা সবাই জানি এবং বুঝি। এত কিছু জানা ও বুঝার পরেও শুধুমাত্র অনাদর আর অবহেলার কারনেই প্রকৃতি হতে হারিয়ে যেতে বসেছে এই মহামুল্যবান বেল গাছটি। প্রকৃতির এই অমুল্য সম্পদটিকে আমরা নির্বিচারে কেটে শেষ করে ফেলছি। আমরা সবাই জানি,প্রকৃতি সবসময় মানুষকে বুকে আগলে রাখার পাশাপাশি তার সবটুকু উজাড় করে দেয়। কখনো কোনদিন নিজেকে বিলিয়ে দিতে বিন্দু মাত্র কার্পন্য করে না। আর আমরা প্রকৃতির এই অমুল্য সম্পদগুলোকে সব সময় নিজের মত করে ব্যবহার করেই চলেছি। নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার্য এই মহামুল্যবান সম্পদকে রক্ষা করার তাগিদ অনুভব করছিনা কখনো। আর অনুভব করছিনা বলেই মহামুল্যবান সম্পদগুলো আজ প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে।
শুধুমাত্র অবহেলা অনাদর আর আপনা-আপনি বেড়ে ওঠা মহামুল্যবান উদ্ভিদগুলো আজ অস্তিত্ব সংকটে। এই মুল্যবান উদ্ভিদগুলোর অস্তিত্ব সংকটের মুল কারন; জ্বালানি সমস্যার কারনে নির্বিচারে কেটে ধ্বংস করা। আর এভাবেই প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে এই মুল্যবান উদ্ভিদগুলো। এরই মধ্যে অসংখ্য উদ্ভিদ হারিয়ে গেছে। বর্তমানে হারিয়ে যাওয়ার তালিকায় রয়েছে বেল গাছ।
আগে বাংলাদেশের সব অঞ্চলে বেল নামক গাছটির দেখা মিললেও বর্তমানে আর চোখেই পড়ে না।
সরেজমিনে অনেক খোঁজাখুঁজির পর বেল গাছ নামক গাছটির দেখা মেলে বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামে। কাছে গিয়ে দেখা যায়;বিলুপ্তপ্রায় ভেষজগুন সম্পন্ন বেল নামক গাছটি তার অস্তিত্ব জানান দিয়ে বলছে,এখনও আমার অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায়নি,তবে আমি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে,পারলে আমাকে রক্ষা করো। বেলের বৈজ্ঞানিক নাম-এ্যায়িগেল মারমিলস,গোত্রের নাম-রুটাসি।
কথা হয় ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি ও রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক(৮৫)সাথে তিনি জানান;ছোট বেলা হতে দেখছি আমাদের এলাকায় অনেক বেল গাছ ছিল। তবে এখন আর তেমন ভাবে চোখে পড়ে না। আগে আমরা গরমের দিনে পাকা বেল দিয়ে শরবত তৈরি করে খেতাম।
গ্রাম্য কবিরাজ ওমর আলি(৭০) জানান;বেল গাছ মানুষের অনেক উপকারে আসে। বিশেষ করে পুরুষদের দুর্বল পুরুষাংগ সবল ও সতেজ করতে বেলের জুড়ি নেই। ছাত্র-ছাত্রিদের  স্মরন শক্তি বৃদ্ধিতে বেল পাতা ঘিয়ে ভেঁজে খাওয়ালে অনেক উপকার হয়। এক চা চামচ বেল পাতার রস খেলে জ্বর সর্দি ভাল হয়ে যায়। 
বিশিষ্ট স্বর্ন ব্যবসায়ি সঞ্জিত চক্রবর্তী মনা জানান; আমাদের হিন্দু ধর্মীয় মতে,বেল একটি পবিত্র গাছ। বেল পাতা ছাড়া পুজা সম্পন্ন হয় না। তিনি আরও জানান; আমাদের নিজেদের স্বার্থে দেশিয় প্রজাতির এই পবিত্র গাছটিকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। 
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; আগে বেল গাছ প্রচুর পরিমানে যেখানে সেখানে দেখা গেলেও বর্তমানে এ গাছটি খুব কম চোখে পড়ছে। গাছটি মানুষের অনেক কাজে লাগে। দেশিয় প্রজাতির এ গাছটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা(সংরক্ষন) করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যত প্রজন্ম জানতেই পারবে না বেল গাছের নাম।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন) কনক চন্দ্র রায় জানান; বেল গাছ নামক উপকারি গাছটি আর চোখে পড়ছে না। দেশিয় প্রজাতির ভেষজগুন সম্পন্ন এ উদ্ভিদটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা করতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৫মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



সোমবার, ১৩ মার্চ, ২০১৭

লিচুর মুকুলে প্রোথিত রয়েছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন


লিচুর মুকুলে প্রোথিত রয়েছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন 

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ



লিচুর মুকুলে মুকুলে ছেঁয়ে গেছে রংপুর বদরগঞ্জের ফলের বাগানগুলো। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ আর মৌমাছির গুনগুন শব্দে শুভাসিত ও মুখরিত গোটা অঞ্চল। মুকুলের ভাঁজে ভাঁজে প্রোথিত রয়েছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। কয়েক দিন পর মুকুলের পেট চিড়ে বের হবে লিচুর দানা। এ দানা শুধু দানাই নয় এ হল কৃষকের আগামির (দিনের)স্বপ্ন। আগামির সোনালি স্বপ্নে লিচু চাষিরা বিভোর।
সরেজমিনে লিচু বাগানে গিয়ে দেখা যায়; বিস্তৃীর্ন বাগান জুড়ে চোখ ধাঁধানো মুকুলের সমারোহ,নয়নাভিরাম চিরচেনা সেই অপূর্ব নৈসর্গিক দৃশ্য যে কারোরই মনকে দোলা দিবে। লিচু চাষিরা তাদের সোনালি স্বপ্নের কথা ভেবে লিচু বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কথা হয় বদরগঞ্জ উপজেলার কালুপাড়া ইউপির লিচু বাগান মালিক মাহাফুজ ওয়াহিদ চয়নের সাথে, তিনি জানান; আমার লিচু বাগানে পর্যাপ্ত মুকুল এসেছে। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে কমপক্ষে ৮লক্ষ টাকার লিচু বিক্রি করতে পারবো। তিনি জানান; সাতক্ষীরা জেলা হতে আসা এক দল মৌয়ালের সাথে গত ১সপ্তাহ  আগে হঠাৎ দেখা হলে তারা আমার লিচু বাগানে মৌ-চাষের কথা বললে আমি রাজি হয়ে যাই। তখনই শুরু হয় লিচু বাগানে মৌ চাষ। তিনি আরও জানান;মূলতঃ লিচু বাগানে মৌ চাষের কারনে লিচুর মুকুলে পরাগায়ন বেশি হবে,ফলনও বৃদ্ধি পাবে,এটাই আমার লাভ।
কথা হয় বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের লিচু চাষি আজাহার আলির সাথে,তিনি জানান;গত বছর এ বাগান হতে ২ লক্ষ টাকার লিচু বিক্রি করেছি। আশা করছি যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে লিচরু মুকুলের ক্ষতি না হয় তবে কমপক্ষে ৪লক্ষ টাকার লিচু  বিক্রি করতে পারবো।
কথা হয় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের সাথে তিনি জানান ; লিচু একটি সু-স্বাদু ফল। এর চাহিদা ব্যাপক। লিচুর বাগান করে বর্তমানে অনেকেই স্বাবলম্বি।
তিনি আরও জানান; লিচু বাগানে মৌমাছি পরাগায়নে সহায়তা করে। মার্চের শুরু হতে লিচুর মুকুল হতে মধু আহরন শুরু হয়। সারাদেশের লিচু চাষিরা যদি তাদের লিচু বাগানে মধু চাষের জন্য হাতে কলমে প্রশিক্ষন দেন তাহলে সকল কৃষকই ফলের পাশাপাশি বাড়তি আয় করতে পারেন।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান ; বদরগঞ্জ উপজেলায় ফলের বাগান বর্তমানে ৯০০হেঃ ছাঁড়িয়ে গেছে। লিচু বাগান করে বর্তমানে অনেক কৃষকই স্বাবলম্বি। অনেকের সফলতা দেখে চাষিরা এখন ফল বাগানের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১৪ মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

 

রবিবার, ১২ মার্চ, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ বাসক

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ বাসক


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বাসক একটি ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদের নাম। বাসা-বাড়ির পরিত্যক্ত কোন জায়গায়,রাস্তার ধারে,পথে প্রান্তরে আপনা-আপনি ভাবে জন্মায় যে উদ্ভিদটি তার নামই বাসক। এর পাতা চিকন অনেকটা বড় কলমি শাকের পাতার ন্যায়। এক সময় আমরা এই উদ্ভিদটিকে বাসা-বাড়ির সীমানা প্রাচীর হিসেবে ব্যবহার করতাম। আপনা-আপনি অবহেলা আর অনাদরে জন্মায় বলে এর গুরুত্ব আমরা তেমনভাবে দেই না। অথচ দেশিয় প্রজাতির এই গাছটি আমাদের অনেক উপকারে আসে। সেই প্রাচীন কাল হতে ভেষজগুন সম্পন্ন দেশিয় প্রজাতির এই উদ্ভিদটি আমাদের নানা রোগের মহাষৌধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর গুনাগুন আমরা সবাই জানি এবং বুঝি। এত কিছু জানা ও বুঝার পরেও শুধুমাত্র অনাদর আর অবহেলার কারনেই প্রকৃতি হতে হারিয়ে যেতে বসেছে এই মহামুল্যবান ভেষজ সম্পদটি। প্রকৃতির এই অমুল্য সম্পদটিকে আমরা নির্বিচারে কেটে শেষ করে ফেলছি। আমরা সবাই জানি,প্রকৃতি সবসময় মানুষকে বুকে আগলে রাখার পাশাপাশি তার সবটুকু উজাড় করে দেয়। কখনো কোনদিন নিজেকে বিলিয়ে দিতে বিন্দু মাত্র কার্পন্য করে না। আর আমরা প্রকৃতির এই অমুল্য সম্পদগুলোকে সব সময় নিজের মত করে ব্যবহার করেই চলেছি। নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার্য এই মহামুল্যবান সম্পদকে রক্ষা করার তাগিদ অনুভব করছিনা কখনো। আর অনুভব করছিনা বলেই মহামুল্যবান ভেষজ সম্পদগুলো আজ প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতিতে এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ। শুধুমাত্র অবহেলা অনাদর আর আপনা-আপনি বেড়ে ওঠা মহামুল্যবান ভেষজ উদ্ভিদগুলো আজ অস্তিত্ব সংকটে। ভেষজ উদ্ভিদগুলোর অস্তিত্ব সংকটের মুল কারন; জ্বালানি সমস্যা আর (আগাছা হিসেবে) নির্বিচারে কেটে ধ্বংস করা। আর এভাবেই প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে এই মুল্যবান উদ্ভিদগুলো। এরই মধ্যে অসংখ্য উদ্ভিদ হারিয়ে গেছে। বর্তমানে হারিয়ে যাওয়ার তালিকায় রয়েছে ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ বাসক।
আগে বাংলাদেশের সব অঞ্চলে বাসক নামক উদ্ভিটির দেখা মিললেও বর্তমানে আর চোখেই পড়ে না।
সরেজমিনে অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাসক নামক উদ্ভিদটির দেখা মেলে বদরগঞ্জ পৌরশহরের মুন্সিপাড়া রেলগেট এলাকার এক নার্সারিতে। কাছে গিয়ে দেখা যায়;বিলুপ্তপ্রায় ভেষজগুন সম্পন্ন বাসক নামক উদ্ভিদটি তার অস্তিত্ব জানান দিয়ে বলছে,এখনও আমার অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায়নি,তবে আমি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে,পারলে আমাকে রক্ষা করো।
বাসকের বৈজ্ঞানিক নাম-অ্যাডহাটোডা ভাসিকা,গোত্রের নাম-এ্যাকানথেসি।
কথা হয় মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা ও বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ইউনুস আলির সাথে,তিনি জানান;ছোট বেলা হতে দেখছি আমাদের এলাকায় অনেক বাসক গাছ ছিল। তবে এখন আর তেমন ভাবে চোখে পড়ে না। আগে বিভিন্ন জায়গা হতে অনেক গ্রাম্য চিকিৎসক এসে এখান হতে বাসক নামক গাছটি নিয়ে যেত। শুনেছি,এই গাছটি মানুষের অনেক উপকারে আসে।
গ্রাম্য কবিরাজ মাসুদ আলি(৫৫) জানান;বাসক মানুষের অনেক উপকারে আসে। বিশেষ করে এর পাতা জ্বর সর্দ্দি ও কাশিতে মহাষৌধ হিসেবে কাজ করে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; বাসক একটি ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ। আগে এ গাছটি প্রচুর পরিমানে যেখানে সেখানে দেখা গেলেও বর্তমানে এ গাছটি খুব কম চোখে পড়ছে। মুলতঃ গাছটির পাতা মানুষের কাজে লাগে। দেশিয় প্রজাতির এ গাছটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা(সংরক্ষন) করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যত প্রজন্ম জানতেই পারবে না বাসকের নাম।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন) কনক চন্দ্র রায় জানান; বাসক নামক উপকারি উদ্ভিদটি আর চোখে পড়ছে না। দেশিয় প্রজাতির ভেষজগুন সম্পন্ন এ উদ্ভিদটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা করতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১২মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



শনিবার, ১১ মার্চ, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে জাত নিম নামক বৃক্ষটি


প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে জাত নিম নামক বৃক্ষটি

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বাংলাদেশে দেশিয় প্রজাতির মুল্যবান ভেষজ উদ্ভিদগুলির মধ্যে জাত নিম অন্যতম। অবহেলা আর অনাদরে আপনাআপনি বেড়ে উঠা জাত নিমের কদর আমাদের কাছে না থাকার কারনেই মুলতঃ হারিয়ে যাচ্ছে মুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন বৃক্ষটি। অথচ উন্নত বিশ্বে নিম গাছের বিভিন্ন উপাদানকে কাজে লাগিয়ে ইতোমধ্যে কীটনাশক ও জৈব সার তৈরি করে কৃষি জমিতে সফলভাবে প্রয়োগ করে জমির উর্ব্বরতা শক্তি বৃদ্ধি সহ বিষমৃক্ত ফসল উৎপাদনে অগ্রনী ভুমিকা রাখছে। আর আমরা দেশিয় প্রজাতির এই মুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদটিকে(জাত নিম)নির্বিচারে কেটে শেষ করে ফেলছি। নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার্য এই মুল্যবান সম্পদকে রক্ষা করার তাগিদ অনুভবও করছি না।  আর অনুভব করছিনা বলেই মহামুল্যবান ভেষজ সম্পদগুন সম্পন্ন কাষ্ঠল জাতীয় বৃক্ষটি আজ প্রকৃতি হতে হারিয়ে যেতে বসেছে। ভেষজ উদ্ভিদটির অস্তিত্ব সংকটের মুল কারন; জ্বালানি সমস্যা আর আসবাবপত্র তৈরির জন্য নির্বিচারে কেটে ধ্বংস করা। আর আমাদের অবহেলার কারনেই ইতোমধ্যে প্রকৃতি হতে হারিয়ে গেছে অসংখ্য মহামুল্যবান উদ্ভিদ। হারিয়ে যাওয়ার তালিকায় রয়েছে দেশিয় প্রজাতির বৃক্ষ জাত নিম। আগে বাংলাদেশের সব অঞ্চলে জাত নিম নামক বৃক্ষ জাতীয় গাছটির দেখা মিললেও বর্তমানে আর চোখেই পড়ে না মহামুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন এই উদ্ভিদটি।
সরেজমিনে অনেক খোঁজাখুঁজির পর জাত নিম নামক উদ্ভিদটির দেখা মেলে বদরগঞ্জ পৌর শহরের সিও রোড এলাকায়। কাছে গিয়ে দেখা যায়;বিলুপ্তপ্রায় ভেষজগুন সম্পন্ন জাত নিম নামক উদ্ভিদটি তার অস্তিত্ব জানান দিয়ে বলছে,এখনও আমার অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায়নি,তবে আমি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে,আমাকে রক্ষা করো। নিমের বৈজ্ঞানিক নাম-আ্যাজাডাইরেকটা ইনডিকা, গোত্র- মিলিয়েসি।
বাংলাদেশে দুই ধরনের নিম গাছ দেখতে পাওয়া যায়। একটি ঘোড়া নিম অন্যটি জাত নিম।
কথা হয় বদরগঞ্জ উপজেলার প্রবীন ব্যক্তি ও রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক(৮৫)সাথে তিনি জানান; আগে আমাদের এ অঞ্চলে অনেক জাত নিমের গাছ ছিল। বর্তমানে আর আগের মত চোখে পড়ে না। প্রাচীন কাল হতে দেশিয় প্রজাতির এই নিম গাছ দিয়ে নানা ধরনের ঔধষ মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহার হয়ে আসছে। তিনি আরও জানান;নিমের পাতা শষ্য সংরক্ষনে এবং এর পাতা গরম পানিতে সিদ্ধ করে তা দিয়ে চর্ম জনিত নানা রোগের উপকারে আসে। নিমের কাঠ দিয়ে তৈরি আসবাবপত্র খুবই টেকসই। দেশিয় প্রজাতির এ উদ্ভিদটি আমাদের প্রয়োজনেই সংরক্ষন জরুরি।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান;মহামুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ নিম গাছ আর আগের মত চেখে পড়ে না। কৃষি নির্ভর এ দেশে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস করে বিকল্প হিসেবে নিমের ভেষজ কীটনাশক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিম গাছ সংরক্ষন ও চারা তৈরি করে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তা না হলে প্রকৃতি হতে এই মুল্যবান উদ্ভিদটি একদিন হারিয়ে যাবে। 
বদরগঞ্জ উপজেলা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন) কনক চন্দ্র রায় জানান; দেশিয় প্রজাতির নিম গাছ নামক উপকারি উদ্ভিদটি আর চোখে পড়ে না। দেশিয় প্রজাতির ভেষজগুন সম্পন্ন এ উদ্ভিদটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা করতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১১মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



 

শুক্রবার, ১০ মার্চ, ২০১৭

কবিতা - হৃদয় আমার

“এই মনে একটি নাম আঁকা আছে,
                      সেতো তোমার নাম,
এই বুক চিঁড়ে দেখাই যদি,
                      সেও বলবে তোমারই নাম,
হাজারো মানুষের ভিড়ে,
                      এ চোখ শুধু তোমায় খোঁজে,
হাজারো কথার মাঝে শুধু,
                     তোমার কথাই মনে পড়ে,
এ নিঃশ্বাস যেন শুধু,
                    তোমারই জন্যে,
হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দন,
                    সেও তোমারি জন্যে।”



কামরুজ্জামান মুক্তা
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১০মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ, ২০১৭

একটি ব্রীজ, কমাতে পারে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ

একটি ব্রীজ, কমাতে পারে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

চিকলি একটি নদীর নাম। বর্ষাকালে দু-কুল ছাপিয়ে পানিতে পুর্ন থাকে। তখন দামোদরপুর ইউনিয়নের হাজারো মানুষ পাড়ি দেন ছোট ডিঙ্গি নৌকায় করে। মাঝে মাঝে নদীতে নৌকা না থাকলে তখন মানুষের দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই ঘাটটিতে একটি ব্রীজ নির্মানের। অবহেলিত এ জনপদের মানুষগুলি এক সময় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছিলেন কিন্তু তাদের প্রানের দাবি পুরনে কেউ এগিয়ে আসেননি। অবশেষে ২০১২ সালে তৎকালিন স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য ৮৩ মিটার বেইলি ব্রীজ নির্মানের জন্য,১কোটি ৯৯লক্ষ ৯৮হাজার ৪৭৯ টাকা বরাদ্দ পান। তখনই শুরু হয় ব্রীজ নির্মানের কাজ। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি ব্রীজের জন্য পিলার নির্মান ও মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়। এলজিইডির চুক্তি অনুযায়ি ওই ব্রীজের জন্য ইস্পাতের তৈরি পাতাটন সরবরাহের কথা ছিল সড়ক ও জনপথ (সওজ)বিভাগের। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগ পাতাটন সরবরাহ না করায় ব্রীজটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্রীজটির অবস্থান রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউপির মোস্তফাপুর খেয়াঘাট স্থানে। সরেজমিনে ব্রীজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়; শুকনো নদীর ধু-ধু বালুচরের উপর নীরবে দাঁড়িয়ে আছে ব্রীজের জন্য নির্মিত পিলারগুলি। ব্রীজ নির্মানের আগে পথচারিদের যাতায়াতের জন্য যে রাস্তাটি ছিল সেটিও রয়েছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। তীরবর্তী মানুষগুলো নতুন করে রাস্তা নির্মান করে ধু-ধু বালুচরের মধ্য দিয়ে অনেক কষ্টে যাতায়াত করছেন।
কথা হয় ওই এলাকার বাসিন্দা রিক্সা ভ্যানচালক আমির আলির(৪৫)সাথে তিনি জানান; ছোট বেলা হতে উপজেলা সদরে যাওয়ার জন্য নদীর ঘাটে এসে নৌকার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতাম। প্রথমে ব্রীজ নির্মানের কথা শুনে মনে হল, এবার বুঝি আমাদের কষ্ট দুর হবে। কিন্তু ব্রীজ আর হলো না। আমাদের কষ্ট থেকেই গেল। তিনি আক্ষেপ করে জানান;আমি হয়তঃ আমার জীবদ্দশায় এ ব্রীজ দেখে যেতে পারবো না। ধু-ধু বালুচরের মধ্য দিয়ে রিক্সা-ভ্যান পারাপার কি যে কষ্টের সে আমি জানি ?
কথা হয় এই এলাকার বাসিন্দা ও বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেনির ছাত্রি আফরোজা বেগমের সাথে,তিনি জানান; বর্ষাকালে নৌকার অভাবে কলেজ যেতে দেরি হলে ক্লাস মিস করি। এ জন্য স্যারদের বকুনি খেতে হয়। কলেজে ছাত্রিটি এই প্রতিবেদককে উল্টো প্রশ্ন রেখে বলেন,আদৌ এ ব্রীজটি হবে তো !
দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক জানান;ব্রীজটি না থাকায় এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এলাকার মানুষ অসুস্থ্য হয়ে পড়লেও সঠিক সময়ে তারা স্বাস্থ্য সেবা নিতে পারেন না।
বদরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলি আবু তালেব সরকার জানান;দরপত্র অনুযায়ি বরাদ্দের টাকায় ঠীকাদার ব্রীজের কাজ বুঝিয়ে দিয়েছে। কিন্তু চুক্তি মোতাবেক সড়ক ও জনপথ বিভাগ ব্রীজের জন্য ইস্পাতের পাতাটন সরবরাহ না করায় ব্রীজ নির্মানের কাজ শেষ হয়নি।
তিনি আরও জানান; এ জন্য গত বছর বেইলি ব্রীজের ডিজাইন পরিবর্তন করে এলজিইডির অধীনে সেখানে গার্ডার ব্রীজ নির্মানের জন্য ১ কোটি ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দ চেয়ে বর্তমান জাতীয় সংসদ সদস্য আহসানুল হক চৌধুরি ডিউকের ডিও লেটার সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি অচিরেই অনুমোদন পাওয়া যাবে।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৯ মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 

        

বুধবার, ৮ মার্চ, ২০১৭

নারী দিবস আসে যায় তবুও মজুরি বৈষম্যে শ্রমজীবি নারীরা


নারী দিবস আসে যায় তবুও
মজুরি বৈষম্যে শ্রমজীবি নারীরা


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

নারী দিবস আসে আবার যায় কিন্তু নারীদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় না। প্রতিনিয়ত অসহায় নারীরা যেমন নিজ বাড়ি সমাজ সংসারে অপমান আর লাঞ্চনা সহ্য করে চলতে হয় তেমনি অভাবের তাড়নায় কর্ম ক্ষেত্রেও মজুরি বৈষম্যের শিকার হন তারা। আজকের এই দিবসটিকে ঘটা করে পালন করা হলেও নারীদের মজুরি বৈষম্যের বিষয়টি অধরাই থেকে যায়। যেন দেখার কেউ নেই !!
সরেজমিনে বদরগঞ্জ উপজেলা ঘুরে দেখা যায়; হাতে মেহেদি মাথায় ঘোমটা আর শাঁখা সিধুর দিয়ে যে নারীরা স্বামির বাড়িতে পা রেখেছিলেন তারা এখন অভাবের তাড়না আর আর্থিক সচ্ছলতার নিমিত্তে পুরুষের পাশাপাশি শ্রম বিক্রিতে নেমে পড়েছেন শ্রমজীবি নারীরা। কাকডাকা ভোরে হাতে ঝুড়ি এবং কাঁধে কোদাল নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছেন তারা। এ সমস্ত শ্রমজীবি মহিলারা রাস্তাভরাট,ইটভাটা,দালানকোটা নির্মান কাজে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। অনেক লোকের সমাগম কিন্তু তাতে মহিলা শ্রমিকদের মাঝে বিন্দুমাত্রও সংকোচ নেই। শ্রমবাজার নামে পরিচিত বদরগঞ্জ প্লাটফরম,ননী গোপালের মোড়, সিও বাজার মোড়,১৩ নং রেলগেট এলাকায় কাকডাকা ভোর এলেই এদের সহজেই চোখে পড়ে। এ সমস্ত শ্রমজীবি নারীরা আবার বিভিন্ন দলে বিভক্ত। প্রতিটি দলেই থাকে একজন করে দলনেত্রি।
কথা হয় বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউপির উত্তর বাওচন্ডি গ্রামের দলনেত্রি তসলিমা বেগম(৪৫) সাথে তিনি জানান ; নারী শ্রমিক হিসেবে মাটি কাটার কাজ করি। এ উপার্জনেই চলে তার সংসার। সংসারে উপযুক্ত কোন ব্যক্তি না থাকায় বাধ্য হয়ে মাথায় ঝুড়ি ও হাতে কোদাল ধরতে হয়েছে। তিনি আরও জানান; পুরুষরা তাদের ভিন্ন চোখে দেখে, কিন্তু যখন না খেয়ে দিন কাটাতে হয় তখন তো কেউ খাবার নিয়ে আসে না। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় মাটির কাজ সহ অন্যান্য কাজও সমানতালে করে যাচ্ছি। 
রামনাথপুর ইউপির সর্দ্দারপাড়া গ্রামের নারী শ্রমিক আফরোজা বেগম (৪২)জানান ; ইটভাটায় কাজ করেই চলে আমার সংসার। পরুষদের তুলনায় নারী অনেক কম মজুরি পান। তিনি আরও জানান; যেখানে পুরুষ শ্রমিকরা ২৫০ টাকা পায় সেখানে আমাদের ১২০-১৪০টাকা মজুরি দেয়। এরপরও  আমরা কাজ করি ।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক  আঃ সালাম জানান; এ এলাকার মহিলারা পুরুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শ্রমিকের কাজ করে, পাশাপাশি মহিলারা পুরুষের তুলনায় বেশ ভাল কাজ করে তবুও তাদের মজুরি কম। তাদের এই মজুরি বৈষম্য দূর হওয়া উচিত।
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার কাজি আবেদা গুলশান জানান;পুরুষ ও নারী শ্রমিকের মজুরি বৈষম্য অবশ্যই দুর হওয়া উচিত। কারন পুরুষদের তুলনায় নারীরা কো অংশে কম কাজ করেন না।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-০৮এপ্রিল/১৫
মোবাইল- ০১৭১৭৮৫০৯৬৪

মঙ্গলবার, ৭ মার্চ, ২০১৭

কবিতা- ভোরের আলোয় তোমার মুখ

কবিতা- ভোরের আলোয় তোমার মুখ

“ভোরের আলোয় ভেসে উঠে,
                  তোমারই প্রতিচ্ছবি,
জনম জনমের সাথী তুমি,
                  তুমি শুধুই আমারি।
আমার এই নিঃশ্বাস যেন,
                  শুধু তোমার জন্য,
আমার হৃদয়ের স্পন্দন,
                  সেও তোমার জন্য।
যত দিন বেঁচে আছি,
                  থেকো গো পাশে,
ভালবেসে মরতে চাই,
                  শুধুই তোমাকে।”



কামরুজ্জামান মুক্তা
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৭মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

সোমবার, ৬ মার্চ, ২০১৭

আমের মুকুলের ভাঁজে ভাঁজে কৃষকের সোনালি স্বপ্নের হাতছানি


আমের মুকুলের ভাঁজে ভাঁজে কৃষকের সোনালি স্বপ্নের হাতছানি

কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

আমের মুকুলে মুকুলে ছেঁয়ে গেছে রংপুর বদরগঞ্জের ফলের বাগানগুলো। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ আর মৌমাছির গুনগুন শব্দে শুভাসিত ও মুখরিত গোটা অঞ্চল। মুকুলের ভাঁজে ভাঁজে প্রোথিত রয়েছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। কয়েক দিন পর মুকুলের পেট চিড়ে বের হবে আমের দানা। এ দানা শুধু দানাই নয় এ হল কৃষকের আগামির (দিনের)স্বপ্ন। আগামির সোনালি স্বপ্নে আম চাষিরা বিভোর।
সরেজমিনে আম বাগানে গিয়ে দেখা যায়; বিস্তৃীর্ন বাগান জুড়ে চোখ ধাঁধানো মুকুলের সমারোহ,নয়নাভিরাম চিরচেনা সেই অপূর্ব নৈসর্গিক দৃশ্য যে কারোরই মনকে দোলা দিবে। আম চাষিরা তাদের সোনালি স্বপ্নের কথা ভেবে আম বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কথা হয় বদরগঞ্জ রাধানগর ইউপির পাঠানের হাট এলাকার আম চাষি আজিজুল ইসলাম খান জানান; আমার আম বাগানে পর্যাপ্ত মুকুল এসেছে। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে কয়েক লক্ষ টাকার আম বিক্রি করতে পারবো। তিনি জানান; আমার ধারনা ছিল সরিষার সময়ই শুধু মৌ চাষ হয়,আম বাগানেও যে মৌ চাষ করা যায় এটা আগে কখনও মাথায় আসেনি। খুলনা হতে আসা এক দল মৌয়ালের সাথে গত ১০দিন আগে হঠাৎ দেখা হলে তারা আমার আম বাগানে মৌ-চাষের কথা বললে আমি রাজি হয়ে যাই। তখনই শুরু হয় আম বাগানে মৌ চাষ। তিনি আরও জানান;মূলতঃ আম বাগানে মৌ চাষের কারনে আমের মুকুলে পরাগায়ন বেশি হবে ফলনও বৃদ্ধি পাবে,এটাই আমার লাভ।
কথা হয় বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের আম চাষি হাসান আল মাহমুদের সাথে,তিনি জানান;গত বছর এ বাগান হতে ৪ লক্ষ টাকার আম বিক্রি করেছি। আশা করছি যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমের মুকুলের ক্ষতি না হয় তবে দ্বি-গুন টাকার আম বিক্রি করতে পারবো।
কথা হয় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের সাথে তিনি জানান ; আম একটি সু-স্বাদু ফল। এর চাহিদা দেশে বিদেশে। আমের বাগান করে বর্তমানে অনেকেই স্বাবলম্বি। তিনি আরও জানান;আম বাগানে মৌমাছি পরাগায়নে সহায়তা করে। মার্চের শুরু হতে আম-লিচুর মুকুল হতে মধু আহরন শুরু হয়। সারাদেশের আম চাষিরা যদি তাদের আম বাগানে মধু চাষের জন্য হাতে কলমে প্রশিক্ষন দেন তাহলে সকল কৃষকই ফলের পাশাপাশি বাড়তি আয় করতে পারবেন।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান ; গত ১০ বছর আগেও বদরগঞ্জ উপজেলায় ফলের বাগান ছিল ১৫০ হেঃ। তা বেড়ে বর্তমানে ৯০০হেঃ ছাঁড়িয়ে গেছে। আম বাগান করে বর্তমানে অনেকেই স্বাবলম্বি। অনেকের সফলতা দেখে চাষিরা ফলের বাগানের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৬মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

 

রবিবার, ৫ মার্চ, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ সাদা লজ্জাবতী

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ সাদা লজ্জাবতী


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

প্রকৃতি সবসময় মানুষকে বুকে আগলে রাখার পাশাপাশি তার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে। কখনো কোনদিন নিজেকে বিলিয়ে দিতে বিন্দু মাত্র কার্পন্য করেনি। আর আমরা প্রকৃতির এই অমুল্য সম্পদকে সব সময় নিজের মত করে ব্যবহার করেই চলেছি। নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার্য এই মহামুল্যবান সম্পদকে রক্ষা করার তাগিদ অনুভব করিনি কখনো। আর অনুভব করিনি বলেই মহামুল্যবান ভেষজ সম্পদগুলো আজ প্রকৃতি হতে হারিয়ে যেতে বসেছে। এখনও প্রকৃতিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ। অবহেলা অনাদর আর আপনাআপনি বেড়ে ওঠা মহামুল্যবান ভেষজ উদ্ভিদগুলো আজ অস্তিত্ব সংকটে। ভেষজ উদ্ভিদগুলোর অস্তিত্ব সংকটের মুল কারন; জ্বালানি সমস্যা আর (আগাছা হিসেবে) নির্বিচারে কেটে ধ্বংস করা। আর এভাবেই প্রকৃতি হতে ভেষজগুন সম্পন্ন মহামুল্যবান অসংখ্য উদ্ভিদ ইতোমধ্যে হারিয়ে গেছে। হারিয়ে যাওয়ার তালিকায় রয়েছে সাদা লজ্জাবতী।
আগে বাংলাদেশের সব অঞ্চলে লজ্জাবতী নামক বিরুৎ জাতীয় উদ্ভিটির দেখা মিললেও বর্তমানে আর চোখেই পড়ে না মহামুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন এই উদ্ভিদটি।
সরেজমিনে গত ১ মাস ধরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর লজ্জাবতী নামক উদ্ভিদটির দেখা মেলে রংপুর মহানগরের লাহিড়ির হাট নামক এলাকার মেইন সড়কের ধারে। কাছে গিয়ে দেখা যায়;বিলুপ্তপ্রায় ভেষজগুন সম্পন্ন লজ্জাবতী নামক উদ্ভিদটি অনেকটা লজ্জা আর ভয় নিয়ে ভাট নামক গাছের আড়ালে লুকিয়ে তার অস্তিত্ব জানান দিয়ে বলছে,এখনও আমার অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায়নি,তবে আমি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে,আমাকে রক্ষা করো।
লজ্জাবতীর বৈজ্ঞানিক নাম-মাইমোসা পুডিকা,গোত্রের নাম-লিগুমাইনোসি। বাংলাদেশে দুই ধরনের লজ্জাবতী গাছ দেখতে পাওয়া যায়। এদের মধ্যে লাল লজ্জাবতীর পাতা অনেকটা ছোট ও চিকন আর সাদা লজ্জাবতীর পাতা তুলনামুলকভাবে বড় ও চ্যাপ্টা।   
কথা হয় লাড়িহির হাট এলাকার লজ্জাবতী নামক দুলর্ভ গাছটি খুঁজে বের করা কৃষক সামসুল হকের(৫৬)সাথে; তিনি জানান; ছোট বেলা হতে দেখছি আমাদের এলাকায় অনেক সাদা লজ্জাবতীর গাছ ছিল। তবে এখন আর চোখে পড়ে না। আগে বিভিন্ন জেলা হতে অনেক গ্রাম্য চিকিৎসক এসে এখান হতে সাদা লজ্জবতী নামক গাছটি নিয়ে যেত। শুনেছি এই গাছটি মানুষের অনেক উপকারে আসে। তিনি আরও জানান; এখনও গাছটির ফুল আসেনি। ভাগ্য ভালো আপনার(প্রতিবেদকের)যে, সাদা লজ্জাবতীর গাছের দেখা পেলেন। অনেক বছর হতে আমিও এই গাছটিকে দেখিনি।
গ্রাম্য কবিরাজ রহমত আলি(৬৫) জানান; সাদা লজ্জাবতী মানুষের অনেক উপকারে আসে। বিশেষ করে এর পাতা ও মুল। যৌন সমস্যা জনিত রোগিদের সাদা লজ্জাবতী গাছটি অনেক উপকারে আসে।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; মহামুল্যবান ভেষজগুন সম্পন্ন উদ্ভিদ এই সাদা লজ্জাবতী। লাল লজ্জাবতী কিছুটা দেখা গেলেও বর্তমানে সাদা লজ্জাবতী নামে বিরুৎ জাতীয় এ গাছটি আর দেখা যায় না। মুলতঃ গাছটির পাতা ও মুল কাজে লাগে। দেশিয় প্রজাতির এ গাছটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা(সংরক্ষন) করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যত প্রজন্ম জানতেই পারবে না সাদা লজ্জাবতীর নাম।
বদরগঞ্জ উপজেলা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা(উদ্ভিদ সংরক্ষন) কনক চন্দ্র রায় জানান; সাদা লজ্জাবতী নামক উপকারি উদ্ভিদটি আর চোখে পড়ে না। দেশিয় প্রজাতির ভেষজগুন সম্পন্ন এ উদ্ভিদটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা করতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৫মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪



শনিবার, ৪ মার্চ, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে সুমিষ্ট ফল আতা

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে সুমিষ্ট ফল আতা


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

বাংলাদেশে জন্মানো অসংখ্য ফলের মধ্যে আতা ফল একটি। গোলাকার ধরনের এ ফলটি পাকলে তাতে লাল আভা ছড়ায়। এর সুগন্ধ এতটাই যে,পথচারিরাও বুঝতে পারে আশে পাশে আতা ফলের গাছ আছে। সুমিষ্ট-সুস্বাদু এ ফলটি প্রত্যেক বাংলা ভাষাভাষির কাছেই প্রিয়। এক সময় এ ফলের গাছটি বাংলাদেশের সব অঞ্চলে দেখা গেলেও এখন আর তেমন দেখা যায় না। ফলটি যেন কালের গর্ভে যেন বিলীন হতে চলেছে। অবহেলা অনাদর আর জ্বালানী সংকটের কারনে ইতোমধ্যেই বিলীন হয়ে গেছে দেশিয় মুল্যবান কিছু উদ্ভিদরাজি। বর্তমানে হারিয়ে যাওয়া উদ্ভিদ/ফলের মধ্যে আতা ফল অন্যতম। বাংলাদেশে একে সবাই আতা ফল নামেই চেনে। আতা ফল মিশে রয়েছে বাংলা সংস্কৃতি ও প্রকৃতির সংস্পর্শে।  ২৫-৩৫ফিট উচ্চতার গাছটির পাতা লম্বা ও চ্যাপ্টা ধরনের। আতা ফলের বৈজ্ঞানিক নাম-অ্যানোনা সেকুয়ামোসা, গোত্রের নাম-অ্যানোনেসি।
বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আফজাল হোসেন প্রামানিক(৭৪)জানান;এক সময় আমাদের এ অঞ্চলে অসংখ্য আতা ফল গাছ ছিল। ছোট বেলায় আমরা আতা গাছ হতে অর্ধপাকা ফল ছিঁড়ে ধানের তুষের বস্তায় রেখে দিতাম। দু-দিন পর ফলটি পাকলে মজা করে খেতাম। ফলটি এতটাই সু-স্বাদু ও সুমিষ্ট যে বলে শেষ করতে পারবো না। আতা ফল গাছগুলো মানুষ কেটে ফেললেও নতুন করে কোন চারা রোপন না করায় আর চোখে পড়ছে না প্রকৃতি বান্ধব এ আতা ফল গাছ। দেশিয় প্রজাতির এই আতা ফল গাছকে আমাদের প্রয়োজনে রক্ষা করতে হবে। তিনি আরও জানান;দেশিয় প্রজাতির এ সমস্ত গাছে অনেক পাখিরা বাসা বাঁধে,অথচ বিদেশি প্রজাতির গাছে পাখিরা বাসা বাঁধে না। এ কারনে বুঝা যায় দেশিয় এ গাছটি পরিবেশ বান্ধব। 
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; দেশিয় প্রজাতির সু-স্বাদু ফলের মধ্যে আতা ফল একটি। বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে যাওয়া প্রকৃতি বান্ধব এ গাছটিকে আমাদের স্বার্থেই রক্ষা করতে হবে। আতা ফল গাছটির সাথে নতুন প্রজন্মের মানুষদের পরিচয় করিয়ে দিতে হবে এবং এর সম্পর্কে জানাতে হবে।
তিনি আরও জানান; প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাওয়া এই আতা ফল গাছটির চারা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। তা না হলে আতা ফল  নামক পরিবেশ বান্ধব দেশিয় প্রজাতির এ গাছটি এক দিন চিরতরে হারিয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; আতা ফল একটি সু-স্বাদু,সুমিষ্ট ফল। এই গাছটি আর তেমন চোখে পড়ে না। পরিবেশ বান্ধব দেশিয় প্রজাতির আতা ফল গাছটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা করতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৪মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 

শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০১৭

ওদের হাতে বইয়ের বদলে সংসারের ঘানি

ওদের হাতে বইয়ের বদলে সংসারের ঘানি


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

যে বয়সে ওদের বাবা মায়ের সাথে আনন্দে দিন কাটার কথা। স্কুলে যাবার কথা, লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হবার কথা। সংসারের অর্থনৈতিক দৈন্যতা ফেরাতে এই ভাগ্যবিড়ম্বিত শিশুরা বাধ্য হয়ে কাজ করছেন কোন ওয়ার্কসপ,বাইসাইকেল গ্যারেজ,ইটভাটা কিংবা মিষ্টির দোকানে। এ ছাড়াও শিশুরা বাধ্য হচ্ছেন রিক্সার হ্যান্ডেল শক্ত হাতে ধরতে। বাধ্য হচ্ছে তাদের তাদের সস্তা শ্রম বিকিয়ে দিতে। আমরাও সুযোগ বুঝে তাদের সস্তা শ্রম কিনে নিচ্ছি। অভাব আর অনাটনে বেড়ে ওঠা ওই সব পথশিশুদের যেন দেখার কেউ নেই। সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে বইয়ের বদলে শিশুরা যেমন বেঁচে নিয়েছে তাদের কায়িক শ্রম বিক্রি করতে অন্যদিকে তাদের পরিবাররাও শিশুদের এক প্রকার বাধ্য করছেন স্কুলের যাওয়ার পরিবর্তে কায়িক শ্রম বিকিয়ে তাদের সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে।
সরেজমিনে বদরগঞ্জ উপজেলাসহ পৌরসভা ঘুরে দেখা মেলে ওই সকল ভাগ্যবিড়ম্বিত শিশুদের। যারা প্রতিনিয়ত শ্রম বিক্রি করে চলেছেন।
এদের একজনের নাম রায়হান(১০)। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউপির বাতাসন গ্রামে। রায়হান জানান; ক্লাশ টু পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে সে। কাজ করে এক ওয়েলডিং ওয়ার্কসপে। প্রতিদিন যা আয় হয় তা দিয়ে কষ্ট করে চলে তাদের সংসার। বাবা নেই। তার মা কাজ করে অন্যের বাড়িতে। বাধ্য হয়ে তাকে ওয়েলডিং ওয়ার্কসপে ঝুঁকিপুর্ন কাজ করতে হচ্ছে। সে আরও জানায়; লেখাপড়া আমিও করতে চাই কিন্তু আমার সংসার চালাবে কে?
কথা হয় হোটেল বয় শিশু শ্রমিক মিন্টুর(১১)সাথে,সে জানায়; এক বছর ধরে হোটেলের বয়ের কাজ করছি। প্রতিদিন যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে চলে আমাদের সংসার।
শিশু মিন্টু দুঃখ করে আরও জানায়; আমাদের জন্য লেখাপড়া নয়। লেখাপড়া করলে খাবো কি?
এদিকে সরকারি কিংবা বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বদরগঞ্জ উপজেলায় ঠিক কত জন শিশু শ্রমিক রয়েছে তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান তাদের হাতে নেই।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; আমাদের কাছে কষ্টের বিষয়,এই সমস্ত কোমল মতি ভাগ্যবিড়ম্বিত শিশুরা আজ জীবিকার সন্ধানে লেখাপড়া বাদ দিয়ে তাদের সস্তা শ্রম বিকিয়ে দিচ্ছে। সরকার বিনামুল্যে পাঠ্যপুস্তক সহ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে দিলেও তারা লেখাপড়ার দিকে না ঝুঁকে পরিবারের অভাবের কারনে শিশুরা বাধ্য হচ্ছেন ঝুঁকিপুর্ন কিংবা কম ঝুঁকিপুর্ন অন্যের প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে। তিনি আরও জানান; শিশুদের দিয়ে ঝুঁকিপুর্ন কাজ করানোটা আরও অন্যায়। এ ক্ষেত্রে পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
বদরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার হুমায়ুন কবির মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে জানান; সরকার বিনামুল্যে পাঠ্যপুস্তক সহ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে দিলেও
এই সমস্ত শিশুরা লেখাপড়া না করে তাদের শিশুশ্রম দেয়াটা দুর্ভাগ্যজনক। এ বিষয়ে পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি বলে তিনি মত দেন।


বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৩মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 












বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০১৭

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে বন কাঁঠাল নামক উদ্ভিদটি

প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাচ্ছে বন কাঁঠাল নামক উদ্ভিদটি


কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ

প্রকৃতি হতে ক্রমেই যেন হারিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য দেশিয় প্রজাতির উদ্ভিদ। অবহেলা অনাদর আর জ্বালানী সংকটের কারনে বিলীন হতে চলেছে দেশিয় মুল্যবান কিছু উদ্ভিদরাজি।হারিয়ে যাওয়া উদ্ভিদদের মধ্যে বন কাঁঠাল অন্যতম। আঞ্চলিক ভাষায় এর নাম বড়ল ও ডেউয়া। তবে একে বন কাঁঠাল নামে কমবেশি সকলেই চেনে। ৩০-৪০ফিট উচ্চতার গাছটির পাতা রোমশ,বড় ও চ্যাপ্টা ধরনের। বনকাঁঠালের বৈজ্ঞানিক নাম-আরটোকারপাস লাকোচা, গোত্রের নাম-মোরাসি।
এক সময় বাংলাদেশের কমবেশি সকল অঞ্চলে বনকাঁঠাল দেখা গেলেও এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। বাংলা সংস্কৃতি ও প্রকৃতি সংস্পর্শে মিশে রয়েছে এই বনকাঁঠাল বৃক্ষ।
বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীন ব্যক্তি মহিউদ্দিন প্রামানিক(৮৫) মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদকে জানান; ছোট বেলা হতে দেখছি আমাদের এ অঞ্চলে অসংখ্য বনকাঁঠাল গাছ ছিল। এর ফলগুলো পাকলে এতটাই সু-স্বাদু ও সুমিষ্ট যে বলে শেষ করতে পারবো না। বনকাঁঠাল গাছগুলো মানুষ কেটে ফেললেও নতুন করে কোন চারা রোপন না করায় আর চোখে পড়ছে না প্রকৃতি বান্ধব এই বনকাঁঠাল গাছ। দেশিয় প্রজাতির এই বনকাঁঠাল গাছকে আমাদের প্রয়োজনে রক্ষা করতে হবে। তিনি আরও জানান;দেশিয় প্রজাতির এ সমস্ত গাছে অনেক পাখিরা বাসা বাঁধে,অথচ বিদেশি প্রজাতির গাছে পাখিরা বাসা বাঁধে না। 
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান; দেশিয় প্রজাতির সু-স্বাদু ফলের মধ্যে বনকাঁঠাল একটি। বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে যাওয়া প্রকৃতি বান্ধব এ গাছটিকে আমাদের স্বার্থেই রক্ষা করতে হবে। বনকাঁঠাল গাছটির সাথে নতুন প্রজন্মের মানুষদের পরিচয় করিয়ে দিতে হবে এবং গুনাগুন সম্পর্কে জানাতে হবে।
তিনি আরও জানান; প্রকৃতি হতে হারিয়ে যাওয়া এই বনকাঁঠাল গাছটির চারা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। তা না হলে বনকাঁঠাল  নামক পরিবেশ বান্ধব এ গাছটি এক দিন চিরতরে হারিয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান; সু-স্বাদু,সুমিষ্ট ফল বনকাঁঠাল। এই গাছটি আর তেমন চোখে পড়ে না। পরিবেশ বান্ধব গাছটিকে আমাদের প্রয়োজনেই রক্ষা করতে হবে।

বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-২ মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪ 


বুধবার, ১ মার্চ, ২০১৭

কবিতা -নারী নির্যাতন



কবিতা -নারী নির্যাতন

“কবে হবে শেষ,
           ভাবতে লাগবে বেশ,
নারী নির্যাতন আর যৌতুক প্রথা,
           ধিক্কার শুধু ধিক্কার,
এই সমাজের প্রথা।”



কামরুজ্জামান মুক্তা
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-১মার্চ/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪

  ডিউক চৌধুরি এমপিকে বদরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাবের অভিনন্দন   রংপুর বদরগঞ্জের কৃতি সন্তান আবুল কালাম মোঃ আহসানুল হক চৌধুরি ডিউক(এমপি) তৃতীয় ...