কামরুজ্জামান মুক্তা,বদরগঞ্জ(রংপুর)ঃ
কাজি আবেদা গুলশান। বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা। বদরগঞ্জ উপজেলায় চাকুরিতে যোগদানের পর হতে উপজেলায় নারী শিক্ষার পথিকৃত হিসেবে আর্বিভুত হয়েছেন। তাকে পথিকৃত ভেবে বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অনেক শিক্ষার্থী আজ দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশে বিদেশে পড়াশুনা করছেন এবং স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন। বর্তমান সরকারও নারী শিক্ষা প্রসারে বাস্তবধর্মি ও সুদুর প্রসারি কাজ নিরলশভাবে করে যাচ্ছেন। বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা কাজি আবেদা গুলশান বদরগঞ্জে যোগদানের পর বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের আমন্ত্রনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন;শত প্রতিবন্ধকতাকে পাশ কাটিয়ে তোমাদের(নারীদের)এগিয়ে যেতে হবে। শিক্ষিত হতে হবে। মনে রাখতে হবে, তোমরা শিক্ষিত হওয়া মানে জাতি শিক্ষিত হওয়া। তিনি আরও বলেন; আজ হতে তোমরা বেশি বেশি করে পড়াশুনায় মনোনিবেশ করো, সফল তোমরা হবেই।
তার এই আবেগ তাড়িত বক্তব্য (কথা) শত শত কোমল মতি শিক্ষার্থীদের মনকে নাড়া দেয়। তার এই আবেগ তাড়িত ভালবাসা মেশানো বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মাঝে কি প্রভাব ফেলেছিল তা আমি পাঠকের মাঝে জানানোই আমার এ লেখার উদ্দেশ্য।
তমা সাহা। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউপির নাগেরহাট নামক এলাকায়। তমা সাহা ওই সময় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের মানবিক বিভাগের ছাত্রি ছিল। টেষ্ট পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে কলেজে প্রথম স্থান অধিকার করে। পরে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ন হয়ে ওই বছরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগে ভর্তি হয়।
মোবাইল ফোনে তমা সাহার সাথে কথা হলে সে জানায়; আমার টেষ্ট পরীক্ষার আগে আমাদের এক অনুষ্ঠানে বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা কাজি আবেদা গুলশান জীবনে বড় হতে গেলে কি করতে হয়, আমাদের উদ্দেশ্যে বলেন। তার ওই কথাগুলো আজও আমার কানে বাজে। তখন আমার কাছে মনে হল একজন নারী হয়ে উনি যদি এতদুর আসতে পারেন তাহলে আমি পারবো না কেন? সত্যি কথা বলতে কি, উনি আমার আইডল।
তমা সাহা জানান;আমি গ্রামের মেয়ে। আমার বাবা গরীব মানুষ। তারপরও আমি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছি উনি(কাজি আবেদা গুলশান) পেরেছেন আমাকেও পারতে হবে।
তমা আরও জানান;ম্যাডামের ওই দিনের কথায় আমাদের ক্লাসের সকল বান্ধবীদের চোখে মুখে আমি বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেছি। মাঝে মধ্যেই বান্ধবীরা আমাকে বলতো আমরাও যদি লেখাপড়া শিখে ম্যাডামের মত হতে পারতাম। ওই ব্যাচের অনেক ছাত্রি দেশের নামকরা অনেক বিশ্ববিদ্যালয় সহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছে। ম্যাডমের কথা আমার আজীবন মনে থাকবে। তিনি আমার প্রেরনা।
মোবাইল ফোনে কথা হয় বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও লন্ডনে ব্যারিষ্টারি পড়–য়া ছাত্রি তামান্না আশফির সাথে, তিনি জানান; বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা কাজি আবেদা গুলশান আমাদের উপজেলায় নারীদের পথিকৃত। তাকে অনুকরন ও অনুসরন করে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করতে আজ আমার এতদুরে আসা। তিনিই আমার প্রেরনা।
আমি বিশ্বাস করি এবং দোয়া করি, তিনি(কাজি আবেদা গুলশান) অনেক বড় হবেন এবং একদিন সরকারের আরও গুরুত্বপুর্ন পদে অধিষ্টিত হবেন। তিনি তার দাপ্তরিক কাজের ফাঁকে নারীদের আরও প্রেরনা জুগিয়ে যাবেন এটাই তার কাছে আমার প্রত্যাশা।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান; নারী শিক্ষা প্রসারে তিনি একটি উদাহরন। আমার কলেজের শিক্ষার্থীরা তাকে দেখে অনুপ্রানিত হয়ে ভাল ফলাফল করে দেশের নামকরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে দেশের ভাবমুর্তি উজ্জল করছে।
বদরগঞ্জ,রংপুর
তারিখ-৯এপ্রিল/১৭
মোবাইল-০১৭১৭৮৫০৯৬৪
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন